আমেরিকার মূলধারাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে জাতিসংঘের সামনে মহান একুশে উদযাপিত
ইউএসএনিউজঅনলাইন, নিউইয়র্ক : আমেরিকার মূলধারাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ ও নানা অর্জনের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের সামনে উদযাপিত হয়েছে মহান একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। একুশের চেতনাদীপ্ত শপথ ও দৃঢ় প্রত্যয় ঘোষণার মধ্য দিয়ে নিউইয়র্ক প্রবাসী বাংলা ভাষা-ভাষীরা উদযাপন করেছে দিবসটি। স্থানীয় সময় ২০ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বাংলাদেশ সময়ে একুশের প্রথম প্রহরের সাথে সংযুক্ত হয়ে জাতিসংঘের সামনে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে প্রবাসীরা উদযাপন করে মহান এ দিবস। প্রতিবছরের ন্যায় উপস্থিত সর্বকনিষ্ঠ শিশুর হাত দিয়ে প্রথম পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয় শহীদ বেদীতে একুশের প্রথম প্রহরে। দেশী বিদেশী শত শত কন্ঠে ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হয় একুশের অমর সঙ্গীত আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি। এর মধ্য দিয়ে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন ও বাঙালীর চেতনা মঞ্চ আয়োজিত এই ২৫ বছর পূর্তির একুশ শুধু প্রবাস নয় সমগ্র বাঙালী জাতির জন্য সৃষ্টি করেছে নতুন এক গৌরব গাঁথা। অস্থায়ী শহীদ মিনারের পাশেই স্থাপিত মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ভাস্কর্যটি এবারের একুশ উদযাপন করেছে মহিমান্বিত ও গৌরবান্বিত। যুক্ত করে নতুন মাইলফলক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামার দক্ষিণ এশীয় বিষয়ক কমিটির উপদেষ্টা ও ফিলাডেলফিয়ার ডেপুটি মেয়র ড. নীনা আহমেদ, নিউইয়র্ক স্টেট গভর্ণর এর প্রতিনিধি হার্শ কে পারেক, সিটি মেয়র এর ইমগ্রেশন এফেয়ার্স কমিশনার নিশা আগরওয়াল, নিউইয়র্ক সিটি কম্পট্রলার এর প্রতনিধি আলিয়া লতিফ, জাতিসংঘের প্রতিনিধি ড. নজরুল ইসলাম ও কুইন্স বরো প্রেসিডেন্টে মেলিন্ডা ক্যাটস এর মত শীর্ষ ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ ও উপস্থিতি এবারের আয়োজনকে আরো দ্যুতিময় করেছে। স্টেট সিনেটর হোজে পেরাল্টা কর্তৃক উত্থাপিত এবং নিউইর্ক গভর্ণর কর্তৃক দ্বিতীয় বারের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতির রেজ্যুলেশন এবং আমেরিকার মূলধারার ব্যক্তিদের উচ্চসিত প্রশংসা আমেরিকার মূলধারায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের সম্মান ও মর্যাদার ভিত্তিকে আগামি দিনের জন্য আরো শক্তিশালী করেছে। একুশের অনুষ্ঠানে মূলধারার দায়িত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ব্যাপকসংখ্যক ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতি একুশের অনুষ্ঠানে ইতপূর্বে কখনো দেখা যায়নি। এই আয়োজনে তাদের সরব অংশগ্রহণ মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এবছরই ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে আমেরিকার ডাক বিভাগ প্রকাশ করছে একুশের স্মারক সীলমোহর।
বাংলাদেশ সময়ে একুশের প্রথম প্রহরের সাথে সংযুক্ত হয়ে প্রবাসে একুশ উদযাপনের মধ্য দিয়ে এবারের আয়োজনে সংযোজিত হয়েছে ভিন্ন ধারা, প্রতিভাত হয়েছে একুশের ব্যতিক্রমী রূপ। ঝলমলে শীতের দুপুরে শত শত মানুষের পদভারে জাতিসংঘের সদর দফতরের সম্মুখভাগ ছিল প্রকম্পিত। উদীচি শিল্পী গোষ্ঠীর গণসঙ্গীত, একুশের গান ও দেশাত্মবোধক গানের মধ্য দিয়ে গোটা পরিবেশকে সৃষ্টি করে মহান একুশের চেতনার আবহ। যে আবহে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতে আসা সমবেত জনতা নিবিড়ভাবে নিজেকে সংযুক্ত করে।
সাংস্কৃতিক পর্বে অংশগহ্রণ করে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী। জীবন বিশ্বাস এর নেৃতত্বে উদীচী গোষ্ঠীরা শিল্পীরা ছিলেন: সুদৃতা পাল সুলেখা, সাবিনা হাই উর্বি, মুক্তা ধর, কণিকা ধর, সুতপা মন্ডল, জয়ন্তী ভট্টাচার্য, অনামিকা মজুমদার, সুক্তি বিশ্বাস, সাহানা আক্তার নুপুর, মৌসুমী রহমান, নাজনীন করিম, রাজীব, উদিতা তন্বী, দিব্য রায়, শোভন বালা, সত্যম ধর, সংগীতা চক্রবর্তী, অমৃতা রায় মিষ্টি, মনিষা সাহা প্রমূখ। উদীচী শিল্পী গোস্ঠী ছাড়াও মন্দিরায় ছিলেন শহীদ উদ্দীন। বাংলাদেশ ক্লাব জাতিসংঘও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন তমজিউদ্দীন লোদী, শামস আল মমীন ও ফকির ইলয়াস। আবৃত্তি করেন মিজানুর বিপ্লব ও গোপন সাহা।
শহীদ মিনারে শিশুর শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের পর পরই অত্যন্ত ধীর গতিকে গভীর শ্রদ্ধাভরে ও সুশৃংখলভাবে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, কনসাল জেনারেল শামীম আহসান, প্রসিডেন্ট ওবামার দক্ষিণ এশীয় বিষয়ক কমিটির উপদেষ্টা ও ফিলাডেলফিয়ার ডেপুটি মেয়র ড. নীনা আহমেদ, নিউইয়র্ক স্টেট গভর্ণর এর প্রতিনিধি হার্শ কে পারেক, মেয়র এর ইমগ্রেশন এফেয়ার্সের কমিশনার নিশা আগরওয়াল, নিউইয়র্ক সিটি কম্পট্রলার এর প্রতনিধি আলিয়া লতিফ, জাতিসংঘের প্রতিনিধি ড. নজরুল ইসলাম ও কুইন্স বরো প্রেসিডেন্টে মেলিন্ডা ক্যাটস, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, যুক্তরাষ্ট্র জাসদ, প্রজন্ম ৭১, লাগার্ডিয়া কলেজ ছাত্র সংসদ, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা, কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা ক্লাব, সেতু ইঙ্ক, বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগ, গোলাপগঞ্জ সোসাইটি, বেঙ্গলী চার্চ, একুশের চেতনা পরিষদ, ভাষা সৈনিক আব্দুস সামাদ পরিবার, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, যুক্তরাষ্ট্র, পাবনা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খৃস্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলা স্কুল ব্রঙ্কস, এনআরবিসি ব্যাংক, শিরি সাহিত্য সংসদ, আমেরিকান প্রেসক্লাব অব বাংলাদেশ, জ্যাকসন হাইটস বিজনেস এসোসিয়েশন, আবাহনী ক্লাব, বাংলাদেশ স্পোটস ফেডারেশন, বঙ্গবন্ধু প্রচারকেন্দ্র সমাজকল্যান পরিসদ যুক্তরাষ্ট্র, পাবনা সমিতি, যুক্তরাষ্ট্র সোহরাওয়ার্দী স্মৃতি পরিষদ, হিন্দু ফাউন্ডেশন, বৃহত্তর ময়মনসিংহ বিভাগ বাস্তবায়ন ও উন্নয়ন পরিষদ, শিশু সাহিত্য পরিসদ, বাপস নিউজ, বস্টন বাংলা নিউজ, বনলতা শিল্পী সাহিত্যিক সাংবাদিক গোষ্ঠী, শ্রীকৃষ্ণ ভক্তসংঘ, নোয়াখালী সমিতি, বাংলাদেশ হিন্দু মন্দির, খৃস্টান এসোসিয়েশন, কানেকটিকাট বাংলাদেশ সোসাইটি, শ্রোতার আসর, ফরিদা আরভীর নেতৃত্বে নিউইংল্যান্ড আওয়ামী লীগ ভলিন্টারস লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক-সামাজিক-আঞ্চলিক-রাজনৈতিক ও ক্রীড়া সংগঠন।
এছাড়া ব্যক্তিগতভাবে হাসান ফেরদৌস, ফেরদৌস সাজেদীন, তাজুল ইমাম, ফজলুর রহমান, সৈয়দ টিপু সুলতান, সউদ চৌধুরী, ফাহিম রেজা চৌধুরী, অধ্যাপিকা হোসনে আরা বেগম, আব্দুল মালেক, সোনিয়া কাদের, ওবায়দুল্লা মামুন, মোস্তফা আরশাদ, নিনি ওয়াহেদ, শিতাংশু গুহ, প্রদীপ কর, জলি কর, শিতাংশু গুহ, রানু ফেরদৌস, স্বীকৃতি বড়–য়াসহ অনেকে ব্যক্তিগতভাবে শহীদ মিনারে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন।
গত ২৪ বছর ধরে জাতিসংঘের সামনে রাত ১২-০১ মিনিটে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়ে আসছে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন ও বাঙালির চেতনা মঞ্চ। ২৫ বছর পূর্তির বছর এবার বাংলাদেশের সময় অনুসারে নিউইয়র্ক সময় দুপুর ১.০১ মিনিটে শহীদদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। সেমন্তী ওয়াহেদের সঞ্চালনে একুশ প্রথম প্রহরের অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাকেন মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ও আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসব ও বইমেলা কার্যকরী কমিটির চেয়ারম্যান ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রধান রোকেয়া হায়দার। সমাপনী বক্তব্য রাখেন বাঙালীর চেতনা মঞ্চের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বাদশা। অনুষ্ঠানের শুরুতে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। আর জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার রাত পর্যন্ত নিউইয়র্ক, নিউজার্সী, ফিলাডেলফিয়া, কানেকটিকাট, আটলান্টিক সিটি থেকে বাঙালীরা একুশের প্রথম প্রহরের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসেন। সকলেই পরিবার পরিজন নিয়ে আন্তর্জাতিক ভাস্কর্যের ছবি তুলেন। গভর্ণর এন্ড্রু ক্যুমোর বিশেষ প্রতিনিধি মুক্তধারা ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিশেষ বার্তা পাঠান। সেটি গ্রহণ করেন ২০১৬ সালের আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসব ও বইমেলার আহ্বায়ক হাসান ফেরদৌস। এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের পক্ষ থেকে সারোয়ার চৌধুরী বক্তব্য রাখেন। একুশ উপলক্ষে প্রকাশিত হয় স্মারক গ্রন্থ ‘বাঙালির চেতনা’।
আগামি ২৭ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি জ্যাকসন হাইটসের পিএস ৬৯ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে একুশের গ্রন্থমেলা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন বাংলাদেশ সরকারে অর্থ মন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। উল্লেখ্য, ডাচবাংলা ব্যাংক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্পন্সর বাংলাদেশের ডাচ বাংলা ব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংক, রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংক লিমিটেড এবং এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘের সামনে শহীদ দিবস পালনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ভাস্কর্য স্থাপিত হয়েছে। আগামি ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভাস্কর্যটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
রিপোর্ট : সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, বিশেষ প্রতিনিধি,
সম্পাদক, ইউএসএনিউজ অনলাইন, নিউইয়র্ক।
- নারীর ক্ষমতায়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ : ড. খলিলুর রহমান
- নিইউয়র্কে টাইমস স্কয়ারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় যোগ দিচ্ছেন ম্যানহাটান বরো প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড হোয়েলম্যান
- নিউইয়র্কে স্ট্রিট ভেন্ডরদের জন্য নতুন আইন কার্যকর; জেল শাস্তি বাতিল, আরোপ করা হবে জরিমানা
- New York Attorney General James Leads Bipartisan Coalition Suing Predatory Lender OneMain for Scheme to Trap Consumers in Debt
- নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট হাউসে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন ২৩ মার্চ : আহ্বায়ক কমিটি গঠন
- বাংলাদেশে আওয়ামীলীগসহ সকল রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি করার দাবি নিউজার্সি স্টেট আওয়ামী লীগের
- নিউইয়র্কে ‘অল কাউন্টি হেলথকেয়ার গ্রুপ’র বার্ষিক ইন্টারফেইথ ইফতার পার্টি
- HUSBAND CHARGED WITH MURDER AND DISMEMBERMENT OF WIFE WHOSE REMAINS WERE FOUND IN SEPARATE LOCATIONS ALONG BROOKVILLE BLVD AND CROSS BAY BLVD








