বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থার উন্নতি চেয়েছিল ভারত-যুক্তরাষ্ট্র:উইকিলিকসের তথ্য
ইউএসএনিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে শাসন ব্যবস্থার উন্নতি দরকার। ২০০৫ সালের ১৮ই এপ্রিল বাংলাদেশের দায়িত্বে নিয়োজিত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব নীলম দেও-এর সঙ্গে এক বৈঠক হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক উপ-সহকারী মন্ত্রী জন গ্যাসট্রাইটের। ওই বৈঠকে তারা জোর দিয়ে বলেছিলেন, শুধু ভারত বা যুক্তরাষ্ট্রই নয়, সচেতন সব দেশেরই উচিত বাংলাদেশ সরকারকে শাসন ব্যবস্থার উন্নয়নে উৎসাহী করানো।উইকিলিকস যেসব তথ্য ফাঁস করেছে তার একটি ক্যাবলে এসব কথা বলা হয়েছে। এর নম্বর ৩০৬৯৭। এতে বলা হয়েছে, ওই বৈঠকে নীলম দেও সম্মত হয়েছিলেন যে, বাংলাদেশ তখনও এমন একটি পর্যায়ে ছিল যখন তারা নেতিবাচক প্রবণতাগুলোর গতি পাল্টে ফেলতে পারে। কিন্তু তখনকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করা হয়। এতে ভারত সরকারের উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় মৌলবাদীদের ক্রমাগত প্রভাব বিস্তারের ঘটনায়। এতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশকে সামনে নিয়ে আসা হয়। ওই বছরের ১৮ই এপ্রিল অ্যাসিসটেন্ট সেক্রেটারি ক্রিস্টিনা রোকার সঙ্গে বৈঠক করেন জন গ্যাসট্রাইট। এতে গ্যাসট্রাইট বলেন, তারা বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থায় উন্নতি করার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে প্রস্তাব দিতে পারেন। নয়া দিল্লির খোঁচাখুঁচির ফলে জন গ্যাসট্রাইট ব্যাখ্যা করেন যে, বাংলাদেশের তখনকার পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন সতর্ক নজর রাখছে এবং বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সহযোগিতামূলক কাজ করতে একটি কৌশল অবলম্বন করেছে। এর মাধ্যমে তাদেরকে বুঝতে দেয়া হয় যে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের কাজের প্রতি নজর রাখছে। ওয়াশিংটনের এ পদক্ষেপে ঢাকা যে সচেতন হয়েছে তা ওয়াশিংটনকে জানিয়ে দেয়া হয়। এর পরপরই কিছু কর্মকাণ্ড ঢাকা হাতে নেয়। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব নীলম দেও জবাবে বলেছিলেন, অবশ্যই বাংলাদেশ সরকারের কিছু বিষয় পাল্টে দেয়ার ক্ষমতা আছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও আসল সত্য হলো ঢাকার সেই ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তারা খুব কমই ওই সব কাজ সম্পন্ন করেছিল।সার্ক সম্মেলনকে উদাহরণ হিসেবে সামনে নিয়ে ভারতের প্রতি জন গ্যাসট্রাইট প্রস্তাব করেন ঢাকাকে সুশাসন নিশ্চিত করতে উৎসাহিত করতে। নীলম দেও সহানুভূতিশীল ছিলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সার্ক সম্মেলন আয়োজনে দু’দুবার আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। কিন্তু তা বানচাল হয়েছে শুধু বোমা হামলার কারণে নয়। সম্মেলন নিয়ে দিল্লির বীতশ্রদ্ধায়ও। বাংলাদেশের অবন্ধুসুলভ আচরণও ফুটে ওঠে। দেও বলেন, জানুয়ারিতে সম্মেলন হওয়ার আগে আগে কর্মরত একজন সেনা কর্মকর্তা বক্তব্য দিয়ে বলেন, শত্রু ভারতকে জবাব দিতে জোট গঠনের প্রয়োজন। ওই বক্তব্য অনুমোদন করে প্রধানমন্ত্রীর অফিস।যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত অনেক ক্ষেত্রেই অনেক বিষয়ে একমত এমনটা পর্যবেক্ষণ শেষে নীলম দেও বলেন, ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে আমরা দুই দেশই বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কথা বলেছি। ভারতের সঙ্গে বার্মা-বাংলাদেশ-ভারত গ্যাসলাইন, টাটা প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করবে কি করবে না- তা নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করে ঢাকা। টাটা বাংলাদেশে ২০০ কোটি ডলারের স্টিল ও সারকারখানা স্থাপনের জন্য একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। এর ডেডলাইন ছিল জুন পর্যন্ত। নীলম দেও আরও জানান, টাটা প্রজেক্টের জন্য বাংলাদেশে ব্যবসায়িক কাজকর্ম করতে অনেক ভারতীয় প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখিয়েছিল। এতে তারা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিবেশকে উন্নতিতে সাহায্য করতেন। তবে তিনি উদ্বেগের সঙ্গে বলেছিলেন যে, টাটার প্রজেক্টটি দেখাশোনা করছেন বাংলাদেশের শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী, যিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিত্ব করেন। নীলম দেও বলেছিলেন, কিছু মাদরাসায় জেহাদিদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। অবশ্য রাষ্ট্র এইসব জিহাদি কর্মকাণ্ডে সহায়তা দিচ্ছে না। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে ইসলাম হলো উদার ও জঙ্গিবিরোধী। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে কিছু সংগঠন আছে, বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামে। তারা সেখানে বিদেশী সাহায্য নিয়ে এমন কিছু কাজ করছে যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এসব বিষয় ও চট্টগ্রামে অস্ত্র নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি মনে করেন না বাংলাদেশ সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে ওই সব গ্রুপকে সহায়তা দিচ্ছে না। এর পিছনে রয়েছে বড় ধরনের দুর্নীতি। নীলম দেও পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, আইএসআই বাংলাদেশে সক্রিয় রয়েছে। ইসলামপন্থি দলগুলো বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনযাত্রাকে অবনমিত করছে। ফ্রাইডে টাইমসে খালেদ আহমেদের উদ্ধৃতি দিয়ে নীলম দেও বলেন, ১৯৮০’র দশকে পাকিস্তান যেভাবে যাচ্ছিল বাংলাদেশও বাঁকাভাবে সে পথের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বাংলাদেশের সাবেক অর্থমন্ত্রী গোলাম কিবরিয়ার হত্যাকাণ্ড তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার বিষয়ে নীলম দেও-এর এক প্রশ্নের জবাবে জন গ্যাসট্রাইট বলেন, সেখানে তাদের ভূমিকা শুধু পরামর্শক হিসেবে। পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে তখনকার বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচন না-ও করতে পারেন এমনটা উল্লেখ করে নীলম রাও বলেছিলেন, বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার মতো কোন পরিবেশ দেখা যাচ্ছে না। তিনি মন্তব্য করেছিলেন, বিজয় সুনিশ্চিত করতে তখনকার ক্ষমতাসীন বিএনপি নির্বাচন তাদের পক্ষে নেয়ার কৌশল নিয়ে থাকতে পারে। নীলম দেওকে নির্বাচন প্রসঙ্গে জন গ্যাসট্রাইট বলেছিলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বাংলাদেশকে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার দেয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ১ কোটি ডলার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দিতে চেষ্টা করা হয়েছিল। তা হলো আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় বাংলাদেশ পরিস্থিতির দিকে ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছে। যুক্তরাষ্ট্রও জোর দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে তাদের সঙ্গে। এই পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়েছিলেন নীলম দেও। তবে তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায় ভারত।মানবজমিন
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল
- New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial
- নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭ মার্চ ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে যাবে
- নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance.








