Friday, 24 July 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030 বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি
সব ক্যাটাগরি

পর্দা, বোরকা ও ইসলাম

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 179 বার

প্রকাশিত: May 8, 2011 | 10:21 AM



ড. ফেরদৌস আহমদ কোরেশী: ফ্রান্সে বোরকা বা হিজাব নিয়ে বিতর্ক চলছে অনেকদিন ধরে। সমপ্রতি সখানকার সরকার এ নিয়ে একটা আইন করেছে- বোরকা পরে প্রকাশ্য স্থানে চলাচল করা যাবে না। কিন্তু বোরকা তো প্রকাশ্য স্থানের জন্যই। মেয়েরা ঘরের বাইরে বেরুলে তবেই বোরকা পরে। ঘরের ভিতরে নয়।
ফ্রান্সের ২০ লাখ মহিলা নানা ধরনের বোরকা বা হিজাব ব্যবহার করেন। তন্মধ্যে কিছু বোরকায় দু’টি চোখ ছাড়া আর কিছুই দেখা যায় না। পুরো মুখমণ্ডলেই ঢাকা থাকে। এ ধরনের বোরকা নিয়েই বেশি আপত্তি।
ফ্রান্স সরকারের মুখপাত্ররা মনে করেন, এ ধরনের পোশাক ফ্রান্সের জাতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফ্রান্সে থাকতে হলে সবাইকে ফ্রান্সের ঐতিহ্যের সঙ্গে মানিয়ে চলতে হবে। কোন নারী যদি বোরকা পরে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে তাকে তা পরতে না দেয়ার কি যুক্তি থাকতে পারে? এ ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ আরোপ করা কি মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়? ফরাসি সরকারের বোরকাবিরোধী অবস্থানের প্রেক্ষিতে সেদেশেও এ প্রশ্ন উঠেছে।
আট-দশ বছর পূর্বে ইংল্যান্ডে কিছু অমুসলিম মহিলা ‘হিজাব’ পরিধান করছেন বলে কাগজে খবর হয়েছিল। এরকম একজনকে এর কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেছেন যে, এটা অন্যদের বিব্রতকর তীর্যক দৃষ্টি থেকে সুরক্ষা দেয়। হিজাব পরে তিনি স্বচ্ছন্দে ঘোরাফেরা করতে পারেন। তার কাছে এটা  কোন ধর্মীয় ব্যাপার নয়। নিছক ভালো লাগা না লাগার ব্যাপার।
এভাবে দেখলে তো কোন সমস্যাই থাকে না।
ইসলামে ‘বোরকা’ পরা কি অত্যাবশ্যক?
ইসলাম ধর্মে পোশাক পরিচ্ছদ বিষয়ে কিছু সাধারণ নির্দেশনা থাকলেও সুনির্দিষ্ট কোন পোশাকের কথা বলা হয় না। সাধারণভাবে ‘পর্দা’ মান্য করতে বলা হয়। ‘পর্দা’ হচ্ছে পোশাক-আশাকে শালীনতা বজায় রাখার নির্দেশনা। কেবল নারীর জন্য নয়, পুরুষের জন্যও যা প্রযোজ্য। কেবল পোশাক-আশাক নয়, অঙ্গভঙ্গি, চালচলন, বাচনভঙ্গির ক্ষেত্রেও ‘পর্দা’ বা শালীনতা বজায় রাখতে বলা হয়। পৃথিবীর কোন ধর্মই অশালীন পোশাক বা আচরণ অনুমোদন করে না।
অশালীন পোশাক বা আচরণ সব দেশের রাষ্ট্রীয় আইনেও দণ্ডনীয়। তবে কোনটা ‘অশালীন’ সে ব্যাপারে দৃষ্টিভঙ্গির তফাৎ বিদ্যমান। এক সমাজে যে পোশাক অতি স্বাভাবিক, অন্য সমাজে সেটাই হয়তো ‘কুরুচিপূর্ণ’।
পর্দা ও বোরকার প্রকারভেদ
দেশে দেশে পর্দা বা বোরকার প্রকারভেদ লক্ষণীয়। কেবল মুসলমান সমাজেই নয়, সব ধর্মে বা সব সমাজেই কোন না কোনভাবে পর্দার রেওয়াজ রয়েছে।
শাড়ি পরিহিতার ‘ঘোমটা’, সালোয়ার কামিজের সঙ্গে ‘ওড়না’, ইরানি মহিলাদের ‘চাদর’, কিংবা পশ্চিমা মহিলাদের ‘স্কার্ফ’- সবই এক অর্থে পর্দা বা বোরকার সহজ সংস্করণ। এরপর নেকাব ও হিজাব। তারপর বোরকা।
বোরকারও রয়েছে দেশভেদে বা সমাজভেদে নানা রূপ, নানা গড়ন। সবশেষে শুধুমাত্র দু’টি চোখ খোলা রেখে ‘আফগানি’ বোরকা। দুষ্ট ছেলেরা এর নাম দিয়েছে ‘নিনজা বোরকা’। এর কোন কোনটিকে আবার ওই দু’চোখও পাতলা কাপড়ের আচ্ছাদনে ঢাকা। এগুলো নিয়েই যত বিপত্তি। আমি একবার ইন্টারনেট ও বইপত্র ঘেঁটে বারো রকমের বোরকার ছবি একত্রিত করেছিলাম। এখন সেগুলো হাতের কাছে পাচ্ছি না। উৎসাহী পাঠকরা খুঁজলে হয়তো আরও বেশি রকমের বোরকার সন্ধান পেতে পারেন।
পুরো মুখমণ্ডল ঢেকে রাখা হলে সংশ্লিষ্ট মহিলাটিকে শনাক্ত করা যায় না। এমনকি তিনি মহিলা, না পুরুষ তাও বোঝা যায় না। এতে করে অনেকে আত্মগোপনের জন্য বোরকার আশ্রয় নিতে পারে। ইসলামে এ ধরনের বোরকার কথা কোথায়ও আছে বলে জানা যায় না। এটা মধ্যপ্রাচ্যের উপজাতীয় রেওয়াজ। সেখান থেকেই অন্যত্র ছড়িয়েছে বলে মনে হয়।
ফ্রান্সের সমস্যা: ‘হিজাব’ না মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধি?
তবে ফরাসি দেশে বোরকা বা হিজাব নিয়ে যে বিরোধ সেটা কি ধর্ম বা সংস্কৃতির বিরোধ? নাকি স্থানীয় জনগণের অভিবাসী বিরোধী মনোভাবকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর সুচতুর প্রয়াস? অনেকে মনে করছেন, ফ্রান্সের মুসলমানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে বিধায় (এখন প্রায় ২৫%) সেদেশের রক্ষণশীল রাজনীতিকরাই চিন্তিত হয়ে পড়েছেন, এই ভেবে যে শেষতক ফ্রান্স না মুসলমান প্রধান দেশ হয়ে যায়!
( ড. ফেরদৌস আহমদ কোরেশী, রাজনীতিক, ভূ-রাজনীতি ও উন্নয়ন গবেষক।
ই-মেইল: [email protected]  This e-mail address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it )

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV