Saturday, 31 October 2026 |
শিরোনাম
শান্তি প্রতিষ্ঠায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ জরুরি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির প্রচার সম্পাদক রিজুর পিতার ইন্তেকাল যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি ফের স্থগিত, নিম্ন আদালতের আদেশে আপিল আদালতের বাধা যুক্তরাষ্ট্রে ডেলাইট সেভিং টাইমের অবসান, ১ নভেম্বর ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছাবে নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্‌যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো
সব ক্যাটাগরি

যেখানেই থাকিনা কেন দেশ আমার সঙ্গেই থাকে : নিউইয়র্কে কবি কামাল চৌধুরী

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 149 বার

প্রকাশিত: January 31, 2018 | 9:00 AM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম, নিউইয়র্ক : আমি বাংলা ভাষার কবি, আমার দেশ আছে, আমার মানচিত্র আছে, আমার নিজস্ব ভুগোল আছে। আমি যেখানেই থাকিনা কেন দেশ সব সময় আমার সঙ্গে থাকে। এই মুহূর্তে আমি নিউ ইয়র্কে আছি এবং এখানকার কবিবন্ধু, লেখক, পাঠক ও সতীর্থরা মিলে আমাকে ঘিরে যে আয়োজন করেছেন  তাতে আমি খুবই আনন্দিত। এর মাধ্যমে আমি দেশের বাইরেও বৃহত্তর পাঠক সমাজ ও শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে আমাদের কবিতা এবং লেখালেখির বিষয়ে মতামত বিনিময়ের সুযোগ পেলাম। দেশ, মাটি এবং মানুষের প্রতি সবসময় দায়বদ্ধ আমার কবিতা। ২৮ জানুয়ারি নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে চ্যানেল আই ও মুক্তধারা নিউইয়র্কের সহযোগিতায় সাউথ এশিয়ান রাইটার্স এন্ড জারনালিস্টস ফোরাম আয়োজিত কবি, লেখক সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের এক বিশেষ সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান সময়কার অন্যতম প্রধান কবি কামাল চৌধুরী এই কথাগুলো বলেন।

তিনি আরও বলেন, আসলে একজন কবিতো বিচ্ছিন্ন কোন মানুষ নন। একজন কবি তাঁর সময়, তাঁর পরিবেশ তাঁর চতুরপার্শ্ব, তাঁর অভিজ্ঞতা , জীবন, স্বপ্ন, আকাংখা, হতাশা , আনন্দ , সবকিছু মিলিয়েইতো একজন কবি বেড়ে ওঠেন। সেই জন্যেই আমরা বলি আমরা যে পথে হাটি, যা কিছু দেখি সেটাই আমাদের অভিজ্ঞতা। আমরা দেশে যে উত্থান, পতন, উল্লাস প্রতিক্রিয়ার বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদ দেখি সবকিছু মিলিয়েই কিন্তু একজন কবিকে প্রস্তুত হতে হয়।একেবারে ভিন্ন সাধের এই অনুষ্ঠানের মুল আয়োজক ছিলেন কবির আশৈশব ঘনিষ্ঠ বন্ধু, বর্তমানে নিউ ইয়র্ক প্রবাসী বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট আকবর হায়দার কিরন। তিনি কবিকে আন্তরিক অভ্যর্থনা জানান প্রবাসের অনেক বিশিষ্টজন সহ। কবি কামাল চৌধুরীকে সভাস্থলে নিয়ে আসেন তাঁর বিশেষ প্রিয়ভাজন এবং নিউ ইয়র্কে নিযুক্ত সন্মানিত কনসাল জেনারেল শামীম আহসান। অনেকেরই জানা ছিলো ২৮ জানুয়ারি কবির জন্মদিন। তাই হৃদয়ভরা ভালোবাসা, কথামালা, আবৃত্তি ও গান দিয়ে কবিকে সিক্ত করেছেন সমবেত সবাই। কবি কামাল চৌধুরীকে ঘিরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান যেন পরিনত হয় এক মিলন মেলায়। চ্যানেল আই এর পক্ষে ফুলের তোড়া দিয়ে কবিকে অভিনন্দিত করেন এর যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি রাশেদ আহমেদ। সাউথ এশিয়ান রাইটার্স এন্ড জারনালিস্টস ফোরামের পক্ষ থেকে কবিকে পরিয়ে দেয়া হয় বিশেষ উত্তরীয়। পাশাপাশি ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে ভালোবাসা জানান আরও অনেকে। অনুষ্ঠানে কোন সভাপতি কিংবা প্রধান অতিথি ছিলেননা। আকবর হায়দার কিরন তাঁকে নিয়ে কনসাল জেনারেল শামীম আহসান সহ শিল্পী রাগিব আহসান ও শিল্পী মং এর তৈরি অসাধারন ব্যাকড্রপের সামনে রাখা চেয়ারে আসন গ্রহন করেন।শুরুতেই কবির কয়েক যুগের চেনা বিশিষ্ট আবৃত্তিকার ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট উত্তর আমেরিকার সভাপতি মিথুন আহমেদ অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী ভঙ্গিমায় কথা ও কবিতায় তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানান। কবি কামাল চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু কবি মাহবুব হাসান, শিল্পী রাগিব আহসান ও কবি ফখ্রুল রচি অল্প কথায় কবির প্রতি তাঁদের ভালোবাসা জানান। নিউইয়র্ক প্রবাসী কবিদের ভেতর মাইক হাতে নিয়ে কবির উদ্দেশ্যে কথা বলেন কবি ফকির ইলিয়াস, কবি শামস আল মমিন ও কবি হাসান আল আব্দুল্লাহ। কনসাল জেনারেল শামীম আহসান সভাস্থলে বসে কবিকে নিয়ে লেখা একটি দারুন ছড়া পড়ে সবাইকে চমৎকৃত করেন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট ডঃ সিদ্দিকুর রহমান তাঁর স্ত্রী শাহানারা রহমান এবং সংগঠনের ঊর্ধ্বতন সব কর্মকর্তাদের নিয়ে অনুষ্ঠানে এসে কবিকে কামাল চৌধুরীকে জন্মদিনের আনতরিক অভিনন্দন জানান। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ডঃ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, প্রধান মুখ্য সচিব এর পদ থেকে বিদায় নিয়ে অবসর গ্রহনের পর কবি ফেসবুকের মাধ্যমে এ অসাধারন কথাগুলো লিখেছেন তা আমাকে অভিভুত করেছে। তিনি অত্যন্ত সমাজ ও রাজনীতি সচেতন এই বিশিষ্ট কবির লেখা সবসময় খুব আগ্রহের সাথে পড়েন বলে জানান। ডঃ সিদ্দিক কবিকে জননেত্রীর খুব কাছে দেখেছেন বহুদিন ধরে। সত্তর দশকের শেষের দিকে কবি কামাল চৌধুরীর লেখা কবিতা দিয়েই যে ছাত্রলীগের দলীয় সংগীত রচিত হয় সেই খবরও তিনি ভালোবাবেই রাখেন।প্রবাসের আরেকজন বিশিষ্ট আবৃত্তিকার গোপন সাহা ১৯৭৮ সালে ঢাকার কাছে আদমজীনগরে রচিত কবি কামাল চৌধুরীর একটি বিখ্যাত কবিতা পড়েন গভীর আবেগ দিয়ে। আনান্দধনির অর্ঘ্য সারথি দাস কবির জন্মদিনে শ্রদ্ধা জানান ‘আগুনের পরশমণি ছোয়াও প্রানে’ গেয়ে। এ সময় মিলনায়তনে সমবেত সবাই তার সাথে কণ্ঠ মেলান। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশিষ্ট লেখক ফেরদৌস সাজেদিন তাঁদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের একই কক্ষে স্বাধীনতার আগে ও পরে আবাসনের স্মৃতিচারণ করেন। অনুষ্ঠানের পরবর্তী পর্যায়ে এক প্রশ্নের উত্তরে কবি মজা করে বলেন, যদিও হলের রুমটি আমার নামে ছিল কিন্তু তার দখলদার ছিল আমার দুই প্রিয় বন্ধু আকবর হায়দার কিরন ও রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ। কবির স্ত্রী ও বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব ইফফাত আরা পলীও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। কবি প্যারিসে রচিত এবং এখনো অপ্রকাশিত একটি কবিতা তাঁর নোটবুক থেকে পড়ে শোনান। পুরো অনুষ্ঠানটি প্রবাসের সুপরিচিত ফটো সাংবাদিক নিহার সিদ্দিকী ফেসবুকের কিরন টিভির মাধ্যমে বিশ্বের উদ্দেশ্যে প্রদর্শন করেন।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ