Saturday, 6 June 2026 |
শিরোনাম
SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয় A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes নিউইয়র্কে নতুন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হৃদয় বীণা সংগীতালয়’র যাত্রা শুরু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে নিউইয়র্কে ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র দোয়া মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

আল মাহমুদ এর প্রথম লেখার গল্প

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 167 বার

প্রকাশিত: March 18, 2011 | 12:18 AM

আল মাহমুদ: আমার দাদা মীর আবদুল ওয়াহাব ছিলেন প্রখ্যাত গাইয়ে। তিনি নিজে নিজে সংগীত রচনা করতেন। গানের আসরে উপস্থিতভাবে ছন্দ মিলিয়ে গাইতেন জারি গান। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতেন কথা মিলিয়ে, ছন্দ মিলিয়ে। বিষয়কে উপস্থিত করতেন অপূর্ব কায়দা-কৌশলে। যারা কবিগান বা জারি শুনেছেন, তারা নিশ্চয়ই জানেন কবিতা নির্মাণে অসামান্য দক্ষতা ও কবিত্ব না থাকলে  কবি বা জারিগান গাওয়া চলে না। আমার দাদা ছিলেন সেকালের এমন একজন জারি  গানের শায়ের।
আমার মা-বাবা ছিলেন রবীন্দ্রনাথের ভক্ত। আমাদের ঘরে ছিল এ মহান কবির রচনাবলি। পরিবারের সবাই ছিলেন কবিতাপ্রেমিক। আমি শৈশবে দেখেছি তাকভর্তি উর্দু-ফার্সির কবিতার বই। এমনি এক পরিবেশে আমি বড় হয়েছি, যা ভাবতে আমার বুক গর্বে ভরে ওঠে। প্রচুর পত্রপত্রিকা আসতো আমাদের বাড়িতে। অল্প বয়সেই আমি বাড়িতে বই, পত্রপত্রিকা পড়তে শিখেছি। আমাকে কেউ এসব পড়তে তাগিদ দেয়নি।
১৯৫৩ সালের কথা। আমি তখন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জর্জ ফিফথ হাই স্কুলের (বর্তমানে নিয়াজ মো. হাই স্কুল) পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র। তখন দেশ স্বাধীন হলেও কলকাতা থেকে আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বেশ কিছু পত্রপত্রিকা আসতো। আমি ছিলাম ‘সত্য যুগের’ নিয়মিত পাঠক। এ পত্রিকাটির ছোটদের পাতাটি আমার ভীষণ ভালো লাগতো। পাতাটি সম্পাদনা করতেন প্রখ্যাত সাংবাদিক গৌরকিশোর ঘোষ। পাতাভর্তি থাকতো শিশুতোষ রচনা। এর মধ্যে ছিল গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, ছড়া, কবিতা ও ধাঁধার আসর। এসব রচনা পড়ে আমি নিজে নিজেই গল্প, কবিতা লিখতে শুরু করলাম। তবে প্রথম দিকে কাউকে দেখাতে সাহস পেতাম না। আমার লজ্জামিশ্রিত ভয় নিজের উৎসাহকে দমিয়ে রাখতো।
কিন্তু যে ফুল ফুটবে, তাকে তো ফুটতে দিতে হবে। এক বুক সাহস নিয়ে লিখে ফেললাম একটি সুদীর্ঘ গল্প। গল্পটির নাম ‘তিতাস পারের ছেলে’ তিতাস নিয়ে আমি অনেক গল্প-কবিতা লিখেছি। কিন্তু আমার লেখায় তিতাস প্রথম ধরা পড়েছিল সেই শৈশবে। হ্যাঁ, যা বলছিলাম, একদিন কেন জানি সেই বড় গল্পটি একটি বড় খামে ভরে পাঠিয়ে দিলাম কলকাতার সত্যযুগ পত্রিকার দপ্তরে। কিন্তু লেখাটি আমার ছাপা হলো না। যদিও আমার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল লেখাটি ছাপা হবার উপযোগী। আবার ভাবলাম অতো বড় গল্প আমার লেখা ঠিক হয়নি। সম্পাদক কি সময় করে আমার গল্প পড়বেন? তিতাস পারের ছেলেটির গল্পের কথা ভুলে গেলেও পত্রিকা পড়ার কথা ভুলি না। সেই অল্প বয়সে পত্রিকা বাসায় এলেই পড়ার জন্য অধীর হয়ে উঠতাম।
সেদিনের কথা আমার খুব মনে পড়ে। কি কারণে জানি ধোপার দোকানে গিয়েছিলাম। ওখানে গিয়ে দেখি একটি সত্যযুগ পত্রিকা অবহেলায় অনাদরে পড়ে আছে। আমি আগ্রহ নিয়ে পত্রিকাটির পাতা ওল্টালাম। ভেতরের পাতা খুলতেই চোখে পড়লো আমার ‘তিতাস পারের ছেলে’ গল্পটি। নিচে আমার নাম। আমি প্রথমে বিশ্বাস করতে পারলাম না এটা আমার লেখা। কয়েকটি লাইন পড়ার পর বিশ্বাস হলো ওটা আমারই লেখা। আমার চোখে তখন প্রথম লেখা প্রকাশের ঝিলিমিলি খুশির ছোঁয়া। এক বুক আনন্দ নিয়ে হাতের শক্ত মুঠোয় পত্রিকাটি চেপে ধরে ছুটে গেলাম বাসায়। তখন আমাকে পায় কে। পাড়ার সব মানুষকে লেখাটি দেখালাম। দেখিয়ে স্বস্তি পেলাম। মনে হলো আমি যেন সিন্দাবাদের মতো একটি অচেনা রাজ্য জয় করেছি। রাতে আমার ঘুম হলো না। বার বার ঘুম থেকে উঠে লেখাটি দেখলাম। পরের দিন সকালে আমার লেখা ছাপার সংবাদ ছড়িয়ে গেলো আমাদের স্কুলে। সবাই আমার তারিফ করতে শুরু করলো। আমার সে কি আনন্দ। শুধু আনন্দ আর আনন্দ। পরবর্তীকালে আমার প্রচুর লেখা প্রকাশিত হয়েছে, কিন্তু প্রথম লেখা প্রকাশের সেই অনুভূতি আজো মনকে গভীরভাবে নাড়া দেয়।মানবজমিন।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
Situs Streaming JAV