Friday, 30 October 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্‌যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone
সব ক্যাটাগরি

‘বর্ণমালা-মিতালী মিউজ্যিকাল নাইটস’ : যেটুকু সময় গাইলেন মিতালী, বিমোহিত ছিল দর্শক

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 47 বার

প্রকাশিত: September 21, 2015 | 12:16 PM

মনিজা রহমান : ‘জীবন নামের রেলগাড়িটা, পায় না খুঁজে ইস্টিশন’। চলছি চলছি তো চলছিই। নেই কোন গন্তব্য। উর্ধ্বশ্বাসে ছুটতে থাকা মানুষকে এক মুহূর্তের জন্য থমকে  দিল এই গান। ভাবতে বাধ্য করল। সত্যিই তো ! গন্তব্য ছাড়াই কেন এই ছুটে চলা !

এস্টোরিয়ায় ক্লাব সনোমের অডিটরিয়াম। মধ্যরাতের দিকে এগুচ্ছে ঘড়ির কাঁটা। চেয়ার ছেড়ে উঠতে গিয়েও বসে পড়ছেন অনেকেই। গানের এমন যাদু যে যেতে পারছে না তার মায়াজাল থেকে। গত শুক্রবার রাতে সাপ্তাহিক বর্ণমালায় আয়োজনে মিতালী মুখার্জির গানের অনুষ্ঠানে এভাবেই মন্ত্রমুগ্ধ ছিল দর্শক।

যেটুকু সময় তুমি থাকো পাশে/মনে হয় এই দেহে   প্রাণ আছে…মিতালী মুখার্জির অসম্ভব জনপ্রিয় একটি গান। এই গানটির জন্য তিনি বাংলাদেশে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। গানটা এখন বাংলাদেশে অনেক শিল্পীই গেয়ে থাকেন। কিন্তু আদতে যে এটা মিতালীর গান, সেটা অনেকেই জানেন না। আসলে এত বেশী হিট গান উপহার দেয়া শিল্পী বাংলা গানের জগতে খুব কমই আছেন।

হারানো দিনের মতো হারিয়ে গেছ তুমি/ ফেরারী সুখের মতো পালিয়ে গেছ তুমি…শুরুটা করলেন এভাবে। তারপর আল্লাহু আল্লা কিয়া কর.. দিয়ে শেষ করলেন। প্রত্যেকটি গান অসম্ভব জনপ্রিয়। অসম্ভব শ্রুতিমধুর। এলমহার্স্ট থেকে ওই রাতে গান শুনতে এসেছিলেন নাসরিন রহমান। উনি তো খুব বিস্মিত ! ‘এই সমস্ত গানেরই কি মূল শিল্পী মিতালী ! আমার সব প্রিয় গানই দেখি উনি গেয়েছেন !’

রাত যত বাড়তে লাগলো বিস্ময়ের পালা বাড়লো। নয়ত শুরুটা হয়েছিল কিছুটা ধীরগতিতে। দিনটাও ছিল স্মরণীয় ১১ সেপ্টেম্বর। অনুষ্ঠানের আয়োজক সাপ্তাহিক  বর্ণমালা‘র প্রধান সম্পাদক মাহফুজুর রহমান শিল্পীকে মঞ্চে ডাকার আগে কাকতালীয় একটি ঘটনার বর্ণনা দেন । ১৪ বছর আগে এই দিনে নিউইয়র্কে টুইন টাওয়ারে হামলা হয়েছিল। ওই ঘটনার দিন রাতে  নিউইয়কে এই একই মর্ঞ্চে গান গাওয়ার কথা ছিল মিতালীর। কিন্তু ভয়ংকর সেই ঘটনার পরে গানের প্রোগাম বাতিল হয়ে যায়। ১৪ বছর পরে অবশেষে সেইমঞ্চে গাইলেন শিল্পী আর শ্রোতারা হলেন মুগ্ধ।

জীবনানন্দ দাশের কবিতার ছন্দে অন্যরকম আরম্ভ হল। তারপর মিতালীর সঙ্গে হলভর্তি দর্শক গেয়ে উঠলো  ‘পুরনো সেই দিনের কথা ভুলবি কিরে হায়’। গায়িকা নিজে হয়ে গেলেন স্মৃতিভারাক্রান্ত। ফিরে গেলেন বেলী আর শেফালী ফুল কুড়ানো শৈশবে। বলে উঠলেন, ‘অনেকেই হয়ত জানেন না আমার জন্ম ময়মনসিংহে। আমি আপনাদের বাংলাদেশের মেয়ে। পড়াশুনা করতে ভারতের বরোদায় যাই। তারপর বৈবাহিক সূত্রে আমি এখন ভারতের নাগরিক।’

মফস্বলের ছোট্ট শহর থেকে যে কিশোরী মেয়েটির যাত্রা শুরু হয়েছিল কালের পরিক্রমায় তিনি হলেন দুই বাংলার জনপ্রিয়তম শিল্পী। মানুষের জীবনের বাকেঁ কত যে রহস্য লুকিয়ে থাকে, মিতালীই তার প্রমাণ। এত যে বিত্ত বৈভব, মুম্বাইয়ে বসবাস, এত জনপ্রিয়ততা ..তবু প্রিয় বাংলাদেশের মানুষকে ভুলতে পারলেন কই ! গানের সুরে বলে উঠলেন, ‘আমি সারা দুনিয়ায় ঘুরলাম। কিন্তু আমার বাংলার মতো শ্রোতা পেলাম না। ‘

‘দু:খ ছাড়া হয় না মানুষ, এমনো তো মানুষ হয় !’ নারীর অন্তরের নিগুঢ় কষ্টের যে ব্যাঞ্জনা মিতারীর মতো খুব কম শিল্পীই পেরেছেন কণ্ঠে ধারণ করতে। একে একে গেয়েছেন- ‘কেন আশা বেধে রাখি/ তোমার চন্দনা মরে গেছে/ ওরে সাগর, ছোট্ট এই ডিঙ্গি নিয়ে ভেসে যা/ এই দুনিয়া এখন তো আর সেই দুনিয়া নাই/ আমি কি তোমার মতো এত ভালোবাসতে পারি’। সাপ্তাহিক রানার পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক দিমা নেফারদিতি অনুষ্ঠান শেষে খুব আবেগময় কণ্ঠে বললেন, ‘ নারীর জীবনের অতৃপ্তি-বঞ্চনা তার মতো কেউ গাইতে পারেন না। দেখুন হলের বেশীরভাগ দর্শকই কিন্তু নারী। তারা নিজেদের জীবনের গল্পই মিতালীর কণ্ঠে ছুটতে ছুটে এসেছেন।’

এক সময় আসর ভাঙ্গল। এবার ঘরে ফেরার পালা। গানের রেশ তখনও সবার মনে। আরো মনে হল, মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় ট্রাজেডি হল, জীবনের সবচেয়ে কাছের মানুষটির সঙ্গেই সবচেয়ে দেরীতে দেখা হয়। আর সেই দেখাই জীবন দেয় পাল্টে।

বড় দেরী করে দেখা হল

হল চেনাজানা

আরো দিন চলে গেল

পেতে মনের ঠিকানা

ভালোবাসা যত বড়

জীবন তত বড় নয়

তোমার নিয়ে হাজার বছর

বাঁচতে বড় ইচ্ছে হয়

সত্যিই তো জীবন কি পারে ভালোবাসার সমান বড় হতে !

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ