প্রবাসী বাংলাদেশ কমিউনিটি নানা উৎকন্ঠায় : দূতাবাস ও কনস্যুলেট নীরব আমেরিকায়
মনোয়ারুল ইসলাম : রাত পোহালেই দুঃসংবাদ। হামলা, হেট ক্রাইমসহ নানা অশুভ সংবাদ আসছে। স্বপ্ন ভংগের ট্রাম্পীয় ছায়া ইমিগ্র্যান্টদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে। আমরা ভালো নেই। ভালো নেই বাংলাদেশ কমিউনিটি। ঘুম কাঁতুরে বাংলাদেশ দূতাবাস ও কন্সুলেট নীরব। এ ঘুম চোখের নয়। নয় রাত্রি নিশির ঘুম। এটি নির্লিপ্ততার ঘুম। দায়িত্বহীনতার ঘুম। কমিউনিটির অস্বস্তি ও উদ্বেগে সাড়া নেই। বরং সংগীত সন্ধ্যায় ব্যস্ত তারা। অবশ্য কনসাল জেনারেল শামীম আহসান একজন সংগীত পিয়াসী সজ্জন মানুষ। এ নিয়ে তার খ্যাতিও আছে। কিন্তু—–। নিউইর্য়কস গোটা আমেরিকায় লাখো বাংলাদেশী ভালো যে নেই তার খবর কি রাষ্ট্রদূত ও কনসাল জেনারেল সাহেবরা রাখেন? আমেরিকার নির্বাচনে ট্রাম্পের বিজয়ের পর মুসলমানদের ওপর হেট ক্রাইম বেড়েছে। মসজিদে মসজিদে চিঠি পাঠিয়ে হুমকি দেয়া হছে। বাস ও ট্রেনে হেজাব পরিহিত মহিলাদের ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটছে প্রতিদিন। এমন কি মুসলমান পুলিশ অফিসারও হেট ক্রাইম থেকে রক্ষা পাননি । ৪ ডিসেম্বর ব্রুকলিনে এনওয়াইপিডি মুসলমান পুলিশ অফিসার হেট ক্রাইম এর শিকার হয়েছেন। কাগজপত্রহীন প্রবাসী বাংলাদেশীরা দেশে ফিরে যাছেন ভয় ও নানা উৎকন্ঠায়। কমিউনিটির অতি পরিচিত মুখ আনোয়ার হোসেন ২৭ বছরের প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে দেশে ফিরে গেলেন। নির্বাচন চলাকালীন সময়ে মুসলমানদের ইমিগ্রেশন সাময়িক বন্ধ ও পরর্বতিতে মুসলমান অভিবাসীদের জন্য আলাদা রেজিষ্ট্রি করার ঘোষণায় সবাই আতংকগ্রস্ত। অথচ কমিউনিটির এই দুঃসময়ে রাষ্ট্রদূত ও কনসাল জেনারেলদেরই পাশে থাকার কথা। প্রবাসীদের রক্ত-ঘামে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা ও দেশের সাধারণ মানুষের অর্থেই আমেরিকায় তাদের বিলাশবহুল জীবন যাপন পরিচালিত হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচিত হবার পরপরই মেক্সিকো ও বলিভিয়ার রাষ্ট্রদূত এবং কনসাল জেনারেলরা তাদের দেশের কমিউনিটির নেতা ও সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন। ক্যালিফোর্নিয়াতেই মেক্সিকোর ১০টি কনসুলেট রয়েছে। তারা সার্বক্ষনিকভাবে মেক্সিকান-আমেরিকান কমিউনিটির সাথে যোগাযোগ রাখছে।ক্যালিফোর্নিয়ার সান্টা আনাস্থ মেক্সিকান কন্সাল জেনারেল মিডিয়ার মুখোমুখি হয়ে প্রতিকুল পরিবেশে করণীয় তুলে ধরেছেন।আমাদের কুটনীতিকরা ঘুমিয়ে আছেন? রবীন্দ্র-নজরুল সঙ্গীতে মত্ত আছেন। অথবা ব্যস্ত আছেন দেশ থেকে বেড়াতে আসা ভিআইপিদের প্রোটকল/সেবা প্রদানে। তারাতো ভুলেই গেছেন দেশ ও প্রবাসীদের প্রতি তাদের দায়িত্ব পালনে। তাদেরই অন্যতম দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে (১) নিজ দেশের জনগনের দুর্দশা কিংবা জরুরী অবস্থায় সাহায্য করা (To help its own citizens in distress or other emergency situations)। (২) হোষ্ট দেশের পরিবেশ পরিস্থিতি, রাজনৈতিক, সামাজিক,অর্থনৈতিক ও সামরিক অবস্থা সরকারকে জানানো এবং দিক নির্দেশনা নিয়ে প্রবাসীদের সাহায্য করা (It informs its home government about important political, social, economical, military and other events happening in the host country and give the direction to the expatriate) । বরং নিউইর্য়ক সিটি মেয়র একধাপ এগিয়ে এসেছেন। গত ১ ডিসেম্বর এক বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচনী ফলাফলে শঙ্কিত ও হতাশাগ্রস্থ ইমিগ্র্যান্টদের মনোবল বৃদ্ধিতে সহায়ক কর্মসূচী হাতে নিয়েছেন। যে কোন ইস্যুতে প্রবাসীদের যোগাযোগের জন্য হট লাইন নাম্বার চালু করেছেন।
ইতিমধ্যে প্রবাসীদের কল্যাণে তৎপর সংগঠন “ড্রাম” নানা কর্মসূচী হাতে নিয়েছে।আতংকগ্রস্থ প্রবাসী তথা মুসলমানদের প্রয়োজনে আইনীসহায়তা ও সচেতনতা বৃ্দ্ধিতে কাজ করছে।২ ডিসেম্বর ২০১৬ তাদের উদ্দ্যোগে কুইন্সের জ্যাকসন হাইটস্থ ডাইভারসিটি প্লাজায় ১০০ সংগঠনের অংশগ্রহণে সহস্রাধিক মানুষের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে নিউইর্য়কের কুইন্সকে বিদ্বেষমুক্ত অঞ্চল ঘোষণা দেয়া হয়।
শংকিত-উদ্বিগ্ন ও হতাশাগ্রস্থ বাংলাদেশীদের পাশে দাঁড়ানোর এখনই সময়। মসজিদের ইমাম, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট, কমিউনিটি লিডার ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের নিয়ে রাষ্ট্রদূত এবং কনসাল জেনারেলের উচিৎ সর্বজনীন বৈঠক ডাকা। প্রবাসীদের হিলিং করার বিকল্প নেই। নইলে এর নেতিবাচক প্রভাব আমরা বহন করতে পারব না। এ ব্যাপারে ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করা হয়। রাষ্ট্রদূত জিয়া উদ্দীন ছুটিতে বাংলাদেশে রয়েছেন। বাংলাদেশী কমিউনিটির উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রশমনে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষকে আশ্বস্ত করতে দূতাবাস ও কন্সুলেট কোন উদ্যোগ নিচ্ছে কি না তা জানতে চাওয়া হয় দূতাবাসের মিনিষ্টার, কন্সুলার শামসুল আলম চৌধুরীর কাছে। তিনি বলেন, এমন কোন উদ্যোগ এখনও নেয়া হয়নি। তবে আমি কমিউনিটির কল্যানে কাজ করে যাচ্ছি। এই যে এখন ডালাসে আছি কমিউনিটির সেবাতেই। তাছাড়া, আমিতো ভারজেনিয়া, মেরিল্যান্ড ও ডালাসের লোকজনদের সাথে কথা বলছি-তাদের মধ্যেতো এমন কিছু দেখছি না। প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট ট্রাম্প আগে দায়িত্ব নিক এবং তার পদক্ষেপ দেখে আমরা এগুবো। নিউইর্য়কস্থ কনসাল জেনারেল শামীম আহসান একই প্রশ্নের জবাবে বলেন, কমিউনিটির মেম্বাররা যাতে অযথা হয়রাণির শিকার না হন সে জন্য আমরা সবসময় স্থানীয় আইনশৃংখলা বাহিনীর সাথে যোগাযোগ রাখছি। বাংলাদেশী কমিউনিটির উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রশমনে কোন উদ্যোগের ব্যাপারে স্পষ্ট কিছু তিনি বলেননি। লেখক : মনোরুল ইসলাম সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ডিআরইউ যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী।
- SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK
- Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
- যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয়
- A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History
- নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং
- Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency
- New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes