Sunday, 7 June 2026 |
শিরোনাম
SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয় A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes নিউইয়র্কে নতুন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হৃদয় বীণা সংগীতালয়’র যাত্রা শুরু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে নিউইয়র্কে ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র দোয়া মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

কেনো এশা ফিরে আসে বার বার?

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 30 বার

প্রকাশিত: June 29, 2018 | 3:58 PM

জুলি রহমান : 

লিলুয়া বাতাসে কান্দি সইলো
আমার পরাণ বন্ধু না আইলো
উজান ভাটির কতো তরী এলো আর গেলো।
হাডসানের ঢেউয়ের তোড়ে মন যে উদাস হলো—ঐ

কতো মানুষ দেখি আমি এই দুনিয়ায়!
আমার মানুষ গভীর জলে কেনো যে লোকায়?
জলের আয়না ঢেউয়ের বুকে যখন হারায়।
চোখের জলে বুকের তলে ক্ষয় হয়ে গেলো–ঐ

চোখের দৃষ্টি দিলাম ছুঁড়ে নীল আকাশের গায়!
বন্ধু আমার লুকিয়ে আছে মেঘের পাখায়!
লাটাই কান্দে ঘুড্ডি কান্দে কান্দে দোতরায়।
কৈশোর আমার তোর আদলে কাছে যে 
এলো–ঐ
 
এই গানটি যাকে দেখে তৈরী হলো। তাঁর নাম আমি জানি না। তবে তাঁর আদল আমাকে নিরবে কাঁদিয়েছে।সেই শান্ত সৌম্য চেহারার আমার বন্ধু এশা। যে মা হতে গিয়ে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছে। আমি বহু কষ্টে এশাকে ভুলে ছিলাম। ভাবী যখন আমার পাশে দাঁড়ালেন। আমি যেনো এশার শরীরের গন্ধ পেলাম। চার বছর আগেও এশা আমাকে স্বপ্নের ভেতর ওর কাছে নিয়ে যেতে চাইতো। আমি চিৎকার করে উঠে বসতাম। রহামান বল্লো কিছু দান খয়রাত ওর নামে করে দাও। এর পর আমি ওকে আর স্বপ্নে দেখি না। নৌ বিহারে গিয়ে কবি পত্নী তমিজ উদ্দীন লোদী ভাবীকে কাছে থেকে দেখে আমি চমকে উঠি। সেই চোখ সেই মুখ সেই শান্ত মনোভাব। আমার তখন কতো স্নৃতি যে মনে পড়ে গেলো। ভাঙন চল্লোবুকের ভেতর। বন্ধু থাকে মানুষের দশ বিশ আরো সংখ্যাতীত। কিন্তু মনের গভীরে আশ্রিত হয় একজন। যার কাছে অকপটে সব কথা বলে ফেলা যায়। যে হয় সব দুঃখ কস্টের দোসর। এশা ছিলো আমার সেই বন্ধু। কাকতালীয় ভাবেই হোক আর যে ভাবেই হোক এশা ও ছিলো সিলেট হবি গন্জের মেয়ে।সুদীর্ঘ বেনুনী দুলিয়ে হাঁটতো। আমারও ছিলো হাঁটু অবধি চুল। আমরা দুজনেই গ্রাম থেকে আসা।বারো বছর বয়সে ফার্ম গেইট তেজতরী বাজারেরর পলিটেকনিক হাই স্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি হলাম।ভর্তি পরীক্ষার সময় এশা মায়া খুকুমনি ওজুলির সিট পড়ে একই বেন্চে।আমি যে স্কুল থেকে এসেছিলাম ওখানেও আমি শ্রেণীতে প্রথম ছিলাম।যাই হোক পরীক্ষার পর রেজাল্ট হলো। আমিই প্রথম হলাম।প্রায় একশত জন ছাত্রীর মধ্যে।মায়া আমার খুব অন্তরঙ্গ হলেও একটা স্বার্থ তার ছিলো।তা হলো পরীক্ষার সময় আমাকে ফলো করে আমার খাতা দেখে পরীক্ষা দেওয়া।কিন্তু এশার যে মেশা তা ছিলো পুরোপুরিই নিঃস্বার্থ।ওর মা গ্রামে ছিলো।ও ছিলো ভাই ভাবীর সংসারে। আমারও মা দূরে।আমিও ভাইদের সংসারে তবে ভাই রা তখনো বিয়ে করেনি।বড়ো ভাই ঢাকা ভার্সিটির নতুন লেকচারার।মেঝু ভাই তিতুমীর কলেজে ইন্টারে।মাকে ছাড়া আমার যে কতো খারাপ লাগতো।এশার অবস্থাও ছিলো তাই।আমাদের দুজনের কষ্ট যখন এক হয়ে গেলো।মন টাও তেমনিএকই সূতোয় বাঁধা পড়ে গেলো।
আমার বন্ধু ভাগ্য খুব ভালো।মায়া খুকুমনি বিরাট বড়োলোকের মেয়ে। সেই অনুপাতে আমি তেলের মাঝে জল।এশার ভাই বিজনেস ম্যান।এশারাও খুব অবস্থাশালী।কিন্তু এশার ভেতর ছিলো নিরব দহন।যা সে আমার সংগে সব সময় শেয়ার করেছে।স্কুল শেষ করে কলেজ। আমি আমার জীবনে কোন বান্ধবীর বাড়িতে বেড়াতে যাইনি।এশাও তেমনি।কিন্তু মায়া সব সময় আমাদের বাসায় আসতো।ভুলে গেলাম আরেকটি কথা।ওরা তিনজনই ভীষণ সুন্দরী।সেই ক্ষেত্রে আমি পুরোপুরিই রুপহীন আদলে এই পৃথিবী র বুকে অবহেলিতা ।কলেজ শেষ।বড়ো ভাই জাপানে।আমাকে মোহাম্মদপুর  লালমাটিয়া কলেজে এ্যাডমিশন নিতে হলো।ওমা সে কি?আবারও পুরনো আদলে নতুন করে সেই চারজন?
এশার মুখে কোনো কথা নেই।আমাকে যে ওর বুকের কাছে নিলো!মায়া বলে এশা একটু বেশী বেশী।তারপর আবার দুটো বছর চারজনের সে কি উল্লসিত জীবন।এরই মাঝে খুকু ও মায়ার বিয়ে হয়ে গেলো।পরীক্ষার আগেই।একদিন এশার খুব মন খারাপ দেখলাম।ও আমাকে টেনে নিয়ে গেলো সেই গাছটির নিচে যেখানে আমরা চারজন আড্ডা দেই প্রতিদিন।বেশ কিছুক্ষণ গলা ছেড়ে দিয়ে ও কাঁদলো।আমি মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকলাম।বোদ্ধদেব বলেছেন তাঁর ছোঁয়া উপন্যাসে কান্না হলো মানুষের ভেতরের আগুন।তাকে যতো বের করে ফেলা যায় ততই তৈরী হবে শান্তির সরোবর।
এশা কান্না থামালে বলি, কী হলো বল।ওর ইচ্ছের বিরুদ্ধে ওর ভাবী বিয়ে দিচ্ছে ।সিলেটের কোনো এক বিজনেস ম্যানের সংগে।আমাদের গল্পে একটা কথা থাকতো আমরাকখনো কোনো বিজনেস ম্যানকে বিয়ে করবো না।হয় প্রফেসর নয় ইন্জিনিয়ার নিদেন পক্ষে সরকারী অফিসার।মায়া ইন্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর ভাইয়ের হাত ধরলো।খুকু বিয়ে করলো টাকার পাহাড় ।কোনো এক বিজনেস ম্যান।এশা আরো পড়তে চায় আমার মতো।কিন্তু ওর ভাবী ঝামেলা মুক্ত হতে চায়।আমার বড়ো ভাই প্রতি চিঠিতেই লিখবেন জুলি পড়ালেখা মনোযোগ দিয়ে করবে।কোনো ছেলেকে ভালো লাগলে আমাকে জানাবে।
এশার বিয়ে হয়ে গেলো সেই বিজনেস ম্যানের সাথে।যা ছিলো ওর ইচ্ছার বিরুদ্ধে।হলো দুজনের ছাড়াছাড়ি।পড়ালেখার চাপে আমি ওকে ভুলে থাকলাম।তা-ছাড়া কোথায় সিলেট আর ঢাকা।এশার বড়ো ভাই ইকবাল আবার আমার মিলিওনিয়ার একমাত্র দুলাভাইয়ের বন্ধু।দুজনেরই পাশাপাশি সিমেন্ট রডের দোকান।আমার পড়ালেখা শেষ।বিয়েও হলো একজন চাকুরীজীবির সাথেই।
দুলাভাই ডেকে পাঠালেন।নন্দী বাবু নেই চলো আমরা সবাই মিলে সিলেট যাবো প্রায় দুশো জন।তুমি কবিতা গান করতে করতে যাবা।দুলাভাই আমার বরকে সব সময় নন্দী বাবু বলেই ডাকতেন।আমিতো এমনিই ছাই!তারমধ্যে বাতাস।নন্দীকে মধ্যপ্রাচ্যে কল দিয়ে বেড়ানোর অনুমতি নিলাম।আমার কণ্যার বয়স তিন।
অনেক এনজয় করবো বলে সিলেট পিকনিকে যাওয়া।কতো বছর পর ইকবাল ভাইকে দেখলাম।তারপরও দুলাভাইকে জিঙ্গেস করলাম এশার ভাই ইকবাল না?দুলাভাই বললেন হ্যা আমরা হোটেলে উঠবো।কিন্তু ইকবাল ওদের বাড়িতে আমাদের একদিন ডিনার খাওয়াবে।আমি এ কথা শুনে খুশিতে আটখানা।তাহলে এশার সংগে আবার দেখা হবে।কতো আগে বিয়ে করেছে।ওর বাচ্চারা বোধ করি অনেক বড়ো হয়ে গিয়েছে।আর আমার মেয়ে মাত্র তিন বছরের।
সিলেট হোটেল কোরাইশিতে আমরা উঠলাম।একটু চেইন্জ হয়ে আবার জাফলং ফয়েজ লেকে যাবো!সে কি অস্থিরতা।আমার কণ্যা সবে ডান্স স্কুলে যায়।স্কুলে দিইনি তখনো।কারণ ৫ না হলে স্কুলে দেবো না।সে যে কী ডান্স আর গান গাওয়া সবাই এখন তন্বীকেই চায়।
অনেক ঘুরলাম।অবশেষে ইকবাল ভাইয়ের বাড়ির সেই কাঙ্খিত দাওয়াত।খুব করে সাজলাম।হাজার হোক কতো বছর পর দেখা হবে ওর সাথে।কতো কথা হবে।কেমন গিন্নী হয়েছে।সংসারে কেমন মায়া বিলালো?স্বামীকে ভালোবাসতে পারলো কি-না!ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি মনে মনে বকতে বকতে ইকবাল ভাইদের প্রশস্ত উঠোনে পা রাখলাম।সারি সারি টেবিল চেয়ার খুব পরিপাটি করে সাজানো।দুশোজন লোকের আয়োজন রীতিমতো একটা বিয়ে বাড়ি।সবাই বসে পড়লাম খাবার টেবিলে।আমার চোখ খাবারে নয়।ঐ বাড়ির আপ্পায়িত নারীদের প্রতি!আমি দেখছি।তবে কী এশা তার শ্বশুড় বাড়িতে?সংসারের ঝামেলায় আসতে পারেনি?নানা প্রশ্নের আকুলি বিকুলি।
ইকবাল ভাই আমার দুলাভাইকে ডাকলেন!সামাদ সাহেব আপনার শালী যে আমার বোনের সাথে পড়তো তাকে আমার মা দেখবেন।বলতেই  দু ফোটা পানি চোখের কোন বেয়ে গড়িয়ে পড়লো।আমি উঠে দাঁড়াই।দুলাভাই আপা ও অবাক হয়।ভেতরে যেতেই দরজায় দাঁড়ানো এশার মা।আমাকে বুকে নিয়ে কান্নায় গলে যেতে লাগলেন।আমি তখনো জানি না এ বিগলিত অশ্রুধারা আমাকেও নিঃস্ব করে দেবে।আমার সাজানো স্বপ্নকে ভেঙে ভেঙে টুকরো টুকরো করে দেবে!
আমাকে খাটে বসিয়ে এশার মা এশার ছেলেকে নিয়ে এলো।এই আমার এশার চিহ্ন রেখে গ্যাছে আমার জন্য।
আমি ছেলেটার দিকে তাকিয়ে দেখি সেই তো এশার আদলে এক যুবা পুরুষ হয়ে উঠছে অয়ন।কখন কোন ফাঁকে আমার চোখ গলতে থাকে।চোখের ন্যূন নিকিয়ে ছেলেটিকে কাছে নেই।
কোনো মানুষের আসা যাওয়া অর্থহীন নয়।প্রতিটি মানুষের জন্ম কতো সার্থক।এশা বহু দূরে চলে গিয়েও প্রতি মূহূর্তে আমাদের ভাবাচ্ছে।কাঁদাচ্ছে।কোনো নামই বিলুপ্ত নয়।একটি নাম একটি মানুষ আরেকটি মানুষের নামের ভেতর কেমন জায়গা করে নেয়।আজ দীর্ঘ একুশ বছর পর আবার আমি এশার ছোঁয়া পেলাম।ও কী কোনোদিন
আমার থেকে দূরে যাবে না?না মন এমন এক স্নৃতির সিন্দুক যে সময়ে অসময়ে তাঁর ঢাকনা খোলে সামনে দাঁড়াবেই।
দু -মাস পর আমি মধ্যপ্রাচ্য চলে যাই।স্কুল শিক্ষকতা ছেড়ে সুদূর দূর মরুতে
আমার মন টিকে না।এতো একাকিত্ব!একবার আমি কাঁদি।আরেকবার তন্বী কাঁদে।আমাদের অত্যাচারে রহমান ও ভাবনায় পড়ে গেলো।সামনে ঈদ।ঈদের দিন কতো উল্লাসে কাটাই বাংলাদেশে একটা বাঙালী নাই।দরজটা খুল্লেই সৌদি।সৌদি বাসাই দিয়েছি কোম্পানী।আমার বরের অফিস থেকে গাড়ি বাড়ি
চিকিৎসা আপ ডাউন টিকেট বছরে।এতো সুযোগ থাকা সত্বেও মন টিকে না।এতো নিরবতা যে লিখতেও মন চায় না।প্রচন্ড অবসর আমার ভালো লাগে না।তন্বীর ও কোন বন্ধু নেই।কী জীবন?আমার হাজব্যান্ড মেয়েকে স্কুলে দিবে।আমি ওকে ঘরেই হাতে খড়ি দিচ্ছি।নাচের সিডি দিয়ে পুরনো নাচের প্রাকটিস করাই।দুপুরে তন্বী ঘুমিয়ে গেলো জানালার বাইরে পাহাড়ি পথ আমার দিকে হেঁটে এসে আমাকে চেপে
ধরে যেনো।
আমি ঘুমাতেই দেখি এশা ঐ পথ ধরে হেঁটে আসছে।জানালা দিয়ে ঘরে ঢুকে আমার হাত ধরে টেনে নিয়ে যায়।আমি যাবো না।ও আমাকে বলে তোকে আমি সুন্দর এক পৃথিবীতে নিবো।চল আমার সংগে।আমি আমার তন্বীকে বুকে নিয়ে এশাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেই।স্বপ্নের কোহক ভেদ করে আমি হাঁপাতে থাকি।এশা কে হঠাৎ কেনো স্বপ্নে দেখলাম?
রহমান ঘর ঢুকতেই আমরা দুজনেই বলি আমাদের দেশে পাঠিয়ে দাও।রহমান তো অবাক!এখন আমার কাছে থেকেও তোমরা ভালো নেই?তাহলে আমি একা কী ভাবে থাকি?আমি যুক্তি দাঁড় করিয়ে বলি।তুমি ব্যাস্ত সারাদিন অফিসেই থাকো ।আমাদের সময় কাটে না।আমি মরে যাবো।বাংলাদেশে আমি স্কুল বাচ্চা হৈ চৈ এ থাকতাম।
রহমান পরের দিন সত্যের আলো পত্রিকা নিয়ে ঘরে ঢুকলেন।অবসরে এই পত্রিকা পড়বে।তুমি না কবিতা লিখতে ?এখন লিখো না?আমি বলি আমার মাথায় কিছু আসছে না।মোয়াজ্জম রহমানের ভাতিজা সে তাঁর গাড়িতে করেআল খোবার নামক জায়গায় বেড়াতে নিয়ে গেলো।পাহাড় মরুভূমি ছাড়া আর কিছু নেই।চৈতি দিনের মতো চৈতালি বাতাসে আমার মন আরো চৌচির হতে থাকে।উদাস হতে থাকে।কোনো বাঙালী নেই।আমরা চারজন ব্যাতিত।মোয়াজ্জেম বলে চাচী ;চাচা বহু কষ্টে আপনাদের ভিসা পেয়েছে।দেখেন আমিতো পাবো না।চাচা একটা রিচ কোম্পানীতে ভালো জব করে সেই জন্য আপনি আসছেন।পাগলামী করলে চাচাও তো ভালো থাকবে না।
মোয়াজ্জেম ভালো ভালো খাবার কিনে দিলো ।বিভিন্ন জায়গায় ঘুরালো।রাত্রি নিথর।একটা গল্পের প্লট তৈরী করে ঘুমাতে গেলাম।দেখি আল খোবারের গভীর ঘন ঝোঁপের ভেতর থেকে এশা আসছে।মুখে সেই প্রাণবন্ত হাসি।পাখির মতো উড়ে এসে আমাকে রহমানের পাশ থেকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে।আমি তন্বীকে ঝাঁপটে ধরে বলি আমার মেয়েকে ছাড়া আমি বাঁচবো না এশা তুই চলে যা।আমার চিৎকারে রহমান উঠে বসে।পাশের কক্ষ থেকে তন্বী কান্না করে উঠে আসছে।রহমান আমাকে উঠিয়ে বসালো পানি খাওয়ালো।আমার অক্ষি কোটরে তখনো এশার মুখ মন্ডল সেঁটে আছে।
রহমান বলে তুমি কী এতো দুশ্চিন্তা করছো?নিজের স্বামীর কাছে আসার জন্য এতো দীর্ঘ চিঠি লিখে লিখে এখন তাঁর ভালো লাগে না।সারাক্ষণ স্কুল ছাত্র-ছাত্রী একই কাহিনী।কতো আর ভালো লাগে?ঘুমিয়ে ও শান্তি নেই।
আমি নিরব!এক সপ্তাহ পরেই বুঝলাম আমি দ্বিতীয় বার মা হচ্ছি। ডাঃ বললেন কোনো দুশ্চিন্তা করা যাবে না।
কিন্তু এশা কেনো আমকে এমন বিরক্ত করছে?আমি একটা কবিতা লিখলাম
এশা তুই যা। তুই স্বর্গের মানুষ!আমাকে কেনো ডাকছিস?ইত্যাদি ইত্যাদি।
কিন্তু না ঘুমের মাঝে এশা হাজির।আবারও সেই চিৎকার!যাবো না ।না যাবো না।রহমান তন্বী ওদের ছেড়ে আমি কোথাও যাবো না।রহমান আমাকে উঠিয়ে বসালো।কোথায় যাবে না।কী বলছো তুমি?এবার আমি রহমানকে এশার কথা বলি।সিলেটের সেই ঘটনার বিস্তারিত বলি।সামনেই রোজার মাস। ওমরাতে গেলাম। বাংলাদেশে দান সদকা এশার নাম করেও দিলো রহমান।
আমি নিরবে নিভৃতে শুধু ভাবতাম এশা কী সুখ পায় নি?কেনো  তবে আমার কাছে আসে?ওর কী অনেক না বলা কথা ছিলো যা আমাকে বলতে চাইছে?কিংবা বলতে পারেনি।সেই অতৃপ্ত বেদনা নিয়ে ঘুরছে ওর আত্না?তারপর কোনদিন আর ওকে স্বপ্নে দেখি নাই।কবি তমিজ উদ্দীন লোদী ভাবীর অবয়বে আবার মনে পড়ে গেলো এশাকে।হাডসানের জলের ভেতর আমি ওকে দেখলাম।নন্দী আমাকে নিয়ে উপরে উঠতেই আবার দেখি লোদী ভাবীরা সবাই বসে আছেন।আমি ছবি তোলার জন্য কাঁপা পায়ে এগুতেই দেখি এশা ।আমার চোখ বন্ধ হয়ে আসে।আমি যে ঘোরের ভেতর আছি বুঝতে পেরে নানা কথার ছলে ভুলতে চাইলাম।রোদেলা আকাশে চোখ গাড়তেই দেখি নীলের ভেতর এশার চলাচল।
এবার রহমানকে বলি চলো নিচে। কাঁচের জানালায় দৃষ্টি গেঁথে দাঁড়িয়ে থাকি। আর মনে মনে গানের কলি ভাঁজতে থাকি। লিলুয়া বাতাসে কান্দি সইলো। তুই ভালো থাকিস এসা? আমাকেও ভালো থাকতে দিস? তোর বিদেহী আত্না শান্তি পাক। এই কামনা করছি।
নিউইয়র্ক, ২৫ শে জুলাই ২০১৮ইং।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
Situs Streaming JAV