Wednesday, 28 October 2026 |
শিরোনাম
Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাস্তবায়ন উপলক্ষে নিউইয়র্কে সমাবেশ, আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার প্রত্যয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান নিউইয়র্কে হিউম্যান সাপোর্টের বিনামূল্যে ফ্লু টিকাদান কর্মসূচি New York Attorney General James Announces Election Protection Hotline Ahead of November General Election ASAAL’s 19th Annual Convention Draws Nearly 500, Calls for Stronger Civic Engagement and Workers’ Rights নিউইয়র্কে ট্রাফিক এজেন্ট ইউনিয়নের সভায় দুই বাংলাদেশি নেতাকে ঘিরে সংঘর্ষ, আসন্ন নির্বাচন ঘিরে নেতৃত্বের বিরোধ প্রকাশ্যে দেহের মেহরাবে অনন্তের দীপ
সব ক্যাটাগরি

বই হোক নিত্য সঙ্গী

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 35 বার

প্রকাশিত: February 4, 2014 | 4:54 PM

 

কঙ্কন সরকার : আমাদের স্বাধীনতার মূলমন্ত্র ছিল জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নত সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ। স্বাধীনতা অর্জনের পর অনেক দিন পেরিয়ে গেছে। এই স্বাধীনতার মূল লক্ষ্যকে মূল্যায়িত করতে জ্ঞান অর্জনের বিকল্প নেই। আর এই জ্ঞান অর্জনের অন্যতম বাহন বই। বর্তমানে জাতিকে উন্নত করার লক্ষ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের রূপরেখা নিয়ে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে সফলতা পেতে বইকেই প্রধান অনুষঙ্গ হিসেবে নিতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় পাঠ্যবইই প্রধান উপকরণ। কিন্তু সেই পাঠকে পরিপূর্ণতায় নিয়ে আসতে বিভিন্ন ধরনের ভালো মানের বই পড়া দরকার। পৃথিবীর ইতিহাস,বাংলাদেশের ইতিহাস, মক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, সামাজিক, রাজনৈতিক, দর্শন, বিজ্ঞান, ভাষা, শিল্প, সাহিত্য সম্পর্কিত জ্ঞান যত বেশি অর্জিত হবে তত মনন জগত্ সমৃদ্ধ হবে। একটি ভালোমানের বই পারে মানসিক পরিবর্তন ঘটাতে। আর মানসিকভাবে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাতে না পারলে মূল লক্ষ্যে পৌঁছাবার পথে গ্যাপ থেকে যাবে। কেননা এখনও অনেকে মনে করেন—মোবাইল, ইন্টারনেট আর কম্পিউটার ব্যবহারই বোধহয় ডিজিটাল বাংলাদেশ। এটিই শুধু নয়। এসবের সঙ্গে জ্ঞান সমৃদ্ধ উন্নত জাতি গঠন দরকার। তাই তো ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের যে মূল মন্ত্র তাকে পরিপূর্ণতায় নিয়ে আসতে শিশুকিশোর-শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দেওয়া দরকার।

প্রযুক্তিগত ইলেকট্রনিক জিনিস বেগ এনে দিতে পারে কিন্তু সৃজনশীল, মননশীল আবেগ এনে দেবে না। পাঠচর্চা হরাস পাবার কারণে আমাদের মানবিকতা, মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যপ্রীতি বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সন্তানের মাদকাসক্তি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, খুন নিয়ে জাতি উদ্বিগ্ন ও চিন্তিত। এসব সংগঠিত হচ্ছে উঠতি কোমলমতি সন্তানদের মাধ্যমে। ফলে জাতি হিসেবে মেরুদণ্ড সোজা হয়ে দাঁড়াবে কার ওপর ভর করে। এমন ভাবনা ভাবতে হচ্ছে চিন্তাবিদদের। এর থেকে পরিত্রাণের উত্কৃষ্ট উপায় হচ্ছে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা। পারিবারিকভাবে, সামাজিকভাবে বই পড়াকে উত্সাহিত করতে হবে। বই পাঠে আনন্দ আসবে, মানসিক পরিবর্তন ঘটবে, সন্তানের উন্নত ধ্যানধারণা জন্মাবে। ফলত আপন জগতকে চিনবে। অপরাধবোধ কিংবা অপচিন্তা দূর হবে। দেশপ্রেম, জাতিপ্রেম, আপনাতে প্রেমবোধ জেগে উঠবে। আর তখন উন্নত সমৃ্দ্ধ জাতি তথা ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণ হবে। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে বই পড়ার ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হয়। যেমন, জাপানে শিশুদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গ্রন্থপাঠ সম্পর্কে চীন দেশে প্রচলিত আছে—’যে ব্যক্তি ৩ দিন গ্রন্থপাঠ থেকে বিরত থাকে সে তার কথা বলার সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলে।’ উন্নত বিশ্বে উত্পাদন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন এবং সাফল্যের সার্বিক লক্ষ্য অর্জনে বই পাঠের গুরুত্বকে সর্বাগ্রে স্থান দেওয়া হয়েছে। বইয়ের মাধ্যমে ইহলোক ও পরলোকের মঙ্গল যোগসূত্র স্থাপন করা যায়। ঘরের শো-কেসের অন্যান্য সামগ্রীর তুলনায় বইয়ের সৌন্দর্যই ঘরকে আলোকিত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত করে বেশি। বই একদিকে পুরস্কারের শ্রেষ্ঠ উপাদান, অন্যদিকে জাতি গঠনের শ্রেষ্ঠ আধার হিসেবে কাজ করে। বই পড়ে শিশু-কিশোররা নির্মল আনন্দ উপভোগ করবে। সুন্দর মানসিকতা নিয়ে পড়ে উঠবে। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, শৈশব-কৈশোরে যাদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে তাদের জীবন হয় সুগঠিত ও সুশৃঙ্খল।
একসময় বই সংগ্রহ ও পাঠের প্রতি আকর্ষণ লক্ষ করা যেতো। কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তির প্রবাহে এবং এর প্রতি অতি আকর্ষণে ঐসব প্রযুক্তিনির্ভর বস্তুই হাতে হাতে প্রাধান্য পাচ্ছে। আগ্রহ হারাচ্ছে বইয়ের প্রতি। বিখ্যাত চীনা দার্শনিক কুয়ানসু বলেন—’যদি এক বছরের পরিকল্পনা মতো ফল চাও তবে শস্য বপন করো। যদি দশ বছরের পরিকল্পনা মতো ফল চাও তবে বৃক্ষরোপণ করো, আর যদি সমগ্র জীবনের জন্য পরিকল্পনা মতো ফল পেতে চাও তবে মানুষকে সুশিক্ষায় সুশিক্ষিত করো।’ আর এর একমাত্র অনুষঙ্গ বই। ‘বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না’ —একথা সবারই জানা। প্রাত্যহিক জীবনে যত টাকা অহেতুক অপচয় কিংবা অযথা খরচ করি তা থেকে সামান্য অর্থ বাঁচিয়ে একটি বই কেনা কঠিন কাজ নয়। শুধু দরকার মানসিকতার। ভলতেয়ার যথার্থই বলেছেন—’সে দেশ কখনো নিজেকে সভ্য বলে প্রতীয়মান করতে পারবে না যতক্ষণ না তার বেশিরভাগ অর্থ চুইংগামের পরিবর্তে বই কেনার জন্য ব্যয় হবে।’ গবেষণায় দেখা গেছে বই যেমন মানসিক বিকাশে অপরিহার্য তেমনি স্বাস্থ্য রক্ষা করতেও তুলনাহীন। বই পড়া মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়ায়। দেহ ও মন উভয়ের সুস্থতার জন্য এটা মহৌষধ স্বরূপ। মার্ক টোয়েন যথার্থই বলেছেন—’ভালো বন্ধু, ভালো বই এবং ধ্যানমগ্নতা—এই হলো আদর্শ জীবন।’ টলস্টয় বলেছেন— ‘মানুষের জীবনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ তা হচ্ছে—বই, বই, বই।’
বই মানবজীবনের এক পরমহিতৈষী, প্রকৃত বন্ধু ও জীবনসঙ্গী। ওমর খৈয়ামের ভাষায়—’রুটি মদ ফুরিয়ে যাবে প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হয়ে আসবে, তবু বই থেকে যাবে অনন্ত যৌবনা।’ যদি তা তেমন বই হয়। বই ক্রয়, বই পাঠ আন্দোলন আরো জোরদার হোক। পরিবারে জন্মদিন, পহেলা বৈশাখসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপহার হিসেবে বই স্থান পাক। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক প্রতিযোগিতা, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে পুরস্কার হিসেবে বই স্থান পাক সর্বাগ্রে। বাড়ি-বাড়ি গড়ে উঠুক ছোট ছোট পাঠাগার। বই হোক নিত্য সঙ্গী।ইত্তেফাক

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ