Monday, 9 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭ মার্চ ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে যাবে নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance. New York Attorney General James Reminds New Yorkers of SNAP Work Requirements নিউইয়র্কে ডিজিটাল ওয়ান ট্র্যাভেলস এবং বাংলা ট্র্যাভেলস এর ইফতার মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

জাতিসংঘে ২০১৬ সালে বাংলাদেশের কার্যক্রম

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 60 বার

প্রকাশিত: January 14, 2017 | 6:56 AM

২০১৬ সালে জাতিসংঘে বাংলাদেশের কার্যক্রম :: ভিভিআইপি সফর: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭১তম অধিবেশনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ আমরা সফলতার সাথে আয়োজন করেছি। ৭১তম অধিবেশনের High Level Week এ গুরুত্বপূর্ণ যে সকল ইভেন্টে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অংশগ্রহণ করেন তার প্রায় সবগুলোতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী সহ-আয়োজক বা প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বৈশ্বিক নেতৃত্বের স্বীকৃতি। High Level Week এর বিস্তারিত কর্মসূচি সমন্ধে আপনারা অবগত আছেন। উল্লেখ করা প্রয়োজন এবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নারীর ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদানের জন্য ইউএন উইমেন এর ‘প্লানেট ফিফটি ফিফটি চ্যাম্পিয়ন’ এবং গ্লোবাল পার্টনারশীপ ফোরামের ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব সজীব ওয়াজেদ জয় অর্জন করেন ICT for Development Award. শান্তি ও নিরাপত্তা: শান্তিরক্ষা (Peace Keeping): শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে আমাদের অংশগ্রহণ জাতিসংঘে বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রশংসিত অবদান হিসেবে স্বীকৃত। Troop/Police Contributing Country হিসেবে বাংলাদেশ সর্বদাই প্রথম সারির দেশ। দক্ষতা ও উৎকর্ষের জন্য আমাদের Peacekeeper-গণ ‘রোল মডেল’ হিসেবে বিবেচিত। গত বছর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর সাইপ্রাসে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীর ফোর্স কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত হন। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। আমরা সাউথ সুদানে ৮৫০ জনের একটি ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়ন এবং ২৬০ জনের একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি প্রেরণ করতে যাচ্ছি। তাছাড়া মালিতে আমরা ১৮০ জনের পুলিশ ইউনিট পাঠাতে যাচ্ছি। এখন peacekeeper প্রেরণে বিভিন্ন দেশের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলে। তা সত্ত্বেও আমাদের কাছ থেকে আরও peacekeeper নেয়ায় জাতিসংঘের এ আগ্রহ শান্তিরক্ষায় আমাদের ঈর্ষনীয় সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ। তাছাড়া Peacebuilding Commission-এ বাংলাদেশ NAM দেশসমূহের কো-অর্ডিনেটর হিসেবে জাতিসংঘের Peacebuilding Architecture-এ গঠনমূলক অবদান রাখছে। শান্তির সংস্কৃতি (Culture of Peace): গত ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশের “Culture of Peace” শীর্ষক বার্ষিক রেজোলুশন-টি সাধারণ পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়ে আসছে। গত বছর বাংলাদেশ এই রেজোলুশনে ১০২ টি সদস্য রাষ্ট্রের কো-স্পন্সরশিপ সংগ্রহ করে, যা জাতিসংঘের প্রেক্ষাপটে কোন ইস্যূতে বৃহত্তর সহমত সৃষ্টির ক্ষেত্রে একটি বিরল নজির। এই ফ্ল্যাগ শিপ রেজোলুশন এর ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতা বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় আমাদের অবস্থানকে আরও পরিচিতি দিচ্ছে। সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গীবাদ নির্মূল: সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গীবাদ নির্মূলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে গৃহীত ব্যাপক সমন্বিত পদক্ষেপ জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরামে তুলে ধরার পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় সক্রিয় অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের সাথে আমরা আলোচনা অব্যাহত রেখেছি। নিরাপত্তা পরিষদের Counter Terrorism Executive Directorate এর সঙ্গেও আমরা একযোগে কাজ করছি। নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের ভূমিকা: ২০১৬ সালে নিরাপত্তা পরিষদে বিভিন্ন বিষয়ে মাসিক যে উন্মুক্ত thematic সভাগুলো আয়োজিত হয় তার প্রায় সবগুলোতেই আমরা নিয়মিত অংশগ্রহণ ও বক্তব্য প্রদান করেছি।বিশ্ব শান্তি রক্ষার্থে জাতিসংঘে ‘sustaining peace’ নামে একটি নতুন কনসেপ্ট গৃহীত হয়েছে। NAM দেশসমূহের পক্ষ হতে আমরা এটির নেগোসিয়েশনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছি। এছাড়াও বাংলাদেশ বিভিন্ন Non-traditional এবং নতুন নতুন নিরাপত্তার ঝুঁকি যেমন: Cyber Security, Space Security, Maritime Security, Nuclear Security বিষয়ে জাতিসংঘের বিভিন্ন কার্যক্রমে বেশী করে সম্পৃক্ত হচ্ছে। নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য না হলেও নিরাপত্তা পরিষদের বিভিন্ন সদস্য দেশসমূহের সহায়তায় আমরা নিরাপত্তা পরিষদের বিভিন্ন বিষয় ভিত্তিক রেজুলিউশন যেখান আমাদের স্বার্থ নিহিত আছে যেমন: Peacekeeping, Counter-Terrorism, Nuclear Non-Proleferation সেগুলোতে আমাদের স্বার্থ সংরক্ষণে সচেষ্ট ছিলাম। শান্তিরক্ষায় নিরাপত্তা পরিষদ ও Troop ও Police Contributing Country সমূহের বিভিন্ন সভায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছি। প্যালেস্টা্ইন ইস্যু: আমরা জাতিসংঘে আনীত প্যালেস্টাইন বিষয়ক সকল রেজুলিউশনের (১৩টি) স্বপক্ষে ভোট দিয়েছি এবং সাধারণ পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদসহ বিভিন্ন ফোরামে তাদের পক্ষ সমর্থন করে জোরালো বক্তব্য প্রদান করেছি। উন্নয়ন এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে উত্তরণ: স্বল্পোন্নত দেশসমূহের সভাপতি হিসাবে এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে উত্তরণের জাতীয় স্বার্থকে মাথায় রেখে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রেজুশিউশনে নেতৃত্ব দিয়েছে এবং সেগুলোতে আমাদের প্রয়োজনীয় বিষয়াদির সন্নিবেশ নিশ্চিত করেছে। টেকনোলজি ব্যাংক স্থাপন: বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর সভাপতি হিসেবে টেকনোলজি ব্যাংক স্থাপনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। এ ব্যাংক জাতিসংঘের সবচেয়ে সম্প্রতি সৃষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান যার মাধ্যমে স্বল্পোন্নত দেশসমূহে টেকনোলজির ঘাটতি পূরণে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে। কিউসিপিআর (QCPR): উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তার জন্য জাতিসংঘের একটি Development System আছে। এ Development System রিভিউ এর জন্য প্রতি চার বছর অন্তর একটি রেজুলিউশন গৃহীত হয়। এটি Quadrennial Comprehensive Policy Review বা QCPR নামে পরিচিত। বাংলাদেশ এ বছর কিউসিপিআর রেজুলিউশনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশ ডেলিগেশন এমন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু রেজুলিউশনে অন্তর্ভূক্ত করেছে যাতে বাংলাদেশসহ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশ জাতিসংঘের Development System থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সুযোগ সুবিধা পায়। অভিবাসন: অভিবাসনের ক্ষেত্রে জাতিসংঘে বাংলাদেশ অন্যতম প্রবক্তা। গ্লোবাল ফোরাম অন মাইগ্রেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট-এর চেয়ার হিসাবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার আলোকে সুষ্ঠু অভিবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ২০১৬ সালে নিউইয়র্কস্থ জাতিসংঘ সদরদপ্তরসহ জেনেভা এবং ব্যাংকক-এ বিভিন্ন থিমাটিক ওয়ার্কশপ এবং ডায়ালগ আয়োজন করে। তাছাড়া ১০-১২ ডিসেম্বর ২০১৬ ঢাকায় ৯ম জিএফএমডি সামিট সফলভাবে আয়োজিত হয়। সুষ্ঠু অভিবাসনের মাধ্যমে আমাদের অভিবাসীদের অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং জাতীয় উন্নয়নকে বেগবান করতে এ বছরই বাংলাদেশ জাতিসংঘে “Global Compact for Migration” এর ধারণাকে প্রথমবারের মত উত্থাপন করে। এ Compact এর Negotiation চলছে এবং আমরা এতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছি। তাছাড়া বাংলাদেশের উদ্যোগে অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রসমূহকে নিয়ে আমরা নিউইয়র্ক ও জেনেভায় ‘ফ্রেন্ডস অব মাইগ্রেশন গ্রূপ’ তৈরী করেছি যার মাধ্যমে আমরা সারা বছরই সুষ্ঠু অভিবাসন নিশ্চিতকরনে কার্যকর ভূমিকা রেখেছি। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬ জাতিসংঘে অভিবাসন ও রিফিউজি বিষয়ে যে High Level Event অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তাতে Refugee ও Migrant দের নিয়ে নিউইয়র্ক Declaration গৃহীত হয়। এ declaration-এ Migrant-এর অধিকার বিষয়ক বিভিন্ন কমিটমেন্ট নিশ্চিত করতে আমরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখি। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং এজেন্ডা ২০৩০: গত বছর এসডিজি সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুভিত্তিক আলোচনায় বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। চলতি বছর জুলাই মাসে এসডিজি বাস্তবায়নের উপরে ২য় বারের মত আয়োজিত National Voluntary Review এ বাংলাদেশ অংশ গ্রহণ করবে এবং জাতীয় পর্যায়ে এসডিজি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে যেসকল সফল উদ্যোগ ও সমন্বয় কর্মকান্ড চলমান রয়েছে সে বিষয়ে বিশ্বকে অবগত করবে। বাংলাদেশের এই অংশগ্রহণ জাতিসংঘের অনেক সদস্য রাষ্ট্রের জন্যই অনুকরণীয়। জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস (Disaster Risk Reduction): ঐতিহাসিক প্যারিস এগ্রিমেন্ট ratify-এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রথম সারির দেশ। গত বছর এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ চুক্তিটি Ratify করে এবং ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ Instrument of Ratification জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে জমা দিয়ে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে। জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস বিষয়ে সারা বছর জাতিসংঘে যে কার্যক্রম চলেছে, তাতে বাংলাদেশ সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছে। ব্লু ইকোনমি (Blue Economy): আপনারা জানেন Blue Economy বর্তমান সরকারের প্রাধিকারভূক্ত একটি খাত। Sustainable use of Oceans & Seas and Maritime resources নিয়ে জাতিসংঘে বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে। আমরা এতে আমাদের তথা উন্নয়নশীল দেশের স্বার্থ রক্ষার্থে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছি। মানবাধিকার মানবাধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন সভা ও ইভেন্টে আমরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতিসংঘে ৯ ডিসেম্বর “দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক গনহত্যা প্রতিরোধ দিবস” উদযাপনে আমরা অংশগ্রহণ করি। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে যে গনহত্যা এবং মানবতা বিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল বিশ্বে এর পুনরাবৃত্তি রোধে আমরা International Criminal Court সংক্রান্ত জাতিসংঘের বিভিন্ন কার্যক্রমে সমর্থন প্রদান করে আসছি। নারীর ক্ষমতায়ন, মানব পাচার ও অন্যান্য মানবাধিকার বিষয়ক কার্যক্রম: নারীর ক্ষমতায়ন, মানব পাচার, শিশু ও যুবকদের কল্যাণে আমাদের সরকারের অঙ্গীকার ও অর্জিত সাফল্যের ভিত্তিতে আমরা জাতিসংঘের এ সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে অগ্রণী ভূমিকা রাখছি। নারীর ক্ষমতায়নের উপর আমরা বিশেষভাবে কাজ করছি। অন্যান্য মিশন এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা আমাদের অভিজ্ঞতা জানতে আমাদেরকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানায় যা আমাদের ভাবমূর্তি উন্নয়নে বিশেষ কার্যকর ছিল। জাতিসংঘে গতবছর অভিবাসীদের পাশাপাশি শরণার্থিদের নিয়েও অনেক কাজ হয়েছে এবং আমরা এতে যথাযথ ভূমিকা পালন করেছি। অটিজম ও প্রতিবন্ধি ইস্যুসমূহ: মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন যিনি National Advisory Committee on Autism এর চেয়ারপারসন ও WHO’s Expert Advisory Panel on Mental Health এর একজন সম্মানিত সদস্য, গত বছর ১লা এপ্রিল জাতিসংঘ সদর দপ্তরে “World Autism Awareness Day-2016” উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ ও কাতারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত একটি উচ্চ পর্যায়ের ইভেন্টে key-note speaker ছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া ইভেন্ট-টি কো-স্পন্সর করে। তাছাড়া গত ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ আরো ১০টি দেশের সাথে জাতিসংঘে প্রতিবন্ধীদের জন্য একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এগুলো অটিজম ও ডিজঅ্যাবিলিটি বান্ধব ব্যবস্থা বিনির্মানে বাংলাদেশ সরকারের দৃঢ় অঙ্গিকারের পরিচয় বহন করে। এছাড়াও বাংলাদেশ HIV/AIDS, Anti-microbial, জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত স্বাস্থ্য সমস্যাসহ বিভিন্ন non-communicable অসুখ নিয়ে জাতিসংঘের পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রমে আরো বেশী করে অংশগ্রহন করেছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন নির্বাচনঃ জাতিসংঘে বিভিন্ন নির্বাচনে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং তদুপরি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপদে নির্বাচন দেশ হিসেবে আমাদের গ্রহণযোগ্যতার পরিচয় বহণ করে। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হয়েছে যথাঃ (ক) ৭১তম সাধারণ পরিষদের ভাইস-প্রেসিডেন্ট, (খ) প্রেসিডেন্ট, International Sea Bed Authority (গ) Member of the International Civil Service Commission. বাংলাদেশের জনাব মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিন (বাংলাদেশ ব্যাংক-এর সাবেক গভর্ণর এ পদে নির্বাচিত হন)। (ঘ) UN Pension Committee তাছাড়া, বাংলাদেশ বর্তমানে Human Rights Council-এর সদস্য। বাংলাদেশ Inter-Parliamentary Union (IPU)-এরও সভাপতি। বাংলাদেশ জাতিসংঘের বিভিন্ন অংগ-সংগঠন ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছে, যেমনঃ ECOSOC-এর কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ কমিশন: CSW (Commission on the Status of Woman), CSocD (Commission for Social Development), CPD (Commission on Population and Development)। জাতিসংঘের কতিপয় বিশেষায়িত সংস্থা: UNICEF, UNESCO, UNHABITAT, OPCW (Organization for the Prohibition of Chemical Weapons), WFP, CPC (Committee for Programme and Coordination)। মানবাধিকার কমিশনের আওতাধীন কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা: CEDAW (Convention on the Elimination of all forms of Discrimination Against Women), CMW (Committee on Migrants Workers)। অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা: Postal Operation Council, IMO (International Maritime Organization), ITU (International Telecommunication Union), ILO, SSC (South South Cooperation)। জাতিসংঘে অন্যান্য কার্যক্রম নতুন মহা-সচিব নির্বাচনঃ অত্যন্ত স্বচ্ছ একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনাব এন্তোনিয় গুটেরাস গত বছর জাতিসংঘের নতুন মহা সচিব নির্বাচিত হন। LDC Chair এবং Friends of Women UN Secretary-General গ্রূপের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ এ প্রক্রিয়াতে ভূমিকা রাখার সুযোগ পায়। Inter-Parliamentary Union (IPU) রেজুলিউশন: ২০১৬ সালে বাংলাদেশ কর্তৃক আনীত “Interaction between the United Nations, National Parliaments and the IPU” শীর্ষক রেজোলুশনটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সুসংহত করতে আনীত এই রেজুলিউশন প্রায় ১০০টি সদস্য রাষ্ট্র কো-স্পন্সর করেছিল। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক: জাতিসংঘে প্রতিনিধিত্বের পাশাপাশি আমাদের মিশন পেরু, গুয়াতেমালা এবং এল সালভাদরের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়েও দায়িত্বপ্রাপ্ত। এল-সালভাদর এর সাথে গত অক্টোবর হতে আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। এছাড়া গুয়াতেমালায় একজন অনারারি কনসাল নিযুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। জাতিসংঘে বিভিন্ন রেজোলুশন নেগোশিয়েশনে Facilitator বা সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন: জাতিসংঘের বিভিন্ন রেজুলিউশন নেগোশিয়েশন সমন্বয় বা Facilitate করা যে কোন দেশের জন্য একটি বিশেষ সম্মানের কাজ। এ বছর আমরা UN mediation function, Special court for Sierra Leone ও Culture of Peace এ তিনটি রেজুলিউশনের Facilitator হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। আমরা এলডিসি রেজুলিউশনের সমন্বয়ক হিসাবেও কাজ করেছি। ২০১৬ সালে ECOSOC এর Humanitarian Assistance Segment শীর্ষক রেজলুশনে বাংলাদেশ co-facilitator হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সফর সমন্বয়: বাংলাদেশ থেকে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের অংশগ্রহণ জাতিসংঘে আমাদের উপস্থিতি আরো দৃশ্যমান বা জোরদার করে। এ কারনে আমাদের মিশন বছর জুড়ে সীমাবদ্ধ সম্পদের মধ্যেই মন্ত্রী, সচিবসহ অন্যান্য পর্যায়ের অনেক প্রতিনিধিদলের সফর আয়োজন ও সমন্বয় করে করেছে। আমরা আপনাদের নিকট কৃতজ্ঞ এ সফরসমূহ যথাযথভাবে Cover করার জন্য। জন কূটনীতি জাতিসংঘে আমাদের দৃশ্যমান উপস্থিতির কারণে জাতিসংঘের বাইরেও বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়/ থিংকট্যাংক/ এনজিও আয়োজিত সম্মেলন/ ওয়ার্কশপ/ সেমিনার/ প্যানেলে বক্তব্য প্রদানের জন্য আমাদের আমন্ত্রন জানানো হয়। বিদেশী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়/শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা যারা বৈশ্বিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের কর্মকান্ড জানতে আগ্রহী তাদের জন্য মিশনে Interactive আলোচনার ব্যবস্থা করা হয়। জাতিসংঘে মূল আলোচনার পাশাপাশি আমরা বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক অনুষ্ঠান এককভাবে বা সমমনা রাষ্ট্রের সাথে যৌথভাবে আয়োজন করে থাকি। নারীর ক্ষমতায়ন, বাল্য বিবাহ রোধ, জলবায়ু পরিবর্তন, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা, দারিদ্র্য দূরীকরণ, অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়ে আমাদের অর্জন সমূহের কারনে এ সকল বিষয়ে অনুষ্ঠান আয়োজনে আগ্রহী রাস্ট্র সমূহ আমাদের সাথে যৌথভাবে অনুষ্ঠান আয়োজন করে থাকে। এ সকল অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখা বা আমাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য প্যানেলিস্ট হিসেবে আমাদের আমন্ত্রন জানানো হয়। এ সবই আমাদের ভাবমূর্তি উন্নয়নে বিশেষ সহায়ক। প্রবাসী বাঙালি ও মিডিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততা: আমরা বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, নজরুল-রবীন্দ্র জন্ম-জয়ন্তী, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও মহান ভাষা শহীদ দিবস, জাতীয় শিশু দিবস, জাতীয় শোক দিবস, বাংলা নববর্ষসহ বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করছি ও সামাজিক কর্মসূচিতে প্রবাসী বাঙালি কমিউনিটি এবং প্রেস ও মিডিয়ার সাথে পারস্পরিক শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করছি। জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের বিভিন্ন কাজের বিষয়ে তাঁদের অবহিত করছি। এছাড়া, আমরা বিদেশীদের জন্য রবীন্দ্রনাথের ‘চন্ডালিকা’ নৃত্যনাট্যও মঞ্চস্থ করেছি। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

ট্যাগ:
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV