বাংলাদেশে আইনজীবী মোহাম্মদ এন মজুমদারের বিপুল সংবর্ধনা : দেশের জনপদ সার্বিকভাবে নিরাপদ ও ভয়হীন
নিউইয়র্ক: সম্প্রতি সপরিবারে বাংলাদেশ সফরে গিয়েছিলেন প্রবাসের অন্যতম আইনজীবী, কমিউনিটি লিডার এবং বাংলাদেশী আমেরিকান কমিউনিটি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এন মজুমদার। সফরকালে তিনি তার নিজ এলাকা ছাড়াও ঢাকা ও চট্টগ্রানে যান এবং প্রতিটি স্থানে, বিশেষ করে তার নিজ গ্রাম, ফেনী ও রাজধানী ঢাকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন কর্তৃক বিপুলভাবে সংবর্ধিত হন। এসব সংবর্ধনায় তার স্ত্রী রেক্সোনা মজুমদারও তার সাথে ছিলেন।
নিউইয়র্ক থেকে দীর্ঘ আকাশ ভ্রমণের পর এন মজুমদার ঢাকা থেকে গত ২৩ ডিসেম্বর তার নিজ গ্রাম ফেনী জেলার আনন্দপুর পৌছলে স্থানীয় বরকতউল্লাহ প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্থানীয় মাদ্রাসা ও এতিমখানা ব্যবস্থাপনা তাকে ও তার পরিবারকে করতালি দিয়ে ও মিষ্টিমুখ করিয়ে বরণ করে নেন। পরদিন ২৪ ডিসেম্বর পুনরায় গ্রামবাসী ও স্থানীয় জামে মসজিদ কর্তৃপক্ষ এন মজুমদারের সম্মানে সংবর্ধনা ও নৈশভোজের আয়োজন করে। ২৬ ডিসেম্বর এন মজুমদার তার নিজ হাইস্কুলে পৌছলে স্কুল ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তার সম্মানে জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনার আয়োজন করে। আনন্দপুর হাইস্কুল মিলনঅয়তনে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনায় ছাত্র শিক্ষক, অভিভাবক ও ব্যবস্থাপনা সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। ফুলের তোড়া উপহার দিয়ে, জয়ব্বনি সূচক সঙ্গীত গেয়ে ও নাচের মাধ্যমে এবং স্কাউটদলের ড্রাম ও অন্যান্য বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে প্রধান রাস্তা থেকে এন মজুমদারকে বরণ করে নেন সকলে। উক্ত স্কুলে এন মজুমদারের স্ত্রী রেক্সোনা মজুমদারের নামে পরিচালিত রেক্সোনা হলে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও স্কুলের সকল উন্নয়ণমূলক কার্যক্রম দেখে এন মজুমদার অভিভূত হন।
২৭ ডিসেম্বর স্থানীয় শিশু একাডেমী কর্তৃপক্ষ এন মজুমদারের সম্মানে এক আকর্ষণীয় সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়েঅজন করে। পুস্প দান, দেশাত্মবোধক গানের অনুষ্ঠান, মানপত্র পাঠ, স্মৃতিচরণমুলক আলোচনা ছিল অনুষ্ঠানের বিশেষত্ব। ২৮ ডিসেম্বর স্থানীয় কেন্দ্রীয় মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রাঙ্গণে মোহাম্মদ এন মজুমদারকে সংবর্ধিত করা হয়। গজল, ইসলামী সঙ্গীত পরিবেশন ও আপ্যায়নের মাধ্যমে তাকে বরণ করে নেন এলাকাবাসী ও মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনার নেতৃবৃন্দ। উল্লেখ্য, উক্ত মাদ্রাসা এনমজুমদারের শ্বশুর হাজী নূরুজ্জামান ভূঁয়ার ব্যক্তিগত অর্থে নির্মিত ্ও পরিচালিত হচ্ছে। এতে বর্তমানে তিন শতাধিক এতিম শিশু বসবাস ও ইসলামী ও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে। গত ১ জানুয়ারী স্থানীয় বরকতউল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এন মজুমদারকে সংবর্ধনা জানায়। উল্লেখ্য, এন মজুমদার উক্ত বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা। একই দিন তিনি সরকার কর্তৃক বিনমূল্যে প্রদত্ত বইপত্র ছাত্রছাত্রীদের মাঝে বিতরণী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।
গত ৫ জানুয়ারী ঢাকায় সুপ্রীম কোর্ট বার মিলনায়তনে আইনজীবীগণ এন মজুমদারের সৌজন্যে এক সংবর্ধনার আয়োজন করেন। সংবর্ধনার মূল আয়োজক এডভোকেট আহমদ উল্লাহ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক এবং সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. বশি আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সহ সভাপতি বাসিত মজুমদার। উল্লেখ্য, এডভোকেট বাসিত মজুমদার ৪ বার সর্বোচ্চ ভোটে সুপ্রীম কোর্ট বারের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং বর্তমানে বার কাউন্সিলের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত আছেন। ৫৪ বছরের আইন পেশায় অর্জিত বিপুল অর্থ তিনি মানবতার সেবায় দান করেছেন। অতি সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশের ৫৭টি বারের প্রতিটিতে দুই লক্ষ টাকা করে এবং সুপ্রীম কোর্ট বারকে ১০ লক্ষ টাকা দান করেন। সন্ধ্যায় এন মজুমদার সুপ্রীম কোর্ট চত্তরে আহমদ উল্লাহ ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং জাতীয় সংসদ ভবনের ক্লাবে এক বিবাহ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। ৬ জানুয়ারী মিডিয়া মিউজিয়াম, উইকলি ফাইন্যান্স ও স্বপ্নমেলা শিশু ফাউন্ডেশন এন মজুমদারের সম্মানে নৈশভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, এতে তার পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও সুপ্রীম কোর্ট বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. বশির আহমেদ, এডভোকেট আলম, সহকারী এটর্নী জেনারেল আবদুর রকীব মন্টু ও মৌলভীবাজারের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট নাসির উদ্দিন।
এছাড়া জনাব এন মজুমদার ফেনী, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় অনেক সাংবাদিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বের মুখোমুখি হন। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশীদের তুলনামুলক রাজনীতি, সামাজিক মূল্যবোধ ও সাম্প্রতিক আমেরিকান নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে খোলামেলা অংশ নেন। তার হোটেল স্যুইটে সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, স্কুল-মাদ্রাসা, মসজিদের প্রতিনিধিরা এসে তাকে ফুলের শুভেচ্ছা জানান।
এন মজুমদার তার সদ্য বাংলাদেশ সফরের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলেন, দেশে যোগাযোগ ব্যবস্থাল ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। মেডিকেল খাত ও স্বাস্থ্য সেবায় দেশ পিছিয়ে আছে। উন্নত স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। রাজনীতির প্রতি মানুষের আগ্রহ দিন দিন কমে যাচ্ছে। সরকারি দলকে তাদের দলের নিজস্ব বিদ্রোহী গ্রুপের প্রতি নজর দেয়ার সময় এসেছে। দেশের জনপদ সার্বিকভাবে নিরাপদ ও ভয়হীন মনে হয়েছে। দেশ ও দেশের মানুষ ভালো থাকুক- এ প্রত্যাশা রইলো।
- শান্তি প্রতিষ্ঠায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ জরুরি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির প্রচার সম্পাদক রিজুর পিতার ইন্তেকাল
- যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি ফের স্থগিত, নিম্ন আদালতের আদেশে আপিল আদালতের বাধা
- যুক্তরাষ্ট্রে ডেলাইট সেভিং টাইমের অবসান, ১ নভেম্বর ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছাবে
- নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান
- জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর
- নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত
- নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ