আমেরিকায় ৯১১ এর একটি ফোন কলেই ভেঙ্গে যাচ্ছে অনেক ইমিগ্র্যান্ট সংসার!
মেহের চৌধুরী : বাংলাদেশ থেকে অনেক ইমিগ্র্যান্ট স্বামী-স্ত্রী আমেরিকায় পাড়ি জমাচ্ছে। অনেকে আসছে বাবা-মা, ফ্যামিলীর সঙ্গে, আবার অনেকে আসছে স্বামী অথবা স্ত্রীর ‘পিটিশান ফর এলিয়েন রিলেটিভ এপ্লিকেশনে’। তাদের মধ্যে বেশীর ভাগই স্বল্প শিক্ষিত অথবা স্বল্প জ্ঞানসম্পন্ন। বাংলাদেশে স্বামী-স্ত্রী একে অপরের প্রতি আচরণ সম্পূণ আলাদা। (আমরা ওঠতি বয়সে যা দেখেছি আমাদের মা, খালা, চাচী, ফুফুদের তাদের স্বামীর প্রতি শ্রদ্ধা, সহিষ্ণুতা, বিনয়ীপনা। তারা তাদের স্বামীকে পীরের মত ভক্তি করতেন।) বাংলাদেশে অনেক বাবা-মা মেয়েকে আমেরিকান ছেলের নিকট বিয়ে দিতে নিজেদের ষ্ট্যাটাসের অনেক কিছুই বিসর্জন দিয়ে দেন। একটাই উদ্দেশ্য মেয়ে অথবা ছেলে আমেরিকায় যাবে। কিন্তু ওনারা একবারও চিন্তা করেন না যে, সে স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে মানিয়ে চলতে পারবে কিনা। ফলস্বরূপ কি হয় এখানে এসে অপরিপক্ষ জ্ঞানের অধিকারীরা আশে পাশে, পার্কে যাদের সঙ্গে চলা-ফেরা বা মেলামেশা করে তারা শুধু এসব গল্পই মাথায় ঢুকিয়ে দেয় যে, স্বামীকে এত প্রশ্রয় দেবে না, এটা আমেরিকা। এখানে মেয়েরা ৯১১ -এ একটা কল করলেই পুলিশ এসে তাকে ধরে নিয়ে যাবে এবং কোনদিন আর তোমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করবেন না। আসলে এর পরিণতিতে যে সংসারটা ভেঙ্গে যাবে, অর্ডার বা প্রক্টেকশন দিবে, বাচ্চা সহ শেলটারে নিয়ে যাবে, সেদিকটা একবারও চিন্তা করে না বা চিন্তা করার সেই পরিপক্কতাও ওদের মধ্যে নেই। সংসারতো ভাঙ্গেই সংগে সংগে বাচ্চারা হারায় বাবা অথবা মাকে। এতে করে আমাদের বাঙালী কমিউনিটিতে একা থাকা ছেলেদের সংখ্যা বাড়ছে। দ্বিতীয় বিয়ে করতে গিয়ে নানা প্রশ্নের সম্মুখিন হচ্ছে, সাথে সাথে এই ঘটনার যে পুনরাবৃত্তি হবে না, এই ভেবে ভয় পাচ্ছে। আরও একটা জিনিস যা হচ্ছে, আমেরিকার আইনে তারা ক্রিমিনাল হিসাবে চিহ্নিত হয়ে পড়ছে, যদিও কেস মীমাসিংত হয়ে যায় বা ডিসপজিশন রেকর্ড উঠাতে পারে। সমাজে কোন ভাল কাজ করা বা ভালভাবে জীবন/যাপন করা অর্থাৎ সংসারের শান্তি তাদের কপাল থেকে বিদায় নেয়। বাকী জীবন গাড়ী চালিয়ে অথবা অড জব করে, ডিপ্রেশনে মানবেতর জীবন যাপন করে। যেমন কথায় আছে ‘একবার চুন খেলে, দই দেখলেও ভয় হয়’। এতে করে পরিশেষে কারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে? অলটিমেটলি মেয়েরাই। তাদের বাচ্চারা কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় মায়েদের সংগেই থাকতে হয়। যেমন এটা একটি ব্যাধিরূপে ধরা দিয়েছে আমাদের বিশেষ করে বাঙালী সমাজে। যার কারণে ডিভোর্স হচ্ছে অহরহ, সংসার ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাচ্ছে।
একবার পুলিশ এসে স্বামীকে ধরে নিয়ে যাওয়া মানেই হল সেই স্বামীটি অর্থাৎ ছেলেটি আমেরিকার আইনের চোখে ক্রিমিনাল হয়ে গেল। কোন সরকারী চাকুরী বা অফিসিয়াল চাকুরীর জন্য আবেদন করলেই ইন্টারভিউতে এই কথাটি ওঠে আসবে। তার পক্ষে আর কোন ভাল চাকুরী পাওয়া সম্ভব নয়। এমনকি বাড়ী কিনতে ক্রেডিট রিপোর্ট রান করতেও সে এই অপরাধের খেশারত দিতে হতে পারে। কোন ভাবেই সে আর বাড়ীর মালিক হতে পারবে না। এক কথায় ক্রিমিনালের খাতায় তার নাম উঠে গেল এবং সারা জীবন এই বোঝা বয়ে বেড়াতে হবে।
অপর পক্ষে, বাংলাদেশী ভাইদের বেলায় ও কিছু কিছু নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা উচিৎ। যেমন আপনি বউকে অনেক ভালবাসেন, দামী গয়না, দামী শাড়ী কিনে দিচ্ছেন, তাই বলে যে বউকে যখন তখন কুবাক্য বলে তিরস্কার করা বা শারীরিক বা মানসিক আঘাত করা ঠিক না। এটি কিন্তু মার্কিন আইনে একেবারেই নিষিদ্ধ। মনে করতে পারেন ওকে এত ভালবাসি ওকি আর আমার বিরুদ্ধে কিছু করবে? কিন্তু না উনিই আপনার অগোচরে অথবা প্রকাশ্যে ৯১১ কল দিয়ে বসবে। যখন পুলিশ এসে যায়, তখন হতবাক হয়ে যায় ও কিছুই বলতে পারেনা। তখন পুলিশ যা-ই জিজ্ঞেস করে চুপ থাকার কারণে সব উত্তরই পজেটিভ বলে ধরে নেয়। অর্থাৎ ‘মৌনতা সম্মতির লক্ষণ’ বলে পুলিশ ধরে নেয়। স্বামীর কোন কথা বলার অধিকার থাকে না। নিয়ম মাফিক অর্ডার অব প্রটেকশন দিয়ে দেয়। মা ও বাচ্চাকে শেলটারে নিয়ে যায়, শুরু হয় মা ও শিশুর কান্না, তখন কিছু করার থাকে না। পরে যদিও ছেলেটি বের হয়ে আসে, কিন্তু ওর শরীরে লেগে যায় ক্রিমিনালের ছাপ। উপায়ান্তর না দেখে বউকে ডিভোর্স দেয়ার চিন্তা শুরু করে। এভাবে সংসারটি ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায় দু’চোখ ভরা স্বপ্ন পূরণের আগেই।
অতএব, আমাদের বোনদের কাছে যেমন সবিনয় নিবেদন তেমনি ভাইদের কাছেও নিবেদন, আপনারা স্বামী/স্ত্রী ঝগড়ার আগে একটু ভাবুন আপনার জীবনের কথা ও ভালবাসার স্ত্রী/ সন্তানের কথা। ধৈয্যের পরিচয় দিন। আমেরিকার সুন্দর জীবন উপভোগ করুন।
লেখক : মেহের চৌধুরী, প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড সিইও, তিতাস মাল্টি সার্ভিস, ব্রঙ্কস, নিউইয়র্ক, ফোন : ৩৪৭-৩৬৬-৫০১১।
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল
- New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial
- নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭ মার্চ ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে যাবে
- নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance.








