নিউইয়র্কে সন্ত্রাসী হামলায় আহত মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলমের মৃত্যু, জানাজা শেষে মরদেহ দেশে প্রেরণ
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : নিউইয়র্কে সন্ত্রাসী হামলায় আহত বাংলাদেশী মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহ আলম গেরিলা মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দীর্ঘ্য প্রায় ৪ মাস মৃত্যুর সাথে লড়ে তিনি গত ৩০শে জানুয়ারী সকাল ৮ টায় নিউইয়র্কের সেন্ট জন হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। নিউইয়র্কে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে গত ৩১শে জানুয়ারি বুধবার বিকেল সাড়ে ৫ টায় কুষ্টিয়ার কৃতি সন্তান মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শাহ আলম গেরিলার নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযা শেষে মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনসুলেটের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার জানাযা সম্পন্ন করা হয়। জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে তার জানাযার পরই রাষ্ট্রীয় মর্যাদার অংশ হিসেবে নিউইয়র্কে বাংলাদেদেশের কনসাল জেনারেল মোঃ শামীম আহসান মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলমের কফিন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকায় মুড়িয়ে দিয়ে কিছুক্ষণ নিরবতা পালন করেন। এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহ আলমের মরদেহ বাংলাদেশে নেয়া হচ্ছে রাষ্ট্রীয় খরচে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমি সবকিছু সম্পাদন করেছি।এরপরই উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধারা তার কফিনে শেষ শ্রদ্ধা হিসেবে স্যালুট প্রদান করেন। পরে এদিন রাত ১১ টায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে তার মরদেহ দেশে পাঠানো হয়।
কুষ্ঠিয়া জেলা সমিতি ইউএসএ’র সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ইউএসএনিউজঅনলাইন.কমকে জানান, জানাযার পরই মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলমের মরদেহ জেএফকে এয়ারপোর্টে নেয়ার আগে ফিউনারেল হোমে রাখাসহ আনুষঙ্গিক সকল খরচ বহন করেছে কুষ্টিয়া জেলা সমিতি।বাংলাদেশ সময় ২রা ফেব্রুয়ারী শুক্রবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলমের মরদেহ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছাবে। সেখান থেকে মরদেহ গ্রহণ করবেন তার বড় মেয়ে জাকিয়া আক্তার। এর পর মিরপুর ১৪ ইব্রাহিমপুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাযা শেষে বনানী কবরস্থানে স্ত্রীর কবরের পার্শ্বে তাকে সমাহিত করা হবে।
জানাযার নামাজে নিউইয়র্কে বাংলাদেদেশের কনসাল জেনারেল মোঃ শামীম আহসান, বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ রুহুল আমিন সিদ্দিকি, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ডাঃ আব্দুল বাতেন, যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ, সহ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার চুন্নু, সেক্রেটারি মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল বারী, নির্বাহী সদস্য মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, মুক্তিযোদ্ধা মনির হোসেন, কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ইউএসএ ইনকের উপদেষ্টা মোঃ রাশেদুল আলম, মুন্সী মুর্তজা আলী, আলতাফ হোসেন, ইমদাদুল হক, সভাপতি মোঃ গিয়াস উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসাদুজ্জামান, সহ সভাপতি মোঃ আবু তালেব, মোঃ সাইদুর রহমান, আঃ রহমান, কোষাধ্যক্ষ মোঃ আলমগীর হোসেন, প্রচার সম্পাদক মুন্সী সাজেদুর রহমান টেন্টু, মরহুমের নিকট আত্মীয় ফয়সাল হাসান চপল, ডাঃ সায়েদা সরকার, ডাঃ রেজাউল, ইঞ্জিনিয়ার সামিউল ইসলামসহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার দুর্বৃত্তের আঘাতে মৃত্যুবরণকারি মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলমের মরদেহ সরকারী খরচে বাংলাদেশে নেয়ার যাবতীয় নির্দেশ প্রদানের জন্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান। এর আগে দুর্বৃত্তেদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমেদ এবং কুষ্টিয়া জেলা সমিতির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন।
উল্লেখ্র, কুষ্টিয়ার সন্তান মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শাহ আলম গেরিলা গত ২৮ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাত প্রায় সাড়ে আটটার সময় জ্যাকসন হাইটস থেকে নিজ বাসায় ফেরার পথে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন। সন্ত্রাসীরা তাকে এলোপাতারি কিল ঘুষি মেরে মারাত্মক জখম করে পালিয়ে যায়। হামলার পর তিনি অনেকটা অবচেতন অবস্থায় রাস্তায় পড়েছিলেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় পুলিশ তাকে প্রথমে কুইন্স
হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার আরো অবনতি হলে পরে তাকে এলমহার্স্ট হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এলমহার্স্ট হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয় তাকে। পরে সেন্ট জন হাসপাতালেস্থানান্তর করা হয়। তার ঘাড় ও মাথায় বেশি আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ডাক্তারা জানিয়েছেন, তার ঘাড়ে ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করার পর সেখান থেকে প্রচন্ড রক্ত ক্ষরণ হয়। সে সময় কুইন্স হাসপাতালে নেওয়ার সময় শাহ আলম পুলিশকে জানিয়েছিলেন কালো লোকরা তার ওপর হামলা চালিয়েছে। ওই সময় শাহ আলম পুলিশকে কোন রকমে তার ছোট মেয়ের ফোন নাম্বারটা বলতে পেরেছিলেন। এর পর থেকে তার জ্ঞান আর ফিরেনি। মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়েই তার করুণ মৃত্যু হয়।
এদিকে, বয়:বৃদ্ধ মো. শাহ আলম কেন এ পৈশাসিক হামলার শিকার হয়েছেন এর কারণ কেউ বলতে পারছে না। তবে এ ঘটনাকে কমিউনিটি নের্তৃবৃন্দ হেইট ক্রাইম বলে সন্দেহ করেন।
পুলিশ অকুস্থলের আশপাশের দোকানের সার্ভিলেন্স ভিডিও পরীক্ষা করে দুই দুর্বৃত্তকে শনাক্ত এবং সপ্তাহখানেকের মধ্যেই গ্রেফতার করে। এরা হচ্ছে শাইকুয়াল কিম্বেল এবং জলিল স্টিলি। উভয়কেই জামিনহীন আটকাদেশ দিয়ে জেলে রাখা হয়েছে। এদিকে, শাহ আলমের মৃত্যু সংবাদ জানার পরই আটক দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে কুইন্স ক্রিমিনাল কোর্টে।
ভিকটিম মো. শাহ আলমের স্ত্রী ও দুই মেয়ে রয়েছে। স্ত্রী ও ছোট মেয়ে নোভা (১৩) কে নিয়ে তিনি কুইন্সের জ্যামাইকার সাউথ রোড এলাকায় বসবাস করছিলেন। তার স্ত্রী ব্রেইন টিউমারে আত্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী। বড় মেয়ে জাকিয়া বিবাহিতা। স্বামীর সাথে ঢাকায় বসবাস করেছেন। শাহ আলমের দেশের বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতগঞ্জের নজিবপুর গ্রামে। তিনি গেরিলা আলম নামে পরিচিত। চার বছর আগে ইমিগ্র্যান্ট হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন তিনি। মো. শাহ আলম জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী জিয়া উদ্দিন বাবলুর ভায়রা।
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030
- বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর
- ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি
- Dr. Titumir calls for UN-led debt relief mechanism to safeguard investment in children and women