যুক্তরাষ্ট্রে প্রচন্ড তুষার ঝড় : বরফের সাদা চাদরে ঢাকা পড়া চার অঙ্গরাজ্য নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, কানেকটিকাট এবং ম্যাসাচুসেটসে আবহাওয়াজনিত জরুরি অবস্থা ঘোষণা
ইব্রাহীম চৌধুরী, নিউইয়র্ক : যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে ব্যাপক তুষারপাত শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া অজোর ধারায় নেমে আসা বরফে এর মধ্যেই ঢাকা পড়েছে নগর জনপদ। নিউইয়র্ক সহ তিনটি রাজ্যে জরুরী অবস্থা জারী করা হয়েছে। নাগরিকদের দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য ঘরে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সোমবার মধ্যরাতের পর তুষারপাতের পরিমান বৃদ্ধি পাওয়ার কথা। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী এবারের তুষারপাত নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করবে। কোন কোন জায়গায় তিন ফুটের বেশী বরফের স্তুপ হবে বলে সতর্ক করে দেয়া হচ্ছে। তুষারপাতের কারনে সোমবার দুপুর থেকেই জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
সদা নির্ঘূম নগরী হিসাবে পরিচিত নিউইয়র্ক ভুতুড়ে নগরীতে পরিনত হয়েছে। কেবল জরুরী বিভাগের যানবাহন ছাড়া কোন গাড়ি চলাচল করছে না। জনমানব শূন্য নগরীর দোকানপাট বন্ধ করে লোকজন এখন নিরাপদ আশ্রয়ে। নগরীর গণপরিবহন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নিউইয়র্ক থেকে ম্যাসাচুসেটস পর্যন্ত বিমানবন্দরগুলোতে উড়োজাহাজ উঠা-নামা বন্ধ রয়েছে। এয়ারলাইন্সগুলো এর মধ্যে ছয় হাজারের বেশী ফ্লাইট বাতিল করেছে। সোমবার রাত ১১টার পর থেকে নিউইয়র্কের সড়কপথে যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। কেবলমাত্র জরুরী বিভাগের যানবাহনকে নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে।
নিকট অতীতের রেকর্ড অনুযায়ী ২০০৬ সালে ২৬ দশমিক নয় ইঞ্চি বরফ পড়েছিল নিউইয়র্কে। এর আগে এ নগরীতে ১৯৪৭ সালে ২৫ দশমিক আট ইঞ্চি বরফ পড়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার রাতে তুষারপাতের পরিমান তিন ফুট ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর সাথে ঘন্টায় ৬০ মাইল বেগে ধেয়ে আসা দমকা বাতাসের পূর্বাভাসে তুষার ঝড় বিপজ্জনক হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচেছ। ২০১২ সালে নিউইয়র্ক, নিউজার্সিতে হ্যারিকেন সিনডি আঘাত হেনেছিল। ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতির সাম্প্রতিক স্মৃতি নাগরিকদের মধ্যে। এবারের তুষারপাত নিয়েও রীতিমত আতঙ্ক এবং উৎকন্ঠা বিরাজ করছে।
জন নিরাপত্তার জন্য নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, কানেকটিকাট এবং ম্যাসাচুসেটস রাজ্যে জরুরী সব ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। নিউইয়র্কের গভর্ণর এন্ড্রু কোমো জরুরী অবস্থা জারী করে জন নিরাপত্তার জন্য ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছেন। নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাজিও এবং পুলিশ কামশনার উইলিয়াম ব্রাটন সংবাদ সম্মেলন করে জন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতির কথা নাগরিকদের অবহিত করেছেন। একান্ত জরুরী প্রয়োজন ছাড়া নাগরিকদের ঘরের বাইরে না যাওয়ার জন্য তাঁরা আহ্বান জানিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার জানান, জরুরী পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য নিয়ন্ত্রন কক্ষ খোলা হয়েছে। প্রায় দুই হাজার বরফ সরানোর গাড়ি এবং পর্যাপ্ত পরিচছন্নকর্মীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শুধু নিউইয়র্কে বরফ গলানোর জন্য এক লাখ ২৬ হাজার মেট্রিক টন লবন মওজুদ রয়েছে বলে নগর ভবন থেকে জানানো হয়েছে। নিউইয়র্ক, নিউজার্সি এবং ফিলাডেলফিয়ার বিভিন্ন এলাকায় নাগরিকদের ঘরের মধ্যে থাকার জন্য এবং যানবাহন নিরাপদে পার্কিং করার জন্য মাইকিং করা হয়েছে।
গ্রোসারী দোকানগুলো এর মধ্যেই খাবারশূন্য হয়ে পড়েছে। খাবার মওজুদ করার জন্য লোকজনের হুমড়ি খেয়ে পড়ার কারনেই এমটি হয়েছে। খাবার জল, ব্যাটারী, ফ্লাশ লাইট ব্যাপকভাবে বিক্রি হয়েছে। তুষার ঝড়ে বিদ্যুত চলে গেলে পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য নাগরিকদের দফায় দফায় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। মুঠোফোনে আগাম চার্জ দিয়ে রাখার জন্য বলা হয়েছে। সিয়ার্স এবং হোম ডিপোট নামের দোকান জেনারেটর শূন্য হয়ে পড়েছে। সিয়ার্সের ব্যবস্থাপক গ্রেগারী ইয়াং জানান, তাদের নিউজার্সির দোকানগুলোতে বরফ সরানোর সাবলও বিক্রির জন্য অবশিষ্ট নেই। নিউজার্সির গভর্ণর ক্রিস ক্রিস্টি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, জন নিরাপত্তার জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আন্তরাজ্য মহাসড়ক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
সি এন এন তাদের ধারাভাষ্যে জানাচ্ছে, চলমান তুষারপাতে নিউইয়র্ক থেকে ম্যাসাচুসেটস পর্যন্ত কম পক্ষে পাঁচ কোটি আশি লাখ মানুষ দুর্যোগের কবলে পড়তে হতে পারে। সোমবার দুপুর থেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষনা করা হয়েছে। মঙ্গলবারে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তি ঘোষনা দেয়া হবে বলে স্কুল বোর্ডগুলো থেকে নাগরিকদের ফোন করে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। তুষারপাতের আওতাধীন এলাকার লোকজন সোমবার দুপুরেই কর্মস্থল থেকে ঘরে ফিরেছে। বাস, ট্রেন সহ জন পরিবহন এর মধ্যেই বন্ধ হয়ে পড়েছে।
নিউইয়র্কের ম্যানহাটানে সোমবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন প্রবাসী বাবু রহমান। তিনি জানালেন, পুরো নগরী জনশূন্য, জন চলাচল নেই। নিউইয়র্কে এমন জনমানবহীন কখনো দেখেননি বলে মন্তব্য করলেন। একাধিক ক্যাব চালক জানিয়েছেন, কাজ না করলে তাদের আয় রোজগার বন্ধ। পরিস্থিতি যা দেখা যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে বৃহস্পতিবারের আগে কাজে নামতে পারবেন বলে মনে করেন না ক্যাব চালক আতাউর রহমান। বোস্টন থেকে প্রবাসী শামীম আহমেদ জানান, আমেরিকায় আসার পর তুষারপাত নিয়ে এমন আতঙ্ক আর দেখেননি। নিউজর্সির আবু চৌধুরী জানালেন সোমবার দুপুর থেকে ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে ঘরে বসে টিভি দেখছেন। টেলিফোনে আশে পাশের রাজ্যে বসবাসরত স্বজনদের খোঁজ খবর নেয়ার কথাও তিনি জানালেন। নিউইয়র্কে অজোর ধারায় তুষারপাত দেখে বিস্মিত বাংলাদেশ থেকে সদ্য আসা রামিসা মালিয়াত (১৬)। ভারী জামা কাপড় পরে বরফ দেখার বিস্ময় নিয়ে রামিসার মন্তব্য, টেলিভিশনেই এতোদিন দেখেছি বরফ পড়া, এবার নিজের চোখে দেখছি-সাদা কাপড়ের নীচে যেন ঢাকা পড়েছে পুরো নিউইয়র্ক।
- Low-Income, Rural Students Face Higher Dropout Risk Due to English Gaps and Cultural Shock, BUBT Study Finds
- বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ওয়াহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কামালকে অব্যাহতি; ব্যারিষ্টার আকমাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শাবু ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে
- SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK
- Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
- যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয়
- A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History
- নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং