Monday, 8 June 2026 |
শিরোনাম
Low-Income, Rural Students Face Higher Dropout Risk Due to English Gaps and Cultural Shock, BUBT Study Finds বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ওয়াহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কামালকে অব্যাহতি; ব্যারিষ্টার আকমাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শাবু ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয় A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes
সব ক্যাটাগরি

মার্কিন কংগ্রেসে ‘ধর্ম-অবমাননা আইন এবং রাষ্ট্র ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোর সেন্সরশীপ : মতপ্রকাশের ওপর বিশ্বব্যাপী হুমকি’ শীর্ষক শুনানীতে বাংলাদেশের জঙ্গিবাদ

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 156 বার

প্রকাশিত: July 15, 2016 | 10:41 AM

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক : ইন্টারনেট এবং ডিজিটাল মিডিয়ার যুগেও বিশ্বের মাত্র ১৩% মানুষ ‘মিডিয়ার স্বাধীনতা’ (প্রেস ফ্রিডম) ভোগ করছে। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, বুরুন্ডি, সার্বিয়া, ইয়েমেন, মিশর, ম্যাসিডনিয়া, জিম্বাবুয়ে প্রভৃতি দেশে ‘ধর্ম অবমাননা’র অজুহাতে বর্বরোচিত আচরণ এবং নৃশংসতা মানবতাকে বিচলিত করে তুলেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে গত দু’বছরে ধর্মীয় লেবাসে সন্ত্রাসীরা মুক্তমনা লেখক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, ধর্মীয় নেতা, ব্লগার, ধর্ম-নিরপেক্ষতায় বিশ্বাসীদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ অবস্থায় মিডিয়া কর্মীরাও স্বাধীনভাবে সত্য প্রকাশে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। একদিকে রাষ্ট্রীয় খবরদারি, অপরদিকে এসব ধর্মীয় সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখে আমেরিকা, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্যসহ এশিয়ার বহুদেশের মিডিয়ার স্বাধীনতা বিপন্ন হয়ে পড়েছে। প্রাণনাশের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে অনেক মিডিয়া সত্য প্রকাশ থেকে বিরত থাকছে বলেও মন্তব্য করা হয়।

এমন নাজুক পরিস্থিতি গত ১২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশী ২০১৫ সালে হয়েছে। ১৪ জুলাই বৃহস্পতিবার মার্কিন কংগ্রেসে টম ল্যান্টোস হিউম্যান রাইটস কমিশনের উদ্যোগে ‘ধর্ম-অবমাননা আইন এবং রাষ্ট্র ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোর সেন্সরশীপ : মতপ্রকাশের ওপর বিশ্বব্যাপী হুমকি’ শীর্ষক শুনানীতে বড় একটি অংশ জুড়ে ছিল বাংলাদেশ। ওয়াশিংটন ডিসিতে ক্যাপিটল হিলের র‌্যাবার্ণ হাউজ অফিস ভবনে ৩টি প্যানেলে অনুষ্ঠিত এ শুনানীর উদ্বোধনী বক্তব্যে আয়োজক সংস্থার কো-চেয়ার কংগ্রেসম্যান যোসেফ আর পিটস এবং কংগ্রেসম্যান জেমস পি ম্যাকগোভার্ন বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। কংগ্রেসম্যান যোসেফ আর পিটস বলেছেন,‘গত বছর ফ্রিডম হাউজের বার্ষিক রিপোর্টে বিভিন্ন দেশে মিডিয়ার স্বাধীনতা কী কারণে হুমকির মুখে পড়েছে তার উল্লেখ রয়েছে। ধর্ম অবমাননার অজুহাতে বহু দেশেই একশ্রেণীর লোক ভিন্নমত পোষণকারির ওপর বর্বরোচিত হামলা চালাচ্ছে। এরফলে ঐসব দেশের মিডিয়াও অবাধে কথা বলতে দ্বিধাগ্রস্ত হচ্ছে।’ ‘বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড অব্যাহত থাকা এবং আইনের শাসনের অনুপস্থিতির জন্যেও সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত জীবনের হুমকির মধ্যে কাজ করছেন।’

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম’র চেয়ারম্যান রেভারেন্ড থমাস জে রীজ বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারও ধর্ম-অবমাননার আইন প্রয়োগ করছে। প্যানেল কোডের ২৯৫এ সেকশন এবং ক্রিমিনাল কোডের ৯৯ এ-এফ ক্লোজের প্রয়োগও করছে বাংলাদেশ। এ ধারা প্রয়োগে লোকজনকে জেলে নিচ্ছে এবং হয়রানি করা হচ্ছে। বাংলাদেশের কিছু কিছু রাজনীতিকও ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টির ভাষা ব্যবহার করে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করছেন। এর ফলে ধর্মীয় সম্প্রীতি হুমকির মধ্যে পড়ছে। আর এ সুযোগ নিচ্ছে ধর্মীয় উগ্রপন্থিরা। গত জানুয়ারি বাংলাদেশের এক লাখের অধিক ইমাম এক যুক্ত স্বাক্ষরে ধর্মের নামে সন্ত্রাসের নিন্দামুলক ফতোয়া জারি করেছেন। গত ৩/৪ বছরে বাংলাদেশে ব্লগার, মুক্তমনা লেখক, বুদ্ধিজীবী, অসাম্প্রদায়িক চেতনার সংগঠক, ইমাম, পুরোহিত, ধর্মযাজক, বৌদ্ধ-ভিক্ষুসহ প্রকাশক, ধর্মীয় সংখ্যালঘু হত্যার দায়িত্ব নিয়েছে আইএসআইএল, ভারতীয় উপ-মহাদেশভিত্তিক আল ক্বায়েদা, আনসার আল ইসলাম, আনসারউল্লাহ বাংলাটিম প্রভৃতি সন্ত্রাসী সংগঠন। শুধু তাই নয়, চলতি মাসে ঢাকার গুলশানে একটি রেস্তোঁরায় যে ২২ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে তার দায়িত্বও নিয়েছে আইএসআইএল। ২০১৩ সালের পর যতগুলো হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে তার মধ্যে গুলশানেরটি হচ্ছে সবচেয়ে ভয়ংকর। শোয়ালাকিয়াতে ঈদ জামাতেও জঙ্গিরা বোমা হামলা চালিয়েছে।

প্রথম প্যানেলে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন’র প্রধান ও রাষ্ট্রদূত ডেভিড এন স্যাপরস্টিন। তিনি দেশে দেশে ধর্মীয় স্বাধীনতার বিরুদ্ধে চলমান নৃশংসতার প্রসঙ্গ উল্লেখকালে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক হত্যাকান্ডের বিবরণ দিয়ে মানবাধিকার সুরক্ষার আন্তর্জাতিক সনদ কীভাবে ভুলুন্ঠিত তার ভয়াবহতা বিশ্লেষণ করেন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রেও ধর্ম অবমাননা বিধি রয়েছে। তবে একইসাথে ধর্মীয় স্বাধীনতা সুরক্ষায় রয়েছে যথাযথ আইন। এরফলে ধর্মের দোহাই দিয়ে অনাচার ঘটতে পারে খুব কম সময়েই।

শুনানীর আলোচ্যসূচিতে ফ্রিডম হাউজকে উদ্ধৃত করেন সকল প্যানেলিস্ট। এই সংস্থার পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন ফ্রিডম হাউজের ভাইস প্রেসিডেন্ট ভেনিসা এল টাকার। তিনি স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান প্রতিবন্ধক হিসেবে ৬টি বিষয়কে চিহ্নিত করেন। এগুলো হচ্ছে, ১. সেন্ট্রাল আমেরিকা থেকে দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত সাংবাদিকরা জীবন বাজি রেখে সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের ওপর রিপোর্ট করছেন। এক্ষেত্রে অনেক মিডিয়া নিজে থেকেই জীবনের ঝুঁকি নিতে চায় না। বিশেষ করে, যেসব দেশে আইনের শাসন খুবই দুর্বল, সে সব দেশের মিডিয়া সাহস হারিয়ে ফেলছে। ২. দুর্নীতি। সরকার কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির সংবাদ করতে গেলেই সাংবাদিককে হামলা, হয়রানি, গুম হবার শংকা দেখা দেয়। অনেক সময় সাংবাদিকের পরিবারের ওপরও হামলা করা হচ্ছে। আর এ সমস্যাটি মূলত: বিশ্বের সকল প্রান্তেই বিরাজমান। ৩. ভ’মি দস্যু এবং পরিবেশ দুষণের জন্যে দায়ীদের ওপর রিপোর্ট করা দুরূহ হয়ে উঠেছে। অধিকাংশ সাংবাদিককেই হুমকির শিকার হতে হয়। কোন কোন দেশের রাষ্ট্রীয় যন্ত্র থেকেও ভয়-ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে। কারণ, বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের চাঁদায় অনেকে এমপি/মন্ত্রী হচ্ছেন। ৪. পশ্চিম সাহারা, ক্রাইমিয়া অথবা তিব্বতের মত অঞ্চলে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নিয়ে চলমান গোলযোগের সংবাদ পরিবেশন করতে গেলেই কোন না কোন মহলের বিরাগভাজন হতে হচ্ছে। ৫. প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী অথবা অন্য কোন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে যায়-এমন কোন সংবাদ প্রকাশ করলেই মারাত্মক বিপদে পড়তে হচ্ছে। ৬. ধর্ম নিয়ে সমালোচনা/বিশ্লেষণমূলক রিপোর্ট। ধর্ম সম্পর্কে রিপোর্ট করলেই হয় ঐ রাষ্ট্র কর্তৃক নয়তো বা ধর্মীয় চরমপন্থিদের রোষানলে পড়তে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট মিডিয়াকে। সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের হামলার ঘটনা সর্বকালের নৃশংনতাকে ছাড়িয়ে গেছে। ’

ভেনিসা এল টাকার বলেন, ‘গত বছরের ‘ফ্রিডম অব দ্য প্রেস রিপোর্ট’-এ সারাবিশ্বের যে চিত্র উপস্থাপিত হয়েছে তা মুক্ত সাংবাদিকতার জন্যে ভয়ংকর এক বিষয়। অর্থাৎ বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৮৭% মানুষেরই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই। গত ১২ বছরের মধ্যে এটি হচ্ছে ভয়াবহ একটি চিত্র। অর্থাৎ এক ধরনের মানুষের কাছে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা জিম্মি হয়ে পড়েছে। এভাবে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির এ যুগে মানুষ আরো বর্বর হয়ে উঠছে।’প্যানেলিস্টদের মধ্যে আরো ছিলেন হাডসন ইন্সটিটিউট সেন্টার ফর রিলিজিয়াস ফ্রিডমের পরিচালক নীনা শিয়া, পেন আমেরিকার ফ্রি এক্সপ্রেশন প্রোগ্রামের পরিচালক ড. ক্যারিন কারলেকার, কমিটি টু প্রটেক্স জার্নালিস্টস-এর এডভোকেসী ডাইরেক্টর ড. কোর্টনি সি রাডসে এবং সিরিয়ান-খ্রিস্টিয়ান ফর পীচের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ড. ওয়ায়েল আলেজি। ক্যাপিটল হিল সূত্রে জানা গেছে, এই শুনানীর ওপর একটি সুপারিশ পেশ করা হবে মার্কিন কংগ্রেসে। সে আলোকে গৃহিত হবে পরবর্তী পদক্ষেপ।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV