যে গান হৃদয় স্পর্শ করে না সেটা গান হতে পারে না : সংগীতশিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়
ফয়সাল রাব্বিকীন : বরেণ্য সংগীতশিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অকুতোভয় কন্ঠযোদ্ধা। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তার কণ্ঠে অনেক গান জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এর বাইরে ভাওয়াইয়াসহ বিভিন্ন ধারার গান গেয়ে নিজেকে কিংবদন্তি শিল্পীতে পরিণত করেছেন তিনি। বেশ কিছু চলচ্চিত্রেও ধারাবাহিকভাবে প্লেব্যাক করেছেন এ শিল্পী। তার গাওয়া ব্যাপক জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে-‘তুমি আরেকবার আসিয়া যাও মোরে কান্দাইয়া’, ‘তীরহারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেবরে’, ‘সবাই বলে বয়স বাড়ে’, ‘রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে’, ‘ও যার অন্তরে বাহিরে’, ‘ও বাজান চল যাই চল’, ‘আমি কি তোর আপন ছিলাম না’, আমি পাগল হবো পাগল নেব যাবো পাগলের দেশে’, ‘বাওকুমটা বাতাস যেমন’, ‘হীরামতি হীরামতি ও হীরামতি’, ‘খোদার ঘরে নালিশ করতে দিল না আমারে’, নদীর কুলে বইসা রে’, ‘কবিরাজি এলোপ্যাথি’, ‘বায়োস্কোপের বাক্স’, ‘একদিন রাজা ফকির’ প্রভৃতি। রথীন্দ্রনাথ রায় ২০১১ সাল থেকে পরিবারসহ নিউইয়র্কে বসবাস করছেন। মাঝে মধ্যে দেশে আসেন। তারই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি প্রায় দুই মাসের সফরে ঢাকায় এসেছেন এ শিল্পী। এবারের সফরে মূলত বাড়ি সংক্রান্ত কাজেই এসেছেন। পাশাপাশি নিয়মিত গানের অনুষ্ঠান করছেন টিভি ও রেডিওতে। সব মিলিয়ে ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস ও ১৪ই এপ্রিল পহেলা বৈশাখ গানে গানেই উদযাপন করেছেন তিনি। টিভি চ্যানেলের বাইরে স্টেজেও নিয়মিত সংগীত পরিবেশন করছেন এখন। সব মিলিয়ে এবারের সফরটা কেমন কাটছে? উত্তরে রথীন্দ্রনাথ রায় বলেন, খারাপ না। তবে এবার গরমে বেশি নাকাল হয়ে গেছি। আর এবার মূলত এসেছি বাড়ি সংক্রান্ত কাজে। বেশ ঝামেলা যাচ্ছে এই কাজে। তার পাশাপাশি গান করছি টিভি চ্যানেল ও রেডিওতে। সব মিলিয়ে ভালোই কেটে যাচ্ছে এবারের সফর। এদিকে কাজ শেষ করেই নিউইয়র্কে ফিরবেন রথীন্দ্রনাথ রায়। তবে যাওয়ার তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি। নিউইয়র্কে সময় কিভাবে কাটে আপনার? রথীন্দ্রনাথ রায় বলেন, সেখানে আমার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে থাকি। প্রথম দিকে আমি নিজেও চাকরি করেছি। আমার স্ত্রী চাকরি করে। আমার সন্তানরা পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট টাইম চাকরি করে। আমরা যাওয়ার কিছু সময় পরে আমি আমার মাকে নিয়ে যাই নিউইয়র্কে। দেখা গেলো সবাই কাজে বেরিয়ে পরার পর মায়ের একা থাকতে হয়। তাই আমি চাকরি ছেড়ে দিলাম। মায়ের সেবা করে যাচ্ছি। এর পাশাপাশি সেখানেতো মাঝে মধ্যেই অনুষ্ঠান হয়। সেসব অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করি। এইতো। বাংলাদেশে এবার এসে গানের অবস্থা কেমন দেখছেন? রথীন্দ্রনাথ রায় বলেন, একটি ঘটনা বলি। আমি একটি টিভি চ্যানেলের শুটিংয়ে যাচ্ছিলাম। ওরাই গাড়ি পাঠিয়েছিলো। দেখলাম এফডিসিতে নিয়ে গেলো আমাকে। আমিতো অবাক। এফডিসিতে তো সিনেমার শুটিং হবে। পরে শুনলাম সেখানে এখন সিনেমার শুটিং কম হয়। টিভি অনুষ্ঠানের শুটিংই বেশি হয়। আমাদের গানের অবস্থাও ঠিক সেরকম। ইসলামপুর গিয়েছিলাম। সেখানে এক সময় ক্যাসেট ও সিডির রমরমা ব্যবসা ছিলো। এবার দেখলাম সিডির দোকান এখন বিরিয়ানির দোকান হয়ে গেছে। কোথাও সিডির দোকান নেই। আমি এখনকার সংগীতের এমন অবস্থা দেখে খানিক হোঁচটই খেয়েছি। এখনকার গান কি আপনার শোনা হয়? উত্তরে রথীন্দ্রনাথ রায় বলেন, নাহ, তেমন একটা না। যে গানের সুর আকৃষ্ট করে না তা আমি শুনি না। এখন ইউরোপ-আমেরিকার অনুকরণে গান হচ্ছে। কিন্তু সেখানে গান হয় ব্যাকারণ মেনে। কিন্তু আমাদের সংগীতে এখন ব্যাকারণ মানা হয় না তেমন একটা। যে গান হৃদয় স্পর্শ করে না সেটা গান হতে পারে না। আগের গানগুলো যুগের পর যুগ, প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম চলে এসে এখনও মানুষের মুখে মুখে। কিন্তু এখনকার গান তেমন দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না, এরকম অভিযোগ শোনা যায়। আপনি এর কারণ কি বলে মনে করেন? এখন গানে মানের দিকে খেয়াল রাখা হয় না। আর সবচেয়ে বড় বিষয় হলো এখনকার শিল্পীদের মধ্যে সাধনার কমতি আছে। সংগীতের অনেক প্রতিযোগিতা হচ্ছে । অনেক ভালো কন্ঠও উঠে আসছে। কিন্তু পরবর্তীতে তাদের স্কুলিং হয় না। সাধনার অভাবে তারা হারিয়ে যায়। গানের ক্ষেত্রে সাধনার কোন বিকল্প নেই। মানবজমিন
- যুক্তরাষ্ট্রে ঈদুল ফিতর ২০ মার্চ শুক্রবার
- নারীর ক্ষমতায়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ : ড. খলিলুর রহমান
- নিইউয়র্কে টাইমস স্কয়ারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় যোগ দিচ্ছেন ম্যানহাটান বরো প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড হোয়েলম্যান
- নিউইয়র্কে স্ট্রিট ভেন্ডরদের জন্য নতুন আইন কার্যকর; জেল শাস্তি বাতিল, আরোপ করা হবে জরিমানা
- New York Attorney General James Leads Bipartisan Coalition Suing Predatory Lender OneMain for Scheme to Trap Consumers in Debt
- নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট হাউসে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন ২৩ মার্চ : আহ্বায়ক কমিটি গঠন
- বাংলাদেশে আওয়ামীলীগসহ সকল রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি করার দাবি নিউজার্সি স্টেট আওয়ামী লীগের
- নিউইয়র্কে ‘অল কাউন্টি হেলথকেয়ার গ্রুপ’র বার্ষিক ইন্টারফেইথ ইফতার পার্টি








