Monday, 9 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭ মার্চ ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে যাবে নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance. New York Attorney General James Reminds New Yorkers of SNAP Work Requirements নিউইয়র্কে ডিজিটাল ওয়ান ট্র্যাভেলস এবং বাংলা ট্র্যাভেলস এর ইফতার মাহফিল রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন নিউইয়র্ক ইনক’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মেরিল্যান্ডে বাংলাদেশ আমেরিকান ফাউন্ডেশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউ জার্সির এগ হারবার সিটিতে শিবলীলা মঞ্চস্থ
সব ক্যাটাগরি

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট: বোয়িং কিনতে শর্ত দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 22 বার

প্রকাশিত: January 3, 2011 | 3:06 PM

ইউএসএনিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ বিমানের জন্য বোয়িং উড়োজাহাজ কিনতে মার্কিন কূটনীতিকরা প্রভাব খাটিয়েছিলেন। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এজন্য বাংলাদেশ বিমানের জন্য নিউ ইয়র্কে অবস্থিত জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি দেয়ার শর্ত দিয়েছিলেন।বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি ঠিকই হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ বিমানের নিউ ইয়র্ক ফ্লাইট আর চালু হয়নি। উইকিলিকসের উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে নিউ ইয়র্কের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। ২রা জানুয়ারি ‘ডিপ্লোম্যাটস হেল্প পুশ সেলস অব জেটলাইনার্স অন দ্য গ্লোবাল মার্কেট’ শীর্ষক রিপোর্টে এসব তথ্য জানানো হয়। ২০০৯ সালের নভেম্বরের এক ফাইলকে তুলে ধরে উইকিলিকস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক বিমান বোয়িং ও তার ইউরোপিয়ান প্রতিদ্বন্দ্বী এয়ারবাস কোটি কোটি ডলারের বিমান বিক্রির জন্য চেষ্টা করছিল। ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা মার্কেটিং এজেন্টের মতো আচরণ করছিলেন। তারা দেশের প্রধান নির্বাহী ও বিমানের নির্বাহীদের নানা রকম প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তারা এমন লোকদের ওই প্রস্তাব দিয়েছিলেন যারা দাম নির্ধারণসহ যাবতীয় সিদ্ধান্তে প্রভাব খাটাতে পারেন। এমন অবস্থায় নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে শর্ত দিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদ। তখন ওই শর্তের কারণে চুক্তি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। শেখ হাসিনা মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে বলেছিলেন- যদি বিমান বাংলাদেশকে নিউ ইয়র্কের রুট দেয়া না হয় তাহলে বোয়িং কেনা হবে কোন যুক্তিতে? ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, এয়ারফোর্স ওয়ানের মতো উচ্চ প্রযুক্তির একটি ব্যক্তিগত বিমান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে চেয়েছিলেন সৌদি আরবের বাদশা আবদুল্লাহ। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসা’র একটি ফ্লাইটে তুরস্কের একজন জ্যোতির্বিজ্ঞানীকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ওবামা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ রেখেছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। এসব দেশের শীর্ষ নেতাদের একটি ব্যাপারে মিল আছে। তা হলো- তারা কোটি কোটি ডলারের বোয়িং নাকি এয়ারবাস কিনবেন সে সিদ্ধান্ত নেয়ার চেষ্টা করছিলেন। ওই রিপোর্টে নিউ ইয়র্ক টাইমস আরও বলেছে, এখনও  এসবের মধ্যস্থতাকারীর ঘুষ বা উৎকোচ দাবি করার ঘটনা স্বাভাবিক। কিন্তু বোয়িং বলছে, তারা এমন দুর্নীতি এড়িয়ে চলে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বোয়িং কর্মকর্তারা গত মাসে এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেন, বাণিজ্যিক বিমান বিক্রির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে এ প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক রাজনীতি পরিহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে তিন দশক আগে থেকে চুক্তি আছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০০৬ সালের শেষের দিকে তখনকার প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের লেখা একটি চিঠি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তা ইসরাইল হার্নান্দেজ পৌঁছে দিয়েছিলেন বাদশা আবদুল্লাহর জেদ্দা অফিসে। তাতে বাদশা আবদুল্লাহকে সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইন্সকে আধুনিক মানের করতে ৪৩টি বোয়িং বিমান কেনার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এতে সৌদি আরবের রাজপরিবারের জন্যও ১৩টি বিমান কেনার কথা বলা হয়। ওই চিঠি পড়ে বাদশা আবদুল্লাহ বলেছিলেন বোয়িং বিমান তার পছন্দের। তিনি আরও বলেছিলেন, সবেমাত্র তিনি দু’টি নতুন এয়ারবাস প্রত্যাহার করেছেন। এর পরিবর্তে তিনি সামান্য ব্যবহার করা বোয়িং ৭৪৭ বিমান নিয়েছেন। ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়- উইকলিকস বলছে, তুরস্কের পরিবহন মন্ত্রী বিনালি ইয়লদিরিম ২০১০ সালে তুরস্কে নিয়োজিত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। সে সময় তিনি মার্কিন ওই রাষ্ট্রদূতকে বলেছিলেন বোয়িংয়ের জন্য বাণিজ্যিক চুক্তি করার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে। তুরস্কে দায়িত্ব পালনকারী তৎকালীন মার্কিন দূত জেমস এফ জেফরে ওয়াশিংটনে ফিরতি বার্তায় বোয়িং চুক্তিকে তুরস্ক কর্তৃপক্ষ রাজনৈতিক অনুরোধের সঙ্গে যুক্ত করায় সেটাকে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করলেও এতে তাদের রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেছিলেন। তবে তিনি বলেছিলেন, তুরস্কের বিমান সংস্থার উন্নয়নে সহযোগিতা করা হলে তা দু’দেশের জন্যই মঙ্গলজনক হবে। তিনি লিখেছিলেন, আমরা হয়তো তুরস্কের নভোচারীদের মহাকাশে পাঠাতে পারবো না। তবে এ খাতে তুরস্কের ক্ষমতাকে আরও বাড়াতে আমরা সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারবো। এটা করতে পারলে আমাদের বিমান চলাচলের নিরাপত্তাও জোরদার হবে। আমরা যদি বোয়িং বিক্রি করার সুযোগকে বাড়াতে চাই তাহলে তাদের তীব্র আগ্রহের প্রতি আমাদের সাড়া দেয়া উচিত। তুরস্কের এয়ারলাইন্স ২০টি বোয়িং বিমানের অর্ডার দেয়ার এক মাস পর চুক্তিটি স্বাক্ষর করার ঘোষণা দেয়া হয়। বিদেশী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাদের বন্ধুত্ব জাহির করার অংশ হিসেবে কিছু বোয়িং বেশি বিক্রি হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেবল বার্তায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিনের সহযোগী এবং মার্কিন সাহায্যের লাখ লাখ ডলার গ্রহণকারী জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ ২০০৪ সালে রাষ্ট্রদূতকে বলেছিলেন, বোয়িংয়ের চেয়ে আধুনিক এয়ারবাসের প্রস্তাব শ্রেয় হওয়া সত্ত্বেও তিনি রয়েল জর্ডানিয়ানের জন্য বোয়িং বিমান কেনার একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন।
ট্যাগ:
Situs Streaming JAV