Wednesday, 28 October 2026 |
শিরোনাম
New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাস্তবায়ন উপলক্ষে নিউইয়র্কে সমাবেশ, আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার প্রত্যয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান
সব ক্যাটাগরি

স্মৃতিতে বিশ্বকাপ : মতিউর রহমান চৌধুরী

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 68 বার

প্রকাশিত: June 3, 2014 | 8:16 PM

ভিসা নেই। নেই অ্যাক্রিডিটেশন। অফিসের ছাড়পত্রও নেই। টাকার সমস্যা তো আছেই। তবুও যেতে হবে বিশ্বকাপে। কেউ বলেনি। নিজে থেকেই মনে হলো বিশ্বকাপের আসরে গেলে কেমন হয়। ’৯০ সালের কথা বলছি। আমি তখন দৈনিক ইত্তেফাকের কূটনৈতিক রিপোর্টার। ইতালিতে বসছে বিশ্বকাপের আসর। ’৮৬ বিশ্বকাপ টিভিতে দেখার পর আগ্রহটা বেড়েছিল বড্ড বেশি। বিশেষ করে ফুটবলের জাদুকর ম্যারাডোনার খেলা দেখে মনে হয়েছিল কাছে থেকে যদি দেখতে পেতাম। বলতে পারেন শিশুসুলভ আচরণ। মোহামেডান ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্বও পালন করেছি এক সময়। ফুটবল এমনই এক নেশা একবার মোহামেডান-ভিক্টোরিয়ার মধ্যকার খেলায় গোলমালে আহত হয়ে হাসপাতাল পর্যন্ত যেতে হয়েছিল। সত্তর দশকে প্রায় নিয়মিত খেলা দেখতে যেতাম ঢাকা স্টেডিয়ামে। সঙ্গে বন্ধু কবি হেলাল হাফিজ। আশির দশকের শেষ পর্যন্ত মাঠে গিয়েছি। তবে অনিয়মিত। যা-ই হোক, বিশ্বকাপ ফুটবলের আসরে যাওয়ার এতটাই আগ্রহ- রাত জেগে বসে থাকি। কিভাবে যাওয়া যায়। সাহস করে একদিন মঞ্জু ভাইয়ের রুমে ঢুকলাম। তখন সচিবালয়ে বসেন মঞ্জু ভাই। এরশাদের ডাকসাইটে মন্ত্রী। আমার সরাসরি বস। সম্পর্ক চমৎকার। বলছি, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর কথা। যিনি আমার অভিভাবক। ইত্তেফাক ছেড়েছি ’৯২ সালের মার্চ মাসে। সম্পর্কে ছেদ পড়েনি। বরং আরও উষ্ণ ও গভীর হয়েছে। এখন তার বিল্ডিং-এ আমার অফিস। সকাল-বিকাল আড্ডা হয়। রাজা-উজির মারি। নানা বিষয়ে মতের অমিল রয়েছে। তবুও সম্পর্কে সামান্যতম ঘাটতি নেই। আমাকে দেখেই বললেন, কি ব্যাপার এই সময় তো তোমার ফরেন অফিসে থাকার কথা। বললাম, আমি বিশ্বকাপ ফুটবল কভার করতে চাই। অসুবিধা কোথায়? ভিসা নেই, টাকা নেই। কি করে যাবো? ইতালির ভিসা সমস্যা হওয়ার কথা নয়। এক ব্যবসায়ী বন্ধুকে ফোন করে বললেন, কালকের মধ্যে আমার রিপোর্টারের ভিসা চাই। অপর প্রান্ত থেকে বন্ধু বললেন, ঠিক আছে। পাঠিয়ে দিন। মঞ্জু ভাই বললেন, আগে ভিসা আসুক। তারপর টাকা। আমি তো লাফাতে লাফাতে সচিবালয় ছেড়ে বাসার দিকে রওয়ানা দিলাম। পাসপোর্ট নিয়ে ব্যবসায়ী কাজী সাহেবের গুলশান অফিসে পৌঁছে গেলাম। ফরম এনে রাখা হয়েছিল আগেই। কাজী সাহেবের অফিসে বসেই পূরণ করে হাতে হাতে জমা দেয়া হলো। একদিন পর ভিসা আনতে বললেন কাজী সাহেব। পাসপোর্ট সংগ্রহ করে সোজা মঞ্জু ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলাম। কড়ি লাগবে। ইত্তেফাক অফিসে সম্পাদকীয় বিভাগের বৈঠক চলছিল। আমিও মাঝে মধ্যে উপস্থিত থাকতাম। বসতে বলে মঞ্জু ভাই একটি ফোন রিসিভ করলেন। পাশের রুমে ডেকে নিয়ে বললেন, একাউন্টসকে বলে দিয়েছি ওরা টিকিট ছাড়া এক হাজার ডলার তোমাকে দেবে। ভিসা হলো। টাকাও পেয়ে যাচ্ছি। এখন সমস্যা অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড। ওটা না হলে ইতালি যাওয়া বৃথা। মাথায় এলো ইতালিতে কর্মরত রাষ্ট্রদূত ওয়ালিউর রহমানের কথা। তাকে বললে কেমন হয়। চেনা জানা আছে। তবে সম্পর্ক এতটা পাকাপোক্ত নয়। ফরেন সেক্রেটারিকে বললাম। তিনি বললেন, দূতাবাস যদি কিছু করতে পারে তাতে আপত্তির কি আছে। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ওয়ালিউর রহমান সাহেবকে ফোন করলেন। বললেন, একটি চিঠি যদি দূতাবাস থেকে দেয়া হয় তাহলে হয়তো ফিফা’র মিডিয়া কমিটি অ্যাক্রিডিটেশন দিতে পারে। ফোন রেখে ফরেন সেক্রেটারি বললেন, মনে হয় কোন অসুবিধা হবে না। মন কি আর মানে তখন। আবার মঞ্জু ভাইকে বললাম। তিনি যদি রাষ্ট্রদূতকে ফোন করে বলে দেন। রাষ্ট্রদূতকে ফোন করে বললেন, আমার রিপোর্টার মতি যাবে, দেখবেন কিছু করা যায় কিনা। আশ্বস্ত হয়ে প্রস্তুতি নিতে শুরু করলাম। এই পর্যায়ে বলে রাখি বার্তা সম্পাদক গোলাম সারওয়ার শুনে ফেলেছেন। খেলাপাগল এই মানুষটি সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছিলেন। আমার দেখা এ যাবৎকালের সেরা বার্তা সম্পাদক। যাকে ফাঁকি দেয়া কঠিন ছিল। বর্তমানে তিনি দৈনিক সমকালের সম্পাদক। ইত্তেফাকে খেলার খবর তখন একদম গুরুত্ব পেত না। প্রয়াত বদিউজ্জামান (বদি ভাই) লিখতেন। ভেতরের পাতায় সিঙ্গেল কলামে ছাপা হতো। খুব কম খেলার খবরই স্থান পেতো প্রথম বা শেষ পাতায়। ইত্তেফাকের অফিস সহকারী আবুল হোসেন এসে বললো বার্তা সম্পাদক সাহেব সালাম দিয়েছেন। রুমে প্রবেশ করতেই বললেন, কিভাবে খেলা কভার করতে হবে। মনে হলো তার মাথায় একটি পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তুতির কথা জানালাম। বললেন, আমি জানি। সম্পাদক সাহেব আমাকে বলেছেন। সারওয়ার ভাই সাহস দিলেন। বললেন, আমরা আছি। ঢাকায় বসে আমরা সবই দেখবো। তবে হ্যাঁ, ইউ আর লাকি। প্রথম বাংলাদেশী সাংবাদিক বিশ্বকাপে। সারওয়ার ভাইয়ের সাহস আর মঞ্জু ভাইয়ের সার্বিক সহযোগিতা আমাকে দারুণভাবে উজ্জীবিত করলো। স্ত্রীর মন খারাপ। এক মাস ছোট বাচ্চাটাকে নিয়ে থাকতে হবে। তা-ও নিজের বাড়ি ছেড়ে। বাপের বাড়িতে যাওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। তা-ই হলো শেষ পর্যন্ত। স্ত্রীর মুখে হাসিও দেখলাম। বিদেশে যাচ্ছি এমন একটা ইভেন্ট কভার করতে যেখানে সুযোগ পাওয়া সত্যিই কঠিন। ইতালি বিশ্বকাপ ৩ হাজার ২শ’ সাংবাদিক কভার করেছিলেন। স্ত্রীকে বললাম, দেখতে দেখতে এক মাস কেটে যাবে। পরিবারের প্রতি তার কমিটমেন্ট তুলনাহীন। তামাম দুনিয়া ঘুরে বেড়িয়েছি। বড় বড় ইভেন্ট কভার করেছি। দু’টি উপসাগরীয় যুদ্ধ কভার করেছি। ইরাক যুদ্ধে অংশগ্রহণ ছিল অন্যতম। স্ত্রীর কান্না আর আবেগ উপেক্ষা করে বাগদাদ পৌঁছেছিলাম। সে অন্য কাহিনী। বিশ্বকাপে ফিরে আসি। সব ঠিক ইতালিগামী বিমানে উঠবো।

ইতালি পৌঁছে কি দেখলাম

সকাল বেলা রোম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছলাম। বাইরে কনকনে শীত। ইমিগ্রেশন পার হলাম। কোথায় যাবো, কিভাবো যাবো- ঠিক করতে পারিনি। ঢাকায় থাকতেই শুনেছিলাম হোটেলে সিট নেই। এয়ারপোর্ট হোটেলে যোগাযোগ করলাম। সেখানেও দুঃসংবাদ। কোন সিট নেই। একটি হোটেল পাওয়া গেল তা-ও তিনদিনের জন্য। মেনে নিলাম। টাকা পেমেন্ট করলাম। হোটেলে কিভাবে যাবো তা নিয়ে দুশ্চিন্তার অন্ত নেই। কারণ ঢাকায় থাকতে শুনেছি মাফিয়াদের প্রচ- দাপট ইতালির শহরগুলোতে। ট্যাক্সিতে ওঠার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছি। হঠাৎ পেছন থেকে ‘মতি’ বলে চিৎকার করে উঠলো কেউ। পেছনে ফিরে দেখি জয়ন্ত চক্রবর্তী। কলকাতার যুগান্তর পত্রিকার বার্তা সম্পাদক। সে-ও যাচ্ছে বিশ্বকাপ কভার করতে। ওরা আরও তিনজন। স্টেটম্যানের শ্যাম সুন্দর ঘোষ, আনন্দবাজারের রূপক সাহা, দৈনিক আজকালের ফটোগ্রাফার সুমনও রয়েছে। জয়ন্ত জিজ্ঞেস করলো, কোথায় যাবি? ওর সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠতা অনেক দিনের। কারণ, আমি যুগান্তরের হয়ে ঢাকা থেকে কাজ করেছি। জয়ন্ত বললো, হোটেল ঠিক করেছিস। বললাম, তিনদিনের জন্য। তোর কি অবস্থা? আমি আগে মিডিয়া সেন্টারে যাবো। অ্যাক্রিডিটেশন নেবো। তারপর হোটেল খুঁজবো। বললাম, চল আমার সঙ্গে। একসঙ্গে তো আমরা কয়েকজন। ওদের ফেলে কিভাবে যাই। ঠিক আছে তাহলে। পরে দেখা হবে। আমি হোটেলে গিয়ে দূতাবাসে যাবো একটি চিঠি সংগ্রহ করতে। ভারতীয়দের সমস্যা নেই। ফিফা তাদেরকে অ্যাক্রিডিটেশন দিয়েছে অনেক আগেই। বাংলাদেশের কোন সাংবাদিক যেহেতু কখনও আগ্রহ দেখাননি, তাই ফিফার আগ্রহ নেই। বাংলাদেশের কোটাও নেই। ট্যাক্সিতে উঠতে মুহূর্তে জয়ন্ত বললো, চল আমিও যাবো তোর সঙ্গে। ঠিক আছে। পনের মিনিট ড্রাইভ করার পর হোটেলে পৌঁছলাম। দু’টো বেড রয়েছে রুমে। অসুবিধা থাকার কথা নয়। গোসল সেরে নাস্তা খেতে নামলাম লবিতে। রেস্টুরেন্ট তখন বন্ধ। অর্ডার দিয়ে খেতে হবে। প্রচ- ক্ষুধার্ত- তা-ই করলাম। রুটি মাখন আর একটি কলা পাওয়া গেল। জয়ন্তকে বললাম, তুই হোটেলে থাক। আমি আসি দূতাবাস থেকে। ট্যাক্সি ধরে দূতাবাসে পৌঁছলাম। কার্ড দিতেই রাষ্ট্রদূত ডেকে পাঠালেন। উষ্ণ আতিথেয়তা। পূর্ব পরিচয় তো ছিলই। কারণ অফিস কভার করার সুবাদে। চিঠি লিখে রেখেছি। কথাও বলেছি ফিফার মিডিয়া অফিসারের সঙ্গে। তারা বলেছেন, নিয়ম নেই এভাবে অ্যাক্রিডিটেশন দেয়ার। স্ব স্ব দেশের ফুটবল ফেডারেশনের মাধ্যমে কার্ড পৌঁছে যায়। তাহলে কি হবে না? রাষ্ট্রদূত ওয়ালি ভাই বললেন, ওরা বলেছে- যেহেতু বাংলাদেশ থেকে এ প্রথমবারের মতো একজন সাংবাদিক কভার করতে এসেছে। আমরা বিবেচনা করবো। চিঠিসহ পাঠিয়ে দিন।
হোটেলে জয়ন্ত অপেক্ষা করছিল। ওকে নিয়ে ছুটলাম অ্যাক্রিডিটেশন সেন্টারে। আগেই বলা ছিল। চিঠি দেখেই বললো, মি. চৌধুরী একটু অপেক্ষা করতে হবে। কুড়ি মিনিট অপেক্ষার পর একটি মেয়ে এসে আমার নাম ডাকলো। ছবি ওঠানো হলো। কার্ড প্রসেস হতে দশ মিনিট। জয়ন্তর কাজ শেষ। আমিও কার্ড পেয়ে গেলাম। কি যে আনন্দ! দুই বন্ধু কোক খেতে খেতে মিডিয়া সেন্টারে ঢুকে পড়লাম। সে এক এলাহি আয়োজন। বিশাল মিডিয়া সেন্টার। শত শত সাংবাদিক কম্পিউটারে বসে কাজ করছেন। অনেকের হাতে ল্যাপটপ। যা কিনা আমার স্বপ্ন। কারণ, তখনও কম্পিউটার চালু হয়নি। সীসার যুগ। খবর পাঠাতে হবে ফ্যাক্সের সাহায্যে। এত বড় মিডিয়া সেন্টার ফ্যাক্সযন্ত্র মাত্র দু’টি। আসলে এ উপমহাদেশের সাংবাদিক ছাড়া ফ্যাক্স কে ব্যবহার করবে। খবর পাঠাতে যে কি বিড়ম্বনার সম্মুখীন হয়েছি তা পরে বলছি। হাতের কাছে ফোন। রাষ্ট্রদূত ওয়ালিউর রহমান সাহেবকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানালাম। তিনি খুশি হলেন। বলতে ভুল করলেন না- কাজ শেষে যেন এক কাপ চা খেয়ে আসি। ঢাকায় ফোন করা যাবে না। কারণ ব্লক করা আছে ফোন। লোকাল ছাড়া কোথাও ফোন যাবে না। কার্ড কিনে বাসায় জানালাম। মঞ্জু ভাইকে বললাম, সব ঝামেলা চুকে গেছে। কাল থেকে রিপোর্ট পাঠাতে পারবো। অ্যাক্রিডিটেশন প্রক্রিয়া শেষ হতেই বেশ কিছু গিফট এলো। টাওয়েল, কিছু চকোলেট। আকর্ষণীয় স্যুভেনিরও পেলাম। ভারতীয় সাংবাদিকও অ্যাক্রিডিটেশন সম্পন্ন করেছেন। মজার আড্ডা হলো। দুপুরে গেলাম মিডিয়া সেন্টারে। কোচরা আসছেন। বিখ্যাত কোচদের দেখাও মিললো। সবাই ব্যস্ত। টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলো সচল। ম্যারাডোনার সন্ধানে সাংবাদিকরা ব্যস্ত। কিন্তু কোথায় আছেন তিনি তা কেউ জানেন না। কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ট্রেনিং ক্যাম্পও প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে। মিডিয়া সেন্টারে বসেই একটি আগাম খবর লিখলাম। পাঠাতে গেলাম ফ্যাক্স কর্নারে। আমি একা। পাশে মিডিয়া কন্যারা তৎপর। হেলপ লাইন চালু আছে। কোন সাহায্য লাগলে মিনিটের মধ্যেই হাজির ভলান্টিয়াররা। ফ্যাক্স যাচ্ছে না। ঢাকায় কি যেন হয়েছে। অনেকক্ষণ চেষ্টার পর অর্ধেক যাওয়ার পর থেমে গেল। আবার চেষ্টা। একই অবস্থা। তিনবার চেষ্টা করে সফল হলাম। তবুও নিশ্চিত নই- আদৌ গেল কিনা! ঢাকায় ফোন করলাম। লাইনে ঝামেলা। রীতিমতো চিৎকার করতে হলো। পাশের লোকজন আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করছে। প্রথমত কেউ ফ্যাক্সে খবর পাঠায় না। এর মধ্যে ফোনে চিৎকার করে কথা বলতে হচ্ছে। যা-ই হোক, খবরটি পৌঁছলো ইত্তেফাকে। ঢাকায় তখন রাত ন’টা। প্রথম পাতায় তিন কলামে রিপোর্ট ছাপা হলো। ২৮ দিন একটানা ইত্তেফাকে প্রধান শিরোনাম হয়েছিল। এর মধ্যে ব্যানার হেডলাইন ২১টি। ইত্তেফাকের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। কোন একজন রিপোর্টারের রিপোর্ট এভাবে প্রধান শিরোনাম হয়নি। আমি সত্যিই গর্বিত। এমন সুযোগ ক’জন রিপোর্টারের ভাগ্যে ঘটে! মনে রাখতে হবে ইত্তেফাক তখন সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক। ১২ মাস চাকরি করলে ১৮ মাসের বেতন। ৬টি বোনাস, ভাবা যায়। রিপোর্ট পাঠিয়ে শহরের দিকে ছুটলাম। জয়ন্ত বললো, দেখি রাতের ইতালি, রাস্তায় কোথাও খেয়ে নেবো। বাসে চড়লাম। সিটি সেন্টারের পাশে নেমে পড়লাম। রাস্তাঘাট একদম অচেনা। ভাষাও বড্ড সমস্যা। ইংরেজি বোঝেন খুব কম লোক। একটি জায়গায় বেশ কয়েকটি রেস্তরাঁ। একটিতে ঢুকে পড়লাম। সামনেই দেখি সাপের ডিসপ্লে করা আছে। কেউ সাপ খেতে চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে কেটে দেয়া হয়। এক মিনিট দাঁড়াতে পারিনি। আমার রুচি উধাও হয়ে গেল। জয়ন্তকে বললাম, চল হোটেলে চলে যাই রুটি-দুধ নিয়ে। তা-ই হলো। বিশ্বাস করেন সে রাতে দুই রুটিও খেতে পারিনি। ঢাকা থেকে মোয়া নিয়ে গিয়েছিলাম। দু’টো মোয়া আর মিডিয়া সেন্টার থেকে আনা কোক খেয়ে শুয়ে পড়লাম। ফের দুশ্চিন্তা। তিন দিন পর কোথায় উঠবো। হোটেল কর্তৃপক্ষের লাল নোটিশ। একদিন পর হোটেল ছাড়তে হবে। এখানে বলে রাখি, ফুটবলের মক্কা হিসেবে পরিচিত ইতালি তখন সেজেছে অপরূপ সাজে। যেদিকে তাকাই সে দিকেই ফুটবল তারকাদের পোস্টার। বিলবোর্ডে ম্যারাডোনা, রবার্তো ব্যাজিও আর পাওলো রসিকে দেখে মনে হচ্ছিলো তারা যেন কথা বলছেন অগনিত ভক্তদের সঙ্গে। তখন অবশ্য ডিজিটাল প্রিন্ট ছিল না। তবে বিলবোর্ডে তাদের উপস্থিতি ছিল সরব। বিশেষ করে রেলওয়ে স্টেশনে। 

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ