Friday, 30 October 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্‌যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone
সব ক্যাটাগরি

রাজনৈতিক স্থিতি অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের উন্নয়ন কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না : নিউইয়র্কে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মন্তব্য

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 108 বার

প্রকাশিত: April 11, 2018 | 6:31 AM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : রাজনৈতিক স্থিতি অব্যাহত থাকলে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না বাংলাদেশের উন্নয়ন-পরিক্রমা। একইসাথে দরকার মৌলিক গবেষণাগুলো নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গবেষকদের সাথে সলাপরামর্শ করা। একাডেমিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজন ‘রিসার্চ কাউন্সিল’ গঠন করা। ইতিমধ্যেই ভারত এবং পাকিস্তানে এটি গঠিত হয়েছে। বাংলাদেশে না হওয়ায় বিশ্বের খ্যাতনামা এক হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম রয়েছে, তাও সেটি শেষের ৩০০টির মধ্যে। অথচ বাংলাদেশে অনেক উন্নতমানের বেশ কয়েকডজন বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। 

বাংলাদেশসহ ৩৬টি দেশের অর্থনৈতিক গতি-প্রকৃতি নিয়ে গবেষণারতদের সমন্বয়ে নিউইয়র্কে দুদিনব্যাপী এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন শেষ হলো ১০ এপ্রিল মঙ্গলবার। এ সম্মেলনের বিভিন্ন পর্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিকভাবে এগিয়ে চলার প্রসঙ্গ উঠে এবং জনজীবনের সামগ্রিক মানোন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে রাজনৈতিক স্থিতির বিকল্প নেই বলে অংশগ্রহণকারিরা উল্লেখ করেন।

এই সম্মেলনের অন্যতম উদ্যোক্তা যুক্তরাজ্যের এবিআরএম (একাডেমি অব বিজনেস এ্যান্ড রিটেইল ম্যানেজমেন্ট)এর নির্বাহি চেয়ারম্যান, বৃটিশ বাংলাদেশী ড. পি আর দত্ত বলেন, ‘উন্নয়ন ও প্রগতির জন্যে চাই মৌলিক গবেষণা। কিন্তু বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জার্নালে বাংলাদেশের গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ পাচ্ছে না। এ জন্যে বিশ্বের প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ, সমাজবিজ্ঞানী কিংবা রাষ্ট্র বিজ্ঞানীরা তা পড়তে সক্ষম হচ্ছেন না। অথচ সরেজমিনে বাংলাদেশ অনেক ভালো করছে।’

ড. দত্ত তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন, ‘গত বছরও আমি ঢাকায় কনফারেন্স করেছি। বেশ কটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অংশ নিয়েছেন। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও ছিলেন। আমি মৌলিক গবেষণার প্রয়োজনীয়তা সবিস্তারে ব্যাখ্যা করেছি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন অর্থ বরাদ্দ না পেলে কাজের কাজ কিছুই হবে না।’

বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে ড. দত্ত বলেন, ‘সারাবিশ্বে ৭০ হাজারের মত জার্নালের অস্তিত্ব রয়েছে। এরমধ্যে ৬০ হাজারের অধিক হলো ভূয়া, ট্রাম্পের ভাষায় ‘ফেইক’। টাকা দিলেই ঐসব ভূয়া জার্নালে রিপোর্ট প্রকাশের অবতারণা করা হয়। যার কোন মৌলিক ভিত্তি নেই বা খ্যাতিসম্পন্নদের নজরেও আসে না।’

ড. দত্ত বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, ‘গবেষণা এবং সুব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন ও প্রগতির কারণগুলো সন্ধান করে তা সমাধানের গবেষণামূলক সুপারিশ তৈরির জন্যেই দুদিনের এ সম্মেলন হলো।’ এখানে বেশকিছু গবেষণা রিপোর্ট উপস্থাপনের পর তা নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা হয়। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, উন্নয়ন-সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণারতদের মধ্যে পারস্পরিক খোলামেলা আলোচনার এমন পরিবেশ খুব কমই হয়ে থাকে।

এই সম্মেলনের নেপথ্য সংগঠক এবিআরএম’র প্রকল্প পরিচালক ড. বি আর চক্রবর্তী এ সময় বলেন, অংশগ্রহণকারি সকলেই আন্তরিকতার সাথে চলমান বিশ্বের উন্নয়ন আর প্রগতির ক্ষেত্রে অন্তরায় নিয়ে কথা বলেছেন। সমস্যার কারণ ও তা থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ড. চক্রবর্তী উল্লেখ করেন, গত ৭ বছরে আমরা বিভিন্ন স্থানে এমন সম্মেলন করেছি। সবগুলোই মানবতার কল্যাণে সুফল আনার ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও অবদান রেখেছে।

সম্মেলনের কো-হোস্ট নিউইয়র্ক সিটি ইউনিভার্সিটির মেডগার এভার্স কলেজের বিজনেস স্কুলের ডীন ড. যো-এ্যান রোল সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বলেন, ‘দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশ অভ’তপূর্ব অগ্রগতিসাধনে সক্ষম হয়েছে। এক্ষেত্রে ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থাপনার অবদান অপরিসীম। দেশটির রাজনৈতিক স্থিতি অব্যাহত থাকলে উন্নয়নের সম্ভাবনা কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।’

নিউইয়র্ক সিটির জ্যামাইকায় ‘ক্রাউন প্লাজা জেএফকে এয়ারপোর্ট হোটেল’র বলরুমে ‘সপ্তম আন্তর্জাতিক বিজনেস এ্যান্ড ইকনোমিক ডেভেলপমেন্ট কনফারেন্স’ শিরোনামে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো যুক্তরাজ্যের এবিআরএম (একাডেমি অব বিজনেস এ্যান্ড রিটেইল ম্যানেজমেন্ট), নিউইয়র্ক সিটি ইউনিভার্সিটির মেডগার এভার্স কলেজ এবং জার্নাল অব বিজনেস এ্যান্ড রিটেইল ম্যানেজমেন্ট সিরার্চের সম্মিলিত উদোগে।

৩৬ দেশের ১১০ জন স্কলার এবং জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদরা অংশ গ্রহণ করেন। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, হংকং, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, চীন, কানাডা, জার্মানী, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইটালি, ব্রাজিল, মিশর, সউদি আরব, পল্যান্ড, ঘানা, নাইজেরিয়া, রাশিয়া, পাপুয়া নিউগিনি, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কেনিয়া, স্পেন, মেক্সিকো, জাপানের গবেষকরাও এসেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে আগতদের অর্ধেকই মহিলা। সামনের বছরেও এই একই সময়ে এখানে অষ্টম আন্তর্জাতিক সম্মেলন হবে।

এ সম্মেলনের উদ্বোধনী সেশনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন কেন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. ধীরাজ মুখার্জি। উদীয়মান অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি এবং উন্নয়ন সম্পর্কিত সেশনে গবেষণামূলক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের মেডগার এভার্স কলেজের অধ্যাপক ওয়ালেস ফোর্ড। থাইল্যান্ডের নিডা বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক ড. সলিল সেন কথা বলেন ব্র্যান্ডিং এবং মার্কেটিং বিষয়ে। বারবাডোজের ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধ্যাপক এ্যান্থনী উড কথা বলেছেন অর্থনীতি, হিসাব এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আলোকে। ফ্রান্সিস মারিয়ন ইউনিভার্সিটির বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক ইয়ং শিন বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন মানব সম্পদের ব্যবহার বিধি নিয়ে। মেডগার এভার্স কলেজের অধ্যাপক অধ্যাপক খাসাডিয়ো যাজাবেল উদীয়মান এবং উন্নয়ন অর্থনীতির আবহে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্ভাবনার আলোকে বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন ডীন ড. যো-এ্যান রোল। মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার ওপর বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ইউনিভার্সিটি অব লিমপপোর অধ্যাপক মকোকো সেবোলা।

শেষের দিন মূল বক্তব্য রাখেন মেডগার এভার্স কলেজের অধ্যাপক কিম মুরনিং। তার বিষয় ছিল পরিবেশ সুরক্ষা। শিক্ষা, শিক্ষকতা এবং শেখা বিষয়ে পর্যালোচনামূলক বক্তব্য রেখেছেন একই কলেজের অধ্যাপক গেনাডি লোম্যাক। এনআরবি নিউজ

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ