Thursday, 29 October 2026 |
শিরোনাম
নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan
সব ক্যাটাগরি

ইন্টারনেটের গোলকধাঁধায়

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 57 বার

প্রকাশিত: November 19, 2014 | 12:28 PM

বাসস্টপে বড় এক বিজ্ঞাপন সাঁটানো। কিন্তু কতজন তা দেখছে? এ ধরনের বিজ্ঞাপনের সঠিক দর্শকসংখ্যা বের করা যতটা অসম্ভব, সেই তুলনায় অনলাইনের বিজ্ঞাপনে কত ক্লিক হলো তা বের করা একেবারে ডাল-ভাত। কিন্তু সেই ক্লিকগুলোর কোনটি কোথা থেকে আসছে, কতজন মানুষ প্রকৃতপক্ষে ক্লিক করছেন, তা তুলনামূলকভাবে বের করা কষ্টসাধ্য। দ্য ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সেই তথ্য।
যে প্রতিষ্ঠানগুলো এই ক্লিক গোনার কাজ করে তারা ওয়েবসাইটে এমন কিছু কোড বসিয়ে দেয়, যা ক্লিকের সময়, উৎস ও কতবার ক্লিক হচ্ছে—তা গণনা করতে থাকে। তারা ক্লিকের তথ্য সংগ্রহ করতে ব্রাউজার প্লাগইন বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও সফটওয়্যার ইনস্টল করানোর চেষ্টা করে। এই কোড বা সফটওয়্যার ওয়েব ব্যবহারকারীর ব্যবহৃত ডিজিটাল যন্ত্রের ডিজিটাল কলিং কার্ড হিসেবে পরিচিত ইন্টারনেট-প্রটোকল (আইপি) অ্যাড্রেস রেকর্ড করে। কিন্তু প্রতিটি আইপি অ্যাড্রেস যে নির্দিষ্ট দেশের নিবন্ধিত একটি নির্দিষ্ট ব্যবহারকারী হবে তা ধরে নেওয়া বোকার মতো কাজই হবে।
এ বছরের ৪ নভেম্বর নতুন একটি প্রতিবেদনে এ বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন একটি পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে।
গ্লোবাল ওয়েব ইনডেক্স (জিডব্লিউআই) নামের একটি বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান এক বছরে এক লাখ ৭০ হাজার ওয়েব ব্যবহারকারীকে নিয়ে একটি জরিপ করেছে। ৩২টি দেশে এ প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় সহযোগী নিয়ে কাজ করে। বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহার বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। জিডব্লিউআই তাদের জরিপে ফেসবুক ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রেখেছে ভারত ও চীনকে। সিমিলারওয়েব নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান আইপি বিশ্লেষণ নিয়ে কাজ করে। তাদের হিসাবে ফেসবুক ব্যবহারকারীর তালিকায় শীর্ষ দশে চীনের নাম নেই। এই পার্থক্যের কারণ কী? এই পার্থক্যের একটি কারণ হতে পারে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যন্ত্রের সমন্বিত ব্যবহার। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ট্যাবলেট কম্পিউটার বা স্মার্টফোনের মতো যন্ত্র একাধিক জন ভাগ করে ব্যবহার করেন।
অন্যদিকে, জিডব্লিউআইয়ের জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের তিন-চতুর্থাংশ বলেছেন যে তাঁরা একাধিক যন্ত্র ব্যবহার করেন। এ ছাড়া পার্থক্য দেখা দেওয়ার আরেকটি কারণ হতে পারে প্রক্সি সার্ভার ও ভারচুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্কের (ভিপিএন) বিস্তৃতির বিষয়টি। এই প্রক্সি সার্ভার বা ভিপিএন ব্যবহার করে বিদেশি সার্ভারের মাধ্যমে ওয়েব ব্রাউজিং করা যায়।
ওয়েবের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট দেখতে যখন ব্যবহারকারীদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, তখন এ ধরনের ভিপিএন ও প্রক্সি সার্ভারের ব্যবহার বহুল প্রচলিত। যেমন চীনে ফেসবুকের ব্যবহার বন্ধ থাকলেও তারা কয়েক ক্লিকের মাধ্যমেই তা করতে পারেন।
জিডব্লিউআইয়ের জরিপকে পূর্ণাঙ্গ জরিপ বলা যায় না। কারণ এতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর প্রকৃত চিত্র ফুটে ওঠেনি। এটি শুধু দক্ষিণ আফ্রিকা বাদে পুরো আফ্রিকার সঠিক চিত্র তুলে ধরতে পারেনি। এশিয়া ও প্রশান্ত-মহাসাগরীয় তথ্য প্রযুক্তিবিষয়ক সংস্থা ‘এলআইআরএনইএশিয়া’ সম্প্রতি জানিয়েছে, সব ফেসবুক ব্যবহারকারীকেই ইন্টারনেট ব্যবহারকারী হিসেবে ধরা যাবে না। ইন্দোনেশিয়ার অনেক ইন্টারনেট ফেসবুক ব্যবহারকারী ফেসবুক বাদে ওয়েবের আর কিছুই ব্যবহার করেন না। কারণ, ফেসবুক ব্যবহার করতে যে ইন্টারনেট লাগে, সেটাই জানেন না অনেকে। এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে এখন মোবাইল ফোনের ব্যবহার বাড়ছে। বিশেষ করে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মোবাইল ফোনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। প্রাথমিকভাবে জিডব্লিউআইয়ের তথ্য অনুযায়ী বলা যায়, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের এক-চতুর্থাংশ ওয়েব ব্যবহারকারী শুধু মোবাইল ব্যবহার করেন, যেখান থেকে ভিপিএন ব্যবহার করা আজকাল ডাল-ভাত।
কিন্তু জরিপ ও ক্লিক গোনার সফটওয়্যার উভয় ক্ষেত্রেই ডেস্কটপ ব্যবহারকারীদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মোবাইল থেকে ওয়েব ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগের চেয়ে মোবাইল ব্যবহারের হার দ্রুততর।
বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে, কে কখন কোথায় অনলাইনে থাকছেন, তা জানা গেলে সরকারি নীতিনির্ধারকেরা ও বিজ্ঞাপনদাতারা উপকৃত হবেন। এ-সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য ইন্টারনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) থেকে পাওয়া যাবে। কিন্তু আইটিইউয়ের তথ্যের মধ্যেও ফাঁক রয়েছে। এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাতীয় আদমশুমারি ব্যুরোর জরিপগুলোর তথ্য একত্র করে তৈরি করা হয়। তাই আইটিইউয়ের তথ্যের ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন ওঠে। আইটিইউয়ের কর্মকর্তা সুজান টেল্টসার বলেন, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর প্রকৃত তথ্য জানা গেলে তা কাজে লাগানো যাবে। এই তথ্য বিভিন্ন সংস্থাকে তাদের লক্ষ্য কার্যকর করতে সাহায্য করবে এবং তাদের নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীকে লক্ষ্য করে তৈরি নির্দিষ্ট ভাষার ওয়েব কনটেন্ট তৈরি করতে সুবিধা হবে।
ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব সংস্থার কর্মকর্তা কোজো বোয়াকি বলেন, যেখানে ইন্টারনেট ব্যবহার কম, সেখানে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে রেডিওকে বিবেচনায় নেওয়া হয়। ওয়েব ব্যবহারকারীর হিসাব পুনর্নির্ধারণ করতে জনসেবার বার্তা কীভাবে পৌঁছানো হয়, সে বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। যেহেতু এখন ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়ছে, নিয়ন্ত্রকদের অবশ্যই ইন্টারনেট সেবাদাতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতার বিষয়টিতে খেয়াল রাখতে হবে, সাইবার অপরাধ ঠেকাতে হবে এবং ওয়েব অবকাঠামোতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে।
এপনিক নামে এশিয়া-প্রশান্ত-মহাসাগরীয় অঞ্চলের ইন্টারনেট নিবন্ধনদাতা প্রতিষ্ঠানের গবেষক জিওফ হাউসটন এ প্রসঙ্গে বলেন, ওয়েবের সেবা দিতে যে প্রচেষ্টার দরকার তা যে সংখ্যার ওপর নির্ভর করে তাই এখনো বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে রয়েছে।
আইটিইউয়ের ধারণা, বিশ্বের এখনো ৪৩০ কোটি মানুষ অনলাইনে যেতে বাকি রয়েছে যার ৯০ শতাংশই উন্নয়নশীল দেশগুলোর নাগরিক। কিন্তু যতক্ষণ না পর্যন্ত জরিপ ও ক্লিকের তথ্য সমন্বয় না করে একটি একক ছবি তুলে আনা না যাবে, ইন্টারনেট ব্যবহারের মানচিত্র বাসস্টপেজে সেঁটে রাখা ওই বিজ্ঞাপনের মতোই হবে। কে কোথায় কতজন ইন্টারনেট ব্যবহার করছে, সেই প্রকৃত তথ্য জানা যাবে না।প্রথম আলো

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ