Wednesday, 28 October 2026 |
শিরোনাম
Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাস্তবায়ন উপলক্ষে নিউইয়র্কে সমাবেশ, আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার প্রত্যয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান নিউইয়র্কে হিউম্যান সাপোর্টের বিনামূল্যে ফ্লু টিকাদান কর্মসূচি New York Attorney General James Announces Election Protection Hotline Ahead of November General Election ASAAL’s 19th Annual Convention Draws Nearly 500, Calls for Stronger Civic Engagement and Workers’ Rights নিউইয়র্কে ট্রাফিক এজেন্ট ইউনিয়নের সভায় দুই বাংলাদেশি নেতাকে ঘিরে সংঘর্ষ, আসন্ন নির্বাচন ঘিরে নেতৃত্বের বিরোধ প্রকাশ্যে দেহের মেহরাবে অনন্তের দীপ
সব ক্যাটাগরি

চিত্র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনকে নিসচা-যুক্তাষ্ট্রের সংবর্ধনা প্রদান : ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন বিশ্বব্যাপী জোরদার করতে হবে

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 39 বার

প্রকাশিত: December 5, 2018 | 9:47 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক: ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের পথিকৃত জনপ্রিয় চিত্র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেছেন, সড়ক দূর্ঘটনা শুধু বাংলাদেশ বা যুক্তরাষ্ট্রের সমস্যা নয়। এই সমস্যা বিশ্বের ছোট-বড়, অনুন্নত-উন্নত সকল দেশের সমস্যা। তাই ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন বিশ্বব্যাপী জোরদার করতে হবে। এজন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন জনসচেতনতার পাশাপাশি আইনের সঠিক প্রয়োগ। তিনি বলেন, মহান আল্লাতায়ালার সৃষ্ট জীব মানুষ হিসেবে প্রত্যেকেরই দায়িত্ব দিয়েই সৃষ্টিকর্তা সবাইকে তৈরী করেছেন। আর এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করাও সবার নৈতিক দায়িত্ব। তিনি বলেন, একা কারো পক্ষে ‘নিরাপদ সড়ক’ তৈরী করা সম্ভব নয়। স্ব স্ব দেশের সরকার, জনগণ, আইন-কানুন সহ সংশ্লিস্ট সকলকেই ‘নিরাপদ সড়ক’ তৈরীতে দায়িত্ব পালন করতে হবে।


‘নিরাপদ সড়ক চাই-নিসচা’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন সমাজ সেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ চলতি বছর গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক রাষ্ট্রীয় পুরষ্কার ‘একুশে পদক’ প্রাপ্তীতে তার সম্মানে যুক্তরাষ্ট্র নিসচা আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় তিনি উপরোক্ত কথা বলেন। খবর ইউএনএ’র।

নিউইয়র্ক সিটির জ্যামাইকার হিলসাইড এভিনিউস্থ স্টার কাবাব রেষ্টুরেন্টের মিলনায়তনে গত ৩ ডিসেম্বর সোমবার সন্ধ্যায় এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশীদের উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলীম্যান জন ল্যু। নিসচা যুক্তরাষ্ট্র শাখার আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন স্বপনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন নিসচা যুক্তরাষ্ট্র শাখার প্রধান উপদেষ্টার এবিএম ওসমান গনি, মূলধারার রাজনীতিক ও অ্যাসাল-এর প্রেসিডেন্ট মাফ মিসবাহ উদ্দিন, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম, সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী, মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল খান আনসারী, কমিউনিটি নেতা মজিবুর রহমান, জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির অন্যতম উপদেষ্টা মনির হোসেন ও মিসবাহ আহমেদ, নিসচা যুক্তরাষ্ট্র শাখার সদস্য সচিব স্বীকৃতি বড়–য়া সহ এডভোকেট কামরুজ্জামান বাবু, রিপন, শামীম প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন এবং সকল শহীদ এবং ‘জাহানারা কাঞ্চন’ সহ দেশে-প্রবাসে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপর সংবর্ধিত অতিথি ইলিয়াস কাঞ্চনকে ফুলের তোড়া দিয়ে অভিনন্দিত করা হয়। এছাড়াও তাকে প্ল্যাক প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে ইলিয়াস তার ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ প্রতিষ্ঠা এবং ‘নিরাপদ সড়ক’ আন্দোলনের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে বলেন, এক সময় আমি সড়ক দূর্ঘটনায় গুরু আহত হই। তখন চিকিৎসকরা আমার পা কেটে ফেলার কথা বললে আমার প্রিয়তমা স্ত্রী জাহানারার ইচ্ছা আর সাহসে পা না কেটে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা নেই। মহান আল্লাহতায়ালার রহমতে আমি হাত-পা নিয়েই সুস্থ হয়ে উঠি। তবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সময় সড়ক দূর্ঘটনার বিষয়টি আমাকে ভাবিয়ে তোলে এবং এব্যাপারে নিজের দায়িত্ব-কর্তব্যের কথা ভাবি। পরবর্তীতে কিছু একটা করার চিন্তা-ভাবনা শুরু করলেও নানা কারণে তা আর হয়ে উঠে না। কিন্তু স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হলে আমার দায়িত্বের বিষয়টি আমাকে চরমভাবে নাড়া দেয় এবং ‘নিরাপদ সড়ক চাই-নিসচা’ সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে ‘নিরাপদ সড়ক’ আন্দোলন শুরু করি।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, সড়ক দূর্ঘটনার ব্যাপারে জাতিসংঘ সহ বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। আমরাও তাদের সাথে নিরপদ সড়ক আন্দোলনে কাজ করছি। নরওয়ে ছাড়া বিশ্বের আর কোন দেশে সড়ক দূঘটনায় মৃত্যু শূণ্যের কোঠায় নেই। তবে আমরা সবাই চাইলে এটি সম্ভব। প্রসঙ্গত তিনি বলেন, এই নিউইয়কেই দেখলাম ড্রাইভিং করার সময় অনেকেই মোবাইলে কথা বলছে, কেউবা রাস্তা পাড় হওয়ার সময় ফোনে কথা বলছেন। এমনটি সঠিক নয়। সবাইকে আইন মানতে হবে। আর ড্রাইভ করার সময় ‘শুধুই ড্রাইভ’ করতে হবে।

তিনি বলেন, এবছর (২০১৮ সাল) নিসচা প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্তী। নিসচা’র শ্লোগান হচ্ছে ‘পথ যেন হয় শান্তির, মৃত্যুর নয়’। আমরা চাই নিসচা ছাড়াও সকল বাংলাদেশী যে যার অবস্থান থেকে দেশ-বিদেশে এই আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলবেন। সিনচা সড়ক দূর্ঘটনা রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়াও ড্রাইভারদের প্রশিক্ষণ, সভা-সমাবেশ, আইন-কানুন প্রয়োগে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ প্রভৃতি কর্মকান্ড পরিচালনা করছে। তিনি নিসচা’র কার্যক্রম জোরদার করতে এর সদস্য হওয়ার জন্য প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান। জনপ্রতি আজীবন সদস্য ফি ৫০০ ইউএস ডলার। এছাড়াও ড্রাইভারদের প্রশিক্ষনের ফি দিয়ে নিসচা-কে সাহায্য-সহযোগিতা করারও সুযোগ রয়েছে বলে তিনি জানান।

 
বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ