Sunday, 1 November 2026 |
শিরোনাম
দুই তরুণী রোগীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ; নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকান চিকিৎসক ডা. ফজলুল ইউসুফ গ্রেপ্তার, জামিনে মুক্ত বাংলাদেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধার প্রতিবাদ, ‘শিখা অনির্বাণ’ প্রজ্জ্বলিত রাখার দাবি নিউইয়র্কে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ জরুরি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির প্রচার সম্পাদক রিজুর পিতার ইন্তেকাল যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি ফের স্থগিত, নিম্ন আদালতের আদেশে আপিল আদালতের বাধা যুক্তরাষ্ট্রে ডেলাইট সেভিং টাইমের অবসান, ১ নভেম্বর ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছাবে নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্‌যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ
সব ক্যাটাগরি

সন্ত্রাস ও হত্যার রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বিএনপি’র সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার প্রস্তাব দেয়া কারো উচিত হবে না : নিউইয়র্কে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 115 বার

প্রকাশিত: September 22, 2017 | 8:39 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন বিএনপি’র সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার প্রস্তাব দেয়া কারো উচিত হবে না। তিনি বলেন, যারা সন্ত্রাস ও হত্যার রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আমি তাদের কাছে ফিরে যেতে আগ্রহী নই। ভবিষ্যতে কেউ যেন তার কাছে এ ধরনের প্রস্তাব নিয়ে না যান এমন পরামর্শও রাখেন তিনি। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানানোর জন্য জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যারা হত্যা ও সন্ত্রাসের রাজনীতি এবং দেশকে ধ্বংসে বিশ্বাসী, যারা আমার বাবা-মাকে হত্যা করেছে তাদের সঙ্গে কখনও সমঝোতা হতে পারে না।তিনি বলেন, ২০১৪ সালে নির্বাচনের আগে আমি বিএনপি নেত্রীর সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেছি। খালেদা জিয়ার ছোট ছেলের মৃত্যুর পর তাকে ফোন করা এবং শান্তনা দেয়ার জন্য তার অফিসে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া সে সময় তার অফিসে প্রবেশ করার অনুমতি দেননি। ঔদ্ধত্তপূর্ণ আচরণের একটা সীমা থাকা উচিত।

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। তাকে সহায়তা করেন মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারী (প্রেস) মো. নুরএলাহি মিনা।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তাঁর অংশগ্রহণকে সফল ও ফলপ্রসূ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নে অবদান রেখে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল হয়েছে।শেখ হাসিনা বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণে তিনি জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগত নির্বিশেষে সকল বেসামরিক মানুষকে রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ৫টি প্রতিবেশি দেশের সঙ্গেই মিয়ানমারের বিরোধ রয়েছে উল্লেখ করে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের আট লাখ নাগরিককে আশ্রয় দেওয়ার পর খাদ্য, বাসস্থান, জরুরি ত্রাণ এবং তাঁদের প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশকে জটিল সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে।সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ৫টি প্রস্তাব পেশ করার কথা উল্লেখ করে বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে এবিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মহাসচিব এব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন। আলোচনাকালে জাতিসংঘ মহাসচিব এ দুঃসময়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বাংলাদেশের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন এবং বিশ্ব সংস্থার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সকল প্রকার সহযোগিতার আশ্বাস দেন। প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে তার পেশ করা ৫টি প্রস্তাব উল্লেখ করে বলেন, অবিলম্বে মিয়ানমারকে রাখাইন রাজ্যে শর্তহীনভাবে সহিংসতা ও জাতিগত নিধন বন্ধ করতে হবে। জাতিসংঘ মহাসচিবকে অবিলম্বে মিয়ানমারে একটি তথ্যানুসন্ধান মিশন পাঠাতে হবে। ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে সকল বেসামরিক নাগরিকের নিরাপত্তা মিয়ানমারকে নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য মিয়ানমারের ভিতর জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি নিরাপদ অঞ্চল সৃষ্টি করতে হবে। বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী বাস্তুচ্যূত সকল রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফিরে নিতে হবে। এবং শর্তহীনভাবে কফি আনান কমিশনের সুপারিশসমূহ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে।শেখ হাসিনা শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের প্রতি প্রধান হুমকি সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসের অর্থায়নকারীদের অস্ত্র সরবরাহ বন্ধেসহ সকল আন্তর্জাতিক বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের আহ্বান জানান।প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রবেশ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, দেশ যদি ১৬ কোটি মানুষকে খাওয়াতে পারে, তাহলে ৭ থেকে ৮ লাখ শরণার্থীকেও খাওয়াতে পারবে। মিয়ানমারে সংকটের অবসান না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের সহায়তার ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দরকার হলে আমরা একবেলা খাব, আরেকবেলার খাবার আমরা ভাগ করে নেব।”
তিনি বলেন, আমি এ ব্যাপারে শেখ রেহানার সঙ্গে কথা বলেছি। সেও একই মতামত দিয়েছে।চীন ও ভারতের সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কোন আলোচনা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, চীন ও ভারতসহ সকল দেশের কূটনীতিকরা কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেছেন। তারা সবাই শরণার্থীদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। চীন ও ভারত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে বাংলাদেশের পাশে এগিয়ে এসেছে। তারা সব ধরনের সহযোগিতা করছে।শেখ হাসিনা বলেন, সন্ত্রাস একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং আমি মনে করি এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। ১৯৭১ সালে বাঙালিদের ওপর দখলদার পাকিস্তান বাহিনীর বর্বরোচিত গণহত্যাকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিন্দার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৫ মার্চ এখন আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস। শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশাপাশি তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব, নেদারল্যান্ডের রানী, এস্তোনিয়া ও কসবোর প্রেসিডেন্ট, নেপাল ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আইএমও’র মহাপরিচালক, জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার, ডব্লিউএফপি’র নির্বাহী পরিচালক এবং আইবিএম’র প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথা উল্লেখ করেন।
এসব বৈঠকে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে রোহিঙ্গা সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং ওআইসিসহ সকলের কাছে এ সমস্যা সমাধানের সহায়তা কামনা করেন।শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশকে একটি স্বনির্ভর ও মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, ‘যাতে আমরা মাথা উঁচু করে চলতে পারি। আমি অনন্তকাল থাকবো না। কিন্তু আমি বাংলাদেশকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই, যাতে কেউ আর ভিক্ষুকের দেশ বলতে না পারে।’ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে বিমানের ফ্লাইট পুনরায় চালুর সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের শর্ত পূরণের পর ফ্লাইট পুনরায় চালু হবে। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি বিমানকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। আমরা ক্ষমতায় আসার পর আন্তর্জাতিক সিভিল অ্যাসোসিয়েশন অথরিটির নীতিমালা মেনে অনেক দূর অগ্রসর হয়েছি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার প্রবাসী বাংলাদেশীদের কল্যাণে অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, স্থপতি নভেরা আহমেদ ও হামিদুর রহমানের স্মৃতি সংরক্ষণে সরকার ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে যোগ দিতে গত রোববার নিউইয়র্কে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাঁচ দিন নিউইয়র্কে অবস্থান শেষে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে ওয়াশিংটনে যান তিনি। সেখান থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর রওনা হয়ে ২ অক্টোবর দেশে ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ