‘সান জু’র দৃষ্টিতে নেতৃত্বের জন্য ৩০টি সেরা পরামর্শ
প্রাচীন চীনা সামরিক নেতা ‘সান জু’র পরামর্শগুলো আজও মানুষ মেনে চলেন নেতৃত্বের সফলতা অর্জনের নানা গুণাগুণ শিক্ষার জন্য। সম্প্রতি এ নেতার ৩৩টি বিখ্যাত পরামর্শের একটি সংকলন তৈরি করেছে ফোর্বস। অনবদ্য এ পরামর্শগুলো আজও মানুষের পাথেয় হিসেবে স্বীকৃত। আর এসব শিক্ষা প্রাচীন সমরবিদ্যাসংক্রান্ত হলেও বর্তমান করপোরেট যুগেও এগুলোর মূল্য রয়েছে। এ লেখায় পাচ্ছেন তার ৩০টি পরামর্শ।
১. নেতা উদাহরণের মাধ্যমে নেতৃত্ব দেন, শক্তির ভিত্তিতে নয়।
২. নিজেকে বিশ্বাস করতে হবে।
৩. যখন আপনি শক্তিশালী থাকবেন তখন দুর্বলতা প্রকাশ করতে পারবেন কিন্তু যখন দুর্বল থাকবেন তখন শক্তিশালী হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করতে হবে।
৪. যখন আপনার শত্রু সবক্ষেত্রে নিরাপদ তখন তার জন্য প্রস্তুতি নিন। সে যদি খুবই শক্তিশালী হয় তাহলে তাকে কৌশলে এড়িয়ে যান। আর আপনার শত্রু যদি রাগি বা এতে সংবেদনশীল হয় তাহলে তাকে বিরক্ত করুন। দুর্বলতার প্রকাশ করা হলে সে উদ্ধত হয়ে উঠতে পারে। বিষয়টাকে সে সহজভাবে নিলে তাকে বিশ্রাম দিন। তার শক্তিগুলো যদি একত্রিত হয় তাহলে পৃথক করে দিন। পক্ষগুলো যদি একমত হয় তাহলে তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করুন। সে যখন অপ্রস্তুত থাকবে তখন আক্রমণ করুন। যেখানে আপনাকে আশা করেনি সেখানেই উপস্থিত হোন।
৫. যুদ্ধের সবচেয়ে বড় কৌশল হলো যুদ্ধ না করেই শত্রুকে পরাজিত করা।
৬. সর্বোচ্চ সফলতা হয় তখনই যখন, যুদ্ধ না করেই শত্রুর প্রতিরক্ষাব্যুহ ভেঙে ফেলা যায়।
৭. মনের সমর্থন যদি থাকে তাহলে বহু বিষয় ছাড়াই কোনোকিছু চালানো সম্ভব।
৮. বিজয়ী যোদ্ধারা আগে বিজয় লাভ করে এবং পরে যুদ্ধে যায়। অন্যদিকে পরাজিত যোদ্ধারা আগে যুদ্ধে যায় এবং পরে বিজয়ের চেষ্টা করে।
৯. আপনার শত্রুকে জানার জন্য আপনাকেই আপনার শত্রু হতে হবে।
১০. আপনার বন্ধুদের কাছাকাছি রাখুন এবং শত্রুদের আরও কাছে রাখুন।
১১. আমার জানা সবকিছু যদি আমি করতে পারি তাহলে কী পরিস্থিতি দাঁড়াবে তা কি চিন্তা করতে পারেন?
১২. সবচেয়ে ভালো তলোয়ারও লবণে ডুবিয়ে রাখলে ধীরে ধীরে মরিচা পড়ে যাবে।
১৩. মানুষের প্রত্যাশানুযায়ী তাদের কাজে যুক্ত করুন, যেন তারা সহজেই তাদের আশার প্রকাশ দেখতে পারে। এতে তারা পূর্বানুমাণের ভিত্তিতে সাড়া দেবে ও তাদের মানসিকতা গ্রাস করবে। এতে আপনি অসাধারণ মুহূর্তের আশায় থাকতে পারবেন যা তারা অস্বীকার করতে পারবে না।
১৪. আপনি যদি শত্রুকে জানেন ও নিজের সম্বন্ধে জ্ঞান রাখেন তাহলে শত যুদ্ধ বিষয়ে ভয় না পেলেও চলবে। আপনি যদি নিজেকে জানেন কিন্তু শত্রুকে না জানেন তাহলে প্রত্যেক যুদ্ধজয়ের সঙ্গে সঙ্গে একটি করে পরাজয়ও বরণ করবেন। আপনি যদি শত্রুকে না জানেন আর নিজেকেও না জানেন তাহলে প্রত্যেক যুদ্ধক্ষেত্রেই আপনি লোভের বশে পরাজিত হবেন।
১৫. বিজয়ের জন্য পাঁচটি অত্যাবশ্যকীয় বিষয়:
এক. কখন যুদ্ধ করতে হবে ও কখন করতে হবে না, এ বিষয়টি যে জানবে সে বিজয়ী হবে।
দুই. সবচেয়ে ভালো আর সবচেয়ে খারাপ শক্তিকে যে চালাতে পারবে, সে বিজয়ী হবে।
তিন. যার সেনাবাহিনী প্রাণবন্ত ও সব পর্যায়ে প্রাণের ছোঁয়া আছে, সে বিজয়ী হবে।
চার. নিজে প্রস্তুত থাকলেও শত্রুসৈন্যকে অপ্রস্তুত করার জন্য অপেক্ষা করে যে, সে বিজয়ী হবে।
পাঁচ. যার সামরিক শক্তি আছে ও তা ওপরের মহল দ্বারা বিরক্ত হয় না, সে বিজয়ী হবে।
১৬. অত্যন্ত সূক্ষ্ম হয়ে উঠুন এবং তা নির্দিষ্ট কোনো আকার না থাকলেও বজায় রাখুন। সম্পূর্ণ রহস্যজনক হয়ে উঠুন এমনকি তা সম্পূর্ণ নীরব হলেও। এভাবেই আপনি অপর পক্ষের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারবেন।
১৭. কৌশল ছাড়া পরিকল্পনা হলো বিজয়ের সবচেয়ে ধীর পথ। অন্যদিকে পরিকল্পনা ছাড়া কৌশল হলো পরাজয়ের আগের শব্দ।
১৮. পাঁচটির বেশি ‘মিউজিক্যাল নোটস’ বিশ্বে নেই, কিন্তু এগুলোর সমন্বয়ে এতে সংগীত সৃষ্টি করা সম্ভব যা কখনও শোনা যায়নি। পাঁচটির বেশি ‘প্রাথমিক রং’ বিশ্বে নেই, কিন্তু এগুলোর সমন্বয়ে এতো বর্ণচ্ছটা তৈরি করা সম্ভব যা কেউ কখনও দেখেনি। পাঁচটির বেশি ‘প্রাথমিক স্বাদ’ বিশ্বে নেই, কিন্তু এগুলোর সংমিশ্রণে এতো স্বাদ তৈরি করা সম্ভব যা কেউ কখনো আস্বাদ নেয়নি।
১৯. সুযোগ যদি বন্ধ করে দেওয়া হয় তাহলে তা গুণিতক হারে বেড়ে যায়।
২০. শত্রু যখন বিশ্রাম করে তখন তাদের পরিশ্রম করান। যখন সে সম্পূর্ণ থাকে তখন তাকে মৃত্যুমুখে ঠেলে দিন। যখন সে কোথাও স্থায়ী থাকে তখন চলতে বাধ্য করুন।
২১. নিজেকে জানুন এবং এতে আপনি সব যুদ্ধে বিজয়ী হবেন।
২২. বাতাসের মতো হালকাভাবে চলাফেরা করুন এবং কাঠের মতো ঘনভাবে স্থাপন করুন। আগুনের মতো আক্রমণ করুন এবং পাহাড়ের মতো নিশ্চল থাকুন।
২৩. আপনার পরিকল্পনা রাখুন অন্ধকার ও রাতের মতো অলঙ্ঘনীয়। আর যখন চলা শুরু করবেন তখন বজ্রপাতের মতো পতিত হন।
২৪. যখন শক্তিশালী তখন তাদের এড়িয়ে যান। উচ্চ নৈতিকতা যদি থাকে তাহলে তাদের হতাশ করুন। বিনম্র হোন তাদের আত্মগর্ব বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য। যদি সহজসাধ্য হয় তাহলে তাদের দূর করুন। তারা যদি একত্রিত হয় তাহলে পৃথক করে দিন। তাদের দুর্বল স্থানে আঘাত করুন। তাদের অবাক করে আবির্ভূত হোন।
২৫. সব যুদ্ধই ভাওতাবাজির ওপর নির্ভরশীল। এ কারণে যখন আক্রমণ করা সম্ভব তখন আমাদের অবশ্যই তাতে অপারগতা প্রকাশ করতে হবে। যখন আমাদের শক্তি থাকবে তখন তা নিষ্ক্রিয় দেখাতে হবে। যখন আমরা কাছাকাছি থাকবো তখন শত্রুকে বোঝাতে হবে যে, আমরা অনেক দূরে আছি। যখন আমরা দূরে থাকবো, তখন বোঝাতে হবে যে, আমরা কাছেই আছি।
২৬. দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ থেকে কোনো দেশ লাভবান হয়েছে এমন কোনো উদাহরণ নেই।
২৭. কোনো যুদ্ধ ছাড়াই যে বিজয় পাওয়া যায় তাই সবচেয়ে বড় বিজয়।
২৮. নিজের প্রিয় সন্তানের মতোই আপনার লোকদের সঙ্গে আচরণ করুন। এতে তারা সবচেয়ে গভীর উপত্যকাতেও আপনাকে অনুসরণ করবে। সৈন্যদের শিশুদের মতো ভালোবাসুন, তাতে তারা মৃত্যু পর্যন্ত আপনার পাশে থাকবে।
২৯. আপনার শত্রুপক্ষকে পরাজয় ও পিছিয়ে যাওয়ার জন্য সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করে দিন।
৩০. যখন আপনি চারপাশ থেকে ঘিরে ধরবেন, একটি মুখ খোলা রাখুন। বিভ্রান্ত একজন শত্রুর প্রতি অতিরিক্ত কঠোর হবেন না। কালের কণ্ঠ
- বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ওয়াহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কামালকে অব্যাহতি; ব্যারিষ্টার আকমাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শাবু ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে
- SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK
- Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
- যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয়
- A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History
- নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং
- Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency