‘খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অপপ্রচার’-আইনের আশ্রয় নেবে বিএনপি
ঢাকা: সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করবে বিএনপি। বিএনপি সমর্থক সশস্ত্র বাহিনীর কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আইএসপিআরের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা বলেছেন, হুমকি-ধমকি এবং সেনাসদস্যদের জাতীয় ‘দুশমন’ উল্লেখ করে খালেদা জিয়া সেনানিবাসের বাড়ি ছাড়েন বলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) রোববার যে অভিযোগ করেছে, তা সঠিক নয়। সাবেক কর্মকর্তারা বলেন, ঘটনাস্থলে আইএসপিআরের কোনো সদস্যই ছিলেন না। সেনা কর্মকর্তারাও ছিলেন না। কাজেই গালাগাল ও হুমকি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
সোমবার বিএনপির পক্ষে দলের সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় ৩০ সাবেক কর্মকর্তা চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। সেনানিবাসের বাড়ি থেকে ‘উচ্ছেদের’ পর খালেদা জিয়া সম্পর্কে অপপ্রচার চালানোর ব্যাপারে আইনের আশ্রয় নেওয়া হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সম্পর্কে আইএসপিআরের বক্তব্য ঔদ্ধত্য ও কুরুচিপূর্ণ, অশোভন এবং মিথ্যাচার বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে সেনানিবাসের বাড়ি নিয়ে আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল ধূম্রজাল সৃষ্টি করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, স্থগিতাদেশের বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তার আইনগত ভিত্তি নেই। মতিঝিলের নিজ চেম্বারে এক সংবাদ সম্মেলনে মওদুদ আহমদ এসব কথা বলেন। অপর এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া জানিয়েছেন, সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। বিচার চলাকালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে ‘উচ্ছেদ’ করায় এ মামলা করা হতে পারে।
গুলশানের সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সাবেক সেনাপ্রধান লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, গত কয়েকদিন ধরে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরকে (আইএসপিআর) যেভাবে রাজনৈতিক অপপ্রচার ও চরিত্র হননের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে, তাতে তারা শঙ্কিত। এতে সশস্ত্র বাহিনীর সুনাম, মর্যাদা এবং জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর নিরপেক্ষ ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মেজর (অব.) শাহজাহান ওমর, উইং কমান্ডার (অব.) হামিদুল্লাহ খান (বীরউত্তম), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, এয়ার কমডোর (অব.) শফিকুল ইসলাম, কর্নেল (অব.) রুহুল ইসলাম, মেজর (অব.) সাঈদ এস্কান্দার প্রমুখ।
বিএনপি নেতা মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সরকার বলছে খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদ করেছে সেনাবাহিনী। এর মাধ্যমে তারা তাদের অগ্রহণযোগ্য কাজের দায় সেনাবাহিনীর কাঁধে চাপাতে চাচ্ছে।’ লিখিত বক্তব্যে মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদের সময় শত অনুরোধ সত্ত্বেও ঘটনাস্থলে সাংবাদিক এমনকি বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবীদেরও যেতে দেওয়া হয়নি। আইএসপিআর কর্মকর্তা শহীদ জাহাঙ্গীর গেটে এসে সাংবাদিকদের নিয়ে প্রেস কনফারেন্স করেছেন। অথচ পরের দিনই দল বেঁধে সাংবাদিকদের ওই বাসভবনে নিয়ে গেল আইএসপিআর। এর উদ্দেশ্য_ খালেদা জিয়ার চরিত্র হনন ও কুৎসিত রাজনৈতিক অপপ্রচার চালানো।’
তিনি বলেন, ‘ওই বাড়িটি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর নিকটাত্মীয়ের কর্তৃত্বাধীন ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের দখলে। সেখানে আপত্তিকর জিনিসপত্র রেখে সাংবাদিকদের ডেকে তা দেখিয়ে যে মিথ্যা প্রচারণার ঘৃণ্য আয়োজন করা হয়েছে, যার কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। কিন্তু এ অপকর্ম আইএসপিআরের মাধ্যমে করানোর কারণে দেশবাসীর চোখে সশস্ত্র বাহিনীর সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাদের রুচি সম্পর্কে মানুষ সন্দেহ করবে। এ ধরনের ঘৃণ্য ও অরুচিকর কুকাজে সশস্ত্র বাহিনীর নাম ব্যবহারে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি আমরা।’
তিনি বলেন, শহীদ মইনুল রোডের স্মৃতিবিজড়িত ওই বাড়িটিতে আমরা অনেকবার গিয়েছি। বেগম খালেদা জিয়ার অনাড়ম্বর জীবন-যাপন রীতি এবং সপ্তাহে একদিন রোজা রাখার কথা আমরা সবাই জানি। এ রকম একজন মানুষ সম্পর্কে একটি নোংরা ধারণা সৃষ্টির অসৎ উদ্দেশ্যে যে কুৎসিত প্রচারণা সাজানো হয়েছে তাতে প্রতিটি বিবেকবান মানুষের মতো তারাও গভীরভাবে মর্মাহত। মাহবুবুর রহমান বলেন, জরুরি অবস্থার সময় গ্রেফতার হওয়ার পর শেখ হাসিনার প্রতি আদালত-প্রাঙ্গণে অভদ্র আচরণের প্রতিবাদে বেগম খালেদা জিয়া দৃঢ় ভূমিকা নিয়ে বিবৃতি দিয়েছিলেন। বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে আজকের প্রধানমন্ত্রী যে আচরণ করলেন, তা দেখে আমরা শুধু লজ্জিত নই, ক্ষুব্ধ ও ক্রুদ্ধ। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবনে কাজের লোক, পাচক, গাড়িচালক, মালি, ঝাড়ুদার গার্ড মিলিয়ে ১২ জন কাজ করে। সার্ভেন্ট কোয়ার্টারে তাদের অনেকে সপরিবারে বাস করে।
মাহবুবুর রহমান আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে প্রতিরক্ষামন্ত্রী। আইএসপিআর সেই মন্ত্রণালয়ের অধীনে। কাজেই এ প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার বিরুদ্ধে যে নজিরবিহীন রাজনৈতিক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তার দায় প্রধানমন্ত্রীকেই নিতে হবে। তিনি প্রশ্ন করেন, পিলখানায় হত্যাযজ্ঞের পরও দেশবাসী আইএসপিআরের তৎপরতা দেখেনি। সেই প্রতিষ্ঠান এখন সশস্ত্র বাহিনীর কাঁধে সরকারি অপকর্মের কলঙ্ক চাপানোর কাজে কেন এত উৎসাহী? সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা হান্নান শাহ বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের সময় খালেদা জিয়ার মইনুল রোডের বাড়িতে যৌথবাহিনী অনেক তল্লাশি করেছে, তখন কিছু পায়নি।
অ্যাটর্নি জেনারেল বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন :মওদুদ
মতিঝিলের নিজ চেম্বারে সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, স্থগিতাদেশের বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। স্থগিতাদেশের বিষয়ে বিএনপির আন্তরিকতার অভাব ছিল_ অ্যাটর্নি জেনারেলের এমন বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে এসব কথা বলা হচ্ছে। মওদুদ বলেন, তিনি (অ্যাটর্নি জেনারেল) নিজেও ভালো করে জানেন, আপিল বিভাগে আপিল ও স্থগিতাদেশের আবেদন একইসঙ্গে বিচারাধীন রয়েছে এবং দুটিই একইসঙ্গে ২৯ নভেম্বর শুনানির দিন ধার্য আছে। সেক্ষেত্রে আলাদাভাবে স্থগিতাদেশের প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু আপিল ও স্থগিতাদেশের আবেদনকে অকার্যকর করে দিতে সরকার খালেদা জিয়াকে দুরভিসন্ধিমূলকভাবে তার বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করেছে।
ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, সরকার প্রতিহিংসার জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দেশকে ইচ্ছাকৃতভাবে ভয়াবহ সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি। সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন বিষয়টি নিষ্পত্তির আগে ‘উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায়’ দেশের সর্বোচ্চ আদালতের মান-সম্মান ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন সাবেক আইনমন্ত্রী। আইনানুগ প্রক্রিয়া ছাড়া বিরোধীদলীয় নেতাকে তার বাড়ি থেকে ‘উচ্ছেদ মানবাধিকার লঙ্ঘন’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মওদুদ বলেন, খালেদা জিয়া মামলায় জিতলে তার বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া হবে_ অ্যাটর্নি জেনারেলের এ বক্তব্যও হঠকারী। সন্ত্রাসী কায়দায় জোর করে বাড়ি দখল নেওয়ার পর এ ধরনের বক্তব্য যে মূল্যহীন তা দেশের মানুষের বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না।
আদালত অবমাননার মামলা করার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে : ব্যারিস্টার রফিক
এদিকে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের দক্ষিণ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, খালেদা জিয়ার প্রধান আইনজীবী টিএইচ খানের সঙ্গে পরামর্শ করে আদালত অবমাননার মামলা করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে বের করার কথা থাকলেও সরকার তা করেনি।
- নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance.
- New York Attorney General James Reminds New Yorkers of SNAP Work Requirements
- নিউইয়র্কে ডিজিটাল ওয়ান ট্র্যাভেলস এবং বাংলা ট্র্যাভেলস এর ইফতার মাহফিল
- রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন নিউইয়র্ক ইনক’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- মেরিল্যান্ডে বাংলাদেশ আমেরিকান ফাউন্ডেশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউ জার্সির এগ হারবার সিটিতে শিবলীলা মঞ্চস্থ
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির ইফতার মাহফিল, স্টেট এ্যাসেম্বলীর ২০ হাজার ডলার অনুদানের চেক হস্তান্তর এ্যাসেম্বলীওম্যান জেনিফার রাজকুমারের








