নিউইয়র্কে ইমিগ্রেশন, ইনকাম ট্যাক্স ও ইনস্যুরন্স বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম: নিউইয়র্কে ইমিগ্রেশন, ইনকাম ট্যাক্স ও ইনস্যুরন্স বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। অতি সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, ইমিগ্রেশন বেনিফিট, ট্যাক্স, ইনস্যুরন্স বিষয়ক তথ্য তুলে ধরতে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় সময় ২৭ জানুয়ারী শুক্রবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের জুইশ সেন্টারে অ্যাটর্নি বেরি সিলভারউইগ ল ফার্ম, ইয়াকুব এ খান সিপিএ. পিসি এবং এনওয়াই ইনস্যুরন্স যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে। এটি ছিল আয়োজকদের সপ্তম বার্ষিক ফ্রি সেমিনার।
সেমিনারে বাংলাদেশি এবং মার্কিন আইনজীবী ও ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন নতুন আদেশ জারি করলেও এতে নিউইয়র্ক সিটির অভিবাসীদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কারণ নিউইয়র্কের গভর্ণর ও মেয়র অভিবাসীদের পক্ষে রয়েছেন।


সেমিনারে বিশিষ্ট আইনজীবী বাংলাদেশ-আমেরিকান কমিউনিটি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও ব্রঙ্কস কমিউনিটি বোর্ডের ফাস্ট ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এন মজুমদার মাস্টার অব ল স্বাগত বক্তব্য দেন।
সাংবাদিক আশরাফুল হাসান বুলবুলের সঞ্চালনায় সেমিনারে বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় অংশ নেন সিপিএ ইয়াকুব এ খান, এনওআই ইনস্যুন্সের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহ নেওয়াজ, অ্যাটর্নি এলেন কাস, এটর্নি মার্ক লিভিংটন, বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ এসোসিয়েশনে ভাইস প্রেসিডেন্ট লেফটেন্যান্ট শামসুল হক, ইঞ্জিনিয়ার নূরুল হক প্রমুখ।

সেমিনারের কি-নোট স্পিকার বিশিষ্ট ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি বেরি সিলভারউইগ বলেন, ইমিগ্রান্ট কান্ট্রি আমেরিকায় সবার সমানাধিকার। কংগ্রেস-সিনেটকে পাশ কাটিয়ে নবনির্বাচিত প্র্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ইচ্ছেমত সব কিছু করতে পারবেন না। তবে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আমেরিকা আইনের দেশ। আইন মেনে চললে এবং কোন অপরাধের সঙ্গে জড়িত না হলে ভয়ের কিছু নেই। তিনি বলেন, নিউইয়র্ক সিটি হচ্ছে ইমিগ্রান্টদের নিরাপদ স্থান। এর মধ্যে নিউইয়র্ককে ‘গ্রিন জোন’ ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা চাইলেই কাউকে বের করে দিতে পারবে না। এমনকি বৈধতা চ্যালেঞ্জ করতে পারবে না। তাদের আসল কাজ হচ্ছে দেশের সংবিধান সমুন্নত রেখে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
বেরি সিলভারউইগ ট্রাম্পের ইমিগ্রান্ট বিরোধী নির্বাহী আদেশের ব্যাপারে বলেন, এতে আশাহত হওয়ার কিংবা ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সেমিনারে তিনি ইমিগ্রান্টদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট সকলকে ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত তথ্য হাল নাগাদ করার পরামর্শ দেন।
বিশিষ্ট আইনজীবী মোহাম্মদ এন মজুমদার সেমিনারে আগত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশি কমিউনিটিকে আইনগত সহায়তা দিতে প্রতিবছরই এ ধরনের সেমিনারের আয়োজন করা হবে। সেমিনার ছাড়াও বছরের যে কোন সময় ইমিগ্রেশনসহ বিভিন্ন আইনি পরামর্শ নেওয়ার জন্য তার সঙ্গে সবাইকে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।
মোহাম্মদ এন মজুমদার বলেন, এ সেমিনারের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশী অভিবাসীদের বিভিন্ন বিষয়ে আইনি জটিলতা সমাধানের কিছু বিষয় তুলে ধরা। যাতে কমিউনিটির মানুষ প্রচলিত আইন এবং বিধানের আওতায় সর্Ÿোচ্চ নাগরিক সুবিধা ভোগ করতে পারেন। যাতে তারা উপকৃত হন। আর এ জন্য যাবতীয় পরামর্শ দিতে তারা প্রস্তুত। এসময় মোহাম্মদ এন মজুমদার ট্রাম্প প্রশাসন ও নতুন অভিবাসন আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশিদের নির্ভয়ে থাকার পরামর্শ দেন। আইনজীবী মোহাম্মদ এন মজুমদার যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা করে কীভাবে গ্রিন কার্ড পাওয়া যায়, পুরোনো মামলা কীভাবে পুনরুজ্জীবিত করে গ্রিন কার্ড পাওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন। গৃহবিবাদ, বিবাহ বিচ্ছেদ, সম্পত্তির ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়েও আলোচনা করেন তিনি।
সেমিনারে কীভাবে ট্যাক্স ফাইল করতে হবে এবং ট্যাক্স ফাইল করার সময় কী কী তথ্য দিতে হবে-তার ওপর আলোকপাত করেন বাংলাদেশী আমেরিকান সিপিএ ইয়াকুব এ খান। তিনি বলেন, ট্যাক্স সিস্টেমে তথ্য গোপন করার কোন সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্টরা সঠিকভাবে আয়-ব্যয়ের হিসাবসহ নির্ভূল তথ্য প্রদান করছেন কিনা সেটা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে রয়েছে বিশেষ অডিটের ব্যবস্থা। এক্ষেত্রে কোন অনিয়ম ধরা পড়লে আইআরএস এর নিকট সংশ্লিষ্টদের বড় ধরনের খেসারত গুনতে হয়। আইআরএস এর অডিট থেকে রেহাই পেতে সকলেরই সঠিক ও নির্ভুল তথ্য পরিবেশনের মাধ্যমে ট্যাক্স রিটার্ন করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। ইয়াকুব এ খান, সিপিএ জানান, ফ্যাটকা এর আওতায় বাংলাদেশী প্রবাসীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগকৃত নির্ধারিত অর্থ বা এই ধরনের বিনিয়োগ এবং তার আয় আমেরিকার ট্যাক্স ফাইলে রিপোর্ট করতে হবে। ব্যক্তিগত ও বিজনেস ট্যাক্স প্রসঙ্গ, ব্যবসা শুরুর আগে কি কি বিষয়ে জানা প্রয়োজন, ব্যবসায় সফলতা-ব্যর্থতার বিভিন্ন দিক নিয়েও তিনি কথা বলেন।
ইনস্যুরেন্স বিষয়ে বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন এনওআই ইনস্যুন্সের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ নেওয়াজ। তিনি অটো, জেনারেল ও লাইফ ইনস্যুরেন্সের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সেমিনারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত নির্বাহী আদেশ ছাড়াও ব্যবসা প্রসার ও ব্যবসা স্থাপনের মাধ্যমে গ্রীনকার্ড পাওয়ার তথ্য, পুরনো ইমিগ্রেশন মামলা পুনরুজ্জীবনের পদ্ধতি, ব্যক্তিগত ও বিজনেস ট্যাক্স প্রসঙ্গ, ব্যবসা শুরুর আগে কি কি বিষয়ে জানা প্রয়োজন, ব্যাংকরাপসি, ইনস্যুরেন্স ও অন্যান্য আইন বিষয়ে আলোচক, আইনজীবী ও ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এসময় তুলে ধরা হয় কমিউনিটির জন্য সহায়ক বিভিন্ন বিষয়ও।
সেমিনারে ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞরা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে বাংলাদেশিদের যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। আইনি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেন তারা। তাঁরা বলেন, ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন বাস্ততায় যেসব বাংলাদেশিরা নিবন্ধনের ভয়ে চলে গিয়েছিলেন নানা চেষ্টা করেও তাঁরা আর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারেননি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন সংস্কার ও বিতাড়ন প্রক্রিয়ার ঘোষণার বাস্তবতায় এ ধরনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সেমিনাটির স্পন্সর ছিল পার্কচেস্টার ব্রঙ্কস রিয়েলেটি। সকলের জন্য উম্মুক্ত এ সেমিনারে অভিজ্ঞ ট্যাক্স ও ইমিগ্রেশন বিষয়ক আইনজীবী, কমিউনিটি এক্টিভিস্টসহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশগ্রহণ করেন।
- শান্তি প্রতিষ্ঠায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ জরুরি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির প্রচার সম্পাদক রিজুর পিতার ইন্তেকাল
- যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি ফের স্থগিত, নিম্ন আদালতের আদেশে আপিল আদালতের বাধা
- যুক্তরাষ্ট্রে ডেলাইট সেভিং টাইমের অবসান, ১ নভেম্বর ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছাবে
- নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান
- জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর
- নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত
- নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ