ড. ইউনূস সম্পর্কে মন্তব্য ও কটুক্তি প্রসঙ্গে প্রবাসীদের প্রতিক্রিয়া :এটা বাংলাদেশের জন্যেই ক্ষতিকারক হয়েছে
এনা : নোবেল বিজয়ী ড. মুহম্মদ ইউনূসকে ঘিরে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে তুমুল হৈ-চৈ এবং গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. ইউনূস সম্পর্কে বিভিন্ন জনের মন্তব্য ও কট্যুক্তি প্রসঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার প্রবাসীরা তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। ৯ ডিসেম্বর টেলিফোনে এসব প্রবাসীর মতামত সংগ্রহ করা হয়। বার্তা সংস্থা এনাকে প্রায় সকলেই বলেছেন, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ইতিবাচক পরিচিতিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে ড. মুহম্মদ ইউনূসের বিশাল ভূমিকা রয়েছে। মোট কথা ড. ইউনূসের মাধ্যমে একবিংশ শতাব্দির বিশ্বে নতুন করে পরিচিতি পাচ্ছে বাংলাদেশ। তার এই আকাশচুম্বি ইমেজকে বাংলাদেশের সরকারগুলো (বিএনপি জোট ও মহাজোট ) ইতিবাচক দৃষ্টিতে না দেখে হুমকি হিসেবে মনে করছে। সরকারের ধারণা যে ড. মুহম্মদ ইউনূসের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকায় তাদের ছোট হতে হচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলে। এমন ধারনা দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হওয়ায় নরওয়ে টেলিভিশনে প্রচারিত একটি রিপোর্ট দেখেই স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তেলে বেগুণে জ্বলে উঠেন এবং কড়া মন্তব্য করেন তার সম্পর্কে। একইভাবে বাংলাদেশের মিডিয়াগুলোও ঐ তথ্যের গভীরে যাবার চেষ্টা না করে ড. ইউনূস সম্পর্কে ঢালাও মন্তব্য জুড়ে সংবাদ-নিবন্ধ প্রচার ও প্রকাশ করতে থাকে। প্রবাসীরা বলেছেন, আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন একজন ব্যক্তি সম্পর্কে কট্যুক্তি প্রকাশের আগে ভাল করে যাচাইয়ের প্রয়োজন ছিল। বেলজিয়ামে বসবাসরত আন্তর্জাতিক ক্রিমিনাল কোর্টের আইন বিশেষজ্ঞ ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপকভাবে পরিচিত ড. মুহম্মদ ইউনূসকে নিয়ে ব্যাপক হৈ-চৈ ও আলোচনা-সমালোচনা হতেই পারে। এটাই স্বাভাবিক। তবে এক্ষেত্রে যা হয়েছে, ১২ বছর আগে নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়া একটি ঘটনা নিয়ে নরওয়ে টিভি যে রিপোর্ট করেছে তাকেই বেদবাক্যের ন্যায় সত্য বলে গ্রহণ করা সমীচিন হয়নি বাংলাদেশের মিডিয়াগুলোর। তাদের উচিত ছিল ঐ সংবাদের ব্যাপারে গ্রামীণ ব্যাংকের মতামত নেয়া। ড. ইউনূসকে দুর্নীতিবাজ, মহাজন, সুদখোর বিশেষণে বিশেষিত করার আগে ভালভাবে যাচাইয়ের উচিত ছিল। মিডিয়াগুলোতে যেভাবে রিপোর্ট করা হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও কড়া মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশে দুর্নীতিবাজ শব্দটি এতবেশী ব্যবহৃত হয়েছে যে এখন প্রায় সকল মানুষই মনে করেন যে দুর্নীতির উর্দ্ধে কেউ থাকতে পারে না। সেভাবেই ড. ইউনূসকে মনে করা হয়েছে। তিনি বলেন, মিডিয়ায় প্রচারিত ও প্রকাশিত মতামতে মনে হয়েছে যে ড. ইউনূস ব্যক্তিগতভাবে দাতা সংস্থার অর্থ আত্মসাৎ করেছেন কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থে ঐ অর্থ গ্রামীণ ব্যাংকের একাউন্ট থেকে গ্রামীনের সিস্টার কোম্পানী গ্রামীণ কল্যাণের একাউন্টে স্থানান্তর করেছিলেন। ভার্জিনিয়ায় বসবাসরত বীর প্রতিক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন ডা. সৈয়দ মাইনুদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিখ্যাত একজন মানুষ সম্পর্কে গত কদিনে বাংলাদেশের মিডিয়ায় যা করা হয়েছে তা অতিরঞ্জন ছিল। বাঙালির আন্তর্জাতিক ইমেজকে মহিমান্বিত করতে যার অবদান অবিস্মরণীয় তাকে নিয়ে এমন প্রচারণা চালানো উচিত হয়নি। তিনি বলেন, আমার মনে হয় রাজনৈতিক বিদ্বেষপূর্ণভাবে এটা করা হয়েছে। নিউইয়র্কে বসবাসরত বেইজিং অলিম্পিকে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আর্টিস্ট খুরশিদ আলম সেলিম বলেন, হৈ-চৈ করাটা বাংলাদেশের জন্যেই ক্ষতিকারক হয়েছে। কেননা ড, ইউনূসের ইমেজের সাথে বাংলাদেশের ইমেজ জড়িত। যুক্তরাষ্ট্র হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা এবং সোসাইটি অব ফেডারেল গভর্ণমেন্ট ইকনোমিস্টস�র সেক্রেটারী ড. ফাইজুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে যিনি বাংলাদেশকে অনেক ওপরে নিয়ে গেছেন, তেমন একজন ব্যক্তি সম্পর্কে মন্তব্য প্রকাশের আগে সবকিছু যাচাইয়ের প্রয়োজন ছিল। আমার মনে হয় রাজনৈতিক কারণে তার বিরুদ্ধে বিষোদগার করা হয়েছে। তিনি হয়তো আওয়ামী লীগ সরকারকে পুরোপুরি সাপোর্ট দিচ্ছেন না বলে এহেন মন্তব্য করা হচ্ছে। বার্তা সংস্থা এনা এবং সাপ্তাহিক ঠিকানার প্রেসিডেন্ট সাঈদ-উর-রব বলেন, বাংলাদেশের গর্ব করার মত কিছুই ছিল না বিদেশে। প্রায় ১০০ বছর পর বাংলাদেশের বাঙালি ড. মুহম্মদ ইউনূস নোবেল বিজয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশকে পরিচিত করেছেন। আমরা আন্তর্জাতিক মহলে চলাচলের সময় ড. ইউনূসের মাধ্যমে বাংলাদেশকে পরিচিত হতে দেখি। তিনি বলেন, রাজনীতি, অর্থনীতি এবং অন্য সকল েেত্রই বাংলাদেশের নেতিবাচক ইমেজ রয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। তেমন পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন ুদ্রঋণের প্রবক্তা ড. মুহম্মদ ইউনূস। এমনি অবস্থায় বিশেষ কোন মহল হয়তো সংঘবদ্ধ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে ড. ইউনূসের ইমেজ বিনষ্টের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আরেক ধাপ পিছিয়ে দেয়ার জন্যে। জনাব রব বলেন, আমাদের সকলের উচিত হচ্ছে ড. ইউনূসের ইমেজ অটুট রাখার মাধ্যমে বাংলাদেশের ইমেজকে আরো মহিমান্বিত করার ল্েয আন্তরিকতার সাথে কাজ করা। নিউইয়র্ক কম্যুনিটি লিডার এমাদ চৌধুরী বলেন, ড. ইউনূসকে ছোট করার অর্থ হচ্ছে বাংলাদেশকে ছোট করা। তার মত একজন ব্যক্তি সম্পর্কে মতামত প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট সকলের উচিত ছিল বিষয়টি ভালভাবে খতিয়ে দেখার। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন যে ড. ইউনূস কোন অনিয়ম করেননি। অথচ অন্য রাজনীতিকরা বলেছেন উল্টো কথা। তিনি বলেন, সামাজিক ব্যবসায় এদিক-সেদিক কিছু হতেই পারে। তাই বলে ঢালাও মন্তব্য করা সমীচিন হয়নি সরকারের শীর্ষ পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির।উত্তর আমেরিকাস্থ বাংলাদেশী চিকিৎসকদের সংগঠন ‘মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের’ সাবেক চেয়ারম্যান ফিলাডেলফিয়ায় বসবাসরত ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, আগের সরকারের মত বর্তমান সরকারও মনে করছে যে ড. ইউনূস হচ্ছেন তাদের জন্যে হুমকি স্বরূপ। আন্তর্জাতিক মহলে ড. মুহম্মদ ইউনূসের জনপ্রিয়তাকেও সরকারগুলো ভালোভাবে নিতে পারে না। অথচ ড. ইউনূসের আন্তর্জাতিক পরিচিতিকে দেশের স্বার্থে তারা ব্যবহার করতে পারেন। ড. ইউনূসকে শুভেচ্ছা দূত নিয়োগ করে বাংলাদেশ অনেক কিছু আদায় করতে সম হবে-এ বিষয়টিও সরকার ভেবে দেখতে চায় না। ড. ইউনূস সবসময় সরকারকে সহায়তা দিতে চেয়েছেন, কিন্তু সরকারের তরফ থেকে আন্তরিক আহবান জানানো হয়নি। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, সরকার তাকে হুমকি মনে করে।
নিউইয়র্কে লংআইল্যান্ড ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহফুজ আর চৌধুরী বলেছেন, ড. ইউনূসের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা হয়েছে। রাজনৈতিক কারণে এটা হতে পারে। ড. ইউনূস গ্রামীণের টাকা মেরে খেয়েছেন-এমন ধারণা তৈরী করা হয়েছে গত কদিনের প্রচারনায়। আশ্চার্য হলেও সত্য যে, ঐ প্রচারণায় স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও বিভ্রান্ত হয়েছেন এবং প্রকাশ্যে কটু মন্তব্য করেছেন ড. ইউনূস সম্পর্কে। এটা খুবই দুঃখজনক যে, প্রধানমন্ত্রীও বিষয়টি খতিয়ে দেখার সময় নেননি।
নিউইয়র্কের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবু সুফিয়ান বলেছেন, বাংলাদেশের রত হচ্ছেন ড. মুহম্মদ ইউনূস। তার সম্পর্কে মতামত ব্যক্ত করার আগে সবকিছু যাচাইয়ের প্রয়োজন ছিল। আশা করছি বাংলাদেশের মিডিয়া নরওয়ে টিভিতে প্রচারিত তথ্যের গভীরে প্রবেশ করে সঠিক তথ্য বাংলাদেশের মানুষকে অবহিত করবেন। ১৯৯৮ সালে যে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে, ১২ বছর পর ঐ একই বিষয় কেন মিডিয়ায় এসেছে-তাও খতিয়ে দেয়ার অবকাশ রয়েছে।
৫২ দেশের ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে গঠিত ‘বাই ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স’র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফোরিডার আতিকুর রহমান বলেছেন, ড. মুহম্মদ ইউনূসের কারণে আমরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমাদৃত হতে পারছি। যখনই বহুজাতিক কোন সমাবেশে যাই তখনই সকলে উচ্চারণ করেন, গরিবের বন্ধু ড. ইউনূসের দেশের লোক তোমরা? সকলে সহযোগিতার হাত বাড়ায় আমাদের বিভিন্ন কাজে। তেমন একজন মানুষ সম্পর্কে কট্যুক্তি করার আগে সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের প্রয়োজন হয়। ড. ইউনূস যে অবস্থায় পৌঁছে গেছেন তাকে বাংলাদেশের কাজে ব্যবহারের যথেষ্ঠ সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগ হেলায় হারালে একদিন পস্তাতে হবে সকলকে।
পেশাজীবী-ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মত সাধারণ প্রবাসীরাও ড. ইউনূসের ব্যাপারে সকলকে সংযমী হবার আহবান জানিয়েছেন।ভুল- ত্রুটির উর্দ্ধে কেউ নন, তবে দেখা দরকার যে ভুলটি উদ্দেশ্যমূলক কিনা।
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030
- বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর
- ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি