Wednesday, 21 October 2026 |
শিরোনাম
New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের ভার্জিনিয়ায় অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক হারুন চৌধুরীকে দেখতে গেলেন বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ New York Attorney General James Issues Voter Guidance to Inform New Yorkers of Their Rights Ahead of November Election
সব ক্যাটাগরি

যেভাবে জিতে গেলেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 7 বার

প্রকাশিত: January 16, 2019 | 11:54 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক : ব্রেক্সিট চুক্তিতে পার্লামেন্টে ভয়াবহভাবে পরাজিত হলেও অল্প ব্যবধানে অনাস্থা ভোটে টিকে গেছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। গত রাতে বৃটিশ পার্লামেন্টে বিরোধী লেবার দলনেতা জেরেমি করবিনের উত্থাপিত অনাস্থা ভোটে তেরেসা মের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ৩২৫ জন এমপি। আর অনাস্থার পক্ষে ভোট দেন ৩০৬ জন। এর মধ্য দিয়ে কঠিন এক সময়ে টিকে গেলেন তেরেসা মে। আগের রাতের চিত্র আর বুধবার রাতের চিত্র ছিল ভিন্ন রকম। মঙ্গলবার রাতে তার নিজ দল কনজার্ভেটিভ পার্টির ১১৮ জন এমপি তেরেসা মের বিপক্ষে গিয়ে তার ব্রেক্সিট চুক্তির বিরুদ্ধে ভোট দেন। কিন্তু বুধবার রাতে অনাস্থা ভোটে তারা দলীয় অবস্থানে ফিরে এসেছেন। সমর্থন দিয়েছেন তেরেসা মে’কে।
ফলে উত্তেজনাকর এক সময়ে তেরেসা মে টিকে গিয়ে সব এমপিকে নিজ স্বার্থকে একপাশে রেখে একসঙ্গে গঠনমূলক কাজ করারও আহ্বান জানিয়েছেন। ওই ভোটের পর রাতেই স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটস এবং প্লেড সাইমরু নেতাদের সঙ্গে দেখা করেছেন তেরেসা মে। তবে লেবার নেতা জেরেমি করবিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নি। তিনি বলেছেন, লেবার পার্টির নেতা আমাদের সঙ্গে যোগ না দেয়ায় আমি হতাশ হয়েছি। তবে আমাদের দরজা সব সময় খোলা আছে।  এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। 
এর আগে মঙ্গলবার ব্রেক্সিট ইস্যুতে ৫ দিনের আলোচনার পর ভোটাভুটিতে ২৩০ ভোটের রেকর্ড ব্যবধানে পরাজিত হয় ব্্েরক্সিট চুক্তিটি। প্রস্তাবটি বাতিলের পক্ষে ভোট দেন ৪৩২ জন এমপি। এর মধ্যে পার্লামেন্টে বিরোধী দলের সদস্যদের পাশাপাশি নিজ দলের ১১৮ জন এমপি বিরোধী দলের সঙ্গে চুক্তির বিপক্ষে ভোট দেন।
প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন ২০২ জন। বৃটেনের ইতিহাসে ১০০ বছরের মধ্যে এত বিশাল ভোটের ব্যবধানে আর কোনো ক্ষমতাসীন সরকার পরাজিত হয় নি। এর পর দিন বৃটেনের পত্রপত্রিকায় একে বিপর্যয়কর, অবমাননাকর ইত্যাদি আখ্যায়িত করে রিপোর্ট প্রকাশ করে। 
মঙ্গলবার রাতে শোচনীয়ভাবে পার্লামেন্টে তেরেসা মের ব্রেক্সিট চুক্তি পরাজিত হলে বিরোধী লেবার দলের নেতা জেরেমি করবিন তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন। তেরেসা মে’র প্রশাসনকে ‘জম্বি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তেরেসা মে সরকার পরিচালনার সব ধরণের অধিকার হারিয়েছেন।
তবে অনাস্থা ভোটে টিকে যাওয়ার পর তেরেসা মে বলেন, ব্রেক্সিটের ব্যাপারে একটি সমঝোতায় আসতে তিনি পার্লামেন্টের সব দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবেন। এছাড়া ব্রেক্সিট পরিকল্পনার পক্ষে নিজ এমপিদের সমর্থন আদায় করাটাও তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
আস্থা ভোটে টিকে থাকার প্রতিক্রিয়ায় তেরেসা মে এমপিদের বলেন, গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দেশের জনগণকে দিয়েছেন সেটা তিনি পূরণ করতে কাজ চালিয়ে যাবেন।
ব্রেক্সিটের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি বুধবার রাত থেকেই সব পার্টির নেতাদেরকে সাথে আলাদা আলাদা বৈঠক করারও আমন্ত্রণ জানান। এ সময় তিনি সবার কাছে ‘গঠনমূলক মনোভাব’ নিয়ে তাদের সাথে আলোচনায় অংশ নেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমাদের এমন একটি সমাধানে আসতে হবে যেটা আলোচনা সাপেক্ষ এবং পার্লামেন্টের জন্যও সহায়ক হবে।
তবে জেরেমি করবিন বলেন, যেকোনো ইতিবাচক আলোচনার আগেই প্রধানমন্ত্রীর ব্রেক্সিট চুক্তি বাতিল করতে হবে। চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের কারণে বড় ধরণের বিপর্যয় ও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা রয়েছে। সেজন্য এই সরকারকে এখুনি পুরোপুরি সরিয়ে দিতে হবে। তার আনা অনাস্থা প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেট পার্টিসহ সব বিরোধী দল। কিন্তু কারবিন তার নিজদল এবং অন্যান্য বিরোধীদলের কয়েকজন এমপির চাপের মুখে পড়েছেন, যেন তিনি আরেকটি ইইউ গণভোটের আহ্বান জানান। 
ওদিকে প্রধানমন্ত্রীর সবার সাথে আলোচনার যে প্রস্তাব দিয়েছেন সেটাকে স্বাগত জানিয়েছেন ওয়েস্টমিনস্টারের স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির এমপি ইয়ান ব্ল্যাকফোর্ড। তিনি বলেন, প্রতিটি দলের নিজ নিজ দায়িত্বের বিষয়ে সচেতন হওয়াটা জরুরি। তার দল সরকারের সাথে গঠনমূলকভাবে কাজ করার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি জানান। তবে তিনি ব্রেক্সিটের আইনী প্রক্রিয়ার সময়সীমা বাড়িয়ে এ সংক্রান্ত আরেকটি গণভোট আয়োজনের, সেইসঙ্গে চুক্তিহীন ব্রেক্সিট এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে আলোচনার টেবিলে আনার আহ্বান জানান।
মূলত ২০১৬ সালের গণভোটে ব্রেক্সিটের পক্ষে রায় এলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন পদত্যাগ করেন। পরে তেরেসা মে তার স্থলে এসে বিচ্ছিন্নতার প্রক্রিয়া শুরু করেন। সে অনুযায়ী ২০১৯ সালের ২৯ মার্চের মধ্যে যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বের হয়ে যাওয়ার কথা।
এ অবস্থায় পরবর্তী সম্পর্কের রূপরেখা নিয়ে জোটটির সঙ্গে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর যে চুক্তি হয়েছিল সেটার অনুমোদনের বিষয়ে বৃটিশ পার্লামেন্টে মঙ্গলবার রাতে ভোটাভুটি হয়। ওই চুক্তিতেও ২৯শে মার্চের মধ্যে ইইউ থেকে বৃটেনের বেরিয়ে যাওয়ার শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল । 

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ