বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির মর্মান্তিক অবনতি
২০১৩ সালে বাংলাদেশের মানবাধিকার উল্টো দিকে ধাবিত হয়েছে। নাগরিক সমাজ, মিডিয়া আর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর কঠোর অভিযান চালিয়েছে সরকার। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ‘বিশ্ব প্রতিবেদন-২০১৪’ শীর্ষক পর্যালোচনায় এভাবে উঠে এসেছে বাংলাদেশের মানবাধিকার চিত্র। গতকাল সংস্থাটি গতবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সহিংস বিক্ষোভ আর প্রতিরোধযোগ্য একাধিক কারখানা বিপর্যয়ে বাংলাদেশের পণ্ড এক বছর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এতে আরও বলা হয়, প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ প্রায়ই সহিংস এবং অবৈধ পন্থা অবলম্বন করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে বেআইনি মৃত্যুর বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগের বিষয়ে কোন প্রকার তদন্ত কাজ শুরু করতে ব্যর্থ হয়েছে কর্তৃপক্ষ। কারখানা বিপর্যয়ে প্রাণহানির একাধিক ঘটনার পর শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার্থে গৃহীত পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়নি। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়াবিষয়ক পরিচালক ব্রাড এডামস বলেন, বাংলাদেশের জন্য গত বছর ছিল মর্মান্তিক। রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে প্রতিবাদকারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য আর সাধারণ মানুষেরা অনর্থক প্রাণ হারিয়েছে। তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা
কর্মীদের আইন ভঙ্গের বিষয়ে তদন্তাদেশ দিয়ে সহিংসতা বন্ধে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। বরং ভিন্ন মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা ছিল অপেক্ষাকৃত অসহিষ্ণু। বিরোধী সমপ্রদায় এবং সমালোচনা বন্ধে তারা চূড়ান্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ৬৬৭ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ৯০টিরও বেশি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি। এতে স্থান পেয়েছে সিরিয়া গৃহযুদ্ধে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ, আফ্রিকাতে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন, মিশরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং এডওয়ার্ড স্নোডেনের তথ্য ফাঁসের বিষয়গুলো। বাংলাদেশ বিষয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের রাজপথে সহিংস আন্দোলন সূত্রপাত হয় যা পুরো বছরব্যাপী অব্যাহত ছিল। এতে প্রায় ২০০ জন প্রাণ হারিয়েছে আর আহত হয়েছে হাজারেরও বেশি। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নিপীড়ন এবং যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। এরপর প্রধান বিরোধী জোটের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্তের পর রাজপথে সহিংসতা বৃদ্ধি পায়। একদিকে যেমন রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সমর্থকদের সহিংসতা থেকে বিরত রাখতে ব্যর্থ হয়েছে অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরাপত্তা বাহিনীরা প্রায়ই অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। ডিসেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধ মামলায় অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর প্রবীণ নেতা আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নেতাকর্মীদের ঢালাওভাবে গ্রেপ্তার করা হয়। একদিকে গ্রেপ্তার করা হয় নাস্তিক ব্লগারদের অপরদিকে প্রতিষ্ঠিত এক দৈনিকের সম্পাদককে। আগস্টে মানবাধিকার কর্মী আদিলুর রহমান খান এবং নাসিরুদ্দিন এলান’কেও গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে এপ্রিল মাসে ভয়াবহ রানা প্লাজা ধসে প্রাণ হারায় ১১০০ বেশি শ্রমিক। প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও সরকার গার্মেন্ট ও অন্যান্য শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়নি। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক চাপের মুখে জুলাই মাসে বাংলাদেশের সংসদে শ্রমিক আইন সংশোধিত হয়। নতুন সংশোধনী ইউনিয়ন রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে কিছু বাধ্যবাধকতা শিথিল করলেও এসোসিয়েশনের পূর্ণ অধিকার কার্যকরভাবে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতার কারণে নিয়মিত কারখানা পরিদর্শন স্থবির হয়ে আছে যা সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবার কথা ছিল। হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্প স্থানান্তর করার সরকারি প্রতিশ্রুতি এখনও অসম্পূর্ণ রয়েছে। আর কারখানাগুলোতে পরিবেশ ও শ্রম আইন প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়েছে সরকারি পরিদর্শকরা। ইতিবাচক পদক্ষেপের মধ্যে কর্তৃপক্ষ কয়েকজন শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে যাবতীয় ফৌজদারি অভিযোগ প্রত্যাহার করেছে যেগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল বলে প্রতীয়মান। এছাড়া, আদালত লিমন হোসেনের বিরুদ্ধে যাবতীয় অভিযোগ প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে। ২০১১ সালে নিরাপত্তা বাহিনীর এলোমেলো এক অভিযানে র্যাবের গুলিতে পঙ্গু হয়ে যায় ওই যুবক।
যুদ্ধাপরাধ মামলার বিচার এবং বিডিআর বিদ্রোহ মামলার বিচার এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। মামলাগুলোতে অভিযুক্ত অনেককে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে; যেখানে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না হওয়ার বিষয়ে সাংঘাতিক উদ্বেগ রয়েছে। বিচারিক ট্রাইব্যুনাল নিয়ে সমালোচনামূলক মন্তব্য এবং প্রতিবেদন করার কারণে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, দ্য ইকোনমিস্ট, সাংবাদিক এবং টেলিভিশন অনুষ্ঠানের অতিথিদেরকে যুদ্ধাপরাধ আদালত কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। ব্রাড এডামস বলেন, সরকার গণতন্ত্রের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল, প্রতিশ্রুতি ছিল আইনের শাসন ফিরিয়ে দেয়ার। তার পরিবর্তে তারা অপেক্ষাকৃত বেশি কর্তৃত্বপরায়ণ এবং অসহিষ্ণু ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সারা বছর জুড়ে ভিন্ন মত প্রকাশকে যেভাবে দমন করা হয়েছে তা সত্যিই মর্মাহত করার মতো। ফলশ্রুতিতে দেশটির মানবাধিকার সঙ্কট আরও ঘনীভূত হয়েছে।মানবজমিন
- যুক্তরাষ্ট্রে ঈদুল ফিতর ২০ মার্চ শুক্রবার
- নারীর ক্ষমতায়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ : ড. খলিলুর রহমান
- নিইউয়র্কে টাইমস স্কয়ারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় যোগ দিচ্ছেন ম্যানহাটান বরো প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড হোয়েলম্যান
- নিউইয়র্কে স্ট্রিট ভেন্ডরদের জন্য নতুন আইন কার্যকর; জেল শাস্তি বাতিল, আরোপ করা হবে জরিমানা
- New York Attorney General James Leads Bipartisan Coalition Suing Predatory Lender OneMain for Scheme to Trap Consumers in Debt
- নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট হাউসে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন ২৩ মার্চ : আহ্বায়ক কমিটি গঠন
- বাংলাদেশে আওয়ামীলীগসহ সকল রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি করার দাবি নিউজার্সি স্টেট আওয়ামী লীগের
- নিউইয়র্কে ‘অল কাউন্টি হেলথকেয়ার গ্রুপ’র বার্ষিক ইন্টারফেইথ ইফতার পার্টি








