Wednesday, 28 October 2026 |
শিরোনাম
Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাস্তবায়ন উপলক্ষে নিউইয়র্কে সমাবেশ, আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার প্রত্যয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান নিউইয়র্কে হিউম্যান সাপোর্টের বিনামূল্যে ফ্লু টিকাদান কর্মসূচি New York Attorney General James Announces Election Protection Hotline Ahead of November General Election ASAAL’s 19th Annual Convention Draws Nearly 500, Calls for Stronger Civic Engagement and Workers’ Rights নিউইয়র্কে ট্রাফিক এজেন্ট ইউনিয়নের সভায় দুই বাংলাদেশি নেতাকে ঘিরে সংঘর্ষ, আসন্ন নির্বাচন ঘিরে নেতৃত্বের বিরোধ প্রকাশ্যে দেহের মেহরাবে অনন্তের দীপ
সব ক্যাটাগরি

হাঁপানি এড়াতে যা করবেন

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 136 বার

প্রকাশিত: January 30, 2014 | 12:15 PM

ডা. গোবিন্দ চন্দ্র দাস : যেসব জিনিস থেকে আক্রমণ শুরু হয় সেগুলো থেকে দূরে থাকাই হাঁপানি বা অ্যাজমা প্রতিরোধের ভালো উপায়। তাই যাদের হাঁপানি আছে তাদের অ্যালার্জি পরীক্ষা করে জানা দরকার কোন কোন দ্রব্যাদি থেকে অ্যালার্জি শুরু হয়। নিচের বিষয়গুলো লক্ষ রাখুন।

* আক্রান্ত অনেকেরই পশুপাখির লোমে অ্যালার্জি থাকে। হাঁপানি থাকলে এ ধরনের প্রাণী বাড়িতে না রাখাই ভালো।

* বিছানার চাদর লিলেন কাপড়ের হওয়া ভালো। প্রতিদিন দুবেলা ঘরের মেঝে পরিষ্কার করতে হবে। রোগীর বিছানার চাদর প্রতিদিন ধুয়ে ব্যবহার করতে হবে অথবা প্রতিদিন রোদে শুকাতে হবে। যেসব জিনিস থেকে ধুলা ওড়ে সেগুলো নাড়াচাড়া করবেন না। এসব ঝাড়ার সময় রোগীকে ঘরের বাইরে থাকতে হবে।

* কোনো ঝাঁজালো গন্ধ যেমন মসলা ভাজার গন্ধ, মশা মারার স্প্রে আর পারফিউম থেকে দূরে থাকা ভালো।

* ধুলা, ধোঁয়া, ঠাণ্ডা বা কুয়াশা থেকে দূরে থাকতে হবে। রাস্তার ধুলা, ঘরের পুরনো ধুলা, গাড়ির ধোঁয়া থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ফিল্টার মাস্ক ব্যবহার করুন। যাঁরা বাইক অথবা নন-এসি গাড়ি চালান তাঁরা অবশ্যই মাস্ক পরে নেবেন।

* সিগারেটের ধোঁয়া হাঁপানির কষ্ট বাড়িয়ে দেয়। শুধু হাঁপানিই নয়, ফুসফুস ও শ্বাসনালিসংক্রান্ত অনেক অসুখের অন্যতম কারণ ধূমপান। সিগারেটের ধোঁয়া থেকে প্রথমে ব্রঙ্কাইটিস, পরে ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস হয়।

* ঘরে কার্পেট রাখবেন না। এগুলোতে প্রচুর ধুলা জমে। নরম চেয়ার, কুশন ও বাড়তি বালিশও ঘরে রাখার দরকার নেই। এগুলোতেও ধুলা জমে। তোশকে পাতলা র‌্যাক্সিনের কাভার দিন।

* রান্নাঘরের ধোঁয়া বেরিয়ে যাওয়ার জন্য জানালা খুলে রাখুন। আবার যখন বাইরে ধোঁয়া, দূষিত ধুলা বা ফুলের রেণু বেশি থাকে, তখন জানালা বন্ধ রাখুন।

* প্রতিদিন নিয়ম করে হালকা ব্যায়াম করা খুব জরুরি। হাঁটা, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো এগুলো হাঁপানি রোগীদের পক্ষে ভালো ব্যায়াম। হাঁটার সময় সামনে ঝুঁকে হাঁটবেন না। শিরদাঁড়া সোজা রেখে প্রতিদিন দু-তিন কিলোমিটার উন্মুক্ত বাতাসে সমতলে হাঁটুন। এর সঙ্গে প্রাণায়াম-জাতীয় গভীর শ্বাস নেওয়ার আসন করতে পারেন। হাঁপানি আক্রান্ত বাচ্চাদের ব্যায়াম ও খেলাধুলার সময় সতর্ক দৃষ্টি রাখা উচিত, শ্বাসকষ্ট হচ্ছে কি না। হলে খেলার আগেই ওষুধ দিতে হবে।

* কোনো কারণে ভয় পেলে, মানসিক উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা বা শোকসংবাদ পেলেও হাঁপানির টান হতে পারে।

* হাঁপানি রোগীর অনুপস্থিতিতে পোকামাকড়ের জন্য স্প্রে করুন, কড়া গন্ধযুক্ত রান্নাবান্না সেরে রাখুন। এরপর কিছুক্ষণ ঘরের জানালা খুলে রাখুন।

* হাঁপানি চিকিৎসা চলাকালে রোগীকে প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে দিন। কারণ শরীরে পানির ঘাটতি থাকলে হাঁপানির ওষুধ কাজ করে না। এ ছাড়া কফ জমে যায় ও সহজে বেরোতে পারে না। ফলে শ্বাসকষ্ট আরো বেড়ে যায়।

* বেশি রাতে ভরপেট খেলে টান উঠতে পারে। তাই রাতে পেটভরে ভুলেও খাবেন না। হাঁপানি রুখতে নিয়ম করে হাতে কিছুটা সময় নিয়ে খেতে হবে, অকারণে তাড়াহুড়ো করা চলবে না। ঝাল মসলাদার খাবারের বদলে হালকা মসলাযুক্ত খাবার ভালো। ফ্রিজ থেকে বের করে সঙ্গে সঙ্গে ঠাণ্ডা জিনিস খাওয়া উচিত নয়।

* শীতকালে ঘর উষ্ণ রাখতে পারলে ভালো হয়। গরমের সময় এসির হাওয়াটা যেন সোজাসুজি গায়ে এসে না লাগে, এটাও দেখা প্রয়োজন।

হাঁপানির বিপদসংকেতগুলোর কোনো একটিও শুরু হলেই ডাক্তারের সাহায্য নিন। বিপদসংকেতগুলো হচ্ছে-

* ওষুধ যদি বেশিক্ষণ কাজ না করে বা একেবারেই উপকার না হয়

* শ্বাস-প্রশ্বাস যদি দ্রুত ও জোরে জোরে হয়

* কথা বলতে কষ্ট হয়

* ঠোঁট বা আঙুলের নখ নীল বা ছাই রঙের হয়ে যায়

* পাঁজড়ের চারপাশে ও ঘাড়ের কাছের চামড়া শ্বাস নেওয়ার সময় ভেতরের দিকে টেনে ধরে

* হঠাৎ স্পন্দন বা নাড়ির গতি অত্যন্ত দ্রুত হয়, হাঁটাচলা করতে কষ্ট হয়।

ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার করবেন। অনেক সময় ডাক্তার ইনহেলার প্রেসক্রিপশন করেন; কিন্তু রোগী বা রোগীর অভিভাবকরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন এটা ব্যবহার করবেন কি না। মনে করেন এটা একবার ব্যবহার করলে সারা জীবন নিতে হবে, বিশেষ করে যখন এক বছরের নিচের বাচ্চাদের দেওয়া হয়।

ইনহেলারে ওষুধের পরিমাণ কম লাগে এবং কাজও হয় খুব তাড়াতাড়ি। তাই স্প্রের মাধ্যমে এটি শিশুদের ব্যবহার করাবেন।

তা ছাড়া অ্যালার্জির ধরন অনুযায়ী ডাক্তার ভ্যাকসিন দিলে তা ঠিকমতো দিতে হবে। অনেকে ভ্যাকসিন নিয়েও দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন। এটাও আধুনিক চিকিৎসার অংশ। দীর্ঘদিন সুস্থ থাকতে এটি খুব জরুরি।কালের কণ্ঠ

অ্যাজমা ও অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞ

সহযোগী অধ্যাপক, বক্ষব্যাধি হাসপাতাল, ঢাকা।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ