বৃটেনে নয়া ইমিগ্রেশন নীতি ঘোষণা, হাইলি স্কিলড ও পোস্ট স্টাডি ওয়ার্ক ভিসা বন্ধ, শেফ হিসেবে যেতেও গ্র্র্যাজুয়েট হতে হবে
সালেহ শিবলী, লন্ডন থেকে: ইমিগ্রান্টদের জন্য ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বৃটেনের দরোজা। নন ইউরোপিয়ানদের জন্যও আগামী এপ্রিল থেকেই সঙ্কুচিত হচ্ছে বৃটেনে আসার পথ। নানা শর্তের জালে আবদ্ধ করে দেয়া হচ্ছে স্টুডেন্ট ভিসার নিয়ম-নীতি। গ্র্যাজুয়েশন কোর্সের নিচে কাউকে স্টুডেন্ট ভিসা দেয়া হবে না। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে হাইলি স্কিলড ভিসা এবং পোস্ট স্টাডি ওয়ার্ক ভিসা।বৃটেনে ইমিগ্রেশন ঠেকাতে এই কঠোর নীতিমালা ঘোষণা করেছেন হোম সেক্রেটারি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) টেরেসা মে। গত ২৩শে নভেম্বর হাউস অব কমন্সে টেরেসা মে এই কঠোর ইমিগ্রেশন নীতিমালা উপস্থাপন করেন। বৃটেনের ব্যবসায়ী এবং মানবাধিকার কর্মীদের উদ্বেগ ও সমালোচনা উপেক্ষা করেই ক্ষমতাসীন টোরি-লিবডেম কোয়ালিশন সরকার নয়া ইমিগ্রেশন নীতি বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হলো।
এতদিন বিদেশী শিক্ষার্থীরা বৃটেনে পড়াশোনা করার পর পোস্ট স্টাডি ভিসা নিয়ে কমপক্ষে দু’বছর কাজ করার সুযোগ পেতো। এরপর অনেকেই ধীরে ধীরে নানা নিয়মে বৃটেনে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ পেয়ে যেতো। বর্তমান নীতিতে পোস্ট স্টাডি ভিসা ইস্যু বন্ধ হয়ে গেলে বিদেশী শিক্ষার্থীদের বৃটেনে পড়াশোনা শেষে নিজ দেশে ফেরত যেতে হবে। নয়া ইমিগ্রেশন নীতি ঘোষণা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী টেরেসা মে বলেন, টিআর-১ এর অধীনে স্কিলড ওয়ার্কার, ডিগ্রি লেভেলের নিচে পড়তে আসা স্টুডেন্ট, আন্তঃকোম্পানি বদলি ও ফ্যামিলি রি-ইউনিয়ন রুটে মাইগ্রেশন নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাবিত রূপরেখা বাস্তবায়িত হলে নন-ইউরোপিয়ান দেশগুলো থেকে বৃটেনে মাইগ্রেশনের সব রুটই নিয়ন্ত্রিত হবে। বৃটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (হোম অফিস) জানিয়েছে, স্কিলড নন-ইউরোপিয়ান শ্রমিক, আন্তঃকোম্পানি রদবদলের মাধ্যমে আসা পেশাজীবী, পয়েন্ট-বেইজড টিআর-১ স্কিমের অধীনে বৃটেনে হাইলি স্কিলড চাকরিজীবীদের ভিসা দেয়ার ক্ষেত্রে এপ্রিল থেকে সরকারের নতুন নীতিকে অনুসরণ করা হবে।
নিয়ম যত কড়াকড়িই হোক, বিত্তবানদের জন্য বৃটেনের দরোজা উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও বিশেষ দক্ষতা সম্পন্ন ব্যক্তিরা নতুন নীতির আওতায় পড়বেন না। নয়া নীতিমালায় টিআর-২ এর অধীনে বৃটেন নন-ইউরোপিয়ান দেশগুলো থেকে স্কিলড ক্যাটিগরিতে বছরে মাত্র ২১ হাজার ৭০০টি ভিসা ইস্যু করবে। এর মধ্যে ২০ হাজার ৭০০ ভিসা দেয়া হবে ‘স্কিলড’ ব্যক্তিদের। ‘বিশেষ দক্ষ’ ক্যাটিগরিতে দেয়া হবে বাকি এক হাজার ভিসা। এছাড়া টিআর-২ রুটে আন্তঃকোম্পানি বদলির মাধ্যমে যারা ১২ মাসের বেশি সময়ের জন্য বৃটেনে কাজ করতে আসবেন তাদের বার্ষিক বেতন হতে হবে ন্যূনপক্ষে ৪০ হাজার পাউন্ড। অবশ্য এখন থেকে টিআর-২ এর অধীনে যে কোন চাকরি প্রার্থীর কমপক্ষে গ্র্যাজুয়েট লেভেলের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে। টিআর-১ রুটে শুধুমাত্র ব্যবসা-উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও বিশেষ দক্ষতা সম্পন্ন ব্যক্তিরা ভিসা পাবেন। টিআর-১ এর অধীনে স্টুডেন্টদের জন্য পোস্ট স্টাডি ওয়ার্ক (পিএসডব্লিউ) ভিসার সুযোগ এপ্রিলের পর আর থাকছে না।
টিআর-১ অর্থাৎ হাইলি স্কিলড মাইগ্রেশন সম্পর্কে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে যাওয়ার পেছনে তারা কিছু যুক্তি তুলে ধরেছেন। সম্প্রতি বৃটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সমীক্ষায় বলা হয়, টিআর-১ এর অধীনে হাইলি স্কিলড ক্যাটিগরিতে ভিসা নিয়ে বৃটেনে আসলেও এর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ ব্যক্তিই হাইলি স্কিলড চাকরি করেন না। তারা নিচু আয়ের ও কম দক্ষতার চাকরি করেন। এদিকে টিআর-৪ এর অধীনে বিদেশী শিক্ষার্থীরা বৃটেনের ইউনিভার্সিটি বা সমমানের প্রতিষ্ঠানে ডিগ্রি লেভেলের কোর্সে আসতে চাইলে তাদের ভিসা পাওয়া সহজ হবে। বৃটিশ ইউনিভার্সিটিগুলোতে ভর্তি হতে হলে শিক্ষার্থীদের কঠিন এন্ট্রি ক্রাইটেরিয়া পার হতে হবে এবং ইংরেজিতে বিশেষ দক্ষতা প্রমাণ করতে হবে।
নতুন এই নীতিমালায় শিক্ষার্থীদের ‘কাজ করার সময়সীমা’ নতুন করে নির্ধারণের সুযোগ রয়েছে। নয়া নীতিমালায় সরকার ডিফেডেন্ট ভিসা দেয়ার ব্যাপারেও কঠোর নীতি প্রয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃটেনে বাঙালিদের অনেকেই রেস্টুরেন্ট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। রেস্টুরেন্টগুলোতে শেফ হিসেবে অনেকই কাজ করেন। তবে দক্ষ শেফ হলেও এবার কেউ চাইলেও শেফ হিসেবে বৃটেনে আসতে পারবেন না। শেফ হিসেবে আসতে হলেও কমপক্ষে গ্র্র্যাজুয়েট হতে হবে।
এক নজরে বৃটেনের নয়া ইমিগ্রেশন নীতির কিছু উল্লেখযোগ্য দিক
টিআর-১ জেনারেল রুট বন্ধ হবে।
টিআর-১ রুটে ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা ভিসা পাবেন।
টিআর-১ রুটে বিশেষ দক্ষতা সম্পন্ন ব্যক্তিরা ভিসার সুযোগ পাবেন।
টিআর-২ রুটে ২০১১-২০১২ বছরে ভিসা দেয়া হবে ২০ হাজার ৭০০ ব্যক্তিকে।
১৫০ হাজার পাউন্ডের অধিক উপার্জনকারী ব্যক্তি, খেলোয়াড়, ধর্ম প্রচারক, আন্তঃকোম্পানি বদলির মাধ্যমে আবেদনকারী ব্যক্তিরা এই নয়া নীতির আওতায় পড়বে না।
টিআর-২ এর অধীনে আবেদনকারীরা কেবলমাত্র গ্র্যাজুয়েট লেভেলের চাকরি করতে পারবেন।
মাইগ্রেশন এডভাইজারি কাউন্সিল সময়ে সময়ে টিআর-২ এর তালিকাভুক্ত চাকরির তালিকা প্রকাশ করবে।
টিআর-২ এর অধীনে আবেদনকারীদের ইংরেজিতে আইইএলটিএস ৪ থেকে ৫ সমমানের দক্ষতা থাকতে হবে। সেটেলমেন্ট ভিসাও নতুন নীতির আওতায় নিয়ন্ত্রিত হবে। সেটেলমেন্ট ভিসার আবেদনকারীদের অতীত ইতিহাস যাচাই করা হবে। সেটেলমেন্ট আবেদনকারীদের ইংরেজিতে প্রয়োজনীয় দক্ষতা প্রমাণ করতে হবে।
টেরেসা মে টিআর-১ ক্যাটিগরি ভিসা ইস্যু বন্ধ করা প্রসঙ্গে বলেন, হাইলি স্কিলড ভিসার অধীনে সবচেয়ে দক্ষ ও উজ্জ্বল লোকদেরই বৃটেন আকৃষ্ট করতে চেয়েছিল। কিন্তু হাইলি স্কিলড ভিসায় আসা ৩০ শতাংশ লোক সুপার মার্কেটে সেল্ফিং, ক্যাবিং, সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করেন। তাদের অনেকেই আবার এখন বেকার। এ কারণেই টিআর-১ ক্যাটিগরি সরকার ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্দিষ্ট করে দিতে চায়। পোস্ট স্টাডি ভিসা বন্ধ সম্পর্কে টেরেসো মে বলেন, গত বছরে ৩৮ হাজার লোক পোস্ট স্টাডি ভিসার মাধ্যমে বৃটেনে কাজের বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু বৃটেনেই ১০ জনের একজন গ্র্যাজুয়েট বেকার রয়েছে।
এদিকে জয়েন্ট কাউন্সিল ফর দি ওয়েলফেয়ার অব ইমিগ্রান্টসের নির্বাহী পরিচালক হাবিব রহমান বলেছেন, ২৩শে নভেম্বর ঘোষিত সরকারের ইমিগ্রেশন নীতি বৈষম্যমূলক। মূলত ইউরোপের বাইরে থেকে আসা ইমিগ্রান্টদের ঠেকাতেই এই নীতি চালু করা হয়েছে। ইউরোপিয়ানরা বৃটেনের সব সুযোগ সুবিধাই ভোগ করে থাকেন। শুধু অ-ইউরোপীয়দের ক্ষেত্রেই বিভিন্ন নীতি ও নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করা হয়। হাবিব রহমান বলেন, সেটেলমেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে যেসব শর্ত আরোপ করা হয়েছে তা মানবাধিকার পরিপন্থি।
এক নজরে বৃটেনের নয়া ইমিগ্রেশন নীতির কিছু উল্লেখযোগ্য দিক
টিআর-১ জেনারেল রুট বন্ধ হবে।
টিআর-১ রুটে ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা ভিসা পাবেন।
টিআর-১ রুটে বিশেষ দক্ষতা সম্পন্ন ব্যক্তিরা ভিসার সুযোগ পাবেন।
টিআর-২ রুটে ২০১১-২০১২ বছরে ভিসা দেয়া হবে ২০ হাজার ৭০০ ব্যক্তিকে।
১৫০ হাজার পাউন্ডের অধিক উপার্জনকারী ব্যক্তি, খেলোয়াড়, ধর্ম প্রচারক, আন্তঃকোম্পানি বদলির মাধ্যমে আবেদনকারী ব্যক্তিরা এই নয়া নীতির আওতায় পড়বে না।
টিআর-২ এর অধীনে আবেদনকারীরা কেবলমাত্র গ্র্যাজুয়েট লেভেলের চাকরি করতে পারবেন।
মাইগ্রেশন এডভাইজারি কাউন্সিল সময়ে সময়ে টিআর-২ এর তালিকাভুক্ত চাকরির তালিকা প্রকাশ করবে।
টিআর-২ এর অধীনে আবেদনকারীদের ইংরেজিতে আইইএলটিএস ৪ থেকে ৫ সমমানের দক্ষতা থাকতে হবে। সেটেলমেন্ট ভিসাও নতুন নীতির আওতায় নিয়ন্ত্রিত হবে। সেটেলমেন্ট ভিসার আবেদনকারীদের অতীত ইতিহাস যাচাই করা হবে। সেটেলমেন্ট আবেদনকারীদের ইংরেজিতে প্রয়োজনীয় দক্ষতা প্রমাণ করতে হবে।
টেরেসা মে টিআর-১ ক্যাটিগরি ভিসা ইস্যু বন্ধ করা প্রসঙ্গে বলেন, হাইলি স্কিলড ভিসার অধীনে সবচেয়ে দক্ষ ও উজ্জ্বল লোকদেরই বৃটেন আকৃষ্ট করতে চেয়েছিল। কিন্তু হাইলি স্কিলড ভিসায় আসা ৩০ শতাংশ লোক সুপার মার্কেটে সেল্ফিং, ক্যাবিং, সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করেন। তাদের অনেকেই আবার এখন বেকার। এ কারণেই টিআর-১ ক্যাটিগরি সরকার ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্দিষ্ট করে দিতে চায়। পোস্ট স্টাডি ভিসা বন্ধ সম্পর্কে টেরেসো মে বলেন, গত বছরে ৩৮ হাজার লোক পোস্ট স্টাডি ভিসার মাধ্যমে বৃটেনে কাজের বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু বৃটেনেই ১০ জনের একজন গ্র্যাজুয়েট বেকার রয়েছে।
এদিকে জয়েন্ট কাউন্সিল ফর দি ওয়েলফেয়ার অব ইমিগ্রান্টসের নির্বাহী পরিচালক হাবিব রহমান বলেছেন, ২৩শে নভেম্বর ঘোষিত সরকারের ইমিগ্রেশন নীতি বৈষম্যমূলক। মূলত ইউরোপের বাইরে থেকে আসা ইমিগ্রান্টদের ঠেকাতেই এই নীতি চালু করা হয়েছে। ইউরোপিয়ানরা বৃটেনের সব সুযোগ সুবিধাই ভোগ করে থাকেন। শুধু অ-ইউরোপীয়দের ক্ষেত্রেই বিভিন্ন নীতি ও নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করা হয়। হাবিব রহমান বলেন, সেটেলমেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে যেসব শর্ত আরোপ করা হয়েছে তা মানবাধিকার পরিপন্থি।
সর্বশেষ সংবাদ
- নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭ মার্চ ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে যাবে
- নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance.
- New York Attorney General James Reminds New Yorkers of SNAP Work Requirements
- নিউইয়র্কে ডিজিটাল ওয়ান ট্র্যাভেলস এবং বাংলা ট্র্যাভেলস এর ইফতার মাহফিল
- রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন নিউইয়র্ক ইনক’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত








