Friday, 30 October 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্‌যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone
সব ক্যাটাগরি

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিনকার্ডধারী এবং সিটিজেনদের আয়কর রিটার্ন দাখিলে বাংলাদেশসহ অন্য দেশে থাকা সম্পদের হিসাবও দিতে হবে : অমান্যকারীদের জেল জরিমানা

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 81 বার

প্রকাশিত: January 27, 2016 | 1:33 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিনকার্ডধারী এবং সিটিজেনদের ট্যাক্স রিটার্নকালে তাদের যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপশি বাংলাদেশসহ অন্য দেশে গচ্ছিত সম্পদের হিসাবও দাখিল করতে হবে। ‘গ্লোবাল ইনকাম রিপোর্ট’র আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপশি অন্য কোন দেশে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ইত্যাদি থাকলে তারও আয়ের হিসাব পেশ করতে হবে ট্যাক্স রিটার্নকালে। ট্যাক্স রিটার্ন দাখিলের সময় ৮৯৩৮ ফরমে এসব তথ্য পেশ করতে হবে। অন্যথায় বিধি অনুযায়ী সুদসহ জরিমানা, এমনকি কারাদন্ডের মতো সাজাও ভোগ করতে হবে সংশ্লিষ্টদের। যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইনের এইসব বিধান কড়াকড়িভাবে আরোপের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন একাধিক সিপিএ সহ ট্যাক্স প্রস্তুতকারীরা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশে অথবা অন্য যে কোন দেশের শেয়ার মার্কেট কিংবা কোন ধরনের বন্ড, মিউচ্যুয়াল ফান্ড বা ডিপজিটসহ ব্যাংকে রক্ষিত সকল অর্থের তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের আইআরএসকে অবহিত করতে হবে। তারা বলেন, বিনিয়োগ ভিসায় অনেকে গ্রিনকার্ড নিয়েছেন। পারিবারিক কোটায়ও অনেকে গ্রিনকার্ড পেয়ে আবার বাংলাদেশে ফিরে গেছেন এবং বছরে একবার এসে গ্রিনকার্ড চালু রাখছেন। আবার অনেকে দু’বছরের জন্যে অনুমতি নিয়ে দেশে যাচ্ছেন। তারা বাংলাদেশেই সবকিছু করছেন। তাদের অধিকাংশই আইআরএসকে ট্যাক্স দিচ্ছেন না। অনেকে হয়তো বিষয়টি সম্পর্কে অবহিতও নন। কিন্তুু এসব বিষয় জানা থাকা বিশেষ প্রয়োজন। গ্রিনকার্ড রাখতে হলে অথবা সিটিজেনশিপ ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের আইন মেনে চলতেই হবে। যতদিন তারা এগুলি ভোগ করছেন ততদিনের হিসাব কড়ায় গন্ডায় দিতে হবে আইআরএসকে। সংশ্লিষ্টরা জানান, তথ্য-প্রযুক্তির এ যুগে ফাঁকি-ঝুকির কোন সুযোগ নেই। এক ক্লিকেই সব তথ্য বরিয়ে আসবে।
ট্যাক্স রিটার্ন প্রসঙ্গে সিপিএ ইয়াকুব খান বলেন, প্রবাসীর ট্যাক্স ফাইল তৈরি হবে বাংলাদেশে বা অন্য কোন দেশে তার সম্পদের আয়ের ভিত্তিতে। উদাহরন হিসেবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী একজন প্রবাসীর বাংলাদেশে বাড়ি আছে। সেখান থেকে তিনি ভাড়া আদায় করে থাকেন। আবার ভারতের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ থেকেও তিনি আয় করে থাকেন। এসব আয়েরই হিসাব ট্যাক্স ফাইলিংয়ের সময় দাখিল করতে হবে। সিপিএ ইয়াকুব খান বলেন, নিজ দেশে বা বিশ্বের অন্য যে কোন দেশ থেকে আয় থাকলে সেগুলো উল্লেখ করতেই হবে। ট্যাক্স ফাইল করার পরবর্তী সময়ে আইআরএস এসব ফাইল অডিট করে থাকে। অডিটে কোন অসঙ্গতি থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইআরএস ব্যবস্থা নেবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে রেন্টাল পোপার্টির আয় থেকে প্রবাসীরা বাংলাদেশ সরকারকে ট্যাক্স দিয়ে থাকেন। ১০ হাজার ডলার আয় করে থাকলে তিনি হয়ত ১ হাজার ডলারের ট্যাক্স দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে ট্যাক্স ফাইল করার সময় বাংলাদেশে প্রদত্ত ওই ট্যাক্স এর কাগজপত্র দেখালে সেটা মওকুফ পাওয়া যাবে। সিপিএ ইয়াকুব খান বলেন, আমার যে কোন ক্লাইন্ট ট্যাক্স ফাইল করতে আসলে ‘প্রদত্ত তথ্যের বাইরে আর কোন তথ্য নাই’ এ বলে আমি সংশ্লিষ্ট ক্লাইন্টের কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকার নিয়ে নিই।
বাংলাদেশের কোন ব্যাংকে প্রবাসীর কত টাকা গচ্ছিত রয়েছে সে তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের জানার অধিকার রয়েছে। এ ব্যাপারে দু’দেশের মধ্যে ফরেন একাউন্ট ট্যাক্স কমপ্লাইয়েন্স এ্যাক্ট (ফেটকা) নামক একটি চুক্তি রয়েছে। এমন চুক্তি অধিকাংশ বিশ্বের অধিকাংশ দেশের সাথেই করেছে যুক্তরাষ্ট্র। চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনকার্ডধারী অথবা সিটিজেনরা তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য অথবা অন্য কোনভাবে অর্জিত অর্থের ওপর বাংলাদেশেও যদি ট্যাক্স প্রদান করে থাকেন, তাহলে সে ডক্যুমেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের ট্যাক্স প্রদানের সময় উল্লেখ করলে বাংলাদেশে দেয়া ট্যাক্সের অর্থ বাদ দিয়ে বাকি অংশ পরিশোধ করতে হবে। এ বিধি লংঘন করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী জেল-জরিমানার প্রক্রিয়া অবলম্বন করবে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার। এর আগে সংশ্লিষ্ট গ্রিনকার্ডধারী অথবা সিটিজেনের ব্যাংক একাউন্ট ফ্রিজ করা হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে চুক্তি অনুযায়ী। ১৯ জানুয়ারি থেকে গত বছরের ট্যাক্স রিটার্ণের যে সময়সীমা শুরু হয়েছে তাকে সামনে রেখেই সিপিএ (সার্টিফায়েড পাবলিক একাউন্টেন্ট) এবং ট্যাক্স রিটার্ন প্রস্তÍুতকারিরা সংশ্লিষ্ট সকলকে এ বিধির কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। আইআরএস থেকে এ ব্যাপারে তারা নির্দেশ পেয়েছেন বলে জানান।
এ প্রসঙ্গে একাধিক সিপিএ জানান, বিশ্বের যেখানেই থাকুন না কেন গ্রিনকার্ডধারী এবং সিটিজেনদের আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য অবশ্যই জানাতে হবে ট্যাক্স প্রদানের সময়। অপরদিকে ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থসহ বিভিন্ন বন্ড কিংবা শেয়ার মার্কেটের অর্থের জন্যে কোন ট্যাক্স দিতে হবে না। শুধু সে সব তথ্য আইআরএসকে জানিয়ে রাখতে হয়। বাড়ি বা এপার্টমেন্টের ভাড়া বাবদ কত আয় হচ্ছে সেটিও ট্যাক্সের সময় উল্লেখ করতে হবে। পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ বিক্রি না করা পর্যন্ত সে তথ্য প্রদানের প্রয়োজন নেই। তারা জানান, বাংলাদেশের কোন ব্যাংকে যদি ১০ হাজার ডলারের অধিক থাকে তাহলেই ট্যাক্স দিতে হয়। অন্যথায় প্রয়োজন নেই। তবে সে ব্যাপারে জানাতে হবে সকল তথ্য। আইআরএসকে না জানানো কোন তথ্য যদি বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে তারা জানতে পারে তাহলে যত অর্থ ব্যাংকে থাকবে তার অর্ধেক পর্যন্ত তারা বাজেয়াপ্ত করবে। এটি করা হবে ‘গ্লোবাল ইনকাম রিপোর্ট’র আওতায়। তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছেড়ে দিয়েছেন অথচ অন্য দেশে বসবাস করে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা-বাণিজ্য চালাচ্ছেন তাদেরকেও ট্যাক্স দিতে হবে সেই আয়ের উৎস থেকে। অর্থাৎ ইমগ্র্যান্টদের দেশ যুক্তরাষ্ট্র শুধু দিয়েই যাবে, সেটি হবে না। যুক্তরাষ্ট্রকেও রিটার্ন দিতে হবে। স্বেচ্ছায় না দিলে আইনী মারপ্যাচে তা আদায় করা হবে। তথ্য-প্রযুক্তির এ যুগে ফাঁকি-ঝুকির কোন সুযোগ নেই।
তারা জানান, বিদেশের ব্যাংকে রক্ষিত নগদ অর্থ অথবা নগদ অর্থের মূল্যমানের তহবিল (শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ অথবা বন্ড অথবা সঞ্চয়পত্র অথবা ফিক্সড ডিপজিট) সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ আইআরএসকে দিতে হবে। এ বাবদ কোন ট্যাক্স লাগবে না। তবে কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে এ হিসাব না দেন তাহলেই সমস্যায় পড়বেন। এ সমস্যার দায় বর্তাবে সিপিএ অথবা ট্যাক্স প্রস্তুুতকারিদের ওপরও। তবে তারা যদি তাদের ক্লায়েন্টকে এসব ব্যাপারে সজাগ করে দিয়েছেন বলে প্রমাণ দিতে পারেন, তাহলে তারা দোষী হবেন না। শুধু বিদেশের অর্থ-সম্পদই নয়, এদেশেরও তথ্যাবলীতে যদি গরমিল ধরা পড়ে সে দায়িত্বও সিপিএ কিংবা ট্যাক্স প্রস্তুুতকারিরা এড়াতে পারবেন না। এ ধরনের ভুলের জন্যে মাথাপিছু ৫০০ ডলার করে জরিমানার শিকার হবেন সিপিএ অথবা ট্যাক্স প্রস্তুতকারি। ট্যাক্স রিটার্নের সময়ে স্কুল-কলেজগামী সন্তানদের জন্মের সার্টিফিকেট, পরিচয়পত্র ইত্যাদি আগেই যেন সংগ্রহে রাখা হয় সে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়া, স্কুলের সার্টিফিকেটর রাখতে হবে রিটার্ণের সময় তা দেখানোর জন্যে। স্বামী-স্ত্রী উভয়ের আইডি লাগবে রিটার্নের সময়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যারা ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর অথবা বিনিয়োগের ওপর বাংলাদেশকে নিয়মিত ট্যাক্স দিচ্ছেন বা দিয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে ট্যাক্স প্রদানের রশিদই বড় প্রমাণ বলে গণ্য হবে।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ