বাংলাদেশের নির্বাচন প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে কংগ্রেসের চিঠি : নিউইয়র্কে আ’লীগ ও বিএনপির প্রতিক্রিয়া
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : বিএনপির প্রেস রিলিজের আলোকে কথা বলেছেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যানসহ কয়েকজন কংগ্রেসম্যান। অথচ ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিজয়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এভাবেই বাংলাদেশের ঐ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে জনবিচ্ছিন্ন বিএনপির পারপাস সার্ভ করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে কংগ্রেসম্যানদের এক চিঠিতে’-এমন অভিমত পোষণ করেছেন নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরীসহ কয়েকজন নেতা।
উল্লেখ্য, একাদশ সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে ১২ ফেব্রুয়ারি একটি চিঠি পাঠিয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটি, যেখানে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ‘ভুল পথে চলছে’ বলে মন্তব্য করা হয়েছে। বাংলাদেশের নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে ওই চিঠিতে।
পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান (নিউইয়র্ক-ডেমক্র্যাট) ইলিয়ট অ্যাঞ্জেল, কমিটির প্রভাবশালী সদস্য কংগ্রেসম্যান (টেক্সাস-রিপাবলিকান) মাইকেল টি ম্যাককোল, এশিয়া ও প্যাসিফিক সাব কমিটির চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান (ক্যালিফোর্নিয়া-ডেমক্র্যাট) ব্র্যাড শারমেন, সাব কমিটির প্রভাবশালী সদস্য কংগ্রেসম্যান (ফ্লোরিডা-রিপাবলিকান)টেড ইয়োহো, কংগ্রেসম্যান (মিশিগান-ডেমক্র্যাট) এ্যান্ডি লেভিন এবং কংগ্রেসম্যান (মিজৌরী-রিপাবলিকান) এ্যান ওয়াগনার স্বাক্ষর করেছেন এই চিঠিতে। উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশের গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন। গণতন্ত্র সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনকে পদক্ষেপ গ্রহনের আহবানও জানানো হয়েছে। এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী, অন্যতম সহ-সভাপতি হাজী আব্দুল কাদের মিয়া, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নূরল আমিন বাবুসহ নেতৃবৃন্দ তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
তারা উল্লেখ করেছেন, সরেজমিনে অনুসন্ধান ব্যতিরেকেই বিশেষ মহলের পারপাস সার্ভের অভিপ্রায়ে ইতিপূর্বে নিউইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয়’র সাথে মিল রেখেই কংগ্রেসম্যানরা বিএনপির ভাষায় ঐ চিঠি লিখেছেন। বাংলাদেশী-আমেরিকানরা এতে বিব্রত। নেতৃবৃন্দ ক্ষোভের সাথে বলেছেন, এর আগেও ভাড়াটে লবিস্টদের প্রভাবে নানা ধরনের মন্তব্য/মতামত প্রকাশ করেছেন কংগ্রেসম্যানরা। কিন্তু কোনটিরই বাস্তবতা ছিল না। বাংলাদেশ দীপ্ত প্রত্যয়ে এগিয়ে চলেছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে, তারই প্রতিফলন ঘটেছে ৩০ ডিসেম্বরের ঐ নির্বাচনে।
অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা ও ‘বাংলাদেশী আমেরিকান ডেমক্র্যাটিক ফোরাম’র প্রেসিডেন্ট আকতার হোসেন বাদল চিঠি প্রেরণকারি কংগ্রেসম্যানদের অভিবাদন জানিয়ে বলেছেন, ‘বিলম্বে হলেও বিবেকপ্রসূত একটি পদক্ষেপ নিলো কংগ্রেসে পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটি। নির্বাচনের নামে প্রতারণার যে তান্ডব ঘটেছে তা বিশ্ববাসীকে জানান দিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এখন কী ধরনের পদক্ষেপ নেন-তা দেখার পালা। এর আগে নিউইয়র্ক টাইমসের মত খ্যাতনামা পত্রিকায় সম্পাদকীয় প্রকাশ পেয়েছে। প্রবাসীরাও আসা করছেন নির্বাচনের জালিয়াতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ হবে এবং অবিলম্বে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে নতুন নির্বাচনের তপসিল ঘোষণা করা হবে।’
বিএনপি নেতা অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, গিয়াস আহমেদ, আলহাজ্ব আবু তাহের, এম এ বাতিন প্রমুখ পৃথক পৃথকভাবে এ সংবাদদাতার কাছে তাদের স্বস্তিবোধের কথা জানিয়ে বলেন, হাজারটা মিথ্যা দিয়েও একটি সত্যকে চাপা দিয়ে রাখা যায় না। ইতিহাসের পরিক্রমায় সত্য দিবালোকের মতো উদ্ভাসিত হবেই।
ওই নির্বাচন ‘সুষ্ঠু’ হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন দাবি করে এলেও মার্কিন কংগ্রেসের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটি তাদের চিঠিতে বলেছে, ভোটে ‘ব্যাপক জালিয়াতি ও ভোটারদের বাধা দেওয়ার’ যে অভিযোগ এসেছে, তা অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিৎ।
চিঠিতে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশের গণতন্ত্র নেতিবাচক পথে ধাবিত হওয়ায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে যেসব গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, সেই প্রবণতাকে পররাষ্ট্র দপ্তর কীভাবে দেখছে তা জানাতে অনুরোধ করছি।”
কংগ্রেসে নিউইয়র্কের প্রতিনিধিত্ব করা ইলিয়ট অ্যাঞ্জেলের নেতৃত্বাধীন এই কমিটি তাদের চিঠিতে লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রশান্ত ও ভারতীয় মহাসাগরীয় অঞ্চলে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সমর্থন দিয়ে যাওয়া খূবই গুরুত্বপূর্ণ।“আর বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের যেসব খবর এসেছে, তা সেই স্বার্থের জন্য গুরুতর হুমকি।”
যেখানে বাংলাদেশের একটি ‘গৌরবময় গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য’ রয়েছে, সেখানে নির্বাচন ঘিরে ‘সহিংসতা, গণগ্রেপ্তার এবং বাক স্বাধীনতা হরণের’ অভিযোগ আসায় হতাশা প্রকাশ করেছে কমিটি।চিঠিতে বলা হয়েছে, এই নির্বাচনে ৯৬ শতাংশ আসনে জয়ী হয়েছে আওয়ামী লীগ, যা প্রধান বিরোধী দলের বর্জনের মধ্যে হওয়া ২০১৪ সালের নির্বাচনের চেয়েও বেশি।
চলতি বছর আফগানিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্স, থাইল্যান্ডসহ এশিয়ায় বিভিন্ন দেশে নির্বাচনের সূচি থাকার কথা মনে করিয়ে দিয়ে মাইক পম্পেওকে লেখা চিঠিতে কংগ্রেস কমিটি বলেছে, গণতন্ত্রের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের যে অঙ্গীকার, তা প্রদর্শন করা জরুরি এবং “বাংলাদেশকে দিয়েই তার সূচনা হওয়া উচিৎ।
- যুক্তরাষ্ট্রে ঈদুল ফিতর ২০ মার্চ শুক্রবার
- নারীর ক্ষমতায়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ : ড. খলিলুর রহমান
- নিইউয়র্কে টাইমস স্কয়ারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় যোগ দিচ্ছেন ম্যানহাটান বরো প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড হোয়েলম্যান
- নিউইয়র্কে স্ট্রিট ভেন্ডরদের জন্য নতুন আইন কার্যকর; জেল শাস্তি বাতিল, আরোপ করা হবে জরিমানা
- New York Attorney General James Leads Bipartisan Coalition Suing Predatory Lender OneMain for Scheme to Trap Consumers in Debt
- নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট হাউসে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন ২৩ মার্চ : আহ্বায়ক কমিটি গঠন
- বাংলাদেশে আওয়ামীলীগসহ সকল রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি করার দাবি নিউজার্সি স্টেট আওয়ামী লীগের
- নিউইয়র্কে ‘অল কাউন্টি হেলথকেয়ার গ্রুপ’র বার্ষিক ইন্টারফেইথ ইফতার পার্টি








