Wednesday, 28 October 2026 |
শিরোনাম
Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাস্তবায়ন উপলক্ষে নিউইয়র্কে সমাবেশ, আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার প্রত্যয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান নিউইয়র্কে হিউম্যান সাপোর্টের বিনামূল্যে ফ্লু টিকাদান কর্মসূচি New York Attorney General James Announces Election Protection Hotline Ahead of November General Election ASAAL’s 19th Annual Convention Draws Nearly 500, Calls for Stronger Civic Engagement and Workers’ Rights নিউইয়র্কে ট্রাফিক এজেন্ট ইউনিয়নের সভায় দুই বাংলাদেশি নেতাকে ঘিরে সংঘর্ষ, আসন্ন নির্বাচন ঘিরে নেতৃত্বের বিরোধ প্রকাশ্যে দেহের মেহরাবে অনন্তের দীপ
সব ক্যাটাগরি

জেনে নিন ইমিগ্রেশন আপডেট

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 164 বার

প্রকাশিত: January 17, 2014 | 7:18 PM

মোহাম্মদ এন মজুমদার, এলএলএম : যুক্তরাষ্ট্রের মন্দা অর্থনীতি, বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও অদ্যবধি পৃথিবীর মানুষের কাছে যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত লোভনীয় বাসস্থান ও কাজের জন্য ফিলে পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্র থেকে বহু জ্ঞানী-গুণী ও বিভিন্ন পেশার মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে আসছেন। বিশেষ করে অনুন্নত ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্রসমূহের কথা বলাই বাহুল্য। সাম্প্রতিককালে প্রচুর বাংলাদেশী বিভিন্ন ভিসা নিয়ে বিশেষ করে ভিজিট ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন এবং আসছেন। এটি বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়। ভিজিট ভিসায় আগতদের অনেকের জিজ্ঞাসাÑ যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশুনা, বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনসহ আরো বৈধ প্রক্রিয়া রয়েছে। যাতে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস ও নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। আবার কম্প্রিহেনসিভ ইমিগ্রেশন রিফর্ম নিয়েও কৌতূহলের সীমাই নেই। তাহলে সাধারণ আলোচনা করা যাক, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ববাসী যুক্তরাষ্ট্রে আগমনেচ্ছুকদের জন্য কি সুবিধা দিচ্ছে।
কম্প্রিহেনসিভ ইমিগ্রেশন রিফর্ম :
১৯৮৬ সালের জেনারেল অ্যামনেস্টির ২৭ বছর পূর্তি হবে ২০১৪ সালে। ইতোপূর্বে ঐতিহাসিকভাবে পর্যালোচনা দেখা গেছে ২০১৪ সাল হবে ইমিগ্রেশন রিফর্মের জন্য একটি যুগের দাবি। ১০৪২ সালে ব্রাকো প্রোগ্রাম, ১৮৭৫ সালের বর্ডার প্রোটেকশন আইন, ১৯০৭ ইমিগ্রেশন আইনের এক একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ৩ জানুয়ারি, ২০১৪ যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদসংস্থা ফক্স নিউজ এক প্রতিবেদন বিস্তারিতভাবে যুক্তি দেখায় এবং সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, ২০১৪ সালই হবে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন রিফর্মের জন্য ঐতিহাসিক বছর। এ বছর ইমিগ্রেশন রিফর্ম বিল পাস হলে নভেম্বর ২০১১ সালের পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রে আগতদের জন্য বৈধতার সুযোগ বয়ে আনতে পারে।
চলমান H-1B ভিসা :
অনেকে হয়তো জানেন, যুক্তরাষ্ট্রে সারা পৃথিবী থেকে হাজার হাজার পেশাজীবী, জ্ঞানী-গুণী তথা যাদের যুক্তরাষ্ট্র সমমানের ব্যাচেলার ডিগ্রি অথবা তদূর্ধ্ব ডিগ্রি যাদের রয়েছে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সরকারি বা বেসরকারি সংস্থা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিয়োগ প্রস্তাব পেলে ঐ-১ই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। আবেদন মঞ্জুর হলে আবেদনকারী স্বামী-স্ত্রী এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানরা বৈধতা লাভের সুযোগ পেতে পারেন। বর্তমান বছরে ৬৫ হাজার ভিসা পৃথিবীব্যাপী উচ্চ ডিগ্রিধারীদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে। এপ্রিলের ১ তারিখ থেকে বাৎসরিক এই কোটায় আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সুতরাং, যাদের বহির্বিশ্ব থেকে মাস্টার লেভেল ডিগ্রি রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র কোনো কোম্পানি থেকে কোনো চাকরির প্রস্তাব পেয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে অথবা পৃথিবীর যে কোনো রাষ্ট্র থেকেই আবেদন করতে পারেন। তবে এ ব্যাপারে অভিজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ল ফার্মের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা :
স্টুডেন্ট ভিসা : বর্তমানে যারা যুক্তরাষ্ট্রে যে কোনো বৈধ ভিসা নিয়ে অবস্থান করছেন তারা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে ডিগ্রি নেয়ার নিমিত্তে ও-২০, ইস্যু সাপেক্ষে ভিসা পরিবর্তন করে স্টুডেন্ট ভিসা পেতে পারেন। বিবাহিতদের স্বামী-স্ত্রী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান-সন্ততিরাও এই প্রক্রিয়ায় বৈধতা পেতে পারেন।
বিনিয়োগ ও আন্তঃকোম্পানি কর্মচারী বদলি প্রক্রিয়া
E I L ভিসাসমূহ যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ ইচ্ছুক ও ব্যবসা করতে আগ্রহীদের জন্য বরাদ্দ থাকে। এ ভিসাসমূহ কতিপয় শর্তসাপেক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ব্যবসায়িক মৈত্রী সম্পন্ন রাষ্ট্রসমূহের নাগরিকদের জন্য বরাদ্দ আছে। তবে এ ভিসাসমূহ ব্যয়সাপেক্ষ এবং কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ বিধায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ল’ ফার্মের শরণাপন্ন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া, স্বদেশে নির্যাতিত, নিপীড়িত ও সুবিধাবঞ্চিত গণতান্ত্রিক অধিকারে বাধাগ্রস্ত, যারা প্রাণ ভয়ে স্বদেশ ত্যাগ করেছেন এবং স্বদেশে ফেরত গেলে যাদের জীবন হুমকির সম্মুখীন হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে তারা যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করে বৈধতার সুযোগ পেতে পারেন। তবে এখানে প্রচুর সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। ভুয়া, মিথ্যা, জালিয়াতিমূলক, বানোয়াট কাহিনী দিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করা সমীচীন নয়। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন আইনজীবীর বিকল্প নেই।
আরো উল্লেখযোগ্য যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিককে বিবাহের মাধ্যমেও বৈধতার সুযোগ রয়েছে। যারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকের সঙ্গে বৈধ বিবাহ সূত্রে আবদ্ধ হন, তারাও যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই গ্রিনকার্ড লাভের সুযোগ পেতে পারেন। এ সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের পিতা-মাতা ও সন্তানদের জন্যও উন্মুক্ত রয়েছে।
মোট কথা, যারা যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন ভিসা নিয়ে এসেছেন, আরও যারা আসতে চান তাদের প্রতি অনুরোধ আসার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে নিজেকে জানুন, আপনার কি যোগ্যতা আছে? আপনি কি কাজ করতে সামর্থ্য? আপনার পরিকল্পনা কি? যুক্তরাষ্ট্রে এসে কোথায় থাকবেন? একটি ভিন্ন দেশ, ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন সংস্কৃতি, বৈরী আবহাওয়ার সাথে আপনি খাপ খাওয়াতে পারবেন কিনা, এ বিষয়ে ধারণা নিয়েই আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস, সভ্যতা, সংস্কৃতি, সম্ভাবনা ইত্যাদি আপনার অনুকূলে কিনা তা না দেখে সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক নয়।
বি: দ্র: উপরোক্ত আলোচনা লেখকের ব্যক্তিগত অভিমত ও সাধারণ তথ্য মাত্র। এটিকে কোনো আইনগত উপদেশ হিসেবে গণ্য করবেন না।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ