Wednesday, 28 October 2026 |
শিরোনাম
Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাস্তবায়ন উপলক্ষে নিউইয়র্কে সমাবেশ, আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার প্রত্যয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান নিউইয়র্কে হিউম্যান সাপোর্টের বিনামূল্যে ফ্লু টিকাদান কর্মসূচি New York Attorney General James Announces Election Protection Hotline Ahead of November General Election ASAAL’s 19th Annual Convention Draws Nearly 500, Calls for Stronger Civic Engagement and Workers’ Rights নিউইয়র্কে ট্রাফিক এজেন্ট ইউনিয়নের সভায় দুই বাংলাদেশি নেতাকে ঘিরে সংঘর্ষ, আসন্ন নির্বাচন ঘিরে নেতৃত্বের বিরোধ প্রকাশ্যে দেহের মেহরাবে অনন্তের দীপ
সব ক্যাটাগরি

নিউইয়র্কে হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের সভায় হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের ঘটনায় সাবেক মন্ত্রী টুকুর সম্পৃক্ততার অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 124 বার

প্রকাশিত: January 13, 2014 | 6:49 AM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের এক সভায় পাবনার সাথিয়ায় হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের ঘটনায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুর সম্পৃক্ততার অভিযোগ এনে তাকেসহ কোন সাম্প্রদায়িক ব্যক্তিকে মন্ত্রী সভায় স্থান না দেয়ার আহবান জানানো হয়। সভায় অবিলম্বে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্যে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
স্থানীয় সময় ১১ই জানুয়ারী শনিবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটস ফুডকোর্ট রেস্টুরেন্টে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিশিষ্ট মানবাধিকার নেতা রতন বড়ুয়ার সভাপতিত্বে এবং নবেন্দু বিকাশ দত্তের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বেলাল বেগ। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ সোসাইটির প্রেসিডেন্ট কামাল আহমদ, উদীচীর সুব্রত বিশ্বাস, ডা: টমাস দুলু রায়, যুক্তরাষ্ট্র জাসদের সাধারণ সম্পাদক নুরে আলম জিকু, মুক্তকণ্ঠ সম্পাদক হেলাল আহমদ, গণজাগরণ মঞ্চের মিনহাজ আহমদ, সন্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের মিথুন আহমদ, প্রগ্রেসিভ ফোরামের সভাপতি খোরশেদুল ইসলাম, পূজা সমিতির বিষ্ণু গোপ, গীতা সংঘের দীপক চক্রবর্তী, ভক্ত সংঘের অনুকুল অধিকারী, কবি নিখিল রায়, তপন সেন, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি ফাহিম রেজা নুর ও সাধারণ সম্পাদক স্বীকৃতি বড়ুয়া, শিতাংশু গুহসহ আরো অনেকে।
সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ার কারণেই একই ঘটনা বার বার ঘটছে। সভায় দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের মাধ্যমে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিচারের জোর দাবী জানানো হয়। এসময় ’৭২-এর সংবিধান পুন:প্রতিষ্ঠারও আহবান জানানো হয়।
সভায় বক্তারা নির্বাচনের আগে,পরেসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর বিভিন্ন নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন। তারা বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুর ওপর অত্যাচার করে সহজেই পার পাওয়া যায়; কোন বিচার হয়না। এসব ঘটনার সাথে আওয়ামী লীগ, বিএনপি-জামায়াত সবাই জড়িত। হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের বিষয়ে কারো হাতই পরিস্কার নয়।
বক্তারা বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত মন্দির ভাঙ্গার ব্যাপারে এবং হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের প্রশ্নে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কেন হিন্দুদের মন্দির ভাঙ্গা হবে? কেন হিন্দুদের নির্যাতন করা হবে? এ বিষয়ে প্রবাস থেকে সোচ্চার হতে হবে। কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে সকল স্তরের অসাম্প্রদায়িক চেতনার ব্যক্তি ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সমন্বয় ও আলোচানার ভিত্তিতে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদে আয়োজিত এ সভায় নি¤েœাক্ত দাবি প্রস্তাবনা আকারে পেশ করা হয়।
প্রস্তাবনায় বলা হয়, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বন্ধ করার পূর্বশর্ত হিসেবে এবং উপদ্রুত এলাকায় নির্যাতিতদের সাহার্যার্থে অবিলম্বে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জরুরী ভিত্তিতে সরকার আমলে এনে ব্যবস্থা গ্রহণ একান্ত অপরিহার্য।
১) এই প্রতিবাদ সভা জামায়াত-শিবির মৌলবাদী চক্র এবং তাদের রাজনৈতিক সহযোগী বিএনপির দেশব্যাপী সংখ্যালঘুদের ওপর সাম্প্রদায়িক আক্রমণ ও অত্যাচার-নির্যাতনের তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও ঘৃণা জানাচ্ছে।
২) অবিলম্বে ’৭২-এর সংবিধান পুনর্বহাল ও সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছে।
৩) সকল ধর্মীয় মৌলবাদ ও সন্ত্রাসের পৃষ্টপোষক রাজনৈতিক সংগঠন ও তাদের সন্ত্রাসের উৎস প্রতিষ্ঠান সমূহ এবং তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানাচ্ছে।
৪) সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী শক্তি স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবির এবং পরবর্তীতে তাদের সাথে যুক্ত হওয়া বিএনপিই সংখ্যালঘু নির্যাতন ও সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ সৃষ্টির প্রধান শক্তি। সুতরাং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহাবস্থান নিশ্চিত করতে এবং স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে অবিলম্বে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবির মৌলবাদী শক্তিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার জোর দাবি জানাচ্ছে।
৫) ২০০১ সাল থেকে ২০০৫ সাল এবং বিগত ৫ বছরে আজ অবধি সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার নির্যাতনে দোষী ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার আইন অথবা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দৃষ্টান্তমূলক শান্তি বিধান করা।
৬) জরুরী ভিত্তিতে সমগ্র দেশে বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় অক্রান্ত নির্যাতিতদের মনোবল ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনিক ও সামাজিক নিরপাত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানাচ্ছে।
৭) সম্প্রতি রামুতে ক্ষতিগ্রস্থ বৌদ্ধদের যেভাবে ঘরবাড়ি, মন্দির, গীর্জা সরকারের তত্বাবধানে পুনর্বাসন করে দেওয়া হয়েছে, একই পদ্ধতিতে সাম্প্রতিক ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জোর দাবি জানানো হচ্ছে।
৮) যথাশিগগির এবং প্রয়োজনে আরো নতুন ট্রাইব্যুনেল গঠন করে হলেও দ্রুত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও তাদের শাস্তি কার্যকর করা।
৯) সুপ্রীম কোর্টের একজন সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে একটি স্বাধীন নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে নির্যাতন আক্রমণের সাথে জড়িত সকল সন্ত্রাসীর তালিকা প্রণয়ন করে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা এবং অবিলম্বে অর্ডিন্যন্স জারি করে সন্ত্রাস দমন আইনের আওতায় এনে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে সকল দোষী ব্যক্তি ও সন্ত্রাসীদের সর্বোচ্চ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা।
১০) ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্ত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অর্ডিন্যান্স জারি করে ধর্মীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন এবং তৎসাথে একটি নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করা।
১১) প্রতিবাদ সভায় বলা হয় যারা সাম্প্রদায়িকতাকে পৃষ্টপোষকতা দেয়, প্রশ্রয় দেয়, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ন্যায় যাদের বিরুদ্ধে এরূপ অভিযোগ উঠেছে অথবা যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তাদেরকে নতুন মন্ত্রী সভায় অন্তর্ভুক্ত না করার জোর দাবি জানানো হয়।
১২) প্রতিবাদ সভা স্থানীয় একটি সপ্তাহিক পত্রিকায় বিদ্বেষমূলক সংবাদ পরিবেশনে তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করে। একই সাথে প্রতিবাদ স্বরূপ দুই সপ্তাহ ওই পত্রিকা বর্জন এবং নিউইয়র্ক এটর্নী জেনারেল সহ সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টে এ পত্রিকার এই অসুভ চরিত্রের চিত্র তুলে ধরার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
প্রচন্ড খারাপ আবহাওয়া সত্ত্বে¡ও সভায় বিপুল সংখ্যক লোকের সমাগম হয়। সভাটি একটি আবেগঘন অনুষ্ঠানে পরিনত হয়।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ