নিউইয়র্কে বেন’র ২০ বছরপূর্তি অনুষ্ঠান : বাংলাদেশের পরিবেশ রক্ষায় প্রবাসীদের অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : ‘সুন্দর বাংলাদেশের লক্ষ্যে’ শ্লোগান নিয়ে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন)-এর বিশ বছর পূর্তি। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে প্রবাসী বাংলাদেশীদেরকে আরো অগ্রণী ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সত্যিকারার্থেই বাংলাদেশের পরিবেশ নানাভাবে বিপয়য়ের সম্মুখীন। ফলে জীবন যাত্রা ব্যাপকভাবে ব্যবহত হচ্ছে, রোগ-বালাই বাড়ছে, নদ-নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, গাছ-পালা মড়ে যাচ্ছে, হারিয়ে যাচ্ছে সবুজ-শ্যামল সুন্দরবন সহ প্রকৃতি আর প্রতিবেশ। বক্তারা বলেন, ফারাক্কা বাঁদ সহ তিস্তা বাঁধ, ঐতিহ্যবাহী বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ, রাজধানী ঢাকা সহ বিভিন্ন শহরের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান না হওয়ার পাশাপাশি রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প সহ আরো অপরিকল্পিত উদ্যোগ দেশের পরিবেশের জন্য নতুন সমস্যা সৃষ্টি করছে। বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, দেশের পরিবেশ রক্ষায় সরকার উদাসীন। দেশের সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশ রক্ষার জন্য যে আন্দোলন চলছে বা হচ্ছে তা অপ্রতুল। এমতাবস্থায় বক্তারা দেশবাসীর পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশীদেরকে দেশের পরিবেশ রক্ষায় আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান। বক্তারা বেন-এর উদ্যোগ আর কর্মকান্ডের প্রশংসা করে বলেন, বেন প্রতিষ্ঠার কারণেই বাংলাদেশে বাপা (বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন) গড়ে উঠেছে।
বেন-এর বিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে গত ৩০ জুন শনিবার জ্যাকসন হাইটসের পিএস ৬৯ মিলনায়তনে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলে। অনুষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী ও ভিনদেশী এবং বাংলাদেশ থেকে আগত পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং পরিবেশ আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ যোগ দেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পরিবেশের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা, পর্যালোচনা এবং পরিবেশ আন্দোলনের দীর্ঘকালের অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যত করণীয় আলোচিত হয়। খবর ইউএনএ’র।
উদ্বোধন: শনিবার সকালে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ। এই পর্বে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বেন-এর বিশ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান অয়োজক কমিটির আহ্বায়ক নিনি ওয়াহেদ এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটে নিযুক্ত কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফাইজুননেসা, ওয়াটার কিপার অ্যালায়েন্সর শ্যালন খান, ৩৫০.অর্গ-এর ডেয়ার মিনার এবং সৈয়দ ফজলুর রহমান। শুরুতে বে সম্পর্কে গতি-চিত্র (ভিডিও) প্রদর্শণ করেন ড. দীপেন ভট্টাচার্য। এরপর জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে ‘নি:সর্গের প্রতিবিম্ব’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অংশ নেয় নতুন প্রজন্মের শিল্পী চন্দ্রিমা, মাইশা, সুস্বনা, মৌমি, রেহা শ্রাবণী, দ্যুতি, ময়ুরী, অনাকা ও অধরা। অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা ও পরিচালনায় ছিলেন সেমন্তী ওয়াহেদ।
মূল আলোচনা: অনুষ্ঠানের মূল আলোচনায় অংশ নিয়ে অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ তার স্বভাব-সুলভ বক্তব্যে সুস্থ্যভাবে বাঁচার জন্য সবুজ-শ্যামল পরিবেশনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, মূলত: আমরাই আমাদের পরিবেশন নষ্ট করে মানবজাতির ক্ষতি করছি। আর পরিবেশ সমস্যা শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, সমগ্র পৃথিবীর সমস্যা। আর অধিকাংশ সমস্যা মানবজাতি সৃষ্ট। তিনি বলেন, পরিবেশ সমস্যার জন্য সর্বাগ্রে দরকার ‘জনসচেতনতা’। সেই সাথে সরকারের যথাযথ পরিকল্পিত আর দীর্ঘ মেয়ার্দী কর্মসূচী নিতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।


বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিল তার উপস্থানায় কিভাবে কেমন করে বাংলাদেশের পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে, নদ-নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, সুন্দরবন সহ গাছপালা হারিয়ে যাচ্ছে তার চিত্র তুলে ধরেন এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কারণে কিভাবে বাংলাদেশ পরিবেশগতভাবে মারাত্বক ক্ষয়-ক্ষতির সম্মখীন হচ্ছে তা স্লাইড শো’র মাধ্যমে তুলে ধরেন। এছাড়াও অন্যান্য অতিথি পরিবেশনবীদগণ তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে পরিবেশের ভালো-মন্দ সহ সমস্যার কথা তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বব্যাপী পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন জরুরী হয়ে পড়েছে। এজন্য জনগণের সচেতনতা যেমন জরুরী, তেমনী নিজ নিজ দেশের সরকারের সুষ্ঠু পরিকল্পা আর যথাযথ উদ্যোগও জরুরী।
সাংবাদিক সম্মেলন: অপরদিকে গত ২৬ জুন মঙ্গলবার আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বেন-এর বিশ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানের সফলতা কামনা করে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্ক সফররত বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান ও নিউইয়র্ক বইমেলা-২০১৮’র আহ্বায়ক, মুক্তিযোদ্ধা ও নিউজার্সীর প্লেইন্স বরো সিটির কাউন্সিলম্যান ড. নুরুন নবী। সাংবাদিক সম্মেলনে শামসুজ্জামান খান বেন-এর অনুষ্ঠানের সফলতা কামনা করে বলেন, বাংলাদেশের পরিবেশ উন্নয়ন করতে হবে সবার আগে দরকার সামাজিক সচেতনতা। সরকারের একার পক্ষে সার্বিকভাবে পরিবেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। এজন্য সকল মহলকেই এগিয়ে আসতে হবে। সেই ক্ষেত্রে প্রবাসী বাংলাদেশীরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে পারেন।

ড. নূরুন নবীও অনুষ্ঠানের সফলতা কামনা করে বলেন, বেন আর বাপা বাংলাদেশের পরিবেশ আন্দোলন নিয়ে সাধ্যমতো কাজ করে চলেছে। সরকারও এগিয়ে আসছে। তারপরও সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পরিবেশ সমস্যা একটি ভয়াবহ সমস্যা। এই সমস্যা মোকাবেলায় সচেতনতার সাথে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
সেমিনার/সিম্পোজিয়াম: অপরদিকে শনিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত পরিবেশ বিষয়ক প্রথম সিম্পোজিয়ামে ‘হাওড় অঞ্চলের বন্যা ও অন্যান্য সমস্যা’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন লক হ্যাভেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. খালেকুজ্জামান এবং ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে সবুজ অবকাঠামো’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন আর্কাদিস-এর পানি বিশেষজ্ঞ ড. সুফিয়ান খন্দকার। এই পর্বে সভাপতিত্ব করেন ড. সালেহ তানভীর।
বিকেলে অনুষ্ঠিত পরিবেশ বিষয়ক দ্বিতীয় সিম্পোজিয়ামে ‘বাংলদেশে আণবিক বিদ্যুতের উপযোগিতা’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আহমেদ বদরুজ্জামান, ‘বাংলাদেশে সৌর শক্তির ব্যবহার : বর্তমান ও ভবিষ্যত’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন ব্র্যান্ডাইজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাজেদ কামাল এবং ‘বঙ্গীয় বদ্বীফ, পলিভরন প্রক্রিয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তন’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন মোরেনো ভ্যালী কলেজের অধ্যাপক ড. দীপেন ভট্টাচার্য। এই পর্বে সভাপতিত্ব করেন ড. নজরুল ইসলাম।
এছাড়াও ‘পরিবেশ আন্দোলনে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন হুমায়ুন আহমেদ, ফাইজা দিল আফরোজ ও নদরাত চৌধুরী। এই পর্বে সভাপতিত্ব করেন ড. নুরুন নবী। ‘পরিবেশ আন্দোলনের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন ওহায়ো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সালেহ তানভীর, বাপা’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিল, বাপা হবিগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল ও প্রোগ্রেসিভ ফোরাম নিউইয়র্ক-এর সভাপতি খোরশেদ আলম।
অনুষ্ঠানে ‘সেন্ট মার্টিন দ্বীপে ২৪ ঘন্টার আলোকে নির্মিত ‘জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত’ ১০ মিনিটের ভিডিও চিত্র তুলে ধরেন আমেরিকান নাগরিক সারাহ ক্যামেরন সুনডে এবং বরাল একটি নদীর নাম (বরাল নদী আন্দোলনের অভিজ্ঞতা) তুলে ধরেন মিনহাজ আহমেদ।
পরিবেশ বিষয়ক স্বরচিত কবিতা পাঠের আসরে কবিতা পাঠ করেন ক্লারা রোজারিও, আনোয়ারুল হক লাভলু ও হোসেন শাহরিয়ার তৈমুর। এই পর্ব সঞ্চালনায় ছিলেন মিজানুর রহমান বিপ্লব।
এদিকে বেন’র বিশ বছরপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে গত ২৯ জুন শুক্রবার বিকেলে জ্যাকসন হাইটসে বর্ণাঢ্য র্যালী বের করা হয়। র্যালীতে প্রবাসী বাংলাদেশীরা পরিবেশ রক্ষা বিষয়ক নানা দাবী-দাওয়া ও শ্লোগান সহ প্ল্যাকার্ড বহন করে।
শনিবার মূল অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে দেশ-বিদেশের পরিবেশবীদরা তাদের বক্তব্যে.প্রবন্ধে দেশের হাওড় অঞ্চলের বন্যা ও অন্যান্য সমস্যা, বাংলাদেশের ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিক সমস্যা, ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে সবুজ অবকাঠামো, সুপেয় পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশনে ঢাকা ওয়াসার সমস্যা, সম্ভানা, করণীয় ও অর্জিত সাফল্যের বিষয় তুলে ধরেন। এছাড়াও পরিবেশ আন্দোলনের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা বিষয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্কের (বেন)-এর ড. সালেহ তানভীর (ওহায়ো ষ্টেট বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিল। তাদের আলোচনায় বাংলাদেশের পরিবেশ রক্ষায় বেন-বাপা’র কর্মকান্ড, সরকারী উদ্যোগ ও সম্পর্ক, ঢাকার জলাবদ্ধতা, বুড়িগঙ্গা নদীর পরিবেশন দূষণ ও নাব্যতা, টিপাইমুখী বাঁধ, রূপপুর প্রকল্প, তিস্তা প্রকল্প প্রভৃতি বিষয়েও উপস্থিত সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন এবং অনুষ্ঠানের সেমিনার সিম্পোজিয়ামে বিষয়গুলো আলোচনায় স্থান পায়।
অনুষ্ঠানে ড. নজরুল ইসলাম বলেন, বেন-এর আর্থিক সীমাবদ্ধতার মাঝেও বেন বাংলাদেশের পরিবেশের উন্নয়নে সরকারের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে চলেছে। সরকারের পরিবেশন রক্ষা বিষয়ক জাতীয় কমিটি জেলা পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং এসব কমিটিতে বেন/বাপা সম্পৃক্ত আছে। ফলে বেন/বাপা’র পক্ষ থেকে সরকারকে পরিবেশন রক্ষায় নানা পরামর্শ/চাপ দেওয়া ছাড়াও বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে। তিনি জানান, বেন একটি স্বেচ্ছাসেবীমূলল ইন্টারনেট/ওয়েব সাইট ভিত্তিক সংগঠন এবং মূলত: পরিবেশ বিষয় নিয়েই বেন-এর কাজ। সদস্যদের অনুদানে এর কর্মকান্ড পরিচালিত হয় এবং ফান্ড রেইজিং-এর মাধ্যমে ফান্ড তৈরী করা হয়। বেন-এর আয়-ব্যয়ে ১০০% সততা নিশ্চিত করা হয় এবং বাংলাদেশ ছাড়াও ফ্রান্স, জাপান, অষ্ট্রেলিয়া প্রভৃতি দেশে কার্যকর বেন-এর শাখা রয়েছে। তিনি বলেন, যেকেউ যেকোন সময় বেন-এর সদস্য হতে পারেন আবার ভালো না লাগলে সদস্য পদ ছেড়ে দিতে পারেন।
সাংস্কৃতিক পর্ব: অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে ছিলো খ্যাতিমান ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন রচিত পরিবেশ বিষয়ক ছড়ানাট্য নিয়ে বাংলাদেশের বিশিষ্ট অভিনয় শিল্পী শিরীন বকুলের একক অভিনয়। এর আগে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর শিল্পীরা দেশের খান পরিবেশন করে। শিল্পী শফি চৌধুলী হারুনেে পরিচালনায় এতে অংশ নেন সুদৃতা পাল, অনামিকা মজুমদার, সুক্তি বিশ্বাস, সাহানা নুপুর, দিব্য রায়, সঙ্গীতা চক্রবর্তী, তৃষ্ণা মন্ডল, স্মরণিকা চক্রবর্তী, প্রমিত মহোন আচার্য, বাঁধন কর্মকার ও শফি চৌধুরী হারুন। অনুষ্ঠানে আরো ছিলো বাংলাদেশের খ্যাতিমান রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী লিলি ইসলাম-এর একক পরিবেশনা এবং দলগত নৃত্য। সেমন্তী ওয়াহেদ-এর নেতৃত্বে প্রবাসের নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা সঙ্গীত ও দলীয় নৃত্যে অংশ নেয়। উল্লেখ্য, সকল পরিবেশনাতেই পরিবেশ সংশ্লিষ্ট বিষয় ও প্রসঙ্গ স্থান পায়। শিল্পী লিলি ইসলাম বিশ্ব কবি রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর কোন পরিবেশে গান লিখেছেন এবং কবি তার গানে কিভাবে পরিবেশ-কে তুলে ধরেছেন তার সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা তুলে ধরে একে একে ৫/৬টি গান পরিবেশন করেন। অভিনেত্রী শিরীন বকুলও তার পরিবেশনায় বিশ্বের পরিবেশ নষ্টের জন্য মানবজাতিকে দায়ী করেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে তবলায় ছিলেন তপন মোদক আর মন্দিরায় ছিলেন শহীদ উদ্দিন।

শিশু-কিশোর প্রতিযোগিতা: বেন-এর বিশ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে শিশু-কিশোর প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়। প্রতিওেযাগিতার মধ্যে ছিলো রচনা লিখন ও চিত্রাঙ্কন (বাই ল্যাঙ্গুয়েল)। সকাল ১০টায় এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় ৫-৮ বছর বয়সীদের জন্য বিষয় ছিলো বাংলাদেশের ৫টি করে ফুল ও ফলের নাম, ৯-১২ বছর বয়সীদের জন্য বিষয় ছিলো ‘বৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা’, ১৩-১৬ বছর বয়সীদের জন্য বিয় ছিলো ‘আমরা কিভাবে পরিবেশ সংরক্ষণ করতে পারি?’। এছাড়াও ছিলো ৫-৮ বছর বয়সীদের জন্য ফুলের বাগান চিত্রাঙ্কন, ৯-১২ বছর বয়সীদের জন্য গ্রাম বাংলার চিত্র এবং ১৩-১৬ বছর বয়সীদের জন্য প্রকৃতিতে জলবায় পরিবর্তনের প্রভাব বিষয়ক চিত্রাঙ্কন। এই পর্বের বিচারক ছিলেন: চিত্রাঙ্কন- মুতলুব আলী, এরফানুল হক ও মিথুন আহমেদ এবং রচনা- আদনান সৈয়দ, আহমদ মাযহার ও নাসরীন চৌধুরী।
সবশেষে ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন বেন-এর বিশ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ হারুন। সমগ্র অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন মিহির চৌধুরী। আর শব্দ প্রক্ষেপন ও আলোক নিয়ন্ত্রনে ছিলেন বিডি সাউন্ড এর নিবির খান।
- নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত
- নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ
- New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners
- এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ
- নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া
- নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব
- Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone