Friday, 5 June 2026 |
শিরোনাম
Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes নিউইয়র্কে নতুন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হৃদয় বীণা সংগীতালয়’র যাত্রা শুরু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে নিউইয়র্কে ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র দোয়া মাহফিল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বিজয় নিউইয়র্কে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পরিবার নিউইয়র্ক সিটি’র উদ্যোগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী পালন নিউইয়র্ক স্টেট এসেমব্লি ডিস্ট্রিক্ট ৮৭’র নির্বাচনে কারিনা-জাকির মুখোমুখি NYIC Action Endorses Immigrant Champions and New Voices for NYS Legislature নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা ২০২৬ সম্পন্ন, ২০২৭ সালের বইমেলা ২১-২৪ মে নিউ জার্সিতে এস্টোরিয়া ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ইউএসএ’র সাধারণ সম্পাদক জাবেদ উদ্দিনকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান
সব ক্যাটাগরি

নিউইয়র্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হয়েছে বিশিষ্ট মানবাধিকার নেতা মুক্তিযোদ্ধা রতন বড়ুয়ারকে

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 28 বার

প্রকাশিত: April 7, 2014 | 4:43 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : নিউইয়র্কে বিশিষ্ট মানবাধিকার নেতা মুক্তিযোদ্ধা রতন বড়ুয়ারকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হয়েছে। জাতীয় পতাকা আচ্ছাদিত কফিনে রতন বড়ুয়াকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গভীর শ্রদ্ধায় শেষ বিদায় জানানো হয়। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ইউএসএ’র সভাপতি চিরকুমার রতন বড়ুয়ার কফিনে প্রবাসের সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন। তিনদিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির শেষদিনে স্থানীয় সময় রোববার বিকেলে মানবাধিকার নেতা রতন বড়ুয়ার প্রতি শেষশ্রদ্ধা জানাতে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস ইউনাইটেড মেথডিস্ট চার্চে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রবাসের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাসহ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মুক্তিযোদ্ধা, কবি, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, সংগঠক তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় প্রথমে রতন বড়ুয়ার কফিনে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা জড়িয়ে দেন ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদের ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আবদুল মোমেন। এরপর স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের দুই শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায় ও শহীদ হাসানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এ সময় রতন বড়ুয়ার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
পরে রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি রতন বড়ুয়ার কফিনে বাংলাদেশ দূতাবাস ও বাংলাদেশ মিশনের পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে রতন বড়ুয়াকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয় পুষ্পস্তবক অর্পণের পর। বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, একুশে পদকপ্রাপ্ত জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়, একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্যাভিনেতা জামাল উদ্দিন হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নূরুন্নবী, গোলাম মোস্তফা খান মেরাজ, আব্দুল মুকিত চৌধুরী, ডা. মাসুদল হাসান ও মোহাম্মদ মনির হোসেন, বিশিষ্ট সাংবাদিক নিনি ওয়াহিদ, বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার কবীর আনোয়ার, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি আকতার হোসেন, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও এটিএন বাংলা ইউএসএ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফখরুল আলম, কলামিষ্ট সুব্রত বড়ুয়া প্রমুখ শ্রদ্ধা নিবেদন করে পুস্পস্তক অর্পণ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসে নিযুক্ত প্রেসমিনিস্টার স্বপন সাহা দূতাবাসের পক্ষ থেকে রতন বড়ুয়ার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দুদিন আগেই নিউইয়র্কে পৌঁছান।
চার্চে আনুষ্ঠানিকতায় রতন বড়ুয়ার সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (বাকসু)-এর সাবেক জিএস ড. প্রদীপ রঞ্জন কর। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সাংবাদিক মুজাহিদ আনসারী।
রতন বড়ুয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তারা বলেন, সবার প্রিয় রতন বড়ুয়া সব সময়ই মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। আজীবন শান্তির জন্য ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনে ভূমিকা রেখেছেন। মৃত্যুর আগে তিনি তার মরদেহ গবেষণার কাজের জন্য ঢাকার বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজে দান করে গেছেন। তার কর্মই তাকে বাঁচিয়ে রাখবে। তারা বলেন, দল-মত-ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে নিজেকে মানবসেবী হিসেবে সবার মনে স্থান করে নিয়েছেন। ব্যক্তিজীবনে রতন বড়ুয়া ছিলেন একজন সৎ, পরোপকারী, সাদামনের মানুষ। আমৃত্যু তিনি মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। তার মৃত্যুতে কমিউনিটি সত্যিকারের একজন মানবপ্রেমী মানুষকে হারালো।
নিজের গ্রিনকার্ড করতে না পারলেও অনেক মানুষের গ্রিনকার্ড প্রাপ্তিতে রতন বড়ুয়ার ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। আর গ্রিনকার্ড না থাকায় তিনি দেশেও যেতে পারেননি। মানুষের প্রয়োজনে তিনি একাধিকবার ডিটেনশন সেন্টার পরিদর্শন করেন এবং সেখানে আটক অনেকের সাহায্যে এগিয়ে আসেন। তিনি সর্বদাই প্রবাসীদের কল্যাণে কাজ করেছেন। প্রবাসীদের যে কোন সমস্যায় তাঁকে সবার আগে ছুটে আসতে দেখা গেছে।
রতন বড়ুয়ার জীবনের শেষ স্বপ্ন ছিল চট্টগ্রামে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা। এ জন্য তিনি কাজ করে যাচ্ছিলেন।
এদিকে, বাংলাদেশ সোসাইটি ইন নিউইয়র্ক প্রয়াত রতন বড়ুয়ার মরদেহ বাংলাদেশে পাঠাতে এক হাজার ডলার দিয়েছে।
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মিডল মাদারশা গ্রামের প্রয়াত অমিয় কান্তি বড়ুয়ার সন্তান রতন বড়ুয়া ১৯৮৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার লস এঞ্জেলেসে আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ সম্মেলনে বাংলাদেশের যুব সমাজের প্রতিনিধি হিসেব যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র আসেন। রতুন বড়–য়ারা চার ভাই, তিন বোন। তাদের মধ্যে দুই ভাই ও তিন বোন চট্টগ্রামে বসবাস করেন।
প্রয়াত রতন বড়ুয়ার ফুসফুসে ক্যান্সার ধরা পড়ে গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে। সে সময় চিকিৎসকরা জানান, রতন বড়ুয়ার ৬ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত বাঁচবেন। তবে মরণব্যাধির কথা জেনেও রতন বড়ুয়া তার মানব সেবা থেকে পিছপা হননি। অংশ নিয়েছেন জাতিসংঘ, হোয়াইট হাউজ আর মেয়র অফিস ভবনের সামনে সহ ইমিগ্রেশন আন্দোলনের সভা-সমাবেশে। নিউইয়র্কে তার নিজ বাড়ীটি ছিলো দল-মত আর ধর্মের উর্ধ্বে অনেকেরই অস্থায়ী আবাসস্থল।
সহস্রাধিক প্রবাসীর মরদেহ দেশে পাঠাতে রতন বড়ুয়ার সেবাকর্মের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
মানবসেবায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য প্রয়াত রতন বড়ুয়া ইউনাইটেড ফর হিউম্যান রাইটের ‘পিস অ্যান্ড টলারেন্স-২০০৯ অ্যাওয়ার্ড’, এবিআই ইউএসএ’র ‘একমপ্লিস লিডার, ইউনাইটেড কালচারাল কনভেনশনের ‘ইন্টারন্যাশনাল পিস প্রাইজ-২০০৭’, ‘গোল্ড মেডেল অব দ্য টোয়েন্টিফার্স্ট সেঞ্চুরি’, আমেরিকান বায়োগ্রাফিক্যাল ইনস্টটিউটের ‘ডিগনিটি অব অনার্স’, ইন্টার রিলিজিয়াস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর ওয়ার্ল্ড পিসের ‘অ্যাম্বাসেডর ফর পিস অ্যাওয়ার্ড’ প্রভৃতি সম্মাননা লাভ করেন।
প্রয়াত রতন বড়ুয়ার সহোদর নয়ন বড়ুয়া জানান, রতন বড়ুয়ার মরদেহ সোমবার অথবা মঙ্গলবার (নিউইয়র্ক সময় রাতে) জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকায় পাঠানো হবে এবং পৌঁছবে ১০ এপ্রিল বুধবার অথবা ১১ এপ্রিল বৃহস্পতিবার। ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষে রতন বড়ুয়ার মরদেহ গ্রহণ করার পর ঢাকার বৌদ্ধ মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানানোর পাশাপাশি সর্বস্তরের নাগরিকরা শেষশ্রদ্ধা জানাবেন।
রতন বড়ুয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৌদ্ধমন্দিরের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন। তবে প্রধানমন্ত্রী নিজে সময় না পেলে তার পক্ষ থেকে রতন বড়ুয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে।
বৌদ্ধ মন্দিরের আনুষ্ঠানিকতার পর হেলিকপ্টারে করে রতন বড়ুয়ার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মিডল মাদারশা গ্রামে।
উল্লেখ্য, নিউইয়র্কের মানবাধিকার নেতা ও বিশিষ্ট সমাজকর্মী মুক্তিযোদ্ধা রতন বড়ুয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের শোক সাগরে ভাসিয়ে গত ১ এপ্রিল মঙ্গলবার চলে যান না ফেরার দেশে। মঙ্গলবার ভোর ৬টায় নিউইয়র্কের জ্যামাইকা হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফুসফুস ক্যান্সারে ভুগছেলিন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৬৬ বছর। মঙ্গলবার সকাল ১১টার পর রতন বড়ুয়ার মৃতদেহ রিচমন্ডহিলের একটি ফিউনারেল সার্ভিস সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। শনিবার পর্যন্ত তাঁর মৃতদেহ সেখানে রাখা হয়। অত্যন্ত ভদ্র, বিনয়ী ও সদালাপি অসাধারন এ মানুষটির মৃত্যুর সংবাদ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়লে প্রবাসে নেমে আসে শোকের ছায়া।
এর আগে ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত রতন বড়–য়াকে ২০ মার্চ জ্যামাইকা হাসপাতালে ভর্তির পরই আইসিউতে নেয়া হয়। প্রচন্ড শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন তিনি। তার শারীরিক অবস্থা জটিল আকার ধারণ করে। মাঝে তিনি কিছুদিন হাসপাতালে ভর্তি থেকে কিছুটা সুস্থ্য হয়ে কমিউনিটিতে ফিরে আসেন। সর্বশেষ গত মার্চ মাসের শেষের দিকে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে জ্যামাইকা হাসপাতালের চতুর্থ তলার হসপিস কেয়ার ইউনিটের ৫ নম্বর কক্ষে ভর্তি করা হয়। তার হাসপালে ভর্তির খবর শুনে প্রতিদিনই কমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষ তাকে দেখতে যান। ৩০ মার্চ তার অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। তিনি প্রচন্ড শ্বাস কষ্টে ভুগতে থাকেন। কথাও বলতে পারছিলেন না।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV