ধর্মীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখছেন হজযাত্রীরা,নয় বাংলাদেশির ইন্তেকাল
মক্কা থেকে ফেরদৌস ফয়সাল: ‘মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) যেখানে ধ্যান করতেন এবং পবিত্র কোরআন শরিফের আয়াত যেখানে নাজিল হয়েছে, সেসব জায়গা দেখতে পাওয়া সৌভাগ্যের বিষয়। এই সৌভাগ্য আমার হয়েছে।’ জাবালে নূর পাহাড়ের নিচে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বললেন মোহাম্মদ বাবর। তিনি ঢাকার নারিন্দার দক্ষিণ মৈশুণ্ডির বাসিন্দা। এবার পবিত্র হজ পালন করতে এসেছেন তিনি। তিনি জানান, জাবালে নূর পাহাড়ে উঠতে লাগে সোয়া এক ঘণ্টা, আর নামতে লাগে আধা ঘণ্টা।
মক্কার হারাম এলাকার কাছেই হেরা পর্বত। এই পর্বতে ওঠানামা যে কত কঠিন, তা যিনি ওঠেননি, তিনি বুঝবেন না। অথচ নবী করিম (সা.) এই পর্বতে ওঠানামা করেছেন নিয়মিত। এই মক্কাতেই আছে সাওর পর্বত। মক্কা থেকে মদিনায় যাওয়ার পথে শত্রুর হাত থেকে বাঁচতে হজরত আবু বকরকে (রা.) নিয়ে সাওর পর্বতের গুহায় আশ্রয় নিয়েছিলেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তিন দিন-তিন রাত তাঁরা এই গুহায় অবস্থান করেছিলেন। শত্রুরা খুঁজতে খুঁজতে চলে গিয়েছিল গুহার খুব কাছেই। কিন্তু গুহামুখে মাকড়সার জাল দেখে ফিরে যায় তারা। এমন একটি গুহা দেখা মুসলমানদের জন্য সৌভাগ্যের। মোহাম্মদ বাবরের মতো অনেক হজযাত্রী এসব স্থান ঘুরে দেখছেন।
হজযাত্রীরা মক্কায় এসে মসজিদুল হারামে (কাবা শরিফে) নামাজ আদায়ের পাশাপাশি অনেকে ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থান দেখতে যাচ্ছেন। এর মধ্যে আছে জাবালে নূর, গারে সাওর, সাফা ও মারওয়া, মক্কা লাইব্রেরি, মক্কা জাদুঘর, কাবার গিলাফ তৈরির কারখানা, জাবাল-ই-রহমত (আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত), মিনার আল-খায়েফ মসজিদ, নামিরা মসজিদ, আরাফাতের ময়দান, মুজদালিফা, জাবাল-ই-সাওর।
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়ার বিপ্লব হাসান বায়েজিদ জানান, মক্কা উম্মুল জুদ এলাকায় কাবার গিলাফ তৈরির কারখানা। সেখানে অনেক বাংলাদেশি চাকরি করেন। কাবা শরিফের কাছে উমরা মসজিদে যাওয়ার পথেই পড়ে মক্কা জাদুঘর। কোনো প্রবেশমূল্য নেই। জাদুঘরে আছে সৌদি আরবের প্রাচীন সংস্কৃতি, পোশাক-পরিচ্ছদ, আসবাবপত্র, বাদ্যযন্ত্র। আছে আরবি বর্ণমালা বিবর্তনের একটি তালিকা। এক কোনায় রয়েছে পানির কূপ, কূপ থেকে পানি উত্তোলনের যন্ত্রপাতি। এর পাশের কক্ষে আছে প্রাচীন ধাতব মুদ্রা। প্রতিটি বস্তুর পাশেই আরবি ও ইংরেজি ভাষায় লেখা আছে সেই সময়ের ইতিহাস ও বিবরণ। মুগ্ধ হওয়ার মতো বেশ কিছু আরবি ক্যালিওগ্রাফি চোখে পড়ে একটি কক্ষে। প্রতিটি কক্ষেই পাহারাদার আছেন। তাঁদের অনেকেই বাংলাদেশি। রয়েছে হাতে লেখা পবিত্র কোরআন শরিফ। হজরত উসমানের (রা.) আমলের কোরআন শরিফও আছে এই জাদুঘরে। আরও আছে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সম্পূর্ণ বংশলতিকা। আছে কুরাইশসহ আরবের বিখ্যাত বিভিন্ন গোত্র ও বংশের পরিচয়।
জেদ্দা বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে এ পর্যন্ত ৪৭ হাজার ৭৪৪ জন হজযাত্রী সৌদি আরব এসেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পাঁচ হাজার ২১৭ জন ১১টি ফ্লাইটে এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪২ হাজার ৫২৭ জন ১৯৫টি ফ্লাইটে এসেছেন।
নয়জন বাংলাদেশির ইন্তেকাল
এবার পবিত্র হজ পালন করতে সৌদি আরব এসে এ পর্যন্ত নয়জন বাংলাদেশি ইন্তেকাল করেছেন। তাঁরা হলেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মো. আবদুর রাজ্জাক (৫৯) ও ভৈরবের আমিনুল হক (৪৪), চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের মোছাম্মৎ আমেনা বেগম (৫৪), সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের সুলতান মাহমুদ (৫৭), গাজীপুর সদরের নাছিমা বেগম (৪২), নীলফামারী সদর উপজেলার শেখ আফছার আলী (৬৭), চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার আলী আকবর (৬৪), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের মো. আবদুর রশিদ (৮৩) এবং কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের কাজি আলী আক্কাস (৫৮)। তাঁদের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। জানাজা শেষে মক্কার শারায়া ও মদিনার জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে তাঁদের মরদেহ দাফন করা হয়।
- নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭ মার্চ ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে যাবে
- নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance.
- New York Attorney General James Reminds New Yorkers of SNAP Work Requirements
- নিউইয়র্কে ডিজিটাল ওয়ান ট্র্যাভেলস এবং বাংলা ট্র্যাভেলস এর ইফতার মাহফিল
- রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন নিউইয়র্ক ইনক’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত








