‘প্রশাসনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিনাশী ষড়ডন্ত্রের অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধু কন্যাকে বহনকারি বিমানে বিভ্রাট দেখা দিয়েছিল’ : নিউইয়র্কে বিজয় দিবসের সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধারা
এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক : ‘বেগম খালেদা জিয়ার ছত্রছায়ায় নিজামী-মোজাহিদের মাধ্যমে প্রশাসনে ঢুকে পড়া জামাত-শিবিরের ক্যাডাররা এখনও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-বিনাশী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তারই অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে বহনকারি বিমানে বিভ্রাট দেখা দিয়েছিল। এদেরকে চিহ্নিত করে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ স্থান থেকে সরিয়ে ফেলার সময় এসেছে’-এ অভিমত পোষণ করেন বিজয় দিবস উপলক্ষে নিউইয়র্কে বসবাসরত মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা-সমাবেশের প্রধান অতিথি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অন্যতম সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান। একাত্তরের রনাঙ্গনে নোাখালী অঞ্চলের এই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সহযোদ্ধা। মাহবুবুর রহমান সরকারের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রীর ভ্রমণের জন্যে বিশেষ একটি বিমান ক্রয় করার জন্যে। ‘কারণ, ওরা ভাবছে যে, শেখ হাসিনাকে হত্যা করা গেলেই মুক্তিযুদ্ধের নাম-নিশানা মুছে ফেলা সম্ভব হবে। ষড়যন্ত্রের বিষদাঁত ভেঙ্গে দিতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে’-বলেন মাহবুবুর রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, ‘যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশ যখন বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পুনর্গঠনের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক তেমনি সময়েই জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। দীর্ঘদিন পর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যখন আবারো মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরে উন্নয়নের পথে ধাবিত হচ্ছে, তেমনি সময়ে ষড়যন্ত্রকারিরা সোচ্চার হয়েছে। এ নিয়ে কালক্ষেপণের অবকাশ নেই। ষড়যন্ত্রকারিদের চিহ্নিত করতে দেশ ও প্রবাসের সকলকে সহায়তা দিতে হবে।’ এবারের বিজয় দিবস সে আহবানেই সমাগত গোটা বাঙালি জাতির কাছে।
১৮ ডিসেম্বর রোববার রাতে নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের ম্যানহাটান বরো ও চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড ইউনিটের যৌথ উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় ব্রুকলীনে গ্রীণহাউজ রেস্টুরেন্টের মিলনায়তনে। সভাপতিত্ব করেন মাইনুল পাটোয়ারি। সংবর্ধিত মুক্তিযোদ্ধাগণের পক্ষে স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য দেন নূরনবী কমান্ডার, ড. এম এ বাতেন, মোজাহিদুল ইসলাম, শাহজাহান সিরাজী, তোফাজ্জল করিম, শরাফ সরকার, হাজী কামালউদ্দিন প্রমুখ।
মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ৭৮ বছর বয়েসী মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নূরনবী বলেন, ‘পাকিস্তানী পন্থিরা এখনও ভেতরে ভেতরে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। শাসন ব্যবস্থাকে বিতর্কিত করতে ওরা বিদেশীদের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। ওদের সাথে যোগ দিয়েছে সুশীল সমাজের ব্যানারে পাকিস্তানের এজেন্টরা। এ অবস্থা থেকে একাত্তরের চেতনার বাংলাদেশকে রক্ষায় বজ্রকঠিন শপথ নিতে হবে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান থেকে।’
অপর বক্তারা শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারকে আবারো জয়ী করার সংকল্পে সুদূর এ প্রবাস থেকে এক যোগে কাজের আহবান জানান।
অনুষ্ঠানে নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে ছোট্টমণি জুবাইদা বাতেন তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা বাতেনের প্রসঙ্গ অবতারণা করে বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধারা অনন্তকাল বেঁচে থাকবেন বাংলার মাটিতে।’
মমিনুল হক সুমনের পরিচালনায় এ অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড ইউনিটের সভাপতি ইসমত হক খোকন।
শুরুতে জয় বাংলা স্লোগানেরর মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন মুক্তিযোদ্ধারা।
বিজয় দিবস উপলক্ষে নিউইয়র্কসহ সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রে ৪৮টিরও অধিক সমাবেশ হলো বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে। এই একটিমাত্র সমাবেশে উপস্থিত সকল মুক্তিযোদ্ধাকে মঞ্চে বসানো হয়। বিশেষভাবে সম্মান জানানো ছাড়াও রনাঙ্গনের স্মৃতিচারণের সুযোগ দেয়া হয়। প্রবাস প্রজন্মে মুক্তিযুদ্ধের অজানা অনেক তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব অপরিসীম বলে অনেকে উল্লেখ করেন।
- শান্তি প্রতিষ্ঠায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ জরুরি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির প্রচার সম্পাদক রিজুর পিতার ইন্তেকাল
- যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি ফের স্থগিত, নিম্ন আদালতের আদেশে আপিল আদালতের বাধা
- যুক্তরাষ্ট্রে ডেলাইট সেভিং টাইমের অবসান, ১ নভেম্বর ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছাবে
- নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান
- জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর
- নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত
- নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ