Wednesday, 28 October 2026 |
শিরোনাম
Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাস্তবায়ন উপলক্ষে নিউইয়র্কে সমাবেশ, আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার প্রত্যয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান নিউইয়র্কে হিউম্যান সাপোর্টের বিনামূল্যে ফ্লু টিকাদান কর্মসূচি New York Attorney General James Announces Election Protection Hotline Ahead of November General Election ASAAL’s 19th Annual Convention Draws Nearly 500, Calls for Stronger Civic Engagement and Workers’ Rights নিউইয়র্কে ট্রাফিক এজেন্ট ইউনিয়নের সভায় দুই বাংলাদেশি নেতাকে ঘিরে সংঘর্ষ, আসন্ন নির্বাচন ঘিরে নেতৃত্বের বিরোধ প্রকাশ্যে দেহের মেহরাবে অনন্তের দীপ
সব ক্যাটাগরি

রোনালদোকে কিংবদন্তি হওয়ার পথ বাতলালেন পেলে : ট্রফি হাতে নিয়ে কাঁদলেন

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 139 বার

প্রকাশিত: January 14, 2014 | 3:43 PM

কালকের অনুষ্ঠানে রোনালদো ও পেলে। ছবি: রয়টার্সকালকের অনুষ্ঠানে রোনালদো ও পেলে। ছবি: রয়টার্স

তিনবারের বিশ্বকাপজয়ী। যে কীর্তি আর কারোরই নেই। পেলের এমন অনেক কীর্তি আছে, যা ছাপিয়ে যাওয়া তো দূরের কথা, কেউ ছুঁতেই পারেননি। সেই পেলের মুখে কাল ঘোষিত হলো ফিফা ব্যালন ডি’অরজয়ী হিসেবে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর নাম। শুধু তা-ই নয়, কিংবদন্তিদের কাতারে নিজের নাম লেখাতে হলে কী করতে হবে, সেই পথও বাতলে দিয়েছেন সর্বকালের সেরা এই ফুটবলার।

বর্তমান সময়ের কাউকেই কিংবদন্তির মর্যাদা দিতে নারাজ পেলে বলেছেন, ‘আমার কাছে সর্বশেষ সত্যিকারের গ্রেট খেলোয়াড় হলো জিদান। কমপক্ষে ১০ বছর ও সেরা ফর্মে ছিল।’ রোনালদো ঠিক পথেই আছেন। তবে এই পথ ধরে আরও বহুদূর তাঁকে এগোতে হবে বলেও মনে করেন কাল বিশেষ ব্যালন ডি’অর জিতে আবেগে কেঁদে ফেলা পেলে, ‘বর্তমানে মেসি আর রোনালদো বাকিদের চেয়ে অন্য উচ্চতায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। রোনালদোর খেলা দেখলে তো আমার ইউসেবিওর কথাই মনে পড়ে। সেও একই প্রজাতির খেলোয়াড়। গ্রেট খেলোয়াড়দের রাজকীয়তা আর সৃজনশীলতা ওর মধ্যে আছে।’

সর্বশেষ ছয়বার ব্যালন ডি’অর এমন দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে হাতবদল হয়েছে, যাঁদের কাছে বিশ্বকাপ এখনো অধরা। সর্বকালের সেরাদের কাতারে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে এই অধরা সোনালি ট্রফিটায় চুমু তাঁদের এঁকে দিতেই হবে। এ সময় বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচনে বিশ্বকাপের ফল অনেক প্রভাব ফেলত। তবে পেলে মনে করেন, ব্যালন ডি’অর জিততে চাইলে এখন বিশ্বকাপ জিততেই হবে, এমন কোনো কথা নেই।

‘আমার সময়ে যতটা গুরুত্ব ছিল, তার চেয়ে কিছুটা গুরুত্ব তো কমেছেই। আমি বলছি না বিশ্বকাপ না জিতলেও এখন চলে। তবে চ্যাম্পিয়নস লিগও এখন সেই পর্যায়ের একটি টুর্নামেন্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশ্বকাপ জয়ের পর যে তারকাখ্যাতি আসত, এখন এই টুর্নামেন্ট জিতলেও তা আসে।’

প্রেমে ব্যর্থ হয়েও এত কাঁদেননি রোনালদো!

Ronaldoআবেগে কেঁদেই দিলেন রোনালদো। ছবি: রয়টার্স

‘সেই তুমি এলে, অবশেষে!’ সোনা রঙের আভা ছড়ানো ট্রফিটার দিকে এক ঝলক যেভাবে তাকালেন, সেই দৃষ্টি আসলে প্রেমিকার দিকে প্রেমিকের অভিমানাহত চাহনি। দীর্ঘ বিরহের পর প্রেয়সীকে আবার নিজের আলিঙ্গনে ফিরে পাওয়ার অশ্রুসিক্ত আবেগ। কান্না তাই লুকোতে পারলেন না কিছুতেই। হু হু করে কেঁদে দিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

মঞ্চে সত্যিই অচেনা দেখাচ্ছিল তাঁকে। এ কোন রোনালদো! যে রোনালদোকে সবাই শক্ত হূদয়ের বলেই জানে। যে রোনালদোকে অনেকেই ভাবে অহংকারী, একরোখা! চার বছর পর আবার ব্যালন ডি’অর ট্রফিটা হাতে তুলে নিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, কত গভীরভাবেই না এই ট্রফিটার প্রার্থনা করে এসেছেন এই কটা বছর! প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়েও বারবার থমকে যেতে হলো আবেগের জলোচ্ছ্বাস হয়ে ভেতর থেকে উঠে আসা কান্নার দমকে। 

রোনালদোর কান্না ছুঁয়ে গেল দর্শকসারিতে বসে থাকা প্রেমিকা ইরিনা শায়াককে। সবচেয়ে বেশি কাঁদলেন আসলে মারিয়া দলোরেস। ছেলের কান্না মাকে ছুঁয়ে যাবে, এটাই তো স্বাভাবিক।

রোনালদোকে এতটা আবেগী হয়ে পড়তে আসলে আগে কখনো দেখা যায়নি। এই আবেগ দেখে হয়তো সত্যিই ভেতরে ভেতরে অনুতাপে পুড়লেন রোনালদোর থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে থাকা ফিফা সভাপতি সেপ ব্ল্যাটারও, যিনি কদিন আগে রোনালদোকে ‘কমান্ডার’ বলে কটাক্ষ করেছেন।

পরে রোনালদো স্বীকার করেছেন, ‘পুরস্কার নিতে গিয়ে বুঝতে পারিনি কেঁদে ফেলব। আমি অত কাঁদি না। আসলে কাল যেমন কাঁদলাম, এতটা কান্না প্রথম প্রেমে ব্যর্থ হয়েও কাঁদিনি।’

অসাধারণ টানা তিনটি মৌসুম গেছে তাঁর। ক্লাবের হয়ে আগের তিন মৌসুমেই গোলের ফিফটি করেছেন। ৫৩, ৬০, ৫৫—এই হলো গত তিন মৌসুমে রিয়ালের জার্সি গায়ে তাঁর গোলের হিসাব। কিন্তু প্রতিবারই একজনের দ্যুতিতে ম্লান হয়ে গেছেন। সেই তিনি যে আলো ছড়িয়েছেন তাঁর চেয়েও বেশি। কাল কিন্তু সেই লিওনেল মেসিকে দর্শকসারিতে সাক্ষী রেখেই আলো কেড়ে নিলেন রোনালদো। পরে মেসিও স্বীকার করলেন, ‘ক্রিস্টিয়ানো যোগ্য হিসেবেই জিতেছে এই ট্রফি।’

তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রোনালদো বলেছেন, ‘সবাইকে ধন্যবাদ, আমার সতীর্থ, জাতীয় দল, আমার পরিবার, এখানে যাঁরা এসেছেন, প্রত্যেককে। আমি আসলে কথা বলতে পারছি না।’ ওইটুকুতেই পুরো হলে তুমুল করতালির বৃষ্টি। যেন সবাই বুঝিয়ে দিতে চাইল, ‘তুমি আজ কিছু না বললেও চলবে। তোমার না-বলা প্রতিটা শব্দ আমরা জানি।’

পুরস্কার নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে কিন্তু আবার ফিরে এসেছিলেন সেই রোনালদো। যে রোনালদো নিজের সামর্থ্যে প্রবল আত্মবিশ্বাসী। প্রতিপক্ষদের আবারও হুঁশিয়ার করে বললেন, পরের বছরই তিনটি তাঁর চাই-ই চাই, ‘আমি নিজের সেরাটাই নিংড়ে দেব। বরাবর তা-ই করি। আশা করি পরেরবার এখানে আবার ফিরে আসব আমার ক্যারিয়ারের তিন নম্বর ব্যালন ডি’অরটি জেতার জন্য।’প্রথম আলো 

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ