Friday, 30 October 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্‌যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone
সব ক্যাটাগরি

‘প্রিয়বাংলা’র ‘চতুরঙ্গ’ অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের ৭ ‘আলোকিত নারী’কে এওয়ার্ড প্রদান

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 67 বার

প্রকাশিত: June 5, 2016 | 2:51 PM

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক : প্রবাস-প্রজন্মে বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশ ও লালনের পাশাপাশি নবাগত বাংলাদেশীদের মার্কিন আইটি সেক্টরে উচ্চ বেতনে চাকরি পাবার উপযোগী প্রশিক্ষণ প্রদানে বিশেষ অবদানের জন্যে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী সংলগ্ন এলাকার ৭ নারী ব্যক্তিত্বকে সম্মাননা জানানো হলো বর্ণাঢ্য এক অনুষ্ঠানে। এ স্বীকৃতি প্রদান করা হলো ‘আলোকিত নারী’ হিসেবে এবং তা পেলেন ফারহানা হানিফ, ফারজানা ক্লারা গ্রাহাম, রেহানা পারভিন, বীথিকা বোস, ড. মরিয়ম পারভিন, শাহনাজ ফারুক ও বনানী চৌধুরী।
ওয়াশিংটন মেট্র এলাকার জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘প্রিয়বাংলা’র বার্ষিক অনুষ্ঠান ‘চতুরঙ্গ’-এ গত রোববার এসব নারীর মধ্যে এওয়ার্ড হস্তান্তর করেন বাংলাদেশের বেসরকারী টিভি চ্যানেল ‘আরটিভি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক রহমান।
পুরস্কারপ্রাপ্তদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি এখানে উপস্থাপন করা হলো।
ফারহানা হানিফ : যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অন্যতম বৃহৎ আইটি কনসাল্টিং ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ‘পিপল এন টেক’র প্রেসিডেন্ট ফারহানা হানিপ। বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষার ডিগ্রিধারী নারীদের কারিগরী শিক্ষায় শিক্ষিত করে তাদের পেশাগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সম্মানজনক স্থানে পৌঁছে দিয়ে আমেরিকান স্বপ্ন পূরণে নিরন্তরভাবে প্রয়াস চালাচ্ছেন। তিনি বাংলাদেশের নারীদের পেশাগত কারিগরী প্রশিক্ষণ ও ভাগ্যোন্নয়নের জন্য বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে বিশেষ অবদান ও ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন। প্রবাসের উদ্যমী নারীদেরকে ক্ষেত্র বিশেষে বৃত্তি প্রদানের মাধ্যমেই ‘আইটি কোর্স’ প্রদান করছে ফারহানা হানিফের নেতৃত্বাধীন ‘পিপল এন টেক।’
শাহনাজ ফারুকঃ পেশাগতভাবে একজন সফল ব্যবস্থাপক, পরিচালক। তিনি ওয়াশিংটন ডিসিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই ফোরামের সাবেক প্রেসিডেন্ট। সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহন করে সবার জীবন আলোকিত করার জন্য সোচ্চার এবং সমাজে বিশেষ অবদান রেখে যাচ্ছেন তার কর্মপ্রয়াসের মাধ্যমে।
ফারজানা ক্লারা গ্রাহামঃ “আগামী” নামে একটি সমাজ উন্নয়নমূলক সংস্থার ওয়াশিংটন ডিসি চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট। বাংলাদেশের তৃনমূল, দুঃস্থ মানুষের জন্য কাজ করে বঞ্চিতদের জীবন আলোকিত করার প্রয়াসে নিবেদিতপ্রাণ। সুদূর প্রবাসে থেকেও স্বদেশ এবং স্বদেশের মানুষের জন্য তার অপরিসীম মমত্ববোধ। তিনি এক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন।
বীথিকা বোসঃ একজন গর্বিত মা। তার ছেলে একজন এটর্নি এবং তিনি নিজেও সাবেক শিক্ষয়িত্রি এবং একটি জনকল্যাণ সংস্থার মাধ্যমে মানুষের জন্য নিরবে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের মানুষের জন্য রয়েছে তার অগাধ ভালবাসা এবং ভার্জিনিয়া কম্যুনিটিতে তিনি সব সামাজিক কর্মকান্ডে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসেন এবং ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন।
বনানী চৌধুরীঃ বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক। তিনি একজন নৃত্য পরিচালক এবং কোরিওগ্রাফার এবং যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারি প্রজন্মকে বাংলা গান এবং নাচের প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়াও তিনি কম্যুনিটির বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনে, বিশেষ করে “বাংলা স্কুল” ও “প্রিয়বাংলার” সাথে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।
রেহানা পারভিনঃ ‘ফরওয়ার্ড হোপ’ নামে একটি সংস্থার মাধ্যমে মানবতার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন যাবৎ। ব্যক্তিজীবনে তিনি একজন পেশাজীবি। তাদের সংস্থার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় দুঃস্থ মানুষের, বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও শিক্ষার উন্নয়নের জন্য কাজ করছেন নিরন্তরভাবে।
ডঃ মরিয়ম পারভিনঃ ব্যক্তি জীবনে একজন সাইকিয়াট্রিষ্ট। এছাড়া কম্যুনিটির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে অকুপণভাবে সহায়তা করেন। তিনি “সংহতি” নামে ওয়াশিংটনভিত্তিক একটি কল্যাণ সংস্থার মাধ্যমে এলাকার দুঃস্থদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আর্থিক উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। মূলকথা নারী উন্নয়নের জন্য, নারী মুক্তির জন্য তিনি নিবেদিতপ্রাণ। তিনি প্রিয়বাংলার অন্যতম প্রকল্প ‘বিনামূল্যে চিকিৎসা’র একজন স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎক।
ভার্জিনিয়া রাজ্যে বাংলাদেশী অধ্যুষিত আর্লিংটন সিটির থমাস জেফারসন মিডল স্কুলের ‘টিজে থিয়েটারে’ এ অনুষ্ঠানে এওয়ার্ড বিতরণ ছাড়াও ছিল মার্কিন মুল্লুকে জন্ম এবং বেড়ে উঠা তরুণ প্রজন্ম ও প্রবীণ প্রজন্মকে একসূত্রে গেঁথে প্রবাসের জীবনভিত্তিক নৃত্য-গীতিসহ একটি নাটক। পুরো অনুষ্ঠান জুড়েই ছিল অনুপম পরিবেশনা। এই পরিবেশনা সবার মন জয় করে সমাদৃত হয়েছে একটি দর্শকনন্দিত অনুষ্ঠান হিসেবে।
সমগ্র অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মার্কিন আইটি সেক্টরে উদ্যমী ও মেধাবি বাংলাদেশীদের চাকরির উপযোগী প্রশিক্ষণ প্রদানের ইন্সটিটিউট ‘পিপল এন টেক’র সিইও ইঞ্জিনিয়ার আবু বকর হানিফ। সুধীজনের মধ্যে আরো ছিলেন ই-লার্নিং বইয়ের লেখক ড. বদরুল হুদা খান ও ওয়াশিংটনে আসছে সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য ফোবানা সম্মেলন ২০১৬-র আয়োজক কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলমগীরসহ মেট্রো এলাকার বাংলাদেশি অনেক সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
‘আলোকিত নারী’ এওয়ার্ড প্রসঙ্গে আশিক রহমান তার প্রধান অতিথির বক্তব্যে কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা উদ্ধৃত করে বলেন, ‘বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর’। এই কথাগুলো আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় কেন আমাদের সমাজের নারীদের সমান অধিকার ও মর্যাদা দেওয়া প্রয়োজন। কীভাবে এর মধ্যদিয়ে আমরা সবাইকে অনুপ্রাণিত করতে পারি জাতীয় চেতনা ও সমৃদ্ধির পথে নারী-পুরুষ একসঙ্গে এগিয়ে যেতে।’ তিনি বলেন, ‘নারীরা পুরুষের চাইতে কোনো অংশেই কম নয়, তাদেরও সমমর্যাদা প্রাপ্য।’ যুক্তরাষ্ট্রে ‘আলোকিত নারী’র এই সম্মান জানানোর প্রক্রিয়া এখন থেকে প্রতি বছর হবে বলে প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘শুধু ওয়াশিংটনেই নয়, অন্য বড় বড় শহরেও এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে তারা সম্মানিত করবেন সেই সব আলোকিত নারীদের, যারা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও পেশাগত জীবনে তাদের অসামান্য অবদান ও ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন এবং একইসাথে কম্যুনিটির সম্মান বৃদ্ধি করছেন বহুজাতিক এ সমাজে।’
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্র্বে পরিবেশিত হয় নৃত্য গীতিসহ প্রবাসের বাস্তব জীবনধারার প্রেক্ষাপটে রচিত নাটিকা ‘প্রবাসের ইতিকথা’। এর কাহিনী লিখেছেন প্রিয়লাল কর্মকার। চিত্রনাট্য ও সংলাপ করেছেন মিজানুর রহমান খান। চিত্রনাট্য সম্পাদনা করেন এ্যন্থনী পিউস গমেজ ও ডেমিয়ান ডায়াস। পরিচালনায় ছিলেন মাহফুজুর রহমান ও প্রিয়লাল কর্মকার। অভিনয় করেন মাহফুজুর রহমান, এ কে এম আসাদুজ্জামান, সুদীপ্তি বড়ুয়া, মোহাম্মদ সিদ্দিক, রুমি মনসুর, এ্যন্থনী পিউস গমেজ, আবু সরকার, আনোয়ার আনসারী, পূর্ণ কর্মকার ও অরোরা কর্মকার। ধারা বর্ণনায় ছিলেন মিজানুর রহমান খান ও কুলসুম আলম খান। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন লাভলি শাহিদ ও এ্যন্থনী পিউস গমেজ। তাদের সাবলীল উপস্থাপনায় চমৎকারভাবে অনুষ্ঠিত হয় চতুরঙ্গ অনুষ্ঠানটি।
নাটিকাটির মধ্যদিয়ে ফুটে উঠেছে প্রবাসের বহমান জীবনধারার প্রেক্ষাপট থেকে তুলে আনা এক টুকরো প্রবাস জীবন। নাটকের নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন এলিসা গোমেজ (ইছামতী ও রিদমায়া) কাউন্টেস উইনফ্রি (অল দ্যাট অ্যান্ড জ্যাজ ড্যান্স অ্যান্ড মিউজিক একাডেমি, সিন্থিয়া গোমেজ (সিন্থিয়া ড্যান্স গ্রুপ), ফারিহা তাজনিন ও জিশান হোসেন (ইরা অ্যান্ড জিশান গ্রুপ), লুবাবা রহমান, মেহেদি হাসান, গেন্থারিয়া রোজারিও (মঞ্জুরি নৃত্যালয়)।
প্রায় এক শ নৃত্য-শিল্পী ও কলা-কুশলীর অংশগ্রহণে পুরো অনুষ্ঠানটি ছিল একটি প্রাণবন্ত উচ্ছল পরিবেশনা। কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীরা এতে অংশগ্রহণ করে অনুষ্ঠানটিকে যেভাবে সফল ও প্রাণবন্ত করে তুলেছিল, তাতে একটি বিশেষ দিক লক্ষণীয় ছিল, তা হলো প্রবাসের বহুমাত্রিক মিশ্র সাংস্কৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা তরুণ-তরুণীদের আন্ত-সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। বিদেশি হয়েও বাংলা গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করার বিষয়টি নিঃসন্দেহে ছিল প্রিয়বাংলার ইতিবাচক কর্মসূচির সফল পদক্ষেপ। প্রবাসের মূলধারায় নিজেদের বাংলা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের সঙ্গে মিশে যাওয়ার জন্য প্রিয়বাংলার আন্তরিক একটি প্রয়াস।
চতুরঙ্গের শেষ পর্বে প্রিয়বাংলার পক্ষ থেকে আশিক রহমান ও ইঞ্জিনিয়ার আবু বকর হানিফের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয় বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশে আন্তরিক সহায়তার জন্যে।
চতুরঙ্গের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও অনুষ্ঠান সমন্বয়ে ছিলেন জীবক বড়ুয়া। সার্বিক প্রচারণা ও গ্রাফিকস ডিজাইনে অসীম রানা, আলোক নিয়ন্ত্রণে রাহাত সুলতান, শব্দ নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় জামিল খান, মঞ্চসজ্জায় কলিন্স গোমেজ, প্যাট্রিক গোমেজ, নির্মল গোমেজ, প্রপসে মৌসুমি ফাতেমা, মঞ্চ ব্যবস্থাপনায় ডেমিয়ান ডায়াস, অনুষ্ঠান পরিকল্পনা সহযোগিতায় নূপুর চৌধুরী ও সেলিম আক্তার। আলোকচিত্র ধারণে ছিলেন রাজিব বড়ুয়া ও বিপ্লব দত্ত। ভিডিওচিত্র ধারণ করে থ্রি স্টার মাল্টিমিডিয়া।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ