Friday, 30 October 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্‌যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone
সব ক্যাটাগরি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে ডেমক্র্যাটিক পার্টির হিলারি এবং স্যান্ডার্স-কে নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশীদের জল্পনা-কল্পনা

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 150 বার

প্রকাশিত: April 6, 2016 | 11:52 PM

নিউইয়র্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে ডেমক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন লাভের দৌড়ে শীর্ষে থাকা হিলারি ক্লিন্টন এবং সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স-কে নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে জল্পনা-কল্পনা, তর্ক-বিতর্কের শেষ নেই। ১৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে নিউইয়র্কের নির্বাচন। নিউইয়র্ক রাজ্যে ডেমক্র্যাটিক পার্টির তালিকাভুক্ত ভোটাররা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। এ রাজ্যে ডেলিগেট সংখ্যা ২৯১। ভোটের হিসাব অনুযায়ী বন্টন করা হবে ডেলিগেট সংখ্যা। এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বিভিন্ন রাজ্যের প্রাইমারি (দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের নির্বাচন)তে হিলারি ক্লিন্টন পেয়েছেন ১৭১২ এবং বার্নি স্যান্ডার্স ১০০৪। সারা আমেরিকায় ডেমক্র্যাটিক পার্টির ডেলিগেট সংখ্যা হচ্ছে ৪৭৬৩। যিনি ২৩৮২ ডেলিগেটের ভোট পাবেন তাকেই দলীয় প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্যে জুলাই মাসে ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য দলের জাতীয় সম্মেলনে উপস্থাপন করা হবে। এনআরবি নিউজ
এদিকে, ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ডেলিগেটের সংখ্যা হচ্ছে ৫৪৬। সেখানে প্রাইমারি হবে ৭ জুন। সে রাজ্যে বার্নি স্যান্ডার্সের জয়ী হবার সম্ভাবনা বলে বিভিন্ন জরিপে প্রকাশ পাচ্ছে। নিউইয়র্কে যদি হিলারি ক্লিন্টনের একতরফা বিজয় নিশ্চিত না হয় তাহলে বার্নি স্যান্ডার্সের পথ সুগম হবে বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন। কারণ, এখন পর্যন্ত বাকি আছে উইসকনসিন-৫ এপ্রিল, ওয়াইওমিং-৯ এপ্রিল, কানেকটিকাট, দেলওয়ার, ম্যারিল্যান্ড, পেনসিলভেনিয়া এবং রোড আইল্যান্ড-২৬ এপ্রিল, ইন্ডিয়ানা-৩ মে, গুয়াম-৭ মে, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া এবং নেব্রাস্কা-১০ মে, ক্যান্টাবি এবং ওরেগণ-১৭ মে, ওয়াশিংটন-২৪ মে, ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ড-৪ জুন, পর্টোরিকো-৫ জুন, নিউজার্সি, মন্টানা, নিউ মেক্সিকো, সাউথ ডেকটা এবং নর্থ ডেকটা-৭ জুন এবং ওয়াশিংটন ডিসি-১৪ জুন।
হোয়াইট হাউজ থেকে ২০১১ সালের জানুয়ারিতে বিদায় নেয়ার পর নিউইয়র্কে বসতি গড়েছেন বিল ক্লিন্টন পরিবার। নিউইয়র্ক সিটির কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত হারলেমে অফিস নিয়েছেন বিল ক্লিন্টন। নিউইয়র্ক রাজ্য থেকে ইউএস সিনেটর হিসেবে জয়ী হন হিলারি। এরপর তিনি ২০০৮ সালের নির্বাচনে ডেমক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন দৌড়ে হেরে যান বারাক ওবামার কাছে। পরবর্তীতে ওবামা প্রশাসনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে যোগদান করেছিলেন হিলারি। সাবেক ফার্স্টলেডি এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে হিলারির দোষ এবং গুণ উভয়ই রয়েছে। ভোটাররা সবকিছু বিশ্লেষণ করছেন হিলারি এবং স্যান্ডার্সের। বিল ক্লিন্টনের নির্বাচনে যে সব ব্যবসায়ী-শিল্পপতি বিপুল অর্থ বিনিয়োগ ঘটিয়েছিলেন, তারাই হিলারির জন্যে মোটা অর্থ ঢালছেন। একইভাবে পুজিবাদি বিশ্বের পারপাস সার্ভকারি মার্কিন মিডিয়াগুলোও নানানভাবে হিলারির পক্ষে প্রচার-প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে বলে প্রকাশ্য অভিযোগ রয়েছে। অর্থাৎ, জয়ী হলে হিলারির পক্ষে সাধারণ খেটে খাওয়া আমেরিকান এবং ইমিগ্র্যান্টদের জন্যে সত্যিকারে কল্যাণকর কিছুই করা সম্ভব হবে না। ধনীক শ্রেণীর স্বার্থের বাইরে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হবে না।
অপরদিকে, বার্নি স্যান্ডার্স ভারমন্ট রাজ্য থেকে নির্বাচিত ইউএস সিনেটর। আমেরিকার রাজনীতির ইতিহাসে স্যান্ডার্স একজন ব্যতিক্রমি আদর্শবাদী রাজনীতিবিদ, যিনি সব সময় সাধারন মেহনতী, শ্রমজীবি, মধ্যবিত্ত, নারী, কালো ও ইমিগ্র্যান্টদের দাবির প্রতি সোচ্চার রয়েছেন। এ নিয়ে কারো সাথে আপোষ করেননি। তিনি আমেরিকার যুদ্ধবাদী পররাষ্ট্র নীতির সমালোচক এবং ইরাক যুদ্ধের বিরুদ্ধে ভোট দেন। প্রেসিডেন্ট বুশের ধনীকদের কর না দেয়ার আইনের বিরুদ্ধে সিনেটে তার প্রচেষ্টার জন্য বিখ্যাত। তিনি নর্ডিক (নরওয়ে, ডেনমার্ক, সুইডেন, ফিনল্যান্ডের মত) গনতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের পক্ষপাতী। ধনী-গরীবের মাঝে আয়ের বৈষম্য কমানো, সবার জন্য স্বাস্থ্য বীমা ও বিনামূল্যে কলেজ-ভার্সিটির শিক্ষা, শ্রমজীবি ও মধ্যবিত্তদের জন্য সরকারি আর্থিক ভর্তুকিতে বাসস্থানের ব্যবস্থা, শ্রমজীবিদের জন্য ঘন্টায় ন্যূনতম ১৫ ডলার মজুরী, নারী পুরুষের সমান কাজে সমান বেতন, শিশুর জন্মের পর মা-বাবা উভয়ের জন্য ছুটির ব্যবস্থা, পরিবেশ সুরক্ষা, ধনীদের উপর উচ্চহারে কর বসানো, কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নয়ন ও অহেতুক বিশ্বময় যুদ্ধ বন্ধ করা, সবার জন্য গণতান্ত্রিক অধিকার ও সমানাধিকারের নীতি, নির্বাচনে ধনীদের টাকার খেলা বন্ধ করা তার দাবি। মেহনতি, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের উন্নয়নের মাধ্যমে আমেরিকার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করাই তার লক্ষ্য।
স্যান্ডার্স ১৯৮১ সালে ভারমন্ট রাজ্যের প্রধান শহর বার্লিংটনের মেয়র পদে নির্বাচিত হবার পর ৬ বার বিপুল ভোটে পুনঃ নির্বাচিত হন। মেয়র থাকাকালে অল্প আয়ের নাগরিকদের বাসস্থান কেনায় সাহায্যের ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৮৭ সালে ইউ এস নিউজ পত্রিকা তাকে আমেরিকার বিশিষ্ট মেয়রদের একজন বলে ঘোষণা করে। ১৯৮৯ সালে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহন করেননি। কিছু সময় হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেনেডি স্কুল অব গভর্নমেন্টে অধ্যাপনা করেন। ২০০৬ সালে স্বতন্ত্র থেকেও ডেমক্র্যাটিক পার্টির সমর্থনে সিনেটর পদে নির্বাচিত হন। প্রেসিডেন্ট ওবামাও তার নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন। ২০১২ সালে তিনি আবার সিনেটর নির্বাচিত হন। সিনেটর এবং তার আগে কংগ্রেসে থাকাকালে প্রগতির জন্য, ন্যায়ের জন্য, শোষনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জন্য ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষার প্রচেষ্টার জন্য প্রশংসিত হন। ধনী দরিদ্রদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের কারণে দেশের অর্থনৈতিক নীতি হয় ধনীদের পক্ষে। তিনি এসব নীতি পরিবর্তনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারের নীতি হবে, তার মতে, সাধারণ মানুষের জন্য উপকারি ন্যায় নীতি অনুসরণ করা, কেবল ধনীক শ্রেনীর সেবা করা নয়। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হওয়ার উদ্দেশ্য এই নীতির বাস্তবায়নের সুযোগ পাওয়া। এই সংগ্রাম বিলিয়নেয়ার শ্রেণীর লোকের বিরুদ্ধে। এমন মতামতের পক্ষে অধিকাংশ বাংলাদেশী এবং দক্ষিণ এশিয়ানরা। হিলারি ক্লিন্টনের কাছে বাংলাদেশ অতি পরিচিত এবং দক্ষিণ এশিয়ার আরো কটি দেশ সফরের অভিজ্ঞতা রয়েছে হিলারির। এটি প্লাস পয়েন্ট হলেও সামগ্রিক অর্থে বিল ক্লিন্টন প্রেসিডেন্ট থাকাকালে দক্ষিণ এশিয়ার জন্যে বাড়তি কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন বলে জানা যায়নি। অধিকন্তু ইমিগ্র্যান্টদের জন্যে সাম্প্রতিক সময়ে কঠিন যেসব বিধি তৈরী হয়েছে তার অধিকাংশই বিল ক্লিন্টনের সময়ের। বিশেষ করে, গ্রীণকার্ড কেড়ে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিস্কারের বিধিতে বিল ক্লিন্টনই স্বাক্ষর করেন। শুধু তাই নয়, কংগ্রেসের উভয় কক্ষ ডেমক্র্যাটদের দখলে থাকা সত্ত্বেও ক্লিন্টনের আমলে অবৈধ ইমিগ্র্যান্টদের স্বার্থে কোন বিল পাশ হয়নি। এসব অপ্রিয় সত্য বিষয়গুলো এখন ভোটারদের সামনে ঘোরপাক খাচ্ছে। এ জন্যে নিউইয়র্কের বাংলাদেশীসহ দক্ষিণ এশিয়ান ভোটাররা সংশয়ে রয়েছেন হিলারির ব্যাপারে।
বাংলাদেশীসহ দক্ষিণ এশিয়ানদের ৯০% এর অধিক হলেন ডেমক্র্যাট। তারা ক্লিন্টন দম্পতির সাথে বিশেষভাবে পরিচিত।
১ ও ২ এপ্রিল এনআরবি নিউজের পক্ষ থেকে দক্ষিণ এশিয়ান-আমেরিকানদের সাথে আলাপ করে জানা যায় অধিকাংশই বার্নি স্যান্ডার্সকে ভোট প্রদানের পক্ষে। শুধু তাই নয়, তারা ভেতরে ভেতরে প্রচারণাতেও নেমেছেন। অপরদিকে, হিলারি ক্লিন্টনের কট্টর সমর্থক এবং নির্বাচনী প্রচারণায় কর্মরত খোরশেদ খন্দকার এনআরবি নিউজকে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের ব্যাপারে চমৎকার একটি ধারণা রয়েছে হিলারির। বিশেষ করে ড. মুহম্মদ ইউনূসের বন্ধু হিসেবে ক্লিন্টন দম্পতির কাছে বাংলাদেশের বাড়তি পাওনা রয়েছে। অন্য কারো কাছে সেটি সম্ভব নয়।’ অপরদিকে, বার্নি স্যান্ডার্সের সমর্থক আমিরুল হক যুক্তি প্রদর্শন করেন, ‘শেখ হাসিনার সাথে ড. ইউনূসের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। এ বিষয়কে পুঁজি করে হিলারি আরো দ্বিগুণ উৎসাহে বাংলাদেশের ক্ষতির কারণ হতে পারেন। তাই বার্নি স্যান্ডার্স প্রেসিডেন্ট হলে সে ধরনের কোন আশংকা থাকবে না।’ এমন অভিমত খন্ডন করে খোরশেদ খন্দকার বলেন, ‘ব্যক্তি বিশেষের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতিতে হেরফের হবার কোন চান্স নেই। সে ধরনের কোন সুযোগ থাকলে হিলারি যখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন, তখোনই অনেক কিছুর বহি:প্রকাশ ঘটতো।’ ‘এছাড়া ব্যক্তিগতভাবে আমি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত। হিলারির নির্বাচনী কাজে আমার মত আরো অনেকেই অর্থ ব্যয় করছেন। সুতরাং বাংলাদেশের ক্ষতি হতে পারে এমন কিছু করতে আমরা দেব না’-দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন খোরশেদ খন্দকার।
শ্রমিক ইউনিয়ন পরিচালিত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানবাধিকার ও ইমিগ্রেশন বিষয়ক শিক্ষক ড. পার্থ ব্যানার্জি (ডেমক্র্যাট) এনআরবি নিউজকে বলেন, ‘উভয় প্রার্থীর নিকট অতীত গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে সহজেই অনুমিত হয় যে, কঠোর পরিশ্রমী ইমিগ্র্যান্ট এবং মাঝারি শ্রেণীর আমেরিকানদের সামগ্রিক কল্যাণেই শুধু নয়, সারাবিশ্বের মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বার্নি স্যান্ডার্সকেই পাওয়া যেতে পারে। ১% আমেরিকান তথা বিত্তশালীদের স্বার্থ রক্ষাকল্পে স্যান্ডার্স কাছে এখন পর্যন্ত কারো কাছে চাঁদা নিয়েছেন বলে জানা যায়নি। অপরদিকে, প্রতিদিনই হিলারির নির্বাচনী তহবিল বাড়ছে। এ অর্থ কোত্থেকে আসছে তা আর কারো অজানা নেই।’ ‘গেস্ট ওয়ার্কার্স প্রোগ্রামের আওতায় বিদেশ থেকে মেধাবিদের আনা হচ্ছে। কাজ শেষ হলেই তাদেরকে তাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। অর্থাৎ কৃতদাসের ন্যায় তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে। এমন নীতির ঘোর বিরোধী হলেন স্যান্ডার্স। স্যান্ডার্স চাচ্ছেন সকল অবৈধ ইমিগ্র্যান্টকে নাগরিকত্ব প্রদান করে সে সব মেধাকে কাজে লাগানোর জন্যে’-বলেন ড. ব্যানার্জি।
ভারত ও বাংলাদেশ সফর করেছেন হিলারী ক্লিন্টন, কিন্তু সে সফর কাদের স্বার্থে সেটি ভেবে দেখার অনুরোধ জানিয়ে ড. ব্যানার্জি বলেন, ‘ওয়াল মার্ট, গ্যাপসহ বড় বড় কোম্পানীর স্বার্থে তিনি সফর করেছেন। সেখানে সাধারণ আমেরিকানদের স্বার্থের প্রতিফলন দেখিনি।’
নিউজার্সির একটি সিটির কাউন্সিলম্যান এবং বিজ্ঞানী ড. নূরন্নবী এনআরবি নিউজকে বলেন, ‘ভৌগলিক অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ নির্মূল অভিযানের স্বার্থেই ভারত-বাংলাদেশের গুরুত্ব ক্রমাগতভাবে বাড়ছে পশ্চিমাদের কাছে। এ দুটি দেশের বর্তমান প্রশাসন অত্যন্ত জোরদারভাবে সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে কাজ করছে। তাই, হোয়াইট হাউজে যিনিই বসবেন, তাকেই বিশেষভাবে যত্নবান হতে হবে ভারত ও বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক অটুট রাখতে’।
যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ড. নূরন্নবী আরো বলেন, ‘নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহম্মদ ইউনূসের কারণে বাংলাদেশের সাথে হিলারি বৈরী আচরণ করতে পারেন বলে যারা আশংকা করছেন, সেটি আদৌ সত্য নয়। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র সবসময়ই তার জাতীয় স্বার্থকেই প্রাধান্য দেয়। ব্যক্তি ইউনূসের কারণে কখনোই বাংলাদেশের বর্তমান প্রশাসনের সাথে বিদ্যমান সম্পর্কে হেরফের ঘটাতে চাইবেন না (প্রেসিডেন্ট) হিলারি ক্লিন্টন।’ ‘২০০৮ সালে কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান ওবামাকে বিজয়ী করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছি আমরা। এবার আরেকটি সুযোগ এসেছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে মহিলাকে জয়ী করে ইতিহাস সৃষ্টির। সে সুযোগ আমরা ছাড়তে চাই না’-উল্লেখ করেন ড. নবী। তিনি আরো বলেন, ‘আগের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী আলগোরের রানিংমেট ছিলেন জুইশ। এজন্যে মুসলমানেরা আলগোরের পরিবর্তে জর্জ বুশকে ভোট দিয়েছিলেন এবং তার পরিণতি আমাদেরকে ভোগ করতে হচ্ছে। ঠিক একইভাবে হিলারিকে জুইশদের বন্ধু ভেবে যেন আরেকটি ভুল না করি। ব্যক্তি বিশেষের একটিমাত্র দিককে প্রাধান্য যেন না দেই।’
এশিয়ান-আমেরিকান কাউন্সিলর ও ব্যবসায়ী আকতার হোসেন বাদল বলেছেন, ‘হিলারি আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু, এ নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। তাই ১৯ এপ্রিলের নির্বাচনে হিলারিকে ভোট দেয়ার জন্যে সকলের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।’

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ