হাসপাতালে শুয়ে জাফর ইকবাল লিখছেন : খোদা আমাকে এই অবিশ্বাস্য সুন্দর পৃথিবীটিকে আরো কয়দিন দেখতে দেবে?
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক : নিজের ক্যাম্পাসে ‘উগ্রপন্থি’ এক তরুণের ছুরির আঘাতে আহত লেখক অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল খানিকটা সুস্থ হওয়ার পর হাসপাতালে শুয়েই আবার কলম ধরেছেন।
ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে বুধবার সকালে সিসিইউ থেকে কেবিনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত সহকারী মোহাম্মদ জয়নাল আবেদিন।
তিনি বলেন, “স্যার লিখতে শুরু করেছেন। ১৫ দিন পরপর তার লেখা বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিতভাবে ছাপা হয়। আজও তার একটি লেখা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।
‘অবিশ্বাস্য সুন্দর পৃথিবী’ শিরোনামে তার এই লেখায় চার দিন আগে হামলার শিকার হয়ে তার হাসপাতালে যাওয়ার সময়ের অনুভূতি তিনি বর্ণনা করেছেন। আমাদের সময় ডটকমের পাঠকদের জন্য জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার কথাসাহিত্যিক ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখাটি দেয়া হল।
অবিশ্বাস্য সুন্দর পৃথিবী
অপারেশন থিয়েটারে শুয়ে আছি, মাথার ওপর উজ্জ্বল আলো। আমাকে ঘিরে ডাক্তার নার্স তার সাথে অনেক মানুষ, অনেকে আকুল হয়ে কাঁদছে। ডাক্তার নার্স সবাইকে বের করার চেষ্টা করতে করতে আমাকে বললেন, ‘আপনার ইনজুরিটা কতটুকু গুরুতর বোঝার জন্যে, রক্ত বন্ধ করার জন্যে আপনাকে জেনারেল অ্যানেসথেসিয়া দিতে হবে’।
আমি একবারও জ্ঞান হারাইনি, মাঝে মাঝে যখন মনে হয়েছে অচেতন হয়ে যাবো দাঁতে দাঁত কামড়ে চেতনা ধরে রেখেছি। কেন জানি মনে হচ্ছিলো অচেতনতার অন্ধকারে একবার হারিয়ে গেলে আর ফিরে আসবো না। আমি অবুঝের মতো ডাক্তারকে বললাম, ‘না, আমাকে জেনারেল অ্যানেসথেসিয়া দেবেন না, যা করার এভাবেই করুন।’ ডাক্তার বললেন, ‘অনেক কষ্ট হবে।’ আমি বললাম, ‘হোক’। ডাক্তার বললেন, ‘সেই যন্ত্রণায় আপনি এমনি জ্ঞান হারাবেন।’
আমার হাতে পায়ে সূঁচ ঢুকিয়ে তখন রক্ত-স্যালাইন দেওয়া শুরু হয়েছে। তার সাথে তারা অন্য কিছু দিলেন, আমি কিছু বোঝার আগে অচেতন হয়ে গেলাম।
একসময় আবছা আবছাভাবে চোখ খুলে তাকিয়েছি, অন্ধকার, মুখের কাছে ঝুঁকে কেউ কিছু একটা বলছেন, শুনতে পাচ্ছি কিন্তু বুঝতে পারছি না। ভালো করে তাকালাম, মানুষটি আমাদের শিক্ষামন্ত্রী, আমি তাকে নাহিদ ভাই ডাকি। আমি তার কথা বোঝার চেষ্টা করলাম, তিনি আমাকে সাহস দিচ্ছেন। বলছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে ঢাকায় নেওয়ার জন্য হেলিকপ্টার পাঠিয়েছেন।
আমি চেতনা এবং অচেতনার মাঝে ঝুলে আছি। টের পেলাম আমাকে স্ট্রেচারে শুইয়ে কোথাও নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমাকে কোথায় জানি তোলা হলো, আশেপাশে সামরিক পোশাক পরা মানুষ। আমার কমবয়সী সহকর্মীদের কেউ কেউ আছে। আবছা অন্ধকারে হেলিকপ্টারের ইঞ্জিনের গর্জন শুনতে পেলাম। গর্জন বেড়ে উঠলো- নিশ্চয়ই আকাশে উড়তে শুরু করছে।
ঘুমিয়ে আছি না জেগে আছি আমি জানি না। আবছা অন্ধকারে অনেকে চুপচাপ বসে আছে। তার মাঝে শুধু ইঞ্জিনের গর্জন। যাচ্ছি তো যাচ্ছি। মনে হয় বুঝি যোজন যোজন পার হয়ে গেছে।
একসময় ইঞ্জিনের শব্দ থেমে গেলো। নিশ্চয়ই ঢাকা পৌঁছে গেছি। মানুষজন ছোটাছুটি করছে। আমাকে নামানো হয়েছে হেলিকপ্টার থেকে, নামিয়ে আমাকে একটা ট্রলি বা স্ট্রেচারে শোয়ানো হয়েছে। ওপরে খোলা আকাশ সেই আকাশে একটা ভরা চাঁদ। কী অপূর্ব একটি দৃশ্য! আমি সেই চাঁদটির দিকে বুভুক্ষের মতো তাকিয়ে রইলাম! পৃথিবী এতো অবিশ্বাস্য সুন্দর?
খোদা আমাকে এই অবিশ্বাস্য সুন্দর পৃথিবীটিকে আরো কয়দিন দেখতে দেবে? আমাদের সময় ডটকম
- নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান
- জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর
- নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত
- নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ
- New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners
- এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ
- নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া