২৫ মার্চ গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবীতে জাতিসংঘের সামনে যুক্তরাস্ট্র আওয়ামী লীগের মহাসমাবেশ
আব্দুল হামিদ, নিউইয়র্ক: য়ুক্তরাস্ট্র আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ২৫শে মার্চ শনিবার নিউইয়র্ক টাইম দুপুর ১ টার সময নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সামানে ২৫শে মার্চ কে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসাবে পালনের দাবীতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ এক মহাসমাবেশ আয়োজন করেন ।উক্ত মহাসমাবেশে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ । সভাপতিত্ব করেন ড. সিদ্দিকুর রহমান সভাপতি ও পরিচলনা আব্দুস সামাদ আজাদ ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক । সমাবেশে যুক্তরাস্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে তাঁর দল সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি আরো বলেন, ২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত প্রকৃতার্থে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহিদের আত্মাহুতির প্রতি জাতির চিরন্তন শ্রদ্ধার স্মারক এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নারকীয় হত্যাকাণ্ডের সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। ড সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানিরা বাঙালিদের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ শুরু করে। অর্থনৈতিক শোষণ ছাড়াও তারা ‘আমাদের’ ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানে। উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার উদ্যোগ নেয়।
তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তানিদের এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম রুখে দাঁড়ান। তাঁর নেতৃত্বে শুরু হয় বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের সংগ্রাম। বাঙালিদের ওপর নেমে আসে অত্যাচার এবং নির্যাতন। ’৫২’র ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ’৫৪’র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬’র ৬-দফা আন্দোলন, ’৬৯’র গণঅভ্যুত্থান এবং ’৭০’র সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ের পথ ধরে বাঙালির মুক্তি সংগ্রাম যৌক্তিক পরিণতির দিকে ধাবিত হয।
তিনি বলেন, ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পূর্ব বাংলার ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। ইয়াহিয়া খান আর জুলফিকার আলী ভুট্টো মিলে ষড়যন্ত্র শুরু করে বাঙালিদের ক্ষমতা হস্তান্তর না করার। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে শুরু হয় অসহযোগ আন্দদল রুপ নেই । তিনি বলেন, ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ডাক দেন। তিনি ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। ’ ইয়াহিয়া খান আলোচনার নামে সময় ক্ষেপণ করতে থাকে। পাকিস্তান থেকে সৈন্য নিয়ে আসে পূর্ব বাংলায়। ২৫ মার্চ অপারেশন সার্চ লাইটের আদেশ দিয়ে গোপনে পাকিস্তানে চলে যান ইয়াহিয়া খান। অপরদিকে ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর আধুনিক মারণাস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ঢাকাসহ দেশের প্রধান প্রধান শহর ও বন্দরে হত্যা করা হয় হাজার হাজার নিরীহ মানুষ। সেই রাত থেকে পরবর্তী নয় মাস পাকিস্তানি বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দোসর-রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস বাহিনীর সদস্যরা সারাদেশে নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ চালায়। হত্যা করে প্রায় ৩০ লাখ মানুষকে। এত কম সময় ও স্বল্প পরিসরে এত বিপুল সংখ্যক মানুষ হত্যার নজির বিশ্বে আর নেই। শুধু মানুষ হত্যা নয়, একইসঙ্গে ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি করা হয়। লাখ-লাখ বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং লুঠপাট করা হয়। বাড়িঘর থেকে বিতাড়িত করা হয় প্রায় এক কোটি মানুষকে।
তিনি বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী এবং তার দোসরদের সেই নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ শুরুর দিন ২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের সিন্ধান্ত নিয়েছে সরকার ।গত ২০ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ প্রতি বছরের ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। এর আগে গত ১১ মার্চ মহান জাতীয় সংসদে এ দিনটিকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যা বিশ্বের জঘন্যতম গণহত্যাগুলোর অন্যতম এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশি পত্রিকায় প্রকাশিত অসংখ্য প্রতিবেদন, দূতাবাসগুলোর বার্তা এবং পরবর্তীকালে দেশি-বিদেশি লেখক-ইতিহাসবিদের রচনায় গণহত্যার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে। তিনি বাংলাদেশে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া জঙ্গীবাদ নিয়ে কঁথা বলেন।তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান । ঘরে ঘরে জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে দুর্গোগডে তুলতে বলেন।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ১৩ জুন সানডে টাইমস পত্রিকায় অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের ‘জেনোসাইড’ শিরোনামে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। উক্ত সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগে সহ সভাপতি সৈয়দ বশারত আলী.যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইরিন পারভীন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমেদ, মহিউদ্দিন দেওয়ান,উপদেষ্টা মাসিদুল হাসান . ড. প্রদীপ কর .ড. মহসিন আলী .আন্তজাতিক সম্পাদক দেওয়ান বজলু .বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জালাল উদ্দিন রুমী, অর্থ সম্পাদক মো.আবুল মনসুর খান. প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক সোলেয়মান আলী, , সদস্য শাহানারা রহমান.খোরশেদ খন্দকার, আব্দুল হামীদ আলী গজনবী , এম আনোয়ার মবানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকারিয়া চৌধরী.সহ যুক্তরাস্ট্র যুবলীগ . সেবক লীগ .ছাত্রলীগের সকল নেতাকর্মীরা সভায উপস্থিত ছিলেন।
- Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency
- New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes
- নিউইয়র্কে নতুন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হৃদয় বীণা সংগীতালয়’র যাত্রা শুরু
- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে নিউইয়র্কে ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র দোয়া মাহফিল
- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বিজয়
- নিউইয়র্কে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পরিবার নিউইয়র্ক সিটি’র উদ্যোগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী পালন
- নিউইয়র্ক স্টেট এসেমব্লি ডিস্ট্রিক্ট ৮৭’র নির্বাচনে কারিনা-জাকির মুখোমুখি
- NYIC Action Endorses Immigrant Champions and New Voices for NYS Legislature