Saturday, 31 October 2026 |
শিরোনাম
শান্তি প্রতিষ্ঠায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ জরুরি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির প্রচার সম্পাদক রিজুর পিতার ইন্তেকাল যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি ফের স্থগিত, নিম্ন আদালতের আদেশে আপিল আদালতের বাধা যুক্তরাষ্ট্রে ডেলাইট সেভিং টাইমের অবসান, ১ নভেম্বর ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছাবে নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্‌যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো
সব ক্যাটাগরি

বাংলাদেশে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে – জাতিসংঘে, ‘কমিশন ফর স্যোশাল ডেভোলপমেন্ট’ এর ৫৬তম অধিবেশনে ড. শিরীন

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 200 বার

প্রকাশিত: January 31, 2018 | 11:13 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : জাতিসংঘে, ‘কমিশন ফর স্যোশাল ডেভোলপমেন্ট’ এর ৫৬তম অধিবেশনে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, বয়স্ক জনসংখ্যার সর্বাত্মক কল্যাণ নিশ্চিতকল্পে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলায় অবশ্যই আমাদেরকে অগ্রমূখী নীতি ও কৌশল গ্রহণ করতে হবে। গত ৩১ জানুয়ারি জাতিসংঘ সদরদপ্তরে “বয়স্ক জনগোষ্ঠীর জন্য ২০০২ সালে গৃহীত মাদ্রিদ ইন্টারন্যাশনাল প্ল্যান অব অ্যাকশান এর তৃতীয় রিভিউ ও এ্যাপরাইজালের আঞ্চলিক ফলাফলের উপর গ্লোবাল রিভিউ সংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে একথা বলেন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
উল্লেখ্য ইউএন-ডেসা ও ইউএন-এসকাপ এর আমন্ত্রনে সাড়া দিয়ে স্পীকার জাতিসংঘের এই সভায় অংশ নেন। উচ্চ পর্যায়ের এই আলোচনা সভায় তিনি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করেন।
স্পীকার তাঁর বক্তৃতায় এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধির ক্রমবর্ধমান ধারার কথা উল্লেখ করে বলেন, “শিশু ও নারী মৃত্যুহার হ্রাস এবং প্রজনন ক্ষমতা কম এমন দীর্ঘজীবি দম্পতিদের সংখ্যা বৃদ্ধি বয়স্ক জনসংখ্যার এই ধারা সৃষ্টি করেছে এবং এর ফলে ধনী দেশে পরিণত হওয়ার পূর্বেই অনেক দেশে প্রবীণ সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হয়েছে”।
স্পীকার ইউএন-এসকাপ প্রণীত রিপোর্টে এশীয় ও প্রশান্তমহাসাগরীয় অঞ্চলের বয়স্ক জনসংখ্যার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এ অঞ্চলের দেশসমূহ যে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “এ অঞ্চলের অধিকাংশ দেশেরই বয়স্কদের জন্য জাতীয় নীতি ও কর্ম পরিকল্পনা রয়েছে। দুই-তৃতীয়াংশ দেশে এ বিষয়ে রয়েছে যুগোপযোগী আইন। বাংলাদেশ ২০১৩ সালে বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। নি¤œ আয়ের দেশগুলোও যে বয়স্ক জনসংখ্যার ক্ষেত্রে ইতোমধ্যেই সচেতন হয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে এটি তারই উদাহরণ”।বয়স্ক জনগণের কল্যাণে বাংলাদেশ সরকার গৃহীত ব্যাপক পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি আলোকপাত করেন। তিনি জানান বর্তমান সরকার ৩.৫ মিলিয়ন প্রবীন জনগোষ্ঠীকে বয়স্কভাতা প্রদান করছে। দেশে প্রবীণদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং বিদ্যমান হাসপাতালসমূহে প্রবীণদের জন্য বেড সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। প্রবীনদের সুরক্ষার জন্য গৃহীত প্রচেষ্টাগুলোকে প্রতিবছর উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করা হচ্ছে। বয়স্কদের মধ্যে যাঁরা কর্মক্ষম রয়েছেন বা কাজ করতে চান তাঁদের কর্মসংস্থানের বিষয়টিকেও বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশসহ এশীয় ও প্রশান্তমহাসাগরীয় অঞ্চলের অনেক দেশে বয়স্কদের মানবিক অধিকার নিশ্চিত করতে “পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন” প্রণয়ন করা হয়েছে। বয়স্ক জনগোষ্ঠীর জন্য গৃহীত মাদ্রিদ ইন্টারন্যাশনাল প্ল্যান অব অ্যাকশান এর প্রতি এশীয় ও প্রশান্তমহাসগরীয় দেশসমূহ সর্বদাই প্রথাগতভাবে শ্রদ্ধাশীল মর্মেও তিনি এ সভাকে অবহিত করেন। ইউএন-এসকাপের রিপোর্টে উল্লিখিত এসকল উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ সত্ত্বেও বয়স্কদের আয়ের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বৈষম্য রয়েছে। তিনি তার বক্তৃতায় এ জাতীয় বৈষম্য নিরসনের বিষয়কে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
এজেন্ডা ২০৩০ এর আলোকে বয়স্কদের নিত্য-নতুন প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের বিষয়কে ভবিষ্যতে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা স্পীকার উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এজেন্ডা ২০৩০ অর্জনে বয়স্কদের সার্বিক বিষয়াদি বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী। এসডিজির গোল ১, ৩, ৫, ৮, ১০ ও ১১ তে বয়স্কদের সাথে সংশ্লিষ্ট যে সকল বিষয় রয়েছে তা অর্জনে সকলকেই এগিয়ে আসতে হবে মর্মে স্পীকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। টেকসই উন্নয়নের এই যুগে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর জন্য মাদ্রিদ ইন্টারন্যাশনাল প্ল্যান অব অ্যাকশান বয়স্কদের উন্নয়নে সকল দেশের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য গাইডলাইন হিসেবে কাজ করছে বলেও তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য ২০০২ সালে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর জন্য মাদ্রিদ ইন্টারন্যাশনাল প্ল্যান অব অ্যাকশান গৃহীত হয়। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর এর রিভিউ হয় এবং কমিশন ফর স্যোশাল ডেভোলপমেন্ট এর অধিবেশনে রিপোর্ট উত্থাপন করা হয়। এবারের ৫৬তম অধিবেশনে গ্লোবাল রিভিউতে এর তৃতীয় রিভিউ উপস্থাপিত হল। স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এশিয়া ও প্রশান্তমহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিনিধি হিসেবে আঞ্চলিক রিপোর্ট উপস্থাপন উপলক্ষে আজ এই গ্লোবাল রিভিউতে অংশ নেন এবং বক্তব্য প্রদান করেন।
উচ্চ পর্যায়ের এই আলোচনা সভায় প্যানেলিস্ট ছিলেন প্যারাগুয়ের স্যোসাল অ্যাকশান বিষয়ক মন্ত্রী হেক্টর র‌্যামন কার্ডিনাস মলিনাস, পর্তুগালের শ্রম, সংহতি ও সামজিক নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী জোসে অ্যান্তোনিও ভাইয়ারা দ্য সিলভা, জাম্বিয়ার কমিউনিটি ডেভোলপমেন্ট ও সোস্যাল সার্ভিস বিষয়ক মন্ত্রী মিজ্ এমিরাইন কাবানসি, বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটির মহামারি বিদ্যা ও জনস্বাস্থ্য বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আলবা শিবাই। অনুষ্ঠানটির মডারেটর ছিলেন স্যোসাল ডেভোলপমেন্ট কনসালটেন্ট মিজ সিলভিয়া বিয়েলিজ্।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ