দূরদর্শী বার্নি স্যান্ডার্স
ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে এলেন ভারমন্টের সিনেটর ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট দল থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত বার্নি স্যান্ডার্স। তিনি ডেমোক্রেট ন্যাশনাল কমিটির কনভেনশনে দাঁড়িয়ে দলীয় ঐক্যের কথা বললেন। দলীয় নেতাকর্মীকে সব ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে হিলারি ক্লিনটনের পক্ষে দাঁড়ানোর আহ্বান জানালেন। বললেন, অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের আগামী প্রেসিডেন্ট হতে হবে হিলারি ক্লিনটনকে। এ সময় তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান হিলারি ক্লিনটনকে ভোট দিয়ে হোয়াইট হাউসে পাঠাতে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এর মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দূরদর্শিতার প্রমাণ দিয়েছেন বার্নি স্যান্ডার্স। যা করতে পারেন নি রিপাবলিকান দলের মনোনয়নবঞ্চিত টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ। তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দলের জাতীয় কমিটির সম্মেলনে সমর্থন দেন নি। এর পেছনে ব্যক্তিগত কিছু ইস্যু জড়িয়ে আছে। তা সত্ত্বেও একজন রাজনীতিক হিসেবে তাকে ছাড়িয়ে গেলেন বার্নি স্যান্ডার্স। গতকাল ফিলাডেলফিয়ায় শুরু হয়েছে ডেমোক্রেট দলের জাতীয় সম্মেলন। প্রথম দিনেই মঞ্চে উঠে আসেন বার্নি স্যান্ডার্স। এ সময় সেখানে সমবেত সবাই দাঁড়িয়ে তিন মিনিট তার জয়ধ্বনি দেয়। তবে সন্ধ্যার শুরুর দিকে যখনই সম্মেলনে হিলারি ক্লিনটনের নাম উচ্চারিত হয়েছে তখনই স্যান্ডার্সের সমর্থকরা দুয়ো ধ্বনি দিয়েছেন। কিন্তু চূড়ান্ত বক্তব্যে বার্নি স্যান্ডার্স তাদের নিবৃত করলেন। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারির পক্ষে সমর্থন চাইলেন। এ সময় তারা ‘বার্নি’ লেখা নীল প্ল্যাকার্ড উপরে তুলে ধরে তার নামে স্লোগান দেন। তার কিছু সমর্থক এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন। কেউ কেউ মুখে টেপ এঁটে দেন। তাতে লেখা ‘সাইলেন্সড’ অথবা ‘সাইলেন্সড বাই দ্য ডিএনসি’। তাদের দিকে তাকিয়ে নিজের আবেগকে স্তিমিত করেন বার্নি স্যান্ডার্স। তিনি বলতে থাকেন, রিপাবলিকান দল থেকে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন এক গ্রুপের পর আরেক গ্রুপের অবমাননা করায় ব্যস্ত, তখন হিলারি ক্লিনটন বুঝতে পেরেছেন আমাদের সমাজের বহুজাতির কথা। তারাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। যদি আপনি মনে করেন এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ নয়, আপনি যদি মনে করেন নির্বাচন থেকে দূরে থাকবেন, তাহলে এক মুহূর্ত ভাবুন ডোনাল্ড ট্রাম্প (প্রেসিডেন্ট হলে) যাদেরকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ দেবেন তাদের বিষয়। ভাবুন দেশে সুশীল সমাজের স্বাধীনতা, সমঅধিকারের কথা এবং দেশের ভবিষ্যতের কথা।
ওদিকে সম্মেলনের শুরুর দিকে এতে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা। তিনি বক্তব্য দেয়ার সময় উল্লাসে ফেটে পড়ে হলঘর। বেশকিছু রেফারেন্সে তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে বক্তব্য রাখেন। এ সময় হলঘর মিশেল লেখা প্ল্যাকার্ডে বেগুনি বর্ণ ধারণ করে। সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন নিউ জার্সির সিনেটর করি বুকার। তিনি বক্তব্যে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে সব সময়ই ঘৃণার বিরুদ্ধে ভালোবাসা বিজয়ী হয়। রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যবসায়ী রেকর্ড নিয়ে তীব্র আক্রমণ করে বক্তব্য রাখেন সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন। বার্নি স্যান্ডার্সের কঠোর ভক্ত কমেডিয়ান সারাহ সিলভারম্যান। তিনি সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান হিলারি ক্লিনটনের পক্ষে দাঁড়াতে। আগামী বৃহস্পতিবার এ সম্মেলন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন গ্রহণ করবেন হিলারি।
ওদিকে ডিএনসির ই-মেইল ফাঁসকে কেন্দ্র করে এর চেয়ারপারসন ডেবি ওয়াসারম্যান শুলটজ পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সম্মেলন শেষে তিনি পদত্যাগ করবেন। রোববার তিনি এ ঘোষণা দিয়েছেন। এ নিয়ে কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে। উল্লেখ্য, উইকিলিকস ডেমোক্রেটদের ১৯ হাজারেরও বেশি গোপন ই-মেইল প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, জাতীয় কমিটির শীর্ষ কিছু নেতা দলের প্রাইমারি নির্বাচনে ছিলেন হিলারি ক্লিনটনের পক্ষে। এ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় চলছে দলের ভেতরে। পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে চেয়ারপারসন ডেবি ওয়াসারম্যান শুলটজের। এ বিষয়টি তদন্ত করছে গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই।মানবজমিন
- নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান
- জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর
- নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত
- নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ
- New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners
- এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ
- নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া