উইকিলিকসের তথ্য: বিডিআর বিদ্রোহের পর ভারতের দৌড়ঝাঁপ
নিরুপমা সুব্রমণিয়ান: দু’বছর আগে, ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে, ভারতের পররাষ্ট্র সচিব শিবশঙ্কর মেনন-এর সঙ্গে এক বৈঠকে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ পেয়ে বেশ বিস্মিতই হন দিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স স্টিভেন হোয়াইট । ওই ‘অস্বাভাবিক শনিবাসরীয় বৈঠক’টিতে আলোচ্য বিষয় ছিল- বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) সদস্যদের বিদ্রোহ নিয়ে আলোচনা। এর দু’দিন আগে সংঘটিত ওই বিদ্রোহে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল ভারত সরকার। তাদের বন্ধু হিসেবে বিবেচিত শেখ হাসিনার নবনির্বাচিত সরকারের ওপর ওই বিদ্রোহের কি প্রভাব-প্রতিক্রিয়া পড়ে- তা নিয়ে ছিল ওই উদ্বেগ।ওই বৈঠক সংক্রান্ত একটি ক্যাবল ২০০৯ সালের ২রা মার্চ দিল্লি থেকে মার্কিন দূতাবাস পাঠায় ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্র দপ্তরে (১৯৪৬৬১: কনফিডেনশিয়াল)। উইকিলিকস-এর মাধ্যমে পাওয়া ওই ক্যাবলের বিবরণ গতকাল প্রকাশ করেছে ভারতীয় দৈনিক দ্য হিন্দু। এতে ভারপ্রাপ্ত আমেরিকান দূতের সঙ্গে মি. মেননের কথোপকথনের বিশদ বিবরণ রয়েছে।
বিদ্রোহ চলাকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেলিফোন করেছিলেন ভারতের বৈদেশিক বিষয়ক মন্ত্রী প্রণব মুখার্জির কাছে। তখন আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের সহযোগিতা চেয়েছিলেন তিনি। তবে কি ধরনের সহযোগিতা তিনি চান তা বলেননি স্পষ্ট করে। মি. মুখার্জি প্রয়োজনে ‘সাড়া দেয়া হবে’ বলে জানিয়েছিলেন তাকে।বৈঠকে শিবশঙ্কর মেনন জানান, ভারত সরকার এ ব্যাপারে কথা বলেছে লন্ডন, বেইজিং ও টোকিও’র সঙ্গে।
ভারতের আশঙ্কার কারণ ছিল দু’টি। প্রথমত, বিদ্রোহের ফলে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতাকে কাজে লাগিয়ে জামায়াতে ইসলামী ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকার’ করতে পারে। এছাড়া বিদ্রোহটি দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত বলে বর্ণনা করেন মি. মেনন। এ বিদ্রোহের জন্য জামায়াতে ইসলামীকে সরাসরি দোষারোপ করেননি তিনি। তবে বলেছেন, দলটি ২০০৮ সালের নির্বাচনের ফলে অত্যন্ত হতাশ, আর শেখ হাসিনার সরকার চরমপন্থিদের বিরুদ্ধে নানারকম ব্যবস্থা নেয়ায় তারা চাপের মধ্যে পড়েছে। দ্বিতীয়ত, ওই বিদ্রোহের কারণে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বেসামরিক প্রশাসনের সম্পর্কে অবনতি ঘটতে পারে- আশঙ্কা ছিল ভারতের।
মি. মেননের বিশেষ উদ্বেগ ছিল সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে পরিচালিত সহিংসতার। ওই বিদ্রোহের উত্তেজনা প্রশমনকালে প্রাণ হারিয়েছিলেন বেশ কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা। এর ফলে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়তে পারে হাসিনা সরকার। মি. মেনন জানান, বিদ্রোহীরা সেনা কর্মকর্তাদের লাশ ফেলে দিয়েছে পয়ঃনর্দমায়। তবে পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল করতে সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন হাসিনা সরকারের সঙ্গে- এ বিষয়টি উৎসাহব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করেছিলেন তিনি।
মার্কিন কর্মকর্তার ক্যাবলে উল্লেখ করা হয়, ‘সহিংসতার বিরুদ্ধে দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিবৃতিটির প্রশংসা করেন মি. মেনন। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় সেটা নজরদারির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও শলাপরামর্শ চলার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি। সতর্কতার ব্যাপারে তিনি বলেন, প্রাথমিক সহিংসতা অবসানের বেশ কিছু দিন পরই শুধু বোঝা যাবে, আসলে কি ঘটতে যাচ্ছে। এছাড়া আরও বিপত্তির আশঙ্কাকে একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না।’
এক মাস পরও বিদ্রোহ-উত্তর পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের উদ্বেগ ছিল অব্যাহত। ২০০৯ সালের ২৬শে মার্চ দিল্লির মার্কিন দূতাবাস এক ক্যাবলে (১৯৮৯৫২: কনফিডেনশিয়াল) জানায়, শেখ হাসিনা সরকারকে স্থিতিশীল রাখাই ভারতের জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয়।
ভারতের বৈদেশিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি মার্কিন দূতাবাস কর্মকর্তাদের জানিয়েছিলেন, চরমপন্থি শক্তিগুলোর সম্ভাব্য সংশ্রবের ব্যাপারে ভারত উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত পরিচিত দুর্বৃত্তদের অনেকেই নিয়োগ পেয়েছিল সাবেক বিএনপি সরকারের আমলে। তাদের যোগসূত্র রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে। ওই বছরের ১৩ ও ১৬ই এপ্রিল ঢাকার ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিবের সফরের পেছনে ছিল ভারতের ওই উদ্বেগের বিষয়টি। এর একদিন পর মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার বারলেই-কে এক পর্যবেক্ষণে মি. মেনন জানান, বিদ্রোহের পর বাংলাদেশের পরিস্থিতি ‘ভঙ্গুর’ হয়ে পড়েছে।ওই বৈঠক সম্পর্কে নয়া দিল্লি থেকে ১৬ই এপ্রিল, ২০০৯ পাঠানো ক্যাবলে (২০২৬১৫: কনফিডেনশিয়াল) জানানো হয়, ভারত সরকারের উদ্বেগের বিষয়টি প্রকাশ করে মি. মেনন জানান- উদভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের চরমপন্থি গোষ্ঠীগুলো গণতান্ত্রিক সরকারকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে আর ভারতে হামলা চালানোর ব্যাপারে ‘আরও বাধাহীন’ হয়ে উঠতে পারে।
দূতাবাসের ক্যাবলে উল্লেখ করা হয়, ‘মার্কিন রাষ্ট্রদূত জোর দিয়ে জানতে চান কোন গ্রুপগুলোর ব্যাপারে ভারত উদ্বিগ্ন। তখন মি. মেনন বলেন, রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী থেকে চরমপন্থি গোষ্ঠী হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী, বাংলাদেশ (হুজি, বি) পর্যন্ত অনেকেই উদ্বেগের কারণ ভারতের। মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে ভারতীয় কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিকে তুচ্ছ বিষয়াদিও গ্রাস করে ফেলতে পারে- এটা জানা কথা। তারপরও এমন একটি বিদ্রোহের কারণে গুরুতর অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হলেও ‘রাজনীতিকরা মেতে উঠেছেন বিরোধী দলের নেতা বেগম জিয়ার বাড়ির ব্যাপার নিয়ে।’ ক্যাবলে উল্লেখ করা হয়, ‘বাংলাদেশ সরকারের হাল-ছাড়া ভাব দেখে ভারত উদ্বিগ্ন। মি. মেননের বিবেচনায়- এ সরকার স্বাভাবিকভাবে কোন কাজকর্ম করছে না।’মানবজমিন।
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল
- New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial
- নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭ মার্চ ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে যাবে
- নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance.








