বাংলাদেশ অন্ধকার হয়ে আসছে, শেখ হাসিনাকে হত্যা করবেই এরা, তাকে রক্ষা করতে হবে: সাতই মার্চের আলোচনা সভায় অধ্যাপক মমতাজউদ্দিন আহমেদ
বর্ণমালা নিউজ, ১১ মার্চ: ‘প্রলয় ধেয়ে আসছে বাংলাদেশে-১০ ট্রাক অস্ত্র এসেছে, ২০ ট্রাক আসার অপেক্ষায় আছে।মহা প্রলয়ের পূর্বাভাষ পাচ্ছি। বাংলাদেশ অন্ধকার হয়ে আসছে’- দেশকে নিয়ে এভাবেই তার আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাতই মার্চের আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা জাতিসংঘ বাংলাদেশ মিশনের মিনিস্টার কালচারাল অধ্যাপক মমতাজউদ্দিন আহমেদ। অধ্যাপক মমতাজউদ্দিন আরো বলেন, বাংলাদেশ অন্ধকার হয়ে আসছে, শেখ হাসিনাকে হত্যা করবেই এরা, তাকে রক্ষা করতে হবে। ভুলে যান আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশের কথা ভাবেন। এখন এক্যবদ্ধ হতে হবে। আবার ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তুলতে হবে। তারা টোটাল শক্তি নিয়ে আসছে সামনে। বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মমতাজউদ্দিন আহমেদ বলেন, আজীবন বাঙ্গালী জাতিকে যে স্বপ্ন দেখিয়েছেন তারই রূপরেখা প্রকাশ করেছিলেন সাতই মার্চ ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। কিন্তু যিনি জাতিকে স্বপ্ন দেখালেন তাকে কীল করলেন আপনারা ব্লাডি জেনারেলরা। আমরা আরো কত এগিয়ে যেতাম, উল্টো ৫০ বছর পিছিয়ে গেছি।

প্রাণবন্ত এই আলোচনা সভাটি প্রত্যক্ষদর্শীদের স্মৃতিচারণে হৃদয়গ্রাহী হয়ে উঠে। সাতই মার্চ উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপত্বি করেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বসারত আলী আর সভার সঞ্চালনে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক নিজাম চৌধুরী। এতে স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য রাখেন সেদিন সাতই মার্চের ঐতিহাসিক জনসভার রিপোর্ট করেছিলেন যেসব সাংবাদিক তাদের অন্যতম নিউইয়র্ক প্রবাসী বর্ষীয়ান সাংবাদিক মনজুর আহমদ, আকস্মিক ঢাকায় উপস্খিত সেদিনের স্কুল ছাত্র সাপ্তাহিক বাঙালীর সম্পাদক কৌশিক আহমেদ, সে সময়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাসির আলী খান পল। সাংবাদিক মনজুর আহমদ, সাতই মার্চের ভাষনে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার যে আহ্বান জানিয়েছিলেন তা স্বকিার করেছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ওসমানী ও জিয়াউর রহমান। মনজুর আহমেদ বলেন, আমি তাদের দুজনের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম, তাতে দুজনই বলেছিলেন বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণ ছিল তাদের কাছে গ্রীণ সিগনাল। আর সেদিন বঙ্গবন্ধু সরাসরি স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে আর পঁচিশে মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করা লাগতো না, তার আগেই শুরু হয়ে যেতো পাকিস্তানীদের বর্বরতা। মনজুর আহমদ বলেন, সাতই মার্চ ঐতিহাসিক দিন। আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে যে কটি রক্তাক্ষরে লেখা দিন ১৬ ডিসেম্বর ও ২৬ মার্চের সাথে সাতই মার্চও একটা রক্তাক্ষরে লেখা দিন। সেদিন বঙ্গবন্ধু গাড়ী করে এসেই মঞ্চে উঠে বক্তৃতা শুরু করলেন, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অনর্গল বলে গেলেন। যেন একটা মুখস্ত কবিতার মত বলে গেলেন, একবারও কোথাও থমকে যাননি, একবারও থেমে যাননি। শব্দ চয়ন-অসম্ভব শব্দচয়ন। এই শব্দগুলি তখন কিভাবে মাথায় এলো, কিভাবে একটার পর একাটা সাজিয়ে গেলেন তা বিস্ময়ের ব্যাপার। এত বড়, এত প্রাণবন্ত ও জঙ্গী জনসভা আর দেখিনি।সাতই মার্চের ভাষণের শেষে বঙ্গবন্ধু জয় পাকিস্তান বলেছিলেন এমন কথা কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছেন, যাকে সম্পূর্ণ অসত্য বলে অবিহিত করে মনজুর আহমদ আরো বলেন, সাতই মার্চের ভাষনের শেষে বঙ্গবন্ধু ‘জয় বাংলা’ বলেছিলেন। আর এর আগে তেসরা মার্চ নির্বাচনে জয়ের পর আয়োজিত জনসভাটিতে তিনি ‘জয় বাংলা ও জয় পাকিস্তান’ বলেছিলেন।

মনজুর আহমদ বলেন বলেন, আমাদের ইতিহাসের প্রতি সৎ থাকা উচিৎ। সাপ্তাহিক বাঙালী সম্পাদক কৌশিক আহমেদ বলেন, বঙ্গালী জাতির ইতিহাসে হাজার বছরের মধ্যে একটি দিনকে বেছে নিতে হলে তা হবে সাতই মার্চ। সাতই মার্চ না হলে ২৬ মার্চ হত না, ২৬ ডিসেম্বর হতো না। আমরা স্বাধীন হতাম না। বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণের কাছে আব্রাহাম লিংকনে গেটিসবার্গ অ্যাড্রেস কিছুই না। তার ভাষণের ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম’-এর মধ্যে মুক্তি কথাটি দার্শনিক তত্ব। এই ভাষণ তার রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রনায়কোচিত প্রজ্ঞার প্রকাশ আজকে যে বিতর্ক হয় তা অর্থহীন। নাসির আলী খান পল বলেন, পৃথিবীর মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে এটি অনন্য ভাষণ। এর সাথে তুলনা কোন ভাষণের। আজও এই বাষণ শুনলে গাঁয়ে কাঁটা দিয়ে উঠে।অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্ঠা কৃষিবিদ ড. সিদ্দিকুর রহমান সাতই মার্চের এই দিনে দশে প্রেমিক ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলার আহ্বান জানা। তিন আরও বলেন, একজনের চাকুরী গেলে দেশে তা নিয়ে এতো হৈচৈ করার কি আছে? আর বিএনপির নেতারা বলছেন যে মার্চের শেষে তারা সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করবেন। আমরা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা কি বসে থাকবো? বিএনপির এসব হুমকী-ধামকী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের ষড়যন্ত্র।যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার নুরুন্নবী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছি বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণে অনুপ্রাণিত হয়ে। সেজন্য আমরা ২৬ মার্চের প্রতীক্ষায় ছিলাম না। আর মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর সদস্যদের সামনে দুটি পথ খোলা ছিল- হয় পাকিস্তানের পক্ষে থেকে বাঙ্গালীর মুক্তি সংগ্রামের বিরুদ্ধে যাওয়া, অন্যথায় মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়ার বিকল্প ছিল না তাদের সামনে। কিন্তু আমরা সিভিলিয়ানরা স্বেচ্ছায়, স্বস্ফুর্তভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছি। আজকে দেখছি মনিরুজ্জামান ও এমাজউদ্দিনের মত কিছু ভদ্রলোক-শিক্ষিতরা ইতিহাস বিকৃত করছেন। তারা শিশুদের মিথ্যা ইতিহাস শেখানোর চেষ্ঠা করেছেন। নতুন শিক্ষানীতির মাধ্যমে ইতিহাস বিকৃতিরোধ করে প্রকৃত ইতিহাস পড়ানোর যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তার জন্য বতৃমান সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।আলোচনায় আরো অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক সম্পাদক আবুল কাশেম, কোষাধ্যক্ষ আবুল মনসুর, শিক্ষা সম্পাদক সামশুদ্দিন আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা এমদাদ চৌধুরী, এম, এ হামিদ, আয়ুব খান, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সভাপতি মিজবাহ আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা ড. মাসুদুল হাসান, মুক্তিযোদ্ধা শরাফ সরকার, জালালাবাদ এসাসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক আব্দুল হাসিব মামুন, করিম জাহাঙ্গীর, সাইফুল ইসলাম রহিম, ওসমানী স্মৃতি সংসদের সভাপতি নজমুল ইসলাম প্রমূখ। আলোচনা সভার শুরুতে ৭ মার্চ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণীটি পড়ে শোনান যুক্তরাষ্ট্র মহিলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়িকা মমতাজ শাহানা।
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল
- New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial
- নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭ মার্চ ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে যাবে
- নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance.








