
পরিবারের কাঁধে সওয়ার হয়ে যারা তাদের পড়াশোনার ব্যয় নির্বাহ করেন তাদের অনেকেই হয়তো কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন বাড়ার কষ্টটা সে অর্থে বুঝতে পারেন না। তবে নিজের উপার্জনে যাদেরকে জীবন নির্বাহ করার পাশাপাশি যাদেরকে নিজ খরচায় চালিয়ে যেতে হয় পড়াশোনাটাও, তাদের কাছে বর্ধিত এই ফি অনেক সময় বড় একটা সমস্যা হয়েই দেখা দেয়। আর যথাযথ কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বর্ধিত ফি’র প্রতিবাদ জানাতেই সম্প্রতি অভিনব উপায়ে নিজের সেমিস্টার ফি দিয়েছেন আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব উটাহ’র শিক্ষার্থী লাক মুঘল। কোনো ধরনের চেক বা কার্ডের পরিবর্তে তিনি তার সেমিস্টারের পুরো ফি’টিই পরিশোধ করেন এক ডলারের কাগুজে নোট দিয়ে। আর এক ডলারের নোট দিয়ে এই ফি (সর্বমোট ২০০০ ডলার) পরিশোধ করতে রীতিমতো একটি ধাতব বাক্সে টাকাগুলো ভরে জমা দিতে হয়েছে মুঘলকে। পরে নিজের অভিনব এই প্রতিবাদ সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুঘল জানান, সপ্তাহের পাঁচ দিন গড়ে দশ ঘণ্টা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনায় সময় দেওয়ার পর তার হাতে কাজ করবার জন্য খুব কম সময়ই অবশিষ্ট থাকে। এ কারণে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে তাকে অধিকাংশ সময়ই গড়ে ১৬ ঘণ্টা করে স্থানীয় একটি সরকারি অফিসে কাজ করতে হয়। তবে এতকিছু করেও যখন জীবন ও জীবিকার ব্যয় নির্বাহ করা কষ্টকর হয়ে পড়ছে তখন গেল এক দশকে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়া সেমিস্টার ফি পরিশোধ তার কাছে একটা দুঃস্বপ্নের মতোই। মুঘল বলেন, ‘যখন আপনি সত্যিকার অর্থেই নগদ টাকা খরচ করেন তখন প্রতিটি ডলার অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার কী অনুভূতি তা বুঝা যায়…আপনি বুঝতে পারেন যে আপনি কীভাবে আপনার কষ্টার্জিত টাকাগুলো হারাচ্ছেন। অথচ ক্রেডিট কার্ডে দশ হাজার থেকে এক লাখ টাকা খরচ করলেও এই অনুভূতিটা হয় না। তাছাড়া আপনি যখন এভাবে অনেকগুলো টাকা একসাথে রাখবেন তখন আপনি সত্যিকার অর্থেই বুঝতে পারবেন যে আপনি কী খরচ করছেন। এটা আপনার উপার্জন এবং আপনি পড়াশোনায় ভালো করে এর মূল্য রাখতে চাইবেন।’ উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক এক গবেষণা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি বৃদ্ধির হার সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা কমার পরও গেল এক বছরে এর বৃদ্ধি ঘটেছে ২.৯ শতাংশ পর্যন্ত। অন্যদিকে, দেশটির মোট শিক্ষাঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি অংকে।ইত্তেফাক