নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সামনে স্থাপিত ভাস্কর্যে দর্শনার্থীর ভীড়, পরিদর্শনে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, কাজী ফিরোজ রশিদ
ইউএসএনিউজঅনলাইন : নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সামনে এক মাসের জন্য স্থাপন করা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ভাস্কর্য পরিদর্শণে প্রবাসী বাংলাদেশীসহ বিভিন্ন দেশের দর্শনার্থীরা ভিড় জমান প্রতিদিন। মুক্তধারা ফাউন্ডেশন ও বাঙালি চেতনা মঞ্চের উগ্যোগে গত ১ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের সামনে আন্তর্জাতিক শিল্পী খোরশেদ আলম সেলিমের নকশায় এবং শিল্পী মৃণাল হকের তৈরি বাংলা ভাষার এ ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়। ওইদিন থেকেই ম্যানহাটানের ১ম এভিনিউ ও ৪৭ স্ট্রীটের কর্ণারে এ ভাস্কর্যটি জনসাধারণের দেখার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দিবা-রাত উন্মুক্ত থাকবে।
এদিকে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি দুপুরে এই ভাস্কর্য পরিদর্শন করেন জাতিসংঘের মাদক বিষয় সেমিনারে অংশ নিতে আসা জাতীয় সংসদের আইন এবং বিচার সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ এমপি, মোহাম্মদ এনামুর রহমান এমপি, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।
মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের কর্ণধার বিশ্বজিৎ সাহার স্বাগত বক্তব্যের পর এবং বাঙালি চেতনা মঞ্চের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বাদশার পরিচালনায় সংক্ষিপ্ত এ অনুষ্ঠানে তারা বক্তব্য রাখেন।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক শিল্পী খোরশেদ আলম সেলিম, রমেশ নাথ, আব্দুল হামিদ, শাহাদাত হোসেন প্রমুখ।
এসময় সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ভাষা আন্দোলন ছিল আমাদের বাঙালি জাতীয়তাবাদ এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের মূল ভিত্তি। এটি আমাদের সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদও বটে। একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটিকে চিন্তা করা যায় না। তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর চেষ্টা করা হয়েছিল বাংলাদেশকে পাকিস্তানিকরণের। এখনো আমরা পাকিস্তানি প্রতিধ্বনি শুনতে পাই। তিনি বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তিনি এখনো আমাদের মুক্তিযুদ্ধের শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক তুলছেন। মহানায়কের পাশে খলনায়ক বানিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বেই বাংলা ভাষা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে। সেই ভাষার ঐতিহ্যকে আপনারা প্রবাসে নিয়ে এসেছেন। জাতিসংঘের সামনে এ ভাস্কর্য এক ঐতিহাসিক মাইল ফলক। তিনি আয়োজকদের ভাস্কর্য স্থাপনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে আমাদের নতুন প্রজন্ম উদ্বুদ্ধ হবে, একদিন জাতিসংঘে বাংলায় কথা বলবে।
কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, আমাদের দু’টি অর্জনের একটি ভাষা আন্দোলন আর অন্যটি হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ। এই দুটোকে নিয়েই আমরা বেঁচে আছি এবং বেঁচে থাকবো। প্রবাসে ভাষার ভাস্কর্য স্থাপন করে মহান কীর্তি স্থাপনের জন্য উদ্যোক্তাদের অভিনন্দন জানান তিনি।
এনামুর রহমান জাতিসংঘের সামনে এই ভাস্কর্য স্থাপন করে বাংলাদেশ এবং বাংলা ভাষাকে সম্মানিত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।
উদ্যোক্তারা বাংলা ভাষা-ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে নিজেকে, নব প্রজন্মকে পরিচিত করার, সম্পৃক্ত হওয়ার দুর্লভ সুযোগ গ্রহণের জন্য প্রবাসীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘের সামনে স্থাপিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ভাস্কর্যে ২১এর প্রথম প্রহরে নিউইয়র্ক সময় ২০ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১.০১ মিনিট এবং বাংলদেশ সময় ২০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২-০১ মিনিটে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।
- Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency
- New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes
- নিউইয়র্কে নতুন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হৃদয় বীণা সংগীতালয়’র যাত্রা শুরু
- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে নিউইয়র্কে ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র দোয়া মাহফিল
- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বিজয়
- নিউইয়র্কে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পরিবার নিউইয়র্ক সিটি’র উদ্যোগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী পালন
- নিউইয়র্ক স্টেট এসেমব্লি ডিস্ট্রিক্ট ৮৭’র নির্বাচনে কারিনা-জাকির মুখোমুখি
- NYIC Action Endorses Immigrant Champions and New Voices for NYS Legislature