Thursday, 23 July 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030 বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি Dr. Titumir calls for UN-led debt relief mechanism to safeguard investment in children and women Commerce Minister meets ECOSOC President and Vice-President to advance Bangladesh’s smooth LDC graduation
সব ক্যাটাগরি

আপিল খারিজ,৯০ মিনিটে যা হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 133 বার

প্রকাশিত: November 30, 2010 | 12:46 AM

ইউএসএনিউজ ডেস্ক: ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি নিয়ে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দায়ের করা লিভ টু আপিল ‘উত্থাপিত হয়নি’ মর্মে খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে বাড়ি ফিরে পেতে তার দায়ের করা আবেদনও খারিজ করা হয়েছে। এসব আবেদনের ওপর কোন শুনানি করেননি তার আইনজীবীরা।তবে আট সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়ের করা আদালত অবমাননা মামলার শুনানি আজ সকাল পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।
আপিল বিভাগের গতকালের কার্যতালিকার তিন নম্বরে খালেদা জিয়ার আবেদন শুনানির জন্য ছিল। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের অন্য সদস্যরা ছিলেন বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন ও বিচারপতি এস কে সিনহা। সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে টিএইচ খান আগে আদালত অবমাননার মামলা শুনানির জন্য আবেদন করেন। এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, আগে লিভ টু আপিলের শুনানি করেন। পর্যায়ক্রমে আমরা সব আবেদন শুনবো। জবাবে টিএইচ খান বলেন, আমরা এখানে এসেছি সুপ্রিম কোর্টের মর্যাদা রক্ষা করার জন্য। তাই আগে আমরা আদালত অবমাননা মামলার শুনানি করতে চাই। তখন প্রধান বিচারপতি আবার বলেন, স্যরি, আপনি লিভ টু আপিলের শুনানি শুরু করেন। আপনি দেশের সবচেয়ে সিনিয়র আইনজীবী। আপনারা যখন আদালতে দাঁড়ান তখন আমরা অনার ফিল করি। টিএইচ খান বলেন, বিচার শুধু করলেই হবে না।বিচার যে হয়েছে সেটা প্রতীয়মান হতে হবে। এ সময় ব্যারিস্টার রফিক-উল হক দাঁড়ান। তখন আপিল বিভাগ বলেন, সুপ্রিম কোর্ট রুলস হচ্ছে একজনকে শোনা। তবে আমরা আপনাকেও শুনবো। আদালত আরও বলেন, টিএইচ খান তার অসুস্থতা ও আপনি দেশের বাইরে আছেন- এ কথা উল্লেখ করে ১০ই নভেম্বর সময় চেয়েছিলেন। আমরা এক বাক্যে সময় দিয়েছি।  তখন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক আদালত অবমাননার মামলার শুনানির আবেদন করেন। তিনি বলেন, বাদী আমাকে এ আবেদনটি শুনানির পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি এ আবেদনটির শুনানি না গ্রহণ করলে লিভ টু আপিলের শুনানির মুলতবি রাখার আবেদন করেন। টিএইচ খান ও ব্যারিস্টার রফিক-উল হক দুই জনই ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে কিছু বলতে দেয়ার অনুরোধ জানান। এ আবেদনে আপিল বিভাগ সাড়া দেয়নি। তারা বলেন, আগে সবচেয়ে সিনিয়র আইনজীবীকেই শুরু করতে হবে। ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বসে পড়লে টিএইচ খান দাঁড়িয়ে আবারও সময় চান। এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনি লিভ টু আপিলের শুনানি শুরু করেন। না হয় আইন আইনের গতিতে চলবে। ৯টা ৫৩ মিনিটের দিকে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বসা থেকে দাঁড়িয়ে যান।
 এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, মি. আহমদ সিট ডাউন। জবাবে বিএনপির আইনজীবীরা বলতে থাকেন হোয়াট?’ এ নিয়ে পাঁচ মিনিট আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের মধ্যে নজিরবিহীন হট্টগোল হয়। সিনিয়র আইনজীবীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলে বিচারপতি এস কে সিনহা সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেনকে লক্ষ্য করে বলেন, যে আইনজীবী চিৎকার করেছে তাকে এখানে (বেঞ্চের সামনে) আসতে বলেন। তখন খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আমি তো জানি না কে শাউট করেছে। আমার দ্বারা চিহ্নিত করা সম্ভব নয়। এ সময় বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, মি. এটর্নি জেনারেল ও বারের প্রেসিডেন্ট, আপনারা  কোর্টকে সহযোগিতা করেন। যেসব আইনজীবী  আপিল বিভাগে তালিকাভুক্ত নন তাদের এখানে আসা উচিত নয়।তখন প্রধান বিচারপতি আবারও বলেন, ১০ই নভেম্বর আপনারা মুলতবি চাইলে আমরা শুনানি মুলতবি করেছিলাম। এ সময় রাগান্বিত হয়ে টিএইচ খান বলেন, ১০ তারিখের কথা বলবেন না। ওই তারিখের কথা বললে  আমাকে অনেক কথা বলতে হবে। ৮ তারিখে আমরা গিয়েছিলাম চেম্বার বিচারপতির আদালতে। তিনি বলেছিলেন, ৯ তারিখে আসেন। ৯ তারিখে আমরা চেম্বার বিচারপতির আদালতে যাই। আমরা সেখানে শুনানি মুলতবি চাই। হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ চাই। আমরা বলেছিলাম হাইকোর্টের রায়ে ৩০ দিনের একটি কথা বলা হয়েছে। এটর্নি জেনারেল সেখানে ছিলেন। চেম্বার বিচারপতি তাড়াহুড়া করে আবেদনটি আপিল বিভাগে পাঠিয়ে দেন। ১০ তারিখে আপিল বিভাগে আসে আমাদের আবেদন। ওই দিনের আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় লেখা আছে, লিভ টু আপিল ও স্টে পিটিশনের শুনানি হবে। অবিয়াসলি আমরা স্টে চেয়েছিলাম। আল্লাহ বিচার করুক। হকারের মতো হকিং করে বলতে হয় না- আমরা স্টে চাই, আমরা স্টে চাই।
 তিনি বলেন, ১০ তারিখে আপনারা উন্মুক্ত আদালতে আদেশ দেননি। চেম্বারে গিয়ে আদেশ দিয়েছেন। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা ওই আদেশ পাবলিসাইজ করে বেড়িয়েছেন। তখন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম কিছু বলতে চাইলে আদালত তাকে বসতে বলেন। টিএইচ খান আরও বলেন, পরকালে যদি বিশ্বাস করেন তবে মনের কাছে জিজ্ঞেস করুন আমি স্টে চেয়েছিলাম কিনা? ১০ তারিখের পর অনেক ঘটনা ঘটে গেছে। আমি চেয়েছিলাম এসব বিষয় আপনাদের সামনে উত্থাপন করতে। আমরা এসেছিলাম কনটেম্পট পিটিশনের শুনানি করতে। তখন বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, আপনি আপিল বিভাগকে ডিক্টেট করতে পারেন না।জবাবে টিএইচ খান বলেন, আমি ডিক্টেট করছি না। আমি বিনীতভাবে আবেদন জানাচ্ছি। তিনি বলেন, এ অবস্থায় আমরা কার কাছে কান্নাকাটি করবো? আমরা বিচার পাচ্ছি না। এ সময় বিচারপতি এস কে সিনহা বলেন, সেদিন এটর্নি জেনারেল যখন স্টে’র বিরোধিতা করলেন তখন প্রধান বিচারপতি উন্মুক্ত আদালতে বলেছেন, তারা তো স্টে চায়নি। তখনও আপনারা কেউ স্টে চাননি। জবাবে টিএইচ খান বলেন, এটা সিম্পল কমন সেন্স। আমরা স্টে চেয়েছিলাম। এ সময় তিনি তিনবার বলেন, আমরা বিচার পাচ্ছি না। সংবিধানের ১০৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আপিল বিভাগ আদালত অবমাননার তদন্ত করতে পারে ও দোষী ব্যক্তিকে শাস্তি দিতে পারেন।তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনি লিভ টু আপিলের শুনানি শুরু করেন। আমরা অন্য কিছু এখন শুনবো। এ সময় টিএইচ খান বসে পড়লে ব্যারিস্টার রফিক-উল হক দাঁড়ান। তিনি আবারও শুনানি মুলতবির আবেদন জানান। প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনারা লিভ টু আপিলের শুনানি শুরু করেন। না হয় আইন আইনের গতিতে চলবে। এ সময় বিচারপতি এস কে সিনহা তাকে আপিল বিভাগের একটি রুলসের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ওই রুলস অনুযায়ী একটি মামলায় একজনের বেশি আইনজীবী শুনানি করতে পারেন না।
 জবাবে ক্ষুব্ধ ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেন, পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে অনেক দেখেছি। একাধিক আইনজীবীর শুনানি করা এখন রেওয়াজ। ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের পর আবারও দাঁড়ান টিএইচ খান। তিনি বলেন, এটি কোন সাধারণ মামলা নয়। এটি ঐতিহাসিক মামলা। আমি এই কোর্টের মর্যাদা রক্ষার জন্য এখানে এসেছি। তখন এস কে সিনহা বলেন, আপনারা এই কোর্টকে কার্যকর করতে দিন। আপনারা এ কোর্টকে কার্যকর করতে না দিলে তা হবে দুঃখজনক। জবাবে টিএইচ খান বলেন, আমরা এই কোর্টের ইজ্জত রক্ষার জন্যই এখানে এসেছি। মানুষের মধ্যে নানা গুজব। আমরা চাই মানুষ বুঝুক কোর্ট নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে। তিনি চা বিরতির সময় পর্যন্ত হলেও শুনানি মুলতবি করার আবেদন জানান। তিনি বলেন, এ সময়ে পিটিশনারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। প্রধান বিচারপতি আবারও তাকে লিভ টু আপিলের শুনানি শুরুর আহ্বান জানান। জবাবে টিএইচ খান বলেন, আপনারা যে জিদ দেখাচ্ছেন তাতে আমরা ভয় পাচ্ছি। তিনি আদালতকে নরম হওয়ার অনুরোধ জানান। জবাবে প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক বলেন, আপনি একটু নরম হোন। আপনি কেন এত জিদ ধরছেন? এ পর্যায়ে টিএইচ খান শুনানি শুরু না করলে ১১টায় আদেশ দেন প্রধান বিচারপতি। আদেশে তিনি পুরো ঘটনার বর্ণনা করে লিভ টু আপিল ও বাড়ি ফিরে পাওয়ার আবেদন ‘উত্থাপিত হয়নি’ মর্মে খারিজ করেন। এ সময় আদালত এজলাস ত্যাগ করেন। তবে পরে ১২টার দিকে আদালত আবারও বসে। তখন আপিল বিভাগ খালেদা জিয়ার দায়ের করা আদালত অবমাননার আবেদনের শুনানি আজ পর্যন্ত মুলতবি করে।
আদেশের প্রতিক্রিয়া, বিক্ষোভ
আদেশের প্রতিক্রিয়ায় টিএইচ খান বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক মামলা। আমরা নট প্রেস চাইনি। তবুও কোর্ট নট প্রেস করেছে। খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উৎখাত করা হয়েছে তাকে অপমান করার জন্য। বিষয়টি আপিল বিভাগে বিচারাধীন ছিল। এ উচ্ছেদের মাধ্যমে সর্বোচ্চ আদালতকে অপমান করা হয়েছে। আমি কনটেম্পট পিটিশনের শুনানি করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আদালত বললো লিভের শুনানি করেন। আমরা সাত দিন এমনকি আজ চা বিরতি পর্যন্ত সময় চেয়েছিলাম। সেসময় দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, এটা কোন বাড়ি ভাড়ার মামলা নয়। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা। এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, আদালত তাদেরকে আশ্বস্ত করেছিল তাদের সব আবেদন শুনবে। তারপরও তারা শুনানি করেননি। তারা শুনানি না করায় এ আদেশ দেয়া ছাড়া কোর্টের সামনে কোন বিকল্প ছিল না।তিনি বলেন, আপিল বিভাগে তালিকাভুক্ত নন এমন কিছু আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। তারা এসেছিলেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আজ আমাদের সিনিয়র আইনজীবীরা সময় চেয়েছিলেন। সময় দেয়ার রেওয়াজ আছে। কিন্তু কোর্ট সময় দেয়নি। আমাদের না শুনেই আদালত আবেদন খারিজ করেছে। আদেশের পরই আদালত অঙ্গনে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন বিএনপির আইনজীবীরা। মিছিলে তারা প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের পদত্যাগ দাবি করেন। মিছিল চলাকালে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতির কক্ষের সামনে বিএনপি’র আইনজীবীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের মৃদু ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের দক্ষিণ হলে প্রতিবাদ সভা করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। এ সভায় আজ সকালে আইনজীবীদের আদালতে হাজির হয়ে হরতাল সফল করার আহ্বান জানানো হয়।
বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV